'অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের’ আহ্বান আন্দোলনকারীদের

সরকারের পদত্যাগের এক দফা দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছে। আন্দোলনকারীদের সাথে সংলাপে বসতে চান বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে আন্দোলনকারীরা। রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য 'সর্বাত্মক অসহযোগের' ডাক আন্দোলনকারীদের, অন্যদিকে জমায়েত কর্মসূচি পালনের ঘোষণা আওয়ামী লীগের।

সার সংক্ষেপ

  • সরকার পতনের এক দফা দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তারা জাতীয় সরকার গঠনের দাবিও জানিয়েছে।
  • আন্দোলনকারীদের সাথে সংলাপে বসতে চান বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে আন্দোলনকারীরা।
  • রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য "সর্বাত্মক অসহযোগ" আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
  • রোববার রাজধানী ঢাকার সব ওয়ার্ডে এবং দেশের সব জেলা ও মহানগরীতে জমায়েত কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগ।
  • ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করেছেন হাজার হাজার মানুষ। দেশের অন্যান্য জেলাতেও বড় সমাবেশ হয়েছে, কুমিল্লাসহ অনেক স্থানে সংঘর্ষ ও গুলি করার মতো ঘটনা ঘটেছে।
  • পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত কারফিউ সকাল ছয়টা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত শিথিলের ঘোষণা

সরাসরি কভারেজ

  1. সরকারের কাছে বিচার চাওয়া বা সংলাপে বসারও সুযোগ আর নেই: নাহিদ ইসলাম

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মোঃ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ''সরকারের কাছে বিচার চাওয়া বা সংলাপে বসারও সুযোগ আর নেই। ক্ষমা চাওয়ার সময়ও পার হয়ে গেছে।''

    টেলিগ্রামে দেয়া এক বার্তায় তিনি লিখেছেন, ''যখন সময় ছিল তখন সরকার ব্লক রেইড দিয়ে শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার করেছে, নির্যাতন করেছে। আখতার হোসেন, আরিফ সোহেলসহ রাজবন্দীদের কারাগারে রেখে আমরা কোনো ধরনের সমঝোতায় যাবো না।''

    তিনি লিখেছেন, ''১৯শে জুলাই আমরা কারফিউ ভঙ্গ করে শাটডাউন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছিলাম। আমাদের সে বক্তব্য কোনো মিডিয়ায় প্রচার করতে দেওয়া হয় নাই। সে রাতে আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্মম অত্যাচার করা হয় এ ঘোষণার জন্য এবং আন্দোলন প্রত্যাহার ও সরকারের সাথে আলোচনায় বসার জন্য জবরদস্তি করা হয়।''

    ''ছাত্রজনতা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিল৷ সরকার দমন-পীড়ন করে সেটিকে সংঘাত ও সহিংসতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। কারফিউ ও ইন্টারনেট বন্ধ করে শত শত মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এবার এরকম পরিস্থিতি হলে কারো জন্যই পরিণতি ভালো হবে না।''

    নাহিদ ইসলাম লিখেছেন, ''পরবর্তীতে ডিবি অফিস থেকেও আমাদের প্রধানমন্ত্রীর দফতরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আমাদের অনশন ও রাজপথে আন্দোলনের কারণে সে পরিকল্পনা সফল হয়নি।''

    ''আমরা এখনো শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখতে চাই। আমরা কোনো সহিংসতা, প্রতিহিংসা ও প্রাণনাশ চাই না৷ নিরাপত্তা বাহিনীকেও এরজন্য সহযোগিতা করতে হবে। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের রাজপথে দেখা গেলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে এর দায়ভার নিতে হবে'', লিখেছেন নাহিদ ইসলাম।

    ''তবে রক্ত ঝড়লে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। আমরা ন্যায়বিচার ও জীবনের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। গণজোয়ার তৈরি হয়েছে। কোনো ধরনের দমন-পীড়ন, প্রোপাগাণ্ডা ও ষড়যন্ত্র করে এ আন্দোলন থামানো যাবে না,'' নাহিদ ইসলাম।

  2. শিক্ষার্থীদের কাছে দায়িত্বশীল আচরণ আশা করলেন ওবায়দুল কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করে বলেছেন ইতোমধ্যে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বেহাত হয়ে গেছে।

    “আন্দোলন চলে গেছে তৃতীয় পক্ষের হাতে, যারা বাংলাদেশকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে দেশকে খাদের কিনারায় নিয়ে যেতে চায়। এই অশুভ শক্তির অশুভ তৎপরতা আমরা সফল হতে দিতে পারি না। প্রিয় মাতৃভূমি, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার শতভাগ। শিক্ষার্থীদের কাছে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করি,” এক সংবাদ সম্মেলনে বলছিলেন তিনি।

    মি. কাদের বলেন “প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন যে আন্দোলনকারীদের সাথে বসতে চান। তিনি তাদের কথা শুনতে চান ও বলেছেন কোন সংঘাত চাই না। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সংঘাত হতে পারে এমন কর্মসূচি সংঘাত এড়াতে এড়িয়ে চলেছি। বিভেদ নয় আমরা ঐক্যে বিশ্বাসী”।

    তিনি বলেন, “সাধারণ শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে দেশের গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে যারা বাধাগ্রস্ত করতে চায় তাদের প্রতিহত করতে মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রে বিশ্বাসী সবার সম্মিলিত সহযোগিতার আহবান জানাচ্ছি”।

    ওবায়দুল কাদের দাবি করেন এ আন্দোলনকে ঘিরে বিএনপি জামাত লাশের রাজনীতি করছে এবং তাদের ষড়যন্ত্র ও উস্কানি ছাত্রদল ও ছাত্র শিবিরের ক্যাডার বাহিনী সহিংসতা করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার অপচেষ্টা করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

  3. ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ

    ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে জড়ো হয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

    ছবির উৎস, Ovi Islam

    ছবির ক্যাপশান, ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে জড়ো হয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
    জাহাঙ্গীরনগরে বিক্ষোভ

    ছবির উৎস, Arifuzzaman Uzzal

    ছবির ক্যাপশান, জাহাঙ্গীরনগরে বিক্ষোভ
    নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় বিক্ষোভ

    ছবির উৎস, Ahsan Sadiq

    ছবির ক্যাপশান, নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ায় বিক্ষোভ
  4. আটক সাধারণ শিক্ষার্থীদের মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

    কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে আটক সাধারণ শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনগণভবনে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে বৈঠকে এ ঘোষণা দেন।

    এ সময় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, কোটা আন্দোলন ঘিরে সারাদেশে বিক্ষোভ ও সহিংসতায় যারা মারা গেছে এর প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হবে।

    একই বৈঠকে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সাথে বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা।

    তবে, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

    রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ‘সর্বাত্মক অসহযোগ’ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে তারা। গতকাল শুক্রবার তারা এই কর্মসূচি দেয়।

  5. ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন জাবি শিক্ষার্থীরা

    পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আবাসিক হল খুলে দেওয়াসহ পুর্বঘোষিত নয় দফা দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

    তেসরা আগস্ট শনিবার দুপুর একটার দিকে মহাসড়কে অবস্থান গ্রহণ করেন তারা।

    তবে এই বিক্ষোভে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছাড়াও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদেরকেও বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করতে দেখা গেছে।

    ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ বন্ধ করেছেন জাবি শিক্ষার্থীরা

    ছবির উৎস, Arifuzzaman Uzzal

    ছবির ক্যাপশান, ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ বন্ধ করেছেন জাবি শিক্ষার্থীরা
  6. প্রস্তাবিত প্রত্যয় পেনশন ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

    বিশ্ববিদ্যালয়, স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রস্তাবিত প্রত্যয় পেনশন ব্যবস্থা বাতিল ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    শনিবার গণভবনে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।

    চলতি বছরের মার্চে প্রত্যয় স্কিম চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এটি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

    এবছরে জুনের মাঝামাঝি সময়ে সরকারের সর্বজনীন পেনশন স্কিম ‘প্রত্যয়’-এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    এর প্রতিবাদে গত পহেলা জুলাই থেকে সারাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেন।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তাদের দাবি ছিল, সর্বজনীন পেনশন স্কিমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্তি বাতিল করা।

    জুনের মধ্যে শিক্ষকদের এ দাবি না মানায় গত পহেলা জুলাই থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে যান তারা। বন্ধ হয়ে যায় দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সব ধরনের ক্লাস পরীক্ষা।

  7. সরকারের সাথেই কোন প্রকার সংলাপে বসতে আমরা রাজি নই: আসিফ মাহমুদ

    আসিফ মাহমুদের ফেসবুক পোস্ট

    ছবির উৎস, Asif Mahmud/Facebook

    ছবির ক্যাপশান, আসিফ মাহমুদের ফেসবুক পোস্ট

    শিক্ষার্থীদের সাথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেখা করতে চাওয়া প্রসঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এর অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ মন্তব্য করেছেন, ‘আপোষহীনতার মূল্য মৃত্যু হলেও তা পরিশোধ করতে প্রস্তুত’

    তিনি শনিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে জানান, যখন আমরা ডিবি অফিসে বন্দী ছিলাম, তখনই প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে আন্দোলন স্থগিত করতে বলা হয়।”

    “এমনকি জোর করে গণভবনে নিয়া যাওয়ার পরিকল্পনাও চলছিল। এই প্রস্তাবের প্রতিবাদে ও মুক্তির দাবিতে আমরা অনশনে বসেছিলাম,” বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    “আপোষহীনতার মূল্য যদি মৃত্যুও হয়, তাও পরিশোধ করতে প্রস্তুত আছি। ছাত্র-নাগরিক অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের অংশগ্রহণ আহ্বান করছি।”

    এর কিছুক্ষণ আগে আরেকটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, ''এ বিষয়ে অনেকেই জানতে চাচ্ছেন, বিশেষত সাংবাদিক বন্ধুগণ। খুনি সরকারের সাথেই কোন প্রকার সংলাপে বসতে আমরা রাজি নই, সেখানে রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সাথে আলোচনার প্রশ্নই উঠে না''।

    ''তাদের সাথে আলোচনার কোন পরিকল্পনা আমাদের নেই। আমাদের দাবি অত্যন্ত সুস্পষ্ট, তাদের কোন বক্তব্য থাকলে দেশবাসীর সামনেই মিডিয়া মারফত তা রাখতে পারেন। আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার সিদ্ধান্তই আমাদের সিদ্ধান্ত। গুলি আর সন্ত্রাসের সাথে কোন সংলাপ হয় না।''

    আসিফ মাহমুদের স্ট্যাটাস
  8. নারায়ণগঞ্জে সড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

    পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ করছে কোটা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে শিক্ষার্থীরা।

    নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়া শহীদ মিনারে এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীকে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে।

    স্থানীয় সাংবাদিক আহসান সাদিক জানান, সকাল সাড়ে এগারোটার দিকে বিক্ষোভে অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা। নগরীর চাষাড়া শহীদ মিনারে জড়ো হয়ে পরে কর্মসূচি পালনে সড়কে নামেন আন্দোলনকারীরা।

    পরে সেখান থেকে মিছিল নিয়ে বঙ্গবন্ধু সড়ক হয়ে আবার চাষাড়া মোড় এলাকা এসে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন তারা। শিক্ষার্থীরা এসময় তাদের দাবির পক্ষে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকেন।

    এর আগে, গত বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীরা আলোক প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হন। আজ ঐ এলাকা বিজিবির উপস্থিতি থাকলেও তাদের কোন ধরনের বাধা দিতে দেখা যায় নি।

    নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া মোড় অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

    ছবির উৎস, AHSAN SADIK

    ছবির ক্যাপশান, নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া মোড় অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
  9. প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে রাজশাহীতে মিছিল

    রাজশাহীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজারখানের শিক্ষার্থী শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিছিল বের করে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দিয়েছেন।

    রাজশাহী’র স্থানীর সাংবাদিক আনোয়ার আলী হিমু বেলা পৌনে ১২টার দিকে বিবিসিকে জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা এখনও মিছিল করছেন।

    শুরুতে তারা রাজশাহীর তালাইমারি, কাজলা, বিনোদপুর এলাকায় ঘুরে ঘুরে মিছিল করলেও পরে তারা মিছিল করতে করতে শহরের দিকে এগিয়েছেন।

    মি. হিমু বলেন, “ক্যাম্পাসের ভেতরে প্রচুর পুলিশ, বিজিবি। শুরুতে ওরা ঢাকা-রাজশাহী সড়কের ওপর মিছিল করছিলো। এই কিছুক্ষণ আগে শহরের দিকে গিয়েছে।”

    এদিন শিক্ষার্থীরা “এক দফা, এক দাবি” নিয়ে মাঠে নেমেছে। তাদের দাবি, “প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ”।

    রাজশাহীতে শিক্ষার্থীদের মিছিল
    ছবির ক্যাপশান, রাজশাহীতে শিক্ষার্থীদের মিছিল
  10. ঢাকা মেডিকেলে আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ আরো একজনের মৃত্যু

    গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আহত আরো একজনের মৃত্যু রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

    দুই সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার ভোরে ইমন নামে গুলিবিদ্ধ একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া।

    মি. ইমন গত ১৯ জুলাই রাজধানীর ভাটারা নতুনবাজার এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।

    নিহত এই কিশোর কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার চোনপুর গ্রামের সেলিম আলীর ছেলে।

    ভাটারা নতুন বাজার এলাকায় একটি ভাতের হোটেলে চাকরি করতেন তিনি। সেখানেই তিনি থাকতেন।

    কোটা আন্দোলন ঘিরে এ নিয়ে সারা দেশে অন্তত ২১১ জনের মৃত্যু হলোল

  11. কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সাথে বসতে চান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

    কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে বিক্ষোভ ও সহিংসতার মাঝেই শিক্ষার্থীদের সাথে বসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    সকালে গণভবনে পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে বৈঠকে তিনি এ কথা জানান।

    বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য গণভবনের দরজা খোলা। কোটা আন্দোলনকারীদের সাথে আমি বসতে চাই, তাদের কথা শুনতে চাই। আমি সংঘাত চাই না।

    তিনি এসময় বলেন, গণভবনের দরজার শিক্ষার্থীদের জন্য খোলা।

    বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

    ছবির উৎস, PID

    ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
  12. অসহযোগ আন্দোলন নিয়ে শিক্ষার্থীদের ১৫টি নির্দেশনা

    কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ আগামীকাল রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক ‘অসহযোগ আন্দোলন’-এর ডাক দিয়েছে।

    আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ শুক্রবার রাতে ফেসবুক পোস্টে ‘সারা দেশে ছাত্র-নাগরিকের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা করে খুনের প্রতিবাদ ও নয় দফা’ দাবিতে এই আহ্বান জানান।

    তবে শনিবার সকালে তিনি আরেকটি পোস্টে আবারও ঘোষণা দেন যে “অসহযোগ আন্দোলন কিন্তু গান্ধীবাদীটা না। একাত্তরের মার্চের টা। বিস্তারিত কার্যক্রম আজকেই চলে আসবে।”

    অবশেষে তারা তাদের এই নতুন কর্মসূচি সফল করার জন্য সকলের উদ্দেশে ১৫টি নির্দেশনা দেন।

    আসিফ মাহমুদ পোস্টে জানান— কেউ কোনও ধরণের ট্যাক্স বা খাজনা প্রদান করবেন না; বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল, পানির বিলসহ কোন ধরণের বিল পরিশোধ করবেন না।”

    সকল ধরনের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত ও কল কারখানা বন্ধ রাখার কথা বলেন। চাকরীজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা কেউ অফিসে যাবেন না, মাস শেষে বেতন তুলবেন।”

    নির্দেশনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বলা হয়। সেইসাথে, প্রবাসীদেরকে ব্যাংকিং চ্যানেল দিয়ে দেশে কোনও ধরণের রেমিট্যান্স পাঠাতেও বারণ করা হয় শিক্ষার্থিদের তরফ থেকে।

    সকল ধরণের সরকারি সভা, সেমিনার, আয়োজন বর্জন করার কথাও বলা হয়।

    “বন্দরের কর্মীরা কাজে যোগ দিবেন না, কোনও ধরণের পণ্য খালাস করবেন না; দেশের কোনও কলকারখানা চলবে না, গার্মেন্টসকর্মী ভাই বোনেরা কাজে যাবেন না; গণপরিবহন বন্ধ থাকবে, শ্রমিকরা কেউ কাজে যাবেন না”, ফেইসবুক পোস্টে ঘোষণা করেন মি. মাহমুদ।

    ব্যাংকের ক্ষেত্রে বলা হয় যে জরুরি ব্যাক্তিগত লেনদেনের জন্য প্রতি সপ্তাহের রবিবারে ব্যাংকগুলো খোলা থাকবে; দেশ থেকে যেন একটি টাকাও পাচার না হয়, সকল অফশোর ট্রান্জেকশন বন্ধ থাকবে।”

    চলমান আন্দোলনে পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে শিক্ষার্থীদের বারবার সংঘর্ষ হয়। তবে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্দেশেও আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করার আহ্বান জানান।

    “পুলিশ সদস্যরা রুটিন ডিউটি ব্যাতীত কোনো ধরণের প্রটোকল ডিউটি, রায়ট ডিউটি ও প্রটেস্ট ডিউটিতে যাবেন না। শুধুমাত্র থানা পুলিশ নিয়মিত থানার রুটিন ওয়ার্ক করবে।”

    বিজিবি ও নৌবাহিনী ব্যাতীত অন্যান্য বাহিনী ক্যান্টনমেন্টের বাইরে ডিউটি পালন করবে না। বিজিবি ও নৌবাহিনী ব্যারাক ও কোস্টাল এলাকায় থাকবে।”

    তারা আমলাদেরকে সচিবালয়ে যেতে বারণ করেন। জেলা প্রশাসক বা উপজেলা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলা হয়— “নিজ নিজ কার্যালয়ে যাবেন না”।

    এগুলোর বাইরে রেস্টুরেন্টশ সকলপ্রকার বিলাসদ্র্যব্যের দোকান, যেমন— শো রুম, বিপনী-বিতান, হোটেল, মোটেল বন্ধ রাখার আহ্বানও করেন তারা।

    তবে হাসপাতাল, ফার্মেসি, জরুরি পরিবহন সেবা, যেমন— ঔষধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম পরিবহণ, অ্যাম্বুলেন্স সেবা, ফায়ার সার্ভিস, গণমাধ্যম, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য পরিবহণ, জরুরি ইন্টারনেট সেবা, জরুরি ত্রাণ সহায়তা এবং এই খাতে কর্তব্যরত কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিবহণ সেবা চালু থাকবে।

    নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান-পাট বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত খোলা থাকবে, বলেন মি. মাহমুদ!

  13. বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সেনেটর ও কংগ্রেসম্যানদের চিঠি

    কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে বাংলাদেশে সহিংসতা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিংকেনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২২ জন সেনেটর ও কংগ্রেসম্যান।

    চিঠিতে তারা বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ছাত্রদের বিক্ষোভ দমনে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যবহার করেছে। সহিংসতা ও সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।

    তারা চিঠিতে লিখেছেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই সকল সহিংসতার নিন্দা করতে হবে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের মতো কর্মসূচি পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে”।

    পুরো প্রতিবেদনটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন:

  14. শিক্ষার্থীরা জড়ো হচ্ছেন রামপুরাতে

    ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পূর্বঘোষণা অনুয়ায়ী ধীরে ধীরে রামপুরা-আফতাবনগর এলাকায় জড়ো হচ্ছেন।

    ঘটনাস্থল থেকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে শনিবার দুপুর একটায় একজন জানিয়েছেন, আজকের আন্দোলনে যারা অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী এবং শিক্ষার্থীদের বাবা-মা।

    “এখনও পর্যন্ত” ব্যাপক পরিসরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেখা যাচ্ছে না এবং ইস্ট-ওয়েস্টের সামনে দাঁড়িয়ে "শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবেই আন্দোলন করছে"।

  15. বিবিসি বাংলার সরাসরি খবর

    শনি ও রবিবারের জন্য কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে উঠা শিক্ষার্থীদের প্লাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের সমবেত হওয়ার কথা জানা যাচ্ছে।

    ঢাকার কয়েকটি এলাকায় আওয়ামী লীগের কর্মীদেরও উপস্থিতি রয়েছে।

    সার্বক্ষণিক সব খবরাখবর পেতে বিবিসি বাংলার লাইভ পেজে যুক্ত থাকুন।