আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন

আমাকে মূল ওয়েবসাইটে/সংস্করণে নিয়ে যান

এই ডেটা-সাশ্রয়ী সংস্করণ সম্পর্কে আরও জানুন

দেশ ছেড়েছেন শেখ হাসিনা, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা সেনাপ্রধানের

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের 'মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচি ঘিরে এক 'গণঅভ্যুত্থানে' পতন ঘটলো শেখ হাসিনা সরকারের। গণভবন ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় সাধারণ মানুষের দখলে। অবশ্য তার আগেই ভারতের উদ্দেশে দেশ ছেড়ে গেছেন মিজ হাসিনা। বিকেলে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন সেনাপ্রধান। সারাদিনের সব আপডেট পেতে যুক্ত থাকুন বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়…

সার সংক্ষেপ

  • বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন
  • গণভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ছাত্র-জনতার দখলে
  • জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান, সকলকে ধৈর্য ধরার আহ্বান অনতিবিলম্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের ঘোষণা
  • ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয় সরকারের রূপরেখা দেবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
  • বাংলাদেশে ১৭ দিন ধরে কারফিউ থাকার পর মঙ্গলবার ভোর থেকে তুলে নেয়া হচ্ছে, অফিস,আদালত খুলে দেয়া হচ্ছে
  • আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, প্রধান বিচারপতির বাসভবনসহ নানা জায়গায় হামলা

সরাসরি কভারেজ

  1. রামপুরা-বনশ্রী এলাকায় পুলিশের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির মধ্যে সোমবার রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

    এসময় টিয়ারশেল ছুড়ে আন্দোলনকারীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে পুলিশ। সকাল থেকেই রামপুরায়-বনশ্রী এলাকায় সেনাবাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবনের আশেপাশে সতর্ক অবস্থান নেন তারা। একইসঙ্গে, ওই দুই এলাকার মোড়ে মোড়ে অবস্থান নেয় পুলিশ।

    সেসময় বনশ্রী এলাকায় বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা দেখতে পান, পাড়া-মহল্লায় ঘুরে ঘুরে মাইকিং করে আহ্বান জানানো হচ্ছে যেন কারফিউয়ের মধ্যে কেউ ঘরের বাইরে বের না হন।

  2. ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ফিরেছে

    বাংলাদেশে কয়েক ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা আবার চালু হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।

    সোমবার সকাল পর্যন্ত ধীরগতিতে চললেও সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় ব্রডব্যান্ড সেবা।

    এর আগে রবিবার মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।

    ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, সাবমেরিন ক্যাবল ও আইটিসি অপারেটর থেকে ব্যান্ডউইথ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

    শনিবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সরকার পতনের একদফা দাবির পর থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট সংঘাতময় পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়ে উঠে।

  3. ঢাকার অন্তত তিনটি পয়েন্টে সংঘর্ষের খবর

    কেন্দ্রীয় শহীদমিনার সংলগ্ন বখশীবাজার, রামপুরা-বনশ্রী, এবং বসুন্ধরাসহ ঢাকার অন্তত তিনটি পয়েন্টে সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

    এর আগে পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই ঢাকার রামপুরা-বনশ্রী এলাকায় একত্রিত হতে শুরু করেন আন্দোলনকারীরা।

    বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তাদেরকে পাড়া-মহল্লার রাস্তায় অবস্থান নিতে দেখা গেছে।

    ঘটনাস্থল থেকে বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা মরিয়ম সুলতানা জানিয়েছেন যে, আন্দোলনের সমর্থনে সাধারণ মানুষকে রাস্তায় নেমে আসার জন্য হ্যান্ডমাইকে আহ্বান জানাতে দেখা গেছে আন্দোলনকারীদের।

    এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে অনেকে রাস্তায় নামছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    এদিকে, সকাল থেকে পুলিশের কড়া পাহারা দেখা গেলেও এখন পরিস্থিতি কিছুটা পাল্টেছে।

    পাড়া-মহল্লার রাস্তা থেকে সরে গিয়ে পুলিশের সদস্যরা মোড়গুলোতে অবস্থান নিয়েছেন।

    অন্যদিকে, সেনা সদস্যরা আগের মতোই বাংলাদেশ টেলিভিশনের সামনে সতর্ক অবস্থানে আছেন।

  4. বাংলাদেশের বিক্ষোভ নিয়ে দিল্লির নীরবতার কারণ কী?, সৌতিক বিশ্বাস, ইন্ডিয়া করেসপন্ডেন্ট

    বাংলাদেশের গত কয়েকদিনে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা নিয়ে দিল্লির নীরবতা অভূতপূর্ব নয় বলে বলছেন ভারতের বিশ্লেষকেরা।

    প্রথমত, ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে এমন দেশের রাজনৈতিক সংকট কিংবা স্পর্শকাতর অভ্যন্তরীন বিষয়ে মন্তব্য করা থেকে সাধারণত বিরত থাকে ভারত।

    সেইসাথে, অস্থির সময়ে বাংলাদেশে ভারতে নাগরিক এবং তাদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিতে জোর দিচ্ছে দেশটি।

    তাছাড়া বিশ্লেষকেরা বলছেন, এরকম সময়ে ভারত-বিরোধী মনোভাব মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে সরকারের সমালোচকেরা যারা দিল্লির সাথে বাংলাদেশের ঘনিষ্টতার বিষয়টি বরাবরই বিরোধিতা করে আসছে।

    যে কারণে, যখন বাংলাদেশে সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ এবং বিরোধিতা ক্রমেই বাড়ছে, তখন ভারতের কর্মকর্তারা এমন কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না, যাতে বাংলাদেশের সাথে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি আরো দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

  5. জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন সেনাপ্রধান

    দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ সময় দুপুর দুইটায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

    আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর আইএসপিআর সোমবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানিয়েছে।

    সে সময় পর্যন্ত সকলকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

  6. বাংলাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ

    মোবাইল ইন্টারনেট সেবার পর এবার সারাদেশে আবারও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, সাবমেরিন ক্যাবল ও আইটিসি অপারেটর থেকে ব্যান্ডউইথ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

    সাধারণত সরকারের নির্দেশেই ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।যদিও নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি’র দু’জন কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, এ ব্যাপারে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।

    কমিশন সচিব নূর-ই খাজা বলেন, তিনি টেলিভিশন স্ক্রল দেখে জেনেছেন যে ব্রডব্যান্ড সেবা বন্ধ রয়েছে।

    সোমবার সকাল পর্যন্ত ধীরগতিতে চললেও সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় ব্রডব্যান্ড সেবা।

    শনিবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সরকার পতনের একদফা দাবির পর থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট সংঘাতময় পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়ে উঠে। রোববার সারাদেশে সহিংসতায় নতুন করে শিক্ষার্থী, পুলিশ, সাংবাদিকসহ অন্তত ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ অবস্থায় রোববার বিকেল থেকেই মোবাইল ইন্টারনেটের ফোর জি সেবা বন্ধ করে দেয়া হয়। দেশজুড়ে অনির্দিষ্টকালের কারফিউ জারি করে সরকার। সেদিন রাতেই ঘোষণা করা হয় তিন দিনের সাধারণ ছুটি।

  7. উত্তরায় বিক্ষোভকারী, সেনাবাহিনীর বাধা উপেক্ষা

    ঢাকার উত্তরার আজমপুর থেকে রাজলক্ষী পর্যন্ত মূল সড়কে হাজার হাজার আন্দোলনকারী মিছিল নিয়ে আসছে এবং সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে।

    সড়কের দুই পাশে পুলিশ ও সেনাবাহিনী সতর্ক অবস্থান নিলেও তারা আন্দোলনে কোন বাধা দিচ্ছে না।

    ঘটনাস্থল থেকে বিবিসির সংবাদদাতা জানাচ্ছেন, সকালে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের সামনের সড়ক সেনা সদস্যরা কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে ঘেরাও করে রাখলেও আন্দোলনকারীরা তা সরিয়ে রাজলক্ষীর দিকে এগিয়ে যায়।

    আন্দোলনকারীরা এ সময় এক দফা দাবির পক্ষে নানা স্লোগান দিতে থাকে।

  8. ঢাকার রাস্তা ফাঁকা, সেনা টহল

    বৈষম্যবিরাধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিকে ঘিরে সহিংসতায় আশঙ্কায় ঢাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ অবস্থায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরো জোরদার করেছে সরকার। রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ বিভিন্ন এলাকায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

    এছাড়া পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন মোড়ে অবস্থানের পাশাপাশি নিয়মিত টহল অব্যাহত রেখেছেন।

    এমন পরিস্থিতির মধ্যে সকাল থেকে ঢাকার অধিকাংশ রাস্তা আজ ফাঁকা দেখা যাচ্ছে।

    সোমবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশেপাশের এলাকায় সেনা সদস্যদের অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কাঁটাবন, নীলক্ষেত, শাহবাগসহ বেশ কয়েকটি সড়ক।

    একইভাবে সেনাবাহিনীর অবস্থান দেখা গেছে সংসদভবন, রামপুরার বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবন, মেট্রোরেলসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনায়। এছাড়া মিরপুর রোডসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় সেনা সদস্যদের টহল দিতেও দেখা গেছে।

    প্রধানবিচারপতির বাসভবন ও মিন্টো রোডের মন্ত্রিপাড়াতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক পাহারা দেখা গেছে।

    এদিকে, সকালে ঢাকার রাস্তায় আজ যান ও মানুষের চলাচল খুবই কম দেখা গেছে। অল্পকিছু সিএনজি, রিক্সা ও মোটরবাইকের বাইরে বাস কিংবা ব্যক্তিগত গাড়ি খুব একটা চোখে পড়েনি।

  9. তিনদিনের সাধারণ ছুটি শুরু

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে অসহযোগ কর্মসূচি ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামলাতে সরকারের ঘোষণা করা তিনদিনের সাধারণ ছুটি শুরু হয়েছে। এই সময় সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

    বুধবার পর্যন্ত এই বিশেষ ছুটি থাকবে। সেই সাথে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউও বহাল থাকবে।

    রোববার দুপুর থেকে সারা দেশে মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রয়েছে। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট চালু থাকলেও ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটকের মতো সেবা বন্ধ রয়েছে।

    অন্যদিকে আজ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকে 'মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচি রয়েছে।

    রোববারের সহিংসতায় সারা দেশে অন্তত ৯০ জনের প্রাণহানি হয়েছে, আহত হয়েছেন অনেক মানুষ।

  10. কর্মসূচি নিয়ে যা বলেছেন সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা 'মার্চ টু ঢাকা' কর্মসূচি আজ সোমবার। ফেসবুকে এক পোস্টে সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ আজকের কর্মসূচির পরিকল্পনা লিখেছেন।

    সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেণ, ঘোষিত পয়েন্টগুলোতে ঢাকার আন্দোলনকারী ও লংমার্চ করে ঢাকায় আসা জনতা অবস্থান নিবে সকাল ১১ টা থেকে। শহীদ মিনারে ১১ টা থেকে সবাই জড়ো হবেন।

    ''শহীদ মিনার থেকে মিছিল নিয়ে আমরা শাহবাগে যাবে, কেন্দ্রীয় সমাবেশ শাহবাগে হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়া হবে শাহবাগ থেকে। পয়েন্টগুলোতেও সে সংবাদ পৌঁছে দেওয়া হবে।''

    ''আমরা সুসংগঠিতভাবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবো। কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিচ্ছিন্নভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি,'' লিখেছেন সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ।