ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে আবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের ৬০তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জয়ের জন্য ২৭০টি ইলেক্টোরাল ভোটের দরকার হলেও তার অন্তত ২৭৯টি ভোট নিশ্চিত হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী কমালা হ্যারিসের পক্ষে ২২৩টি ভোট। সেনেটের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতে যাওয়ার পূর্বাভাস।

সরাসরি কভারেজ

  1. যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে বিশ্ব শেয়ারবাজারে উত্থান

    ডলার

    ছবির উৎস, Getty Images

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফলের পূর্বাভাসে বিশ্ব শেয়ারবাজারে উত্থান দেখা গেছে।

    বুধবার সকালে জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ার বেঞ্চমার্ক শেয়ার সূচকগুলো ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

    অন্যদিকে, বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফলাফলের দিকে নিবিড়ভাবে নজর রাখায় প্রধান মুদ্রার বিপরীতে মার্কিন ডলারের মানও বৃদ্ধি পেয়েছে।

    এই নির্বাচনের ফলাফল বিশ্ব অর্থনীতির ওপর, বিশেষ করে এশিয়ায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    এশিয়ায় দিনের পুঁজিবাজারে লেনদেন চলার সময়কালের মধ্যে নির্বাচনের ফলাফল জানা যাবে কিনা তা অনিশ্চিত।

    কেননা সুইং স্টেটগুলোর ভোট গণনা শেষ হতে সময় লাগতে পারে।

  2. নারীদের ভোটে এগিয়ে হ্যারিস, কিন্তু ব্যবধান বড় নয়

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এবারের নির্বাচনে লিঙ্গভিত্তিক সমর্থন নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে।

    এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, নারীরা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কমালা হ্যারিসকে ৫৪ শতাংশ সমর্থন দিচ্ছেন এবং রিপাবলিকান পার্টির ডোনাল্ড ট্রাম্প নারীদের ভোট পাচ্ছেন ৪৪ শতাংশ।

    এ থেকে দেখা যাচ্ছে যে নারী ভোটের দিক থেকে মিজ হ্যারিস এগিয়ে থাকলেও ব্যবধান খুব বড় নয়। তবে এর আগে ২০২০ সালের নির্বাচনে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ৫৭ শতাংশ নারী ভোট দিয়েছিলেন।

    জাতীয় এক্সিট পোলের তথ্য প্রতিনিয়ত আপডেট হচ্ছে, তবে এটি চূড়ান্ত নয়। সুইং স্টেটগুলোতে কী ঘটছে, তা এখনও প্রকাশিত হয়নি।

    এর বাইরে জাতিগত ভিত্তিতে শ্বেতাঙ্গদের ভোটে ডোনাল্ড ট্রাম্প এগিয়ে, আর কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের মধ্যে মিজ হ্যারিস এগিয়ে। মিজ হ্যারিস হিস্পানিক ভোটারদের মধ্যেও এগিয়ে আছেন।

    সেইসাথে, কলেজ পড়ুয়া ও তরুণ ভোটারদের দিক থেকেও মিজ হ্যারিসের পাল্লা ভারী।

    কমালা হ্যারিস

    ছবির উৎস, Reuters

    ছবির ক্যাপশান, কমালা হ্যারিস
  3. নির্বাচনের রাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে থাকবেন ইলন মাস্ক

    trump musk

    ছবির উৎস, Getty Images

    বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক নির্বাচনের রাতে ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো রিসোর্টে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে থাকবেন।

    টেসলা এবং এক্স-এর মালিক মি. মাস্ক রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সুইং স্টেটগুলোতে প্রচারণা চালিয়েছেন।

    ট্রাম্পের প্রচারণায় মার-আ-লাগো এবং পাম বিচ কনভেনশন সেন্টারে হাজারো সমর্থকের জন্য এক ইভেন্টের আয়োজন করা হয়েছে।

    এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় ইলন মাস্ক ট্রাম্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক ছিলেন।

    এই নির্বাচনে তিনি ট্রাম্পকে সমর্থন করা অ্যামেরিকা পিএসিকে ১১৯ মিলিয়ন বা ১১ কোটি নয় লাখ ডলারের বেশি অর্থ দান করেছেন।

    “ট্রাম্পের অবসর নেওয়ার সময় এসেছে”- ২০২২ সালে মি. ট্রাম্পকে নিয়ে ইলন মাস্ক এমন মন্তব্য করলেও, ২০২৪ সালে সাবেক এই প্রেসিডেন্টকেই সমর্থনের ঘোষণা দেন তিনি।

    ফ্লোরিডা রাজ্যে ট্রাম্পের জয়ের সম্ভাবনা জানার পর কনভেনশন সেন্টারে বড় ধরনের উল্লাস দেখা যায়।

    বর্তমানে ফ্লোরিডা একটি শক্তিশালী রিপাবলিকান রাজ্য হওয়ায় ট্রাম্পের জয় নিয়ে সন্দেহ ছিল না, তবে এটি প্রাথমিক ফলাফলের মধ্যেই উদযাপনের আবহ যোগ করেছে।

    সেখানে ‘মেইক অ্যামেরিকা গ্রেট এগেইন’, সংক্ষেপে ‘’এমএজিএ’ লেখা প্রচুর লাল টুপি এবং বিভিন্ন চিত্তাকর্ষক পোশাক পরা লোকজন ছিল, যা কি না ট্রাম্পের সমাবেশগুলোর একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য, দেখা গেছে।

    এ নিয়ে আরো পড়তে পারেন:

  4. ২৭০ ছোঁয়ার লক্ষ্য: প্রার্থীরা কীভাবে জিতবেন?

    ভোট কর্মকর্তা

    যুক্তরাষ্ট্রে ৫০টি রাজ্য আছে। বেশিরভাগ রাজ্যই প্রতি নির্বাচনে একই রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করে।

    তবে, কিছু রাজ্য যেগুলোকে সুইং স্টেট বলে, সেখানে নির্দিষ্ট কোন দলের প্রতি আনুগত্য থাকে না - যেকোনও দলের প্রার্থী জিততে পারেন।

    এই রাজ্যগুলো হচ্ছে - নেভাদা, আরিজোনা, নর্থ ক্যারোলাইনা, জর্জিয়া, উইসকনসিন, মিশিগান এবং পেনসিলভানিয়া।

    নির্বাচনে জয়লাভের জন্য বড় রাজ্যগুলোর জয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

    কারণ, এগুলোতে ইলেকটোরাল কলেজ ভোট বেশি থাকে।

    প্রেসিডেন্ট হতে হলে একজন প্রার্থীকে মোট ৫৩৮টি ইলেকটোরাল কলেজ ভোটের মধ্যে ২৭০টি বা তার বেশি ভোট পেতে হবে।

    সেইসাথে, দু’জন প্রার্থীকেই অন্তত তিনটি সুইং স্টেট জিততে হবে।

    এ নিয়ে আরো পড়তে পারেন:

  5. ফিলাডেলফিয়াতে মিথ্যা বোমা হামলার হুমকি

    পেনসিলভেনিয়ার একটি ভোটকেন্দ্র
    ছবির ক্যাপশান, পেনসিলভেনিয়ার একটি ভোটকেন্দ্র

    পেনসিলভেনিয়ার ফিলাডেলফিয়া’র ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ল্যারি ক্র্যাসনার স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাতে বলেছেন, নির্বাচনের দিন শহর শান্তিপূর্ণ থাকলেও দুইটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে রাজ্যে।

    এর একটি ছিল মিথ্যা বোমা হামলার হুমকি, ফিলাডেলফিয়ার বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা হতে পারে এমন হুমকি দেয়া হয়েছিল।

    এফবিআই বলছে, এ হুমকিগুলো সম্ভবত রুশ সূত্র থেকে এসেছে।

    বোমা হামলার হুমকি পেয়ে ফিলাডেলফিয়ার সব স্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছিলো।

    একটি কেন্দ্র টানা ২৩ মিনিট বন্ধ ছিল, পরে সে সময় বাড়ানো হয়।

    দ্বিতীয় ঘটনা ছিল, একজন ব্যক্তি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে বোমা হামলা করার হুমকি দেয়ার পর তাকে আটক করা হয়।

    এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার ফুলটন কাউন্টিতে বোমাতঙ্কের গুজবে ৩০ মিনিটের জন্য অন্তত কয়েকটি ভোট কেন্দ্র খালি ছিল।

  6. বুথফেরত জরিপ: গণতন্ত্র আর অর্থনীতিকেই শীর্ষে রাখছে মার্কিন ভোটাররা

    বুথফেরত জরিপ

    ছবির উৎস, APF

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বুথফেরত জরিপের প্রাথমিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ভোটারদের কাছে সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব পেয়েছে গণতন্ত্র আর অর্থনীতির অবস্থা।

    প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভোটার তাদের গুরুত্বের তালিকায় গণতন্ত্রকে শীর্ষে রেখেছেন।

    আর তারপরই জায়গা পেয়েছে অর্থনীতি, গর্ভপাত, অভিবাসন এবং বৈদেশিক নীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো।

    ২০০৮ সালের পর থেকে প্রতিটি নির্বাচনেই ভোটারদের কাছে অর্থনীতি প্রধানতম ইস্যু হলেও, বুথফেরত জরিপে গণতন্ত্রের সঙ্গে এবার তার দূরত্ব ছিল সামান্যই।

    প্রায় ৬০ শতাংশ হ্যারিস সমর্থক গণতন্ত্রকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করলেও ট্রাম্প সমর্থকদের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশের কাছে বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

    অন্যদিকে, ট্রাম্পের প্রায় ৫০ শতাংশ সমর্থক অর্থনীতিকে শীর্ষে রেখেছেন, যেখানে হ্যারিসের সমর্থকদের মাত্র ১০ শতাংশ তার সাথে ্তএক পোষণ করেন।

    তবে, উভয় পক্ষের মধ্যেই গণতন্ত্র নিয়ে সমান উদ্বেগ রয়েছে।

    প্রায় তিন-চতুর্থাংশ ভোটার বলেছেন যে তারা গণতন্ত্র নিয়ে ‘অনেক’ বা ‘কিছুটা’ হুমকির আশঙ্কা করছেন।

    প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় সাতজন ভোটার নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে সহিংসতার বিষয়ে চিন্তিত।

    আর দুই-তৃতীয়াংশ ভোটার জাতীয় অর্থনীতির অবস্থা ‘খারাপ’ বলে মনে করেন, তবে এ সংখ্যা ট্রাম্প সমর্থকদের মধ্যেই বেশি।

    ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কমালা হ্যারিসকে নিয়ে জানতে পড়তে পারেন:

  7. ফ্লোরিডাতে জয়ের পথে ট্রাম্প

    ফ্লোরিডা এখন আর 'প্রেসিডেন্সিয়াল ব্যাটলগ্রাউন্ড' মানে জয়-পরাজয় নির্ধারক রাজ্য নয়। সর্বশেষ ২৪ বছর আগে ফ্লোরিডার কয়েকশো ভোট প্রতিপক্ষের সাথে ব্যবধান গড়ে দিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থী জর্জ ডব্লিউ বুশকে প্রেসিডেন্ট বানিয়েছিলো।

    এ পর্যন্ত রাজ্যের ৭৩ শতাংশ ভোট গণনা শেষ হয়েছে, আর তা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পই এ রাজ্যটি জয় করতে যাচ্ছেন।

    এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তবে, এটি ডেমোক্র্যাটদের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

    সাম্প্রতিক সময়ের নির্বাচনগুলোতে রিপাবলিকানরা ফ্লোরিডায় বরাবরই ভালো ফল করেছে।

    সর্বশেষ ২০১৮ এবং ২০২২ নির্বাচনেও রিপাবলিকানরা এই রাজ্যে জিতেছিল।

    ফ্লোরিডা এখন একটি রেড স্টেট, মানে রিপাবলিকানদের প্রতীক যে লাল মানচিত্রে সে রঙ এ দেখানো হচ্ছে রাজ্যটিকে।

  8. সাউথ ক্যারোলাইনাতে জয়ের পথে ডোনাল্ড ট্রাম্প

    ডোনাল্ড ট্রাম্প

    ছবির উৎস, Getty Images

    ছবির ক্যাপশান, ডোনাল্ড ট্রাম্প

    যুক্তরাষ্ট্রে বিবিসির পার্টনার সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প সাউথ ক্যারোলাইনাতে জয় পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    অবশ্য এটি প্রত্যাশিত ছিল। কারণ ঐতিহাসিকভাবেই সেখানে রিপাবলিকানরা জিতে আসছে।

    সাউথ ক্যারোলাইনাকে পালমেটো স্টেট বলা হয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি মূল ব্রিটিশ উপনিবেশের একটি।

    এই রাজ্য সাধারণত রিপাবলিকান পার্টিকেই সমর্থন করে।

    এর আগে শুধুমাত্র ১৯৭৬ সালে ডেমোক্র্যাট জিমি কার্টারকে সমর্থন করেছিলো এই রাজ্য।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে আরো জানতে পড়তে পারেন:

  9. যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২৪ নিয়ে বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায় আপনাদের স্বাগতম। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সব খবর পাবেন এই লাইভ পাতায়। রিপোর্টিং করছেন মরিয়ম সুলতানা এবং তানহা তাসনিম।

    বিবিসি বাংলায় অন্যান্য খবর জানতে ক্লিক করতে পারেন এই লিংকে।