স্বজনদের কাছে ফিরেছে হামাসের কাছে থাকা জিম্মিরা, আটক ও বন্দি প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি মুক্ত
হামাসের কাছে জিম্মি থাকা ২০ জন ইসরায়েলি তাদের স্বজনদের কাছে ফিরে এসেছে। বিনিময়ে কারাগারে বন্দি ও ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক থাকা প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে মিশরে শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে যোগ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে বাংলাদেশে ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে একটি ভবনকে সাময়িক কারাগার ঘোষণা করেছে সরকার। দেশ-বিদেশের খবর ও বিশ্লেষণ জানতে চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...
সরাসরি কভারেজ
ঢাকা সেনানিবাসের একটি ভবনকে 'অস্থায়ী' কারাগার ঘোষণা
ছবির উৎস, Screen Grab
ছবির ক্যাপশান, গত শনিবার সেনা সদরের ব্রিফিংয়ের ছবি
ঢাকা সেনানিবাসের ভেতরে অবস্থিত একটি ভবনকে অস্থায়ী কারাগার হিসেবে ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সেখানে বলা হয়েছে, ঢাকা সেনানিবাসের বাশার রোড সংলগ্ন উত্তর দিকে অবস্থিত 'এম ই এস' বিল্ডিং-৫৪, ঢাকা সেনানিবাস, ঢাকাকে সাময়িকভাবে কারাগার হিসাবে ঘোষণা করা হলো।
এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন ঘোষণার তারিখ রয়েছে ১২ই অক্টোবর, যদিও এই তথ্যটি আজ জানা গেছে।
এমন একটি সময় এই ঘোষণা আসলো যার আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির চূড়ান্ত অধ্যাদেশের দাবিতে শিক্ষাভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান
ছবির উৎস, Screen Grab
ঢাকার সাত সরকারি কলেজ একীভূত করে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারির দাবিতে শিক্ষাভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
সরকারের তরফ থেকে তিন দিনের মধ্যে অধ্যাদেশ জারির প্রতিশ্রুতি না পাওয়া পর্যন্ত তারা অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করবেন না বলেও ঘোষণা দিয়েছেন।
পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার সাত সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে শিক্ষাভবনের সামনে একত্রিত হন।
আগামী তিন দিনের মধ্যে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারিসহ চার দফা দাবি জানান তারা।
এদিকে, শিক্ষাভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীরা যাতে সচিবালয়ের দিকে যেতে না পারেন, সেজন্য রাস্তায় ব্যারিকড দিয়ে রেখেছে পুলিশ। এতে সচিবালয়ের সামনের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।
ফিলিস্তিনি বন্দিদের নিয়ে প্রথম বাস রামাল্লায় পৌঁছেছে
ছবির উৎস, Reuters
ছবির ক্যাপশান, মুক্ত হওয়া ফিলিস্তিনিদের বহনকারী দু'টি বাস ইতোমধ্যে ফিলিস্তিনির রামাল্লায় পৌঁছেছে
ইসরায়েলের জীবিত সব জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার পর এর এবার ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে বন্দি ১৯৫০ জন ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তাদেরকে বহনকারী ৩৮টি বাসের মধ্যে দু'টি বাস ইতোমধ্যে ফিলিস্তিনির রামাল্লায় পৌঁছেছে।
যে ১৯৫০ জনকে ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে, তাদের মধ্যে ১৭০০ জন আটক এবং ২৫০ জন কারাবন্দি ছিলেন বলে জানা যাচ্ছে।
একটি দল নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে, জামায়াতকে ইঙ্গিত করে বিএনপি নেতা আমান
ছবির উৎস, Screen Grab
সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির (পিআর) দাবিতে আন্দোলনের নামে একটি রাজনৈতিক আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে "বানচালের চেষ্ট করছে" বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান।
সোমবার দুপুরে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই অভিযোগ করেন।
"আজকে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে একটি দল ষড়যন্ত্র করছে, চক্রান্ত করছে। স্বাধীনতার সময় যাদের বিতর্কিত ভূমিকা ছিল, তারা আজকে পিআর পদ্ধতির নামে নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করছে," সভায় বলেন মি. আমান।
"আজকে বিভিন্ন জায়গায় নির্বাচন নিয়ে বাঁধার সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং বিশেষ বিশেষ সময়ে বিশেষ বিশেষ বক্তব্য রেখে বিশেষ করে বিএনপিকে কটাক্ষ করে বক্তব্য রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে...আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, নির্বাচন বানচাল করা যাবে না," যোগ করেন তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে আগামী সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় নেতৃত্ব দেবেন বলেও জানান বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের এই সদস্য।
"আমাদের নেতা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে এসে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন এবং নির্বাচনের প্রচারণায় তিনিই থাকবেন, তিনিই নেতৃত্ব দেবেন," বলেন মি. আমান।
এর আগে, বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেছিলেন যে, আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশ নেবেন।
প্রিয়জনকে দেখতে উদ্বিগ্ন অপেক্ষারত ফিলিস্তিনিরা
ছবির ক্যাপশান, প্রিয়জনদের জন্য রামাল্লায় জড়ো হচ্ছে বহু ফিলিস্তিনি
রামাল্লা থেকে বিবিসির টম বেনেটের রিপোর্ট
অনুযায়ী, অফেরা কারাগার ছাড়ছে বেশ কিছু বাস। ধারণা করা হচ্ছে ফিলিস্তিনি বন্দিদের
এসব বাসে বহন করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া স্বজনদের জন্য রামাল্লায় অপেক্ষায় করছেন উদ্বিগ্ন ফিলিস্তিনিরা।
আমরো আবদুল্লাহ বলছেন তিনি তার নিকটাত্মীয় (কাজিন) রশিদ ওমরের জন্য অপেক্ষা
করছেন। তাকে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আটক করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলো ইসরায়েল।
“সে এখন মুক্তি আস্বাদনের জন্য প্রস্তুত,” আমরো
একটি কনফারেন্স হলে বলছিলেন যেখানে আরও অনেক পরিবার অপেক্ষা করছে।
অনেকে প্রিয়জনকে ফেরত পাবেন বলে নার্ভাস কিন্তু
আনন্দিত বলে জানিয়েছেন।
জীবিত ২০ ইসরায়েলি জিম্মির সবাইকেই হস্তান্তর করা হয়েছে, নিশ্চিত করল ইসরায়েল
ছবির উৎস, IDF
ছবির ক্যাপশান, মুক্তির পর দুই জমজ ভাই গালি ও জিব বারম্যানের এই ছবি প্রকাশ করেছে আইডিএফ।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গাজা থেকে দ্বিতীয়
দফায় জীবিত জিম্মিদের মুক্তি দিয়ে রেড ক্রসের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এই দফায় তের জনকে হস্তান্তর করেছে হামাস।
তাদের এখন ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স বা আইডিএফ এবং
গাজায় থাকা ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থার কাছে নেওয়া হচ্ছে।
এর মাধ্যমে জীবিত সব জিম্মিকেই হস্তান্তর করা
হয়েছে বলে জানিয়েছে হামাস।
তারা জানিয়েছে নিহত জিম্মিদের দেহাবশেষ পরে
হস্তান্তর করা হবে।
ফিলিস্তিনি বন্দিদের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে মুক্তির আভাস ইসরায়েলের
ছবির উৎস, AFP via Getty Images
ছবির ক্যাপশান, অফের কারাগারের সামনে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর যানবাহন দেখা যাচ্ছে
ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির পাশাপাশি ইসরায়েল থেকেও ফিলিস্তিনি বন্দিদের আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মুক্তির আশা করা হচ্ছে।
জেরুজালেম থেকে বিবিসির সংবাদদাতা টম বেনেট জানিয়েছেন, ২৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দি এবং গাজা থেকে আটক ১ হাজার ৭০০ জনকে মুক্তি দেওয়ার আশা করা হচ্ছে।
এর মধ্যে ২২টি শিশুও আছে।
ইসরায়েলের সংবাদ মাধ্যম বলছে, দখলিকৃত পশ্চিম তীরে অফের কারাগার থেকে এসব বন্দিরা মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
শুক্রবার এসব বন্দিদের নামের তালিকা প্রকাশ করেছে ইসরায়েলের বিচার মন্ত্রণালয়।
যারা মুক্তি পাবেন তাদের জন্য সকাল থেকেই কারাগারের বাইরে তাদের স্বজনরা অপেক্ষা করছেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, পশ্চিম তীরে একশ বন্দি মুক্তি পাবেন। তাদের গাজা বা মিশরে পাঠানো হবে। আর একটি ছোট অংশ মুক্তি পাবে পূর্ব জেরুজালেমে।
ইসরায়েলের পার্লামেন্টে ভাষণ দিবেন ট্রাম্প, পাবেন সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান
ছবির উৎস, Reuters
ছবির ক্যাপশান, ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমে ইসরায়েলের পার্লামেন্টে ভাষণ দিবেন।
তিনি ইসরায়েলি জিম্মিদের পরিবারের সদস্যদের সাথেও সাক্ষাত করবেন। এরপর তিনি শারম আল-শায়েখে যাবেন গাজা শান্তি সম্মেলনে অংশ নিতে।
ওই সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারসহ অন্তত ২০ জন বিশ্বনেতা যোগ দিবেন।
ওদিকে ইসরায়েলে অবতরণের আগে বিমানে তার সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি গাজা সফরে যেতে চান। "আমি এটা করতে চাই। অন্তত আমার পা রাখতে চাই," বলেছেন তিনি।
এদিকে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পেতে যাচ্ছেন।
ইসরায়েলি প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অফ অনার দেওয়া হচ্ছে মি. ট্রাম্পকে।
ছবির উৎস, Reuters
ছবির ক্যাপশান, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্বাগত জানিয়েছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার স্ত্রী
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, ইসরায়েলে পৌঁছানোর পর ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, বিমান থেকে নামছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
ছবির উৎস, Office of Israeli President Isaac Herzog
ছবির ক্যাপশান, ট্রাম্প ইসরায়েলের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পেতে যাচ্ছেন
শহীদ মিনারে শিক্ষক কর্মচারীদের অবস্থান চলছে, অনেক প্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতি
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দ্বিতীয় দিনের মত অবস্থান করছেন স্কুল-কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা।
তাদের মূলত বেতনের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া ভাতার দাবিতে ‘লাগাতার অবস্থান’
কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ এ কর্মসূচি পালন করা
হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের’ ব্যানারে কর্মসূচিতে
অংশ নেওয়া আন্দোলনকারী শিক্ষক কর্মচারীরা।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে কোথাও
কোথাও শিক্ষকদের কর্মবিরতি পালনের খবর পাওয়া গেছে।
আবার অনেক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক
কার্যক্রম অব্যাহত থাকারও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।
যদিও আন্দোলনকারীদের একজন
নেতা দেলাওয়ার হোসেন আজিজী সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন যে, অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই
কর্মবিরতি চলছে।
এর আগে রোববার প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষক কর্মচারীরা অবস্থান নিয়েছিলেন। পরে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
স্বামীর দ্বারা শারীরিক ও যৌন সহিংসতার শিকার অর্ধেকের বেশি নারী, জরিপের তথ্য
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, প্রতি তিনজনের মধ্যে দুজন ভুক্তভোগী (৬২%) তারা যে সহিংসতার মুখোমুখি হন, তা কখনোই প্রকাশ করেননি। ছবিটি প্রতীকী।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর এক জরিপ অনুযায়ী, দেশের অর্ধেকেরও বেশি নারী (৫৪ শতাংশ) জীবদ্দশায়
স্বামীর দ্বারা শারীরিক বা যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। যৌন সহিংসতার শিকার নারীদের
মধ্যে ৬০ শতাংশ গত এক বছরেই একাধিকবার সহিংসতার সম্মুখীন হয়েছেন।
এছাড়া, গর্ভাবস্থায়,
বিবাহিত নারীদের মধ্যে ৭ দশমিক ২ শতাংশ শারীরিক সহিংসতার এবং ৫ দশমিক ৩ শতাংশ যৌন সহিংসতার
সম্মুখীন হয়েছেন।
বাংলাদেশ
পরিসংখ্যান ব্যুরো এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল কর্তৃক আজ প্রকাশিত ‘নারীর
প্রতি সহিংসতা জরিপ ২০২৪’ শীর্ষক এই জরিপ আজ
প্রকাশ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান
ব্যুরো এবং ইউএনএফপিএ’র যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে,দেশের প্রতি চারজনের
মধ্যে তিনজন নারীই সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
জরিপে দেখা যায়, প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজন নারী (৭৬%)
তাদের জীবনে অন্তত একবার জীবনসঙ্গী বা স্বামী কর্তৃক সহিংসতার শিকার হয়েছেন—যার মধ্যে রয়েছে শারীরিক,
যৌন, মানসিক এবং অর্থনৈতিক সহিংসতা, পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ।
পাশাপাশি, প্রায় অর্ধেক নারী (৪৯%) গত এক বছরে এ ধরনের সহিংসতার
শিকার হয়েছেন।
“উদ্বেগজনকভাবে, তিনজনের মধ্যে দুজন ভুক্তভোগী (৬২%) তারা
যে সহিংসতার মুখোমুখি হন, তা কখনোই প্রকাশ করেননি,” রিপোর্টে বলা হয়েছে।
জরিপ থেকে প্রাপ্ত আরও তথ্য:
নন-পার্টনার কর্তৃক শারীরিক সহিংসতার ঘটনাগুলোর মধ্যে শাশুড়ি
ও পুরুষ আত্মীয়রা সবচেয়ে বেশি জড়িত। অপরদিকে, নন-পার্টনার কর্তৃক যৌন সহিংসতার অধিকাংশ
ঘটনাই নারীদের পরিচিত ব্যক্তিদের দ্বারাই সংঘটিত হয়েছে—যেমন পুরুষ আত্মীয়, বন্ধু
ও পরিচিতজন।
●৮.৩ শতাংশ নারী প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত নির্দিষ্ট কিছু জেন্ডার-ভিত্তিক
সহিংসতার (Technology-Facilitated Gender-Based Violence) শিকার হয়েছেন, যা যৌন ব্ল্যাকমেইল,
ছবি নিয়ে অপব্যবহার এবং নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের সঙ্গে সম্পর্কিত।
●পরিষেবা চাওয়ার হার উদ্বেগজনকভাবে কম, যেখানে মাত্র ১৪.৫ শতাংশ সহিংসতার
শিকার নারী চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন। স্বামীর দ্বারা সহিংসতার শিকার নারীদের মধ্যে ৭.৪ শতাংশ আইনি পদক্ষেপ
নিয়েছেন, এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্থানীয় নেতার
কাছ থেকেই সহায়তা চেয়েছেন। অন্যদিকে, নন-পার্টনার দ্বারা সহিংসতার শিকার নারীদের
মধ্যে মাত্র ৩.৮ শতাংশ আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন, এবং সবচেয়ে বেশি পুলিশের কাছ থেকেই আইনি সহায়তা
চেয়েছেন।
●২ জনের মধ্যে ১ জনেরও কম নারী (৪৮.৫%) জানেন যে কোথায় সহিংসতার
অভিযোগ জানাতে হয়, এবং মাত্র ১২.৩ শতাংশ নারী সহিংসতার সহায়তাকারী হেল্পলাইন ১০৯ সম্পর্কে
অবগত।
●স্বামী দ্বারা সহিংসতার ক্ষেত্রে কম বয়স, যৌতুক প্রথা, স্বামীর
মাদকাসক্তি বা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, এবং শহুরে বস্তিতে বসবাস নারীদের সহিংসতার ঝুঁকি
উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে, স্বামীর উচ্চতর শিক্ষা সহিংসতার ঝুঁকি কমায়।
এছাড়া, নন-পার্টনার সহিংসতার ক্ষেত্রে নারীর কম বয়স, সীমিত শিক্ষা এবং প্রতিবন্ধিতা
(functional difficulty) প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ইসরায়েলে পৌঁছেছেন ট্রাম্প
গাজায় হামাসের হাত থেকে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হবার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলে পৌঁছেছেন।
তাকে বহনকারী বিমানটি কিছুক্ষণ আগেই বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেকে তাকে স্বাগত জানাচ্ছেন।
ছবির উৎস, Reuters
ছবির ক্যাপশান, ট্রাম্পকে বহনকারী বিমান ইসরায়েলের বিমানবন্দরে
জিম্মি মুক্তির খবরে তেল আবিবে উচ্ছ্বাস, অশ্রু
গাজায় জিম্মি মুক্তির প্রক্রিয়া শুরুর খবরে তেল
আবিবে জড়ো হওয়া মানুষের মধ্যে অশ্রুসজল উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে আনন্দের
পাশাপাশি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন অনেকে।
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির উৎস, Reuters
মুক্তি পাওয়া ৭ জিম্মি ইসরায়েলে প্রবেশ করেছেন
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হামাসের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া সাত জিম্মি কিছুক্ষণ আগে সীমান্ত অতিক্রম করে ইসরায়েলে প্রবেশ করেছেন।
তারা এখন প্রাথমিক অভ্যর্থনা কেন্দ্রের দিকে যাচ্ছেন।
ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে ওই কেন্দ্রেই তারা তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে মিলিত হবেন।
ওদিকে 'দ্যা হোস্টেজ ও মিসিং ফ্যামিলিজ ফোরাম' সামাজিক মাধ্যমে 'ওয়েলকাম হোম' পোস্ট করে মুক্তি পাওয়াদের স্বাগত জানিয়েছে।
এ সংগঠনটি জিম্মি মুক্তির দাবিতে ব্যাপক প্রচার চালিয়ে আসছিলো।
"আমাদের সংগ্রাম শেষ হয়নি। শেষ জিম্মির অবস্থান শনাক্ত ও যথাযথ দাফনের জন্য ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম শেষ হবে না। এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব," বলেছে সংগঠনটি।
ছবির উৎস, Reuters
ছবির ক্যাপশান, মুক্তি পাওয়া জিম্মিদের একজন আলন ওহেলের পরিবারের সদস্যদের উচ্ছ্বাস
মুক্তি পাওয়া সাত জনের নাম নিশ্চিত করল ইসরায়েল
হামাসের কাছ থেকে প্রথম দফায় যে ৭ জন মুক্তি পেয়েছেন, তাদের নাম নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
যারা মুক্তি পেলেন তারা হলেন:
* এইতান মর
* গালি বারম্যান
*জিভ বারম্যান
* ওমরি মিরান
* আলন ওহেল
* গাই গিলবোয়া-ডালাল
* মাটান আংরেস্ট
ছবির উৎস, Reuters
ছবির ক্যাপশান, এইতান মরকে ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর অপহরণ করা হয়েছিলো
৭ জিম্মিকে রেড ক্রসের কাছে হস্তান্তর
হামাসের কাছে থাকা জিম্মিদের মধ্যে প্রথম দফায় মুক্তি পেয়েছেন ৭ জন।
তাদের গাজায় রেড ক্রসের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে ইসরায়েলের সংবাদ মাধ্যম খবর দিয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, হামাস ইতোমধ্যেই তাদের হস্তান্তর করেছে।
জিম্মিদের মধ্যে একজনের বাবা সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, পনের মিনিটের মধ্যেই তাদের ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স বা আইডিএফের কাছে হস্তান্তর করবে এবং এরপর তারা ইসরায়েলে পৌঁছাবে।
ছবির উৎস, Reuters
ছবির ক্যাপশান, গাজায় রেড ক্রসের কাছে ৭ জনকে হস্তান্তর করেছে হামাস
জিম্মিদের মধ্যে কারা জীবিত আছে
গাজা যুদ্ধ নিয়ে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, হামাস ৪৮ জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার কথা। এর মধ্যে ২০ জন জীবিত আছে বলে মনে করা হয়।
এরা হলেন, অ্যারিয়েল কুনিও ও তার ভাই ডেভিড কুনিও। ২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর তারা অপহৃত হয়েছিলেন। পরিবারের কাছে পাঠানো সবশেষ বার্তায় তিনি বলেছেন, "আমরা একটা হরর মুভির মধ্যে আছি"।
এভিয়াটার ডেভিড, তাকে নোভা উৎসব থেকে অপহরণ করা হয়েছিলো।
গালি ও জিভ বারম্যান- ২৮ বছর বয়সী দুই জমজ ভাই। তাদের কিবুৎয কেফার আজা থেকে অপহরণ করেছিলো হামাস।
ওমরি মিরান। অপহৃত হয়েছিলেন যারা তাদের মধ্যে এখন বেঁচে থাকাদের মধ্যে তিনিই সবচেয়ে বয়সী। তার বয়স ৪৮।
ছবির ক্যাপশান, ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটিতে কিছুক্ষণ আগে এই হেলিকপ্টার দেখা যায়
ইসরায়েল নিরাপত্তা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা পনের মিনিটের মধ্যেই জিম্মি মুক্তি শুরু হবে বলে নিশ্চিত করেছেন।
"সমঝোতা অনুযায়ী আইডিএফ জিম্মি হস্তান্তর ও ফেরত আনার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। তবে সময় কিছুটা এদিক সেদিক হতে পারে," বলেছেন ওই কর্মকর্তা।
ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স বা আইডিএফ বলেছে, এর আগে জিম্মিরা যে প্রক্রিয়ায় মুক্তি পেয়েছিলেন এবারেও তাই হবে।
জিম্মিদের আইডিএফের হাতে হস্তান্তর করবে রেড ক্রস। পরে তাদের ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় সামরিক ঘাঁটিতে নেওয়া হবে।
জিম্মিদের গ্রহণের জন্য যাচ্ছে রেড ক্রস
ছবির উৎস, Reuters
ছবির ক্যাপশান, সামরিক ঘাঁটির কাছে জড়ো হচ্ছেন জিম্মিদের পরিবারের সদস্যরা। মুুক্তির পর তাদের এখানেই আনা হবে।
জেরুজালেম থেকে বিবিসির সংবাদদাতা টম বেনেট জানাচ্ছেন যে, হামাসের হাত থেকে জিম্মিদের গ্রহণের জন্য গাজার উত্তরাঞ্চলের পথে রয়েছে রেড ক্রস। সেখানেই তাদের হেফাজতে জিম্মিদের দেওয়া হবে বলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে।
এরপর রেডক্রস তাদের গাজার একাংশে নিয়ে যাবে যে এলাকাটি ইসরায়েলি আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
জিম্মিদের নেওয়া হবে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে রেইম সামরিক ঘাঁটিতে । সেখানে মুক্তি পাওয়া জিম্মিরা তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে মিলিত হবেন।
সেখান থেকে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হবে। এজন্য ইসরায়েল বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বিবিসি বাংলার লাইভ
বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায় আপনাদের স্বাগত। দেশ ও বিশ্বের উল্লেখযোগ্য ঘটনার সর্বশেষ খবর পেতে চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার এই পাতায়।