বিদ্যুত ও জ্বালানির দাম বাড়াতে চায় না সরকার, ব্যাংক কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত

ব্যাংক কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পূর্ণ সমর্থন চেয়েছেন অধ্যাপক ইউনূস। প্রাণরক্ষায় ৬২৬ জনকে সেনানিবাসে আশ্রয় দেয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে আইএসপিআর। শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে আরো দুটি মামলা হয়েছে। সার্বক্ষণিক সব খবর জানতে বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায় যুক্ত থাকুন:

সার সংক্ষেপ

  • নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনে বিদেশি কূটনীতিকদের সমর্থন চাইলেন ড. ইউনূস
  • ব্যাংক খাতে টেকসই সংস্কারে কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত
  • সরকার পতনের পর সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন ৬২৬ জন
  • একমাসের বেশি সময় পর দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলেছে
  • হেফাজতের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের নামে মামলা
  • আগের শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা শিক্ষা উপদেষ্টার

সরাসরি কভারেজ

  1. সরকার পতনের পর সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন ৬২৬ জন

    বাংলাদেশে গত পাঁচই অগাস্ট গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজনৈতিক দলের নেতা, বিচারক, সরকারি আমলা, পুলিশ কর্মকর্তাসহ প্রায় ৬২৬ জন ব্যক্তিকে বিভিন্ন সেনানিবাসে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল।

    এর মধ্যে ৫১৫ জনই পুলিশের সদস্য, যাদের মধ্যে ২৮ জন পুলিশ কর্মকর্তা। আশ্রয়গ্রহীতাদের অধিকাংশই নিজ উদ্যোগে পরে সেনানিবাস ছেড়ে চলে গেছেন। এখন সেখানে রয়েছেন সাত জন।

    এছাড়া বিভিন্ন অভিযোগ বা মামলার ভিত্তিতে আশ্রয়গ্রহীতাদের চারজনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ইতোমধ্যেই হস্তান্তর করা হয়েছে।

    রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

  2. স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশনের কথা ভাবছেন তথ্য উপদেষ্টা

    গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কথা ভাবছেন অন্তর্বর্তী সরকারের নতুন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম।

    রোববার সকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনায় এ বিষয়ে উদ্যোগ নেয়ার কথা জানান তিনি।

    তিনি বলেন, “তারা স্বাধীন গণমাধ্যমের কথা ভেবেছেন। সাংবাদিক সমাজের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে উদ্যোগ নেবেন।”

    সেইসাথে গণমাধ্যমে নিরপেক্ষতা চর্চার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা দেখেছি গণমাধ্যমে আওয়ামী লীগ বিএনপির মতো দুটা ভাগ থাকে। এ ধরনের রাজনৈতিক দলীয়করণ যেন সাংবাদিকদের মধ্যে না দেখি। আমরা যেন একটি নিরপেক্ষ জায়গায় জনগণের পক্ষে কথা বলতে পারি।”

    সেইসাথে সেন্সর বোর্ড পুনর্গঠন করা, সাইবার নিরাপত্তা আইন পুনর্বিবেচনা করা এবং দ্রুততম সময়ে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যার বিচারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

    দায়িত্ব নেওয়ার পর রোববার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে দপ্তর প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন তথ্য উপদেষ্টা। সেখানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

  3. যত দূর সম্ভব আগের শিক্ষাক্রমে ফিরে যাবো: শিক্ষা উপদেষ্টা

    স্কুল কলেজের ক্ষেত্রে সাময়িক সময়ের জন্য আগের শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা অর্থনীতিবিদ ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।

    তবে ইতোমধ্যে যারাএই শিক্ষাক্রমে ঢুকে গিয়েছে অর্থাৎ নবম শ্রেণীতে পড়ে, তারা যাতে কোনভাবে বিপাকে না পড়ে, তারা যাতে স্বস্তিতে থাকে, বিভ্রান্ত না হয় সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে বলেও তিনি জানান।

    এছাড়া নতুন শিক্ষাক্রমের বিষয়ে তিনি বলেছেন, এটি বাস্তবায়নযোগ্য না। এজন্য সেটা তো রাখা যাবে না।

    সর্বশেষ নতুন এই শিক্ষাক্রম চালু হয় ২০২১ সালে। এই শিক্ষাক্রম কতোটা কাজ করছে সে বিষয়ে মাঠপর্যায়ে প্রচুর গবেষণা হয়েছে।

    সেই গবেষণা প্রসঙ্গে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেছেন, গবেষণায় দেখা গিয়েছে এটা বাস্তবায়ন করা খুব কঠিন বর্তমান পর্যায়ে আমাদের যে শিক্ষক আছে তা দিয়ে। এবং এটা যে আমাদের দেশের জন্য সর্বক্ষেত্রে উপযোগী তাও আমরা মনে করছি না। শিক্ষাক্রমকে আমরা খুব সম্ভবত কার্যকর করা সম্ভববলে দেখছি না।

    তিনি এটাও বলেছেন যে “শিক্ষাক্রমকে আধুনিক করা প্রয়োজন, পাঠক্রম উন্নত করতে হবে, সময় বদলাচ্ছে। আমাদের দেশের জন্য উপযোগী, বাস্তবায়নযোগ্য পাঠ্যক্রমের জন্য সময় প্রয়োজন”।

    এছাড়া দেশের সার্বিক শিক্ষা খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা এখানে দখলদারিত্বের যে রাজনীতি সেটার মধ্যবর্তী সময়ে অন্তত চেষ্টা করবো একটি ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অন্যান্য দেশে যেভাবে চলে সেরকম পরিবেশ তৈরি করতে”।

    স্কুল কলেজের যে বোর্ডগুলো আছে বেসরকারি খাতে, বোর্ডগুলো প্রচণ্ড দলীয়করণ হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি। সেইসাথে বোর্ড প্রধানদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

    “দখলদারির বিষয় যে এদেরকে সরিয়ে দিয়ে আবার অন্য দল আসবে একই ধরণের আমরা এমনটা চাই না। আমরা চাই বেসরকারি স্কুল কলেজ কমিটিগুলো যেন ভালো মানুষ দিয়ে তৈরি হতে পারে”।

  4. জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ ও প্রশাসক নিয়োগের অধ্যাদেশ জারি

    বিশেষ পরিস্থিতিতে সিটি কর্পোরেশন, জেলা, উপজেলা, পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন বিভাগের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করা ও সেখানে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতা সরকারের হাতে দিয়ে আইন সংশোধন করে আলাদা আলাদা অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার।

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শনিবার রাতে এসব অধ্যাদেশ জারি করেন। এর আগে শনিবার ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’; ‘স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’; ‘জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ এবং ‘উপজেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ এর খসড়া অনুমোদন করেছিল উপদেষ্টা পরিষদ।

    গত ৫ই অগাস্ট সরকার পতনের পর সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, মেয়র, কাউন্সিলররা আত্মগোপন করেছেন। ফলে সেখানে নাগরিক সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

    এই পরিস্থিতি সামলাত আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়।

  5. বিবিসি বাংলার লাইভ

    প্রাণরক্ষায় ৬২৬ জনকে সেনানিবাসে আশ্রয় দেয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে আইএসপিআর। শিক্ষা উপদেষ্টা জানিয়েছেন যে, যত দূর সম্ভব আগের শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়া হবে। এক মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু হয়েছে। সার্বক্ষণিক সব খবর জানতে বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায় যুক্ত থাকুন: