ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ 'শক্তভাবে প্রতিহতের' ঘোষণা সরকারের, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে মধ্যরাতেও ভিড়, ভারতের নিন্দা
ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ 'শক্তভাবে প্রতিহতের' ঘোষণা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ভাঙচুর চলছিল। শেখ মুজিবের বাড়ি ভাঙার ঘটনায় ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়েছে, “এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা তীব্র নিন্দনীয়!” সর্বশেষ খবরাখবর জানতে চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...
সরাসরি কভারেজ
নোয়াখালীতে ওবায়দুল কাদেরের বাড়িতে হামলা
ছবির উৎস, হাসিব আল আমিন
ছবির ক্যাপশান, ওবায়দুল কাদেরের বাড়িতে হামলা
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বাড়িতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পদধারী নেতাদের নেতৃত্বে হামলা চালাচ্ছে ছাত্র-জনতা।
নোয়াখালীর একাধিক স্থানীয় সাংবাদিকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দুপুর একটার দিকে শুরু হওয়া এই হামলা এখনও চলছে। বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভাঙচুর চালাচ্ছে।
স্থানীয় সাংবাদিক হাসিব আল আমিন বলেন, "হাতুড়ি, রড, যার কাছে যা ছিল তা নিয়ে হামলা চালাচ্ছে।"
শাহবাগে অবস্থান নিয়েছেন জুলাই আন্দোলনে হতাহতদের পরিবারের সদস্যরা
ছবির ক্যাপশান, জুলাই আন্দোলনে হতাহতদের স্বজনরা শাহবাগে অবস্থান নিয়েছেন
ঢাকার শাহবাগে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা। এতে করে সেখানে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে দুইটার দিকে বিবিসি বাংলাকে জানান, বেলা সাড়ে ১১টার পর থেকে সড়কে অবস্থান নেন তারা।
"চিকিৎসা, পুনর্বাসন, বিচার– তাদের মূল দাবি হলো এই তিনটি," বলছিলেন তিনি।
সেখানে "এখন ২০০-২৫০ মানুষ অবস্থান গ্রহণ করেছে" জানিয়ে মি. মনসুর বলেন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ঘটনাস্থলে বাড়তি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হলেন মনির হায়দার
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য গঠন) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মনির হায়দারকে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সাংবাদিক।
গতকাল বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সঙ্গে কর্ম–সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে ছয় মাস মেয়াদে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য গঠন) পদে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হলো।
এতে আরও বলা হয়, এই নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে।
পুড়ে যাওয়া সুধাসদনের আসবাব নিয়ে যাচ্ছে মানুষ
বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঢাকার একটি বাড়ি সুধাসদনে গতকাল বুধবার রাতে হামলা করে বিক্ষুব্ধ জনতা। তারা ভবনটিতে আগুন লাগিয়ে দেয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে পুড়ে যাওয়া সুধাসদনে গিয়ে বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা দেখেন যে সেখানে কোনও বিক্ষোভ নেই। কিন্তু মানুষজন ভবনটিতে থাকা বিভিন্ন মালপত্র যে যার মতো নিয়ে যাচ্ছে।
সুধাসদনের কিছু ছবি এখানে সংযুক্ত করা হলো...
ছবির ক্যাপশান, সুধাসদনের একটি স্থানে বৃহস্পতিবার সকালেও আগুন
ছবির ক্যাপশান, সুধাসদনের আগুন থেকে তৈরি হওয়া ধোঁয়া
ছবির ক্যাপশান, যে যার মতো জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছে
ছবির ক্যাপশান, সুধাসদনের একাংশ
ছবির ক্যাপশান, সুধাসদনের আঙ্গিনায় কিছু মানুষ
রংপুরে শেখ মুজিবের তিনটি ম্যুরাল ভাঙচুর
ছবির উৎস, শাহরিয়ার মিম
ছবির ক্যাপশান, রাতে বুলডোজার দিয়ে ভাঙার সময় ডিসি'র মোড়ে শেখ মুজিবের এই ম্যুরাল ভাঙচুর করা হয়।
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, কারমাইকেল কলেজ ও ডিসি'র মোড়ে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের তিনটি ম্যুরাল বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
রংপুরের স্থানীয় সাংবাদিক শাহরিয়ার মিম বিবিসিকে জানান, "শেখ হাসিনা বক্তব্য দেওয়ার পরে রাত ১০টা ১০ মিনিটের থেকে শিক্ষার্থীরা বেরোবির ম্যুরাল ভাঙা শুরু করে। শুরুতে তারা হাত, পাইপ, শাবল, হাতুড়ি দিয়েই ভেঙেছে। পরে বৈষম্যবিরোধীরা রংপুর সিটি কর্পোরেশন থেকে বেরোবিতে বুলডোজার প্রবেশ করায়।"
রাত ১২টার পর থেকে ওই তিন স্থানের ম্যুরালগুলো "বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়" এবং একইসাথে বেরোবিতে থাকা শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নামফলকও ভেঙে ফেলে শিক্ষার্থীরা।
ছবির উৎস, শাহরিয়ার মিম
ছবির ক্যাপশান, বুলডোজার দিয়ে ভাঙ্গার পর আজ সকালে রংপুর ডিসি'র মোড়ে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল
ছবির উৎস, শাহরিয়ার মিম
ছবির ক্যাপশান, বুলডোজার দিয়ে ভাঙ্গার রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল
ছবির উৎস, শাহরিয়ার মিম
ছবির ক্যাপশান, বুলডোজার দিয়ে ভাঙ্গা রংপুর কারমাইকেল কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল
রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটিতে বৃহস্পতিবারও ভাঙচুর চলেছে। ভবনের ভেতর থেকে স্টিল, লোহা, টিন, কাঠসহ বিভিন্ন জিনিস ভেঙে নিয়ে যেতে দেখা গেছে অনেককে।
সরেজমিন দেখা গেছে, ৩২ নম্বরের বাড়িটিতে শত শত মানুষ। তাদের কেউ কেউ স্লোগান দিচ্ছিলেন। ভবনে ভাঙচুরের শব্দ। এ সময় কাউকে কাউকে ভেতর থেকে জিনিসপত্র নিয়ে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়।
ভাঙারি পণ্য হিসেবে বিক্রয় করা যাবে এমন নানা অবকাঠামো নিয়ে যাচ্ছেন অনেকে।
ঘটনাস্থল থেকে বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা জানান, একটি ভবনের অর্ধেক এবং আরেকটি ভবনের একাংশ ভেকু দিয়ে গুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
এদের মধ্যে একটি পক্ষ বলছে, হাসিনা যে অন্যায় করেছে এবং সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ করেছে, তার প্রতিবাদে তারা ভবনের এসব অংশ খুলে নিচ্ছে।
আরেকটি পক্ষ বলছে, দম্ভের পতনের স্মৃতি হিসেবে তারা ইট কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
তবে বেলা সাড়ে ১২টা নাগাদ স্থানটি থেকে ভেকু ও বুলডোজার সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানান বিবিসি সংবাদদাতা।
এর আগে, 'জয় বাংলা' স্লোগান দেয়ায় এবং ভবন ভাঙার জন্য অকথ্য ভাষায় গালাগালি দেয়ায় নারীসহ দুইজনকে মারধর করতে দেখা গেছে।
সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সেনাবাহিনীর সদস্যদের কেউ উপস্থিত ছিলেন না।
ছবির ক্যাপশান, ধানমন্ডি ৩২ নম্বর থেকে অবকাঠামো খুলে নিয়ে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি।
ভাঙার পর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ির কিছু ছবি
গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ছয় মাস পর বুধবার রাতভর বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেয়া হয়েছে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনের একাংশ ।
বৃহস্পতিবার সকালেও ভবনটিকে ফের বুলডোজার দিয়ে ভাঙতে দেখা যায়। এদিন সকালে বিবিসি সংবাদদাতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে যা যা দেখেছেন, তার কিছু ছবি এখানে সংযুক্ত করা হলো...
ছবির ক্যাপশান, ৩২ নম্বরের বাড়ি ভাঙার পর সেখানকার চিত্র
ছবির ক্যাপশান, বুলডোজার দিয়ে ভাঙা হচ্ছে ৩২ নম্বরের বাড়ি
ছবির ক্যাপশান, বুলডোজার দিয়ে ভাঙা হচ্ছে ৩২ নম্বরের বাড়ি
ছবির ক্যাপশান, গতকাল রাতে এক দফা ভাঙার পর আজ সকালেও ভাঙা হয় এই বাড়ি
ছবির ক্যাপশান, ৩২ নম্বরের বাড়ির এক দেয়ালে 'ইনকিলাব জিন্দাবাদ' লেখা
রাবিতে চারটি হলের নামফলক পরিবর্তন, ছাত্রী হলে সংঘর্ষ
ছবির উৎস, মীর কাদির
ছবির ক্যাপশান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা হলের নামফলক ভাঙছে শিক্ষার্থীরা
গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ছয় মাস পূর্তিতে গতকাল পাঁচই ফেব্রুয়ারি বুধবার ধানমন্ডি ৩২ নম্বরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, তার রেশ পড়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েও।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী গতকাল রাতে চারটি আবাসিক হলের নামফলক ভেঙে ফেলে। এর মধ্যে একটি ছিল ছাত্রী হল, যেটিতে একপর্যায়ে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
যে হলগুলোর নাম ফলক মুছে দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর তিনটি-ই মুজিব পরিবারের সদস্যদের নামে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব বৃহস্পতিবার সকালে বিবিসি বাংলাকে বলেন, “কাল রাতে মেয়েদের একটি হলে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। বাকিগুলোতে সংঘর্ষ হয়নি। সেগুলোর নাম নিয়ে ছাত্রদের আপত্তি ছিল। কাল দেশজুড়ে যা ছিল, সেটিরই একটি বহিঃপ্রকাশ আর কি।”
তিনি বলেন, “কোন মাত্রায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে আমরা খোঁজ নিচ্ছি।”
নামফলক পরিবর্তন কারা করেছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সেগুলো আমাদের দেখতে হবে আর কি। রিপোর্টের প্রেক্ষিতে আমরা বের করবো যে কার কী ভূমিকা আছে। এখনও বলতে পারছি না।”
তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস সাংবাদিক মীর কাদির বলেন, “আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের বেশ কিছু নেতাকর্মীকে দেখা গেছে।”
তিনি জানান, সন্ধ্যায় ফেসবুকে নামফলক ভাঙার ডাক দেন রাবির অন্যতম এক সাবেক সমন্বয়ক। পরে রাত নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা চত্বরে জড়ো হয় শিক্ষার্থীরা। এরপর সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্রথমে নামফলক ভেঙে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নতুন নাম 'বিজয়-২৪' লিখে দেয়।
এরপর নির্মাণাধীন শহীদ কামারুজ্জামান হলের নাম মুছে শহীদ আলী রায়হান হল, শেখ হাসিনা হলের নাম মুছে ফাতিমা আল ফিহরিয়া হল এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা হলের নাম নবাব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল নাম রাখেন রাখেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
এছাড়া, শেখ রাসেল মডেল স্কুলের নামফলক পরিবর্তন করে রিয়া গোপ মডেল স্কুল রাখা হয়।
কিন্তু শেখ ফজিলাতুন্নেসা আবাসিক হলের নাম পরিবর্তন করতে গেলে হলের নারী শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করেন বলে জানান মীর কাদির।
“মেয়েদের হল, ফজিলাতুন্নেচ্ছা হলে যখন ভাঙতে যায়, তখন মেয়েরা জানেও না যে কী হচ্ছে। তখন প্রথমে মেয়েরা বাধা দেয় এবং তারপর মেয়েদের সাথে ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ি হয়। শেষ পর্যন্ত মেয়েরা ওই ব্যানার ছিঁড়ে পুড়িয়ে ফেলে।”
“ওরা যখন কালকে নামফলক ভাঙে, ভাঙার পর প্রত্যেকটা ফলকের সামনে ব্যানার টাঙিয়ে দেয় এবং সেই ব্যানার ওরা আগে থেকে বানিয়ে এনেছে,” যোগ করেন মি. কাদির।
ছবির উৎস, মীর কাদির
ছবির ক্যাপশান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নতুন নাম বিজয়-২৪ হল রাখে শিক্ষার্থীরা