যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই নির্বাহী আদেশের 'ঝড় তোলা'র প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন তিনি। আর জি কর মামলায় অভিযুক্তকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।
সরাসরি কভারেজ
মিয়ানমারে জিম্মি তিন পণ্যবাহী জাহাজ ছেড়ে দিয়েছে আরাকান আর্মি
ছবির উৎস, রহমত উল্লাহ, টেকনাফ
তিন দিন পর মিয়ানমারে আটকে রাখা বাংলাদেশি তিনটি পণ্যবাহী জাহাজ ছেড়ে দিয়েছে আরাকান আর্মি।
সোমবার টেকনাফ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এতেশামুল হক বাহাদুর এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মিয়ানমার থেকে পণ্য নিয়ে টেকনাফ স্থলবন্দরে আসার পথে নাফ নদীর মোহনা থেকে বৃহস্পতিবার তিনটি কার্গো আটক করা হয়েছিল।
মি. হক বলেছেন, পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তারা মিটিংয়ে বসেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুটি করে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন থেকে পণ্যবাহী চারটি কার্গো জাহাজ কক্সবাজারের টেকনাফ স্থল বন্দরে আসার পথে আরাকান আর্মি আটক করে তাদের জিম্মি করে।
এরমধ্যে আরাকান আর্মির সমঝোতার ভিত্তিতে ছাড়পত্র নিয়ে শনিবার একটি কাঠবাহী কার্গো বন্দরে আসে।
সোমবার বাকি তিনটি ছেড়ে দেওয়া হয়।
বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যাচ্ছে, কার্গো জাহাজগুলোতে ৫০ হাজার বস্তা শুঁটকি, সুপারি এবং কফিসহ বিভিন্ন পণ্য রয়েছে।
ছবির উৎস, রহমত উল্লাহ, টেকনাফ
ছবির উৎস, রহমত উল্লাহ, টেকনাফ
বদলে যাচ্ছে পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যদের পোশাক
ছবির উৎস, Ministry of Home, BD
পুলিশ বাহিনীর
সংস্কার আলোচনার মধ্যেই পুলিশ, র্যাব এবং আনসার সদস্যদের পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সোমবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নতুন পোশাকের
অনুমোদন দেয়া হয়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এ কথা জানিয়েছেন।
তিনি জানিয়েছেন, বৈঠকে পুলিশ, আনসার এবং র্যাবের প্রতিনিধি দল ১৮ ধরণের নতুন ডিজাইনের পোশাক পরে বৈঠকে
প্রবেশ করেন।
সেখান থেকে পুলিশ, র্যাব
ও আনসারের জন্য তিনটি নতুন ডিজাইনের পোশাক বাছাই করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র
উপদেষ্টা মি. চৌধুরী।
এতে এই তিন বাহিনীর মন মানসিকতায় পরিবর্তন আসবে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
আবার পোশাক বদলাতে গিয়ে বড় ধরণের টাকার চাপ যেন না পড়ে এজন্য ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করার কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।
অন্তর্বর্তী সরকার পুলিশ বাহিনী সংস্কারের অংশ হিসেবে শুরু থেকেই পোশাক
পরিবর্তনের কথা বলে আসছিলো।
গত
১১ই অগাস্ট সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত
হোসেন পুলিশের পোশাক ও লোগো পরিবর্তনের কথা বলেছিলেন।
এ বিষয়ে তিনি সেসময় সাংবাদিকদের বলেছিলেন, "এই ইউনিফর্ম পরে পুলিশ আর কাজ করতে চাইছে না। খুব
দ্রুতই তা পরিবর্তন করা হবে।"
ট্রাম্পের নামে ক্রিপ্টোকারেন্সি, দাম আকাশছোঁয়া
ছবির উৎস, Getty Images
যুক্তরাষ্ট্রের
নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজের নামে ক্রিপ্টোকারেন্সি চালু করেছেন, যার বাজারমূল্য দ্রুত কয়েক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে গেছে।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের
৪৭তম প্রেসিডেন্ট
হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় $Trump/$ট্রাম্প, নামে একটি মিম কয়েন প্রকাশ করেন।
সিআইসি ডিজিটাল এলএলসি নামে
প্রতিষ্ঠানের
উদ্যোগে কয়েকটি বাজারে এসেছে, প্রতিষ্ঠানটি এর আগেও তারা ট্রাম্প ব্র্যান্ডের জুতো ও সুগন্ধি বিক্রি করেছে।
মিম কয়েন সাধারণত
কোনো ভাইরাল ইন্টারনেট ট্রেন্ড বা কোন
আন্দোলনকে
জনপ্রিয় করতে ব্যবহৃত
হয়। তবে এগুলোর নিজস্ব
কোনো মূল্য নেই এবং সেগুলো অত্যন্ত অনিশ্চিত বিনিয়োগ।
শুক্রবার রাতে চালুর
পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই $Trump-এর
বাজারমূল্য প্রায় ৫০৫ কোটি
ডলারে পৌঁছায়। কয়েন মার্কেট ক্যাপ ডট কম এই তথ্য জানিয়েছে।
সিআইসি ডিজিটাল এলএলসি এবং এই মাসের শুরুতে ডেলাওয়্যারে
প্রতিষ্ঠিত ফাইট ফাইট ফাইট এলএলসি মিলে
এই টোকেনগুলোর ৮০ শতাংশ মালিকানা ধরে রেখেছে। ট্রাম্প এই উদ্যোগ থেকে ঠিক কত টাকা
আয় করবেন, তা
এখনও স্পষ্ট নয়।
টোকেনটির ওয়েবসাইট
জানায়, প্রায়
২০০ মিলিয়ন টোকেন ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে এবং পরবর্তী তিন বছরে আরও ৮০০ মিলিয়ন
টোকেন বাজারে আনা হবে।
ওয়েবসাইটে এটিও
উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই
কয়েন কোনো বিনিয়োগের সুযোগ বা নিরাপত্তার বিষয় নয় এবং এটি কোনো রাজনৈতিক প্রচারণা, রাজনৈতিক পদ বা সরকারি সংস্থার সাথে এর
কোনও সম্পর্ক নেই"।
সমালোচকরা অভিযোগ
করেছেন, ট্রাম্প
এই উদ্যোগের মাধ্যমে তার প্রেসিডেন্ট পদ থেকে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছেন।
ক্রিপ্টো ভেঞ্চার
ক্যাপিটালিস্ট নিক টোমাইনো এক পোস্টে বলেন, "ট্রাম্পের ৮০ শতাংশ মালিকানা এবং শপথ গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা আগে এটি চালু করা
প্রতারণামূলক, এবং
এতে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।"
এরকম ডিজিটাল টোকেন
প্রায়ই বাজারে আলোড়ন তুলে দাম বাড়িয়ে দেয়, এরপর মূল শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া হয়। এতে দেরিতে কেনা
লোকেরা প্রায়শই বড় ক্ষতির মুখে পড়ে।
প্রেসিডেন্ট জো
বাইডেনের নিয়ন্ত্রকরা জালিয়াতি এবং মানি লন্ডারিং নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে
ক্রিপ্টো কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন।
তবে ট্রাম্প এর আগে
ক্রিপ্টো নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। তবে গত
বছর ন্যাশভিলের এক বিটকয়েন সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, ওয়াশিংটনে ফেরার পর আমেরিকা হবে
"পৃথিবীর ক্রিপ্টো রাজধানী"।
ট্রাম্পের ছেলে এরিক
এবং ডোনাল্ড জুনিয়র গত বছর নিজেদের ক্রিপ্টো উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
আরজি কর মামলায় সাজা ঘোষণা কিছুক্ষণের মধ্যেই
ভারতের কলকাতার আর জি কর
মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে দায়ের মামলায় সাজা ঘোষণা হবে আজ।
এর আগে শনিবার কলকাতা পুলিশের
সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রাইকে দোষী সাব্যস্ত করেছে শিয়ালদহ আদালত।
আজ তার সাজার মেয়াদ ঘোষণা করার কথা রয়েছে। রায় ঘোষণার আগে মি. রাইয়ের বক্তব্য শুনবেন বিচারপতি।
আইনজীবীরা
জানিয়েছেন, মি. রাইকে যেসব
ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, তাতে তার
যাবজ্জীবন কারাবাস বা মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।
এদিকে, সোমবার
আদালত চত্বরে কড়া নিরাপত্তা নেয়া হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স-র্যাফ ও পুলিশ কর্মীদের।
গত বছর নয়ই অগাস্ট
আর জি কর মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর
থেকে এ মামলাকে ঘিরে তোলপাড় হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে, যার প্রভাব ভারতের বিভিন্ন কোণে ছড়িয়েছে।
ট্রাম্প ২.০: বিশ্বে এর প্রভাব কেমন হতে পারে
ছবির উৎস, Getty Images
আজই দ্বিতীয় বারের মত হোয়াইট হাউসে ফিরছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, তার এই ফেরা বৈশ্বিক রাজনীতি ও নীতিতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
তার 'আমেরিকা
ফার্স্ট' এজেন্ডা আন্তর্জাতিক সম্পর্কে নতুন রূপ দেয়ার
পাশাপাশি
বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ
মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে।
ইউক্রেন
মি. ট্রাম্প বলেছেন,
তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন
যুদ্ধ একদিনেই শেষ করতে পারবেন, তবে তিনি কীভাবে সেটা করবেন, তা বিস্তারিত বলেননি।
তিনি ইউক্রেনকে বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা দেয়ার সমালোচনা করেছেন। এতে উদ্বেগ দেখা
দিয়েছে যে, তিনি
হয়তো ইউক্রেনকে আঞ্চলিক
সমঝোতা করতে চাপ দিতে পারেন।
মি. ট্রাম্পের মনোনীত বিশেষ দূত,
কিথ কেলগ, ১০০ দিনের মধ্যে এ সংকট সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করছেন এবং ইউক্রেনকে শান্তি আলোচনায় অংশ
নেওয়ার শর্তে সহায়তা দেওয়ার কথা বলেছেন।
নেটো
ট্রাম্প নেটো নিয়ে সমালোচনা অব্যাহত রেখেছেন। তিনি ইউরোপীয় সদস্যদের প্রতিরক্ষা
ব্যয় জিডিপির পাঁচ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করার দাবি জানিয়েছেন।
যদিও তিনি নেটো থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের কথা
স্পষ্ট করেননি।
তবে তিনি ইউরোপে মার্কিন সেনাদের সংখ্যা কমিয়ে নেটোকে দুর্বল করে দিতে পারেন।
মধ্যপ্রাচ্য
মধ্যপ্রাচ্যে,
ট্রাম্প
ইসরায়েলপন্থী অবস্থান ধরে রাখবেন।
তিনি আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের ভিত্তিতে সৌদি আরব এবং ইসরায়েলের
মধ্যে চুক্তি করার চেষ্টা করতে পারেন।
ইরানের বিরুদ্ধে তার
কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকতে পারে। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা
এবং সামরিক প্রতিরোধ জারি করতে পারেন।
গাজার যুদ্ধবিরতি
বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জও তার নেতৃত্বের পরীক্ষা নেবে।
চীন
চীনের প্রতি
ট্রাম্পের কঠোর মনোভাব আরও তীব্র হতে পারে। তিনি চীনা পণ্যের উপর ৬০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন।
তার প্রশাসন চীনকে
একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখে, বিশেষ
করে তাইওয়ান ইস্যুতে।
মি. ট্রাম্প
সামরিক পদক্ষেপের বিরোধিতা করলেও তাইওয়ানের
প্রতি চীনের যেকোনো আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক প্রতিশোধের হুমকি
দিয়েছেন।
জলবায়ু পরিবর্তন
জলবায়ু পরিবর্তন
বিষয়ে, ট্রাম্প
আবার প্যারিস চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নিতে পারেন এবং জীবাশ্ম জ্বালানির
উৎপাদন বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিতে পারেন।
তিনি সবুজ শক্তির
জন্য আর্থিক প্রণোদনা কমানো এবং তেল ও গ্যাস ড্রিলিং বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি
দিয়েছেন।
যা
বৈশ্বিক জলবায়ু প্রচেষ্টাকে ধীর করতে পারে, তবুও নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে বিশ্বের ধাবমান প্রবণতা থামবে না।
অভিবাসন
অভিবাসন
নিয়ে, ট্রাম্প
লাখ লাখ অনথিভুক্ত বা অবৈধ অভিবাসীকে বিতাড়িত করার প্রতিশ্রুতি
দিয়েছেন এবং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের পরিকল্পনা
করেছেন।
তার পরিকল্পনার মধ্যে
রয়েছে বিতর্কিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা কঠোর করা।
তবে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তার এই পরিকল্পনাগুলো আইনি, লজিস্টিক এবং আর্থিক দিক থেকে বড়
চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
গ্রিনল্যান্ড এবং পানামা খাল
ট্রাম্প কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের কথা উল্লেখ করে গ্রিনল্যান্ড কেনার
এবং পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ব্যাপারে তার বিতর্কিত ইচ্ছার কথা প্রকাশ
করেছেন।
যদিও এই পদক্ষেপগুলো সফল হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে এটি বিশ্বব্যাপী মার্কিন আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের আকাঙ্ক্ষার
বিষয়টি প্রকাশ করে।
আজ ২০শে জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, এবং দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই নির্বাহী
আদেশের ঝড় তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
সমর্থকদের তিনি বলেছেন যে শপথ নেওয়ার পরের
কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি 'ঐতিহাসিক গতি এবং শক্তি' নিয়ে কাজ করবেন।
সোমবার
ওয়াশিংটন ডিসির ওয়ান এরেনায় বিজয় সমাবেশে হাজার হাজার সমর্থকের সামনে বক্তব্য
দেয়ার সময় ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
সেইসঙ্গে তিনি তার আসন্ন চার বছরের পরিকল্পনার
কথা জানান। সেইসাথে ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে তার নভেম্বরের বিজয় উদযাপন করেন।
মি. ট্রাম্প বলেছেন, তিনি নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে
অবৈধ অভিবাসীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়া, পরিবেশ রক্ষায় নিয়মের কড়াকড়ি কমানো
এবং ডাইভারসিটি প্রোগ্রাম বন্ধ করার মতো বড় বড় পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন।
"আমরা আমেরিকাকে প্রথমে রাখবো, আর কাল থেকেই এর কাজ শুরু হবে।”
ট্রাম্প সমাবেশে আরো বলেন, "আপনারা আগামীকাল টেলিভিশন দেখে অনেক মজা পাবেন।"
ট্রাম্প সোমবার
দুই শতাধিক নির্বাহী পদক্ষেপে স্বাক্ষর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে
নির্বাহী আদেশ, যা আইনত
বাধ্যতামূলক হবে সেইসাথে আছে প্রেসিডেন্টের অন্যান্য নির্দেশনা, যা সাধারণত বাধ্যতামূলক হয় না।
"বাইডেন প্রশাসনের প্রতিটি উগ্র ও
উদ্ভট নির্বাহী আদেশ শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাতিল করা হবে,"
বলে জানিয়েছেন
ট্রাম্প।
তিনি কৃত্রিম
বুদ্ধিমত্তা উন্নত করা, সরকারের দক্ষতা
বাড়ানোর জন্য একটি বিভাগ গঠন করা (ডোজ), জন এফ কেনেডির হত্যা সম্পর্কিত
রেকর্ড প্রকাশ করা, সামরিক
বাহিনীকে আয়রন ডোম ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করার নির্দেশনা দেওয়া
এবং সেনাবাহিনী থেকে বৈচিত্র্য, সমতা এবং অন্তর্ভুক্তি নীতি বাতিল করার
প্রতিশ্রুতি দেন।
এছাড়া
ট্রান্সজেন্ডার নারীদের, ‘নারী’
ক্রীড়া বিভাগে প্রতিযোগিতা বন্ধ করা এবং আমেরিকার রাজ্যগুলোর হাতে শিক্ষার
নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
প্রেসিডেন্টরা
সাধারণত দায়িত্ব গ্রহণের পর নির্বাহী আদেশ জারি করেন, তবে মি. ট্রাম্পের প্রথম দিনের আদেশের
সংখ্যা তার পূর্বসূরিদের তুলনায় অনেক বেশি হতে পারে এবং এর অনেকগুলো আদালতে
চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি
প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সোমবার তার
নির্বাহী পদক্ষেপগুলো অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলা কেন্দ্রীক হবে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লাখ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কার
করার প্রতিশ্রুতি বিশাল লজিস্টিক বাধার সম্মুখীন হবে এবং সম্ভবত কয়েক বিলিয়ন
ডলারের খরচও হতে পারে।
২০২১ সালের ছয়ই
জানুয়ারি ক্যাপিটলে দাঙ্গার ঘটনায় দোষী সাব্যস্তদের জন্য ট্রাম্প ক্ষমা ঘোষণা
করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ওই হামলার নেতৃত্বে তার সমর্থকরাই ছিলেন।
সোমবারের বিজয়
সমাবেশে ট্রাম্পের সাথে তার পরিবারের সদস্যরাও মঞ্চে যোগ দেন, যার মধ্যে ছিলেন ছেলে ডোনাল্ড
ট্রাম্প জুনিয়র, এরিক এবং
এরিকের স্ত্রী লারা ট্রাম্প।
রোববারের
তুষারপাত এবং প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে সোমবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আর বাইরে হচ্ছে
না।
গত ৪০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্যাপিটলের ভেতরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শপথ গ্রহণের দিন তাপমাত্রা প্রায় হিমাঙ্কের ছয় ডিগ্রী সেলসিয়াস নীচে থাকবে বলে
ধারণা করা হচ্ছে।
মি. ট্রাম্প
জানিয়েছেন, শপথ নেওয়ার পর
তিনি তার সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেবেন। তার ভাষণের মূল বিষয় হবে ঐক্য, শক্তি এবং "ন্যায়বিচার"।
বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায় আপনাদের স্বাগত। দেশ এবং বিশ্বের সব ঘটনার সর্বশেষ খবর পেতে চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার এই পাতায়। রিপোর্টিং করছেন সানজানা চৌধুরী।