আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
আম্পান: পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ, অন্তত ১২ জনের মৃত্যু, বাংলাদেশে নিহত এ পর্যন্ত ৫ জন
সাইক্লোনের দাপটে প্রচন্ড ঝড়ো বাতাসে গাছপালা উপড়ে গেছে, অনেক বাড়ি-ঘর মাটিতে মিশে গেছে। পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। ক্ষয়ক্ষতি ও মৃত্যুর পুরো খবর এখনও পাওয়া যাচ্ছে না । ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত খবর পেতে নজর রাখুন বিবিসি বাংলার পাতায়।
সরাসরি কভারেজ
রায়হান মাসুদ, মোয়াজ্জেম হোসেন and মানসী বড়ুয়া
আশ্রয়কেন্দ্রে যেভাবে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মানুষ
ভারত থেকে আম্পানের সর্বশেষ
ভারতের উপকূল থেকে একটা বড় সংখ্যায় মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
সমগ্র উপকূলজুড়ে রেড অ্যালার্ট জারি রাখা হয়েছে।
দীঘায় সাগরের ঢেউ ক্রমশ বাড়ছে।
ধারণা করা হচ্ছে এই ঝড় যখন সুন্দরবনে আঘাত হানবে তখন এর গতি থাকবে ১৮৫ কিলোমিটার।
বাংলাদেশে যেসব জেলায় আঘাত হানবে আম্পান
সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী ও চট্টগ্রাম
ব্রেকিং, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে নয় নম্বর বিপদ সংকেত
এর আগে এই উপকূল সংলগ্ন এলাকায় ছয় নম্বর বিপদ সংকেত ছিল।
সেটা নামিয়ে আনা হয়েছে।
এছাড়া মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে দশ নম্বর বিপদ সংকেত জারি আছে।
ভারত দাবি করছে এটা একুশ শতকের সবচেয়ে তীব্র ঘূর্ণিঝড়
আশ্রয়কেন্দ্র যেতে অনীহা, আবার কোভিড-১৯ এর ভয়
সরকারের ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির অপারেশন বিভাগের পরিচালক নূর ইসলাম খান বলেছেন, আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষকে নেয়া এবং সেখানে নেয়ার পর সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা কতটা সম্ভব হবে তা নিয়ে তাদেরই সন্দেহ রয়েছে। তবে কিছু ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা তারা করছেন।
তিনি বলছেন, ''এইবার আমাদের কাছে খুবই কঠিন, কারণ করোনা সংক্রান্ত কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে তাদের আনা, শেল্টারে নিয়ে সেখানে রাখা এবং ব্যবস্থাপনা করা কঠিন হবে। আগে যেমন জোরাজুরি করতে পারতো, বৃদ্ধদের কোলে করে নিয়ে আসতে পারতো, ধরে নিয়ে আসতো - সেটা এবার হবে না হয়তো। কিন্তু আন্তরিকতার কোন ঘাটতি নেই। ''
ঘূর্ণিঝড় যখন আঘাত হানতে পারে
সুপার সাইক্লোন আম্পান বুধবার বিকাল বা সন্ধ্যার পর আঘাত করতে পারে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়াবিদরা। ঝড়টি বাংলাদেশের সুন্দরবনের কাছ থেকে পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূল অতিক্রম করতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের দীঘা আর বাংলাদেশের হাতিয়া দ্বীপের মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে ঝড়টি বিকাল নাগাদ অতিক্রম করতে পারে।
ঝড়টির কেন্দ্রে এখনো প্রতি ঘণ্টায় ২০০ থেকে ২২৫ কিলোমিটার বাতাসের গতিবেগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কাওসার পারভিন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে বৃষ্টি, ২০শে মে সর্বাধিক
ব্রেকিং, বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর সর্বশেষ যা বলছে
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ২০০ থেকে ২২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়।
ঘূর্ণিঝড় ও চাঁদের প্রভাবে জোয়ারের কারণে হতে পারে দশ থেকে পনেরো ফুট জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড় যখন অতিক্রম করবে তখন ১৪ থেকে ১৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় গতিবেগ থাকতে পারে।
ওড়িশায় ইতোমধ্যে অনেক জায়গায় ক্ষয়ক্ষতি দেখা যাচ্ছে
ব্রেকিং, আম্পানের সর্বশেষ গতিপথ
মোংলায় সাড়ে সাত হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে
মোংলা থেকে স্থানীয় সাংবাদিক আবু হোসাইন সুমন বিবিসিকে জানান, মঙ্গলবার রাত থেকেই এই বন্দর শহরটির উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছিল দমকা হাওয়া, চলছিল বৃষ্টি।
এসময় এখানকার আশ্রয়শিবিরগুলোতে মোট সাড়ে সাত হাজার মানুসকে নেয়া হয়। মি. হোসাইনের পাঠানো ছবিতে দেখা গেছে, আশ্রয়শিবিরগুলোতে ওঠা মানুষজনের মধ্যে খাদ্য বিতরণ করছেন সুরক্ষা পোশাক পরিহিত মানুষ। অন্যান্য যেকোন দুর্যোগকালীন সময়ের তুলনায় এইবারের এই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগটি ভিন্নতর।
বাংলাদেশে করোনাভাইরাস মহামারি চলমান থাকার কারণে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়শিবিরগুলোতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের সরকার জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের হাত থেকে জানমাল রক্ষার চেষ্টার অংশ হিসেবে কুড়ি লাখের বেশি মানুষকে আশ্রয়শিবিরে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া মঙ্গলবার রাত থেকেই শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত
সুপার সাইক্লোন আম্পান আরো এগিয়ে আসায় বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করেছে বাংলাদেশের আবহাওয়া বিভাগ।
দশ নম্বর সংকেত থাকবে মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরে। এছাড়া সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর এবং চাঁদপুর জেলাতেও দেখানো হচ্ছে দশ নম্বর মহাবিপদ সংকেত।
বাংলাদেশের আবহাওয়াজনিত সতর্ক সংকেতের মাপকাঠিতে এটাই সর্বোচ্চ সংকেত।
পশ্চিমবঙ্গের দীঘা সমুদ্র সৈকতে আম্পানের প্রভাব
বাংলাদেশ থেকে সাড়ে তিনশো কিলোমিটার দূরে আছে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ ধারণা করছে এটি সুন্দরবনে আঘাত হানবে আজ বিকেলে। তখন এর গতি অনুমান করা হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায়। বিবিসি বাংলার এই লাইভ পাতায় পাবেন দিনভর আম্পানের সর্বশেষ খবর।