বিজয় দাবি করে মোদী বললেন 'আজকে আমি ভীষণ, ভীষণ খুশি'
ভারতের লোকসভায় নির্বাচনে এখন পর্যন্ত পাওয়া ভোটের ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, বিজেপি কিংবা কংগ্রেস- কেউই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক আসন পায়নি। কাজেই ক্ষমতার আসনে বসতে হলে তাদেরকে অন্যদলের সঙ্গে জোট গঠন করতে হবে বলেই মনে হচ্ছে। তবে এর মধ্যেই বিজয়ের দাবি করেছেন নরেন্দ্র মোদী।
সার সংক্ষেপ
ভারতের জাতীয় নির্বাচনে বিজেপি অথবা কংগ্রেস- কোন দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি
সরকার গঠন করতে হলে জোট সঙ্গীদের ওপর নির্ভর করতে হবে
বিজয় দাবি করে জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদী
বিজেপি সরকার গঠন করলে জওহরলাল নেহেরুর পর দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসাবে টানা তৃতীয়বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন নরেন্দ্র মোদী
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, তাদের লড়াই ছিল সংবিধান বাঁচানোর লড়াই
সরাসরি কভারেজ
একটি বুথে ১২টি ইভিএম ব্যবহার করে ইতিহাস গড়া হয় যেখানে
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, ভারতের নির্বাচনে ব্যবহৃত ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম - প্রতীকী চিত্র
ভারতে তেলেঙ্গানা
রাজ্যের নিজামাবাদ আসনে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়ে নির্বাচন কমিশন
সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে ভোট যন্ত্র বা ইভিএমের বদলে ব্যালট ব্যবহার করা হবে। তার
বহু বছর আগে থেকেই যদিও সারা দেশেই ইভিএমে ভোট নেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল। নির্বাচন
কমিশনের ওই অদ্ভুত সিদ্ধান্তের কারণ ছিল, নির্বাচনে প্রার্থীদের সংখ্যা এতটাই বেশি ছিল ওই
কেন্দ্রে,
যা ইভিএমে
সর্বোচ্চ যত নাম রাখা যায়, তার
থেকে বহু গুণ বেশি। সেই বছর ওই একটি কেন্দ্রে ১৮৫ জন প্রার্থী হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে ১৭৮ জনই ছিলেন কৃষক।
কৃষির ক্ষেত্রে তাদের সমস্যার প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই কৃষকরা তখন ভোটে লড়ার
সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
তবে
শেষ মুহূর্তে ব্যালট আর ব্যবহার করা হয় নি। কিন্তু প্রতিটি বুথে ১২টি বড় আকারের
ইভিএম বসানো হয়েছিল সব প্রার্থীদের নাম রাখতে।
ভারতে প্রথমবার ১৯৮২ সালে কেরালার উত্তর পারাভুর
বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে, অল্প সংখ্যক ভোটকেন্দ্রে প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে গোয়া বিধানসভার নির্বাচন ইভিএম ব্যবহার করে পরিচালিত হয়েছিল। নির্বাচন কমিশন ২০০৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের জন্য
শুধুই ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়।
ভারতে নির্বাচন যেন গণতন্ত্রের উদযাপন
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, রাজনীতিবিদরা বিশাল সমাবেশ ও উদ্যমী রোড শো করেন।
ভারতের লোকসভা নির্বাচন বেশ
প্রাণবন্ত একটি বিষয় কারণ রাজনীতিবিদরা ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর জন্য বিশাল সমাবেশ
ও উদ্যমী রোড শো করেন।
হাজার হাজার মানুষ তাদের
পছন্দের দল আর প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জানাতে এই আয়োজনগুলোতে উপস্থিত হয়।
রাজনীতিবিদরা যানবাহন
বা মঞ্চের উপর থেকে বক্তৃতা দেওয়ার সময় সমর্থকরা তাদের দিকে
ফুলের পাপড়ি ছিটিয়ে থাকেন।
রাজনীতিবিদদের গাড়ি বহরের পিছনে
দীর্ঘ মিছিলে মানুষ হাঁটার সময় নাচতে থাকে, অনেকে ঢোল পিটিয়ে আনন্দ করে।
ভারতের রাজনৈতিক দল: যে সংক্ষিপ্ত রূপগুলোর বিষয়ে জানা দরকার
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, ভারতীয়রা রাজনৈতিক দলের নামের ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত রূপের ব্যাপারে অনুরাগী।
ভারতীয়রা রাজনৈতিক দলের
নামের ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত রূপের ব্যাপারে অনুরাগী। এরমধ্যে রয়েছে:
• বিজেপি: ভারতীয় জনতা
পার্টি যা ভারতকে শাসন করছে। দলটির নেতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবারও জয়ী
হলে তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে পারেন।
• ইন্ডিয়া: ইন্ডিয়ান
ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টাল ইনক্লুসিভ অ্যালায়েন্স, একসময়ের
প্রভাবশালী কংগ্রেস দলসহ বিরোধী দলগুলোর জোট এটি।
• এনডিএ: ন্যাশনাল
ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স, বিজেপির নেতৃত্বে দলগুলোর
একটি জোট৷
এছাড়াও অনেক
আঞ্চলিক দলও সাধারণভাবে আক্ষরিক অর্থে পরিচিত যেমন আম আদমি পার্টি (এএপি - দিল্লি
ও পাঞ্জাবের ক্ষমতায়) এবং তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি - পশ্চিমবঙ্গ শাসন করছে)।
তীব্র গরমেও অপেক্ষায় জড়ো, চেরিলান মোলান, দিল্লি
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, দিল্লিসহ ভারতের কিছু রাজ্যের তীব্র গরম আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
দিল্লিতে তীব্র
গরম আবহাওয়ার মধ্যেও রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছেন। এই নির্বাচনের সময় ভীষণ গরম আবহাওয়ার ব্যাপারটি আলোচনার একটি প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছিল।
ভারতের সাধারণ
নির্বাচন, প্রতি পাঁচ বছরে
একবার, সাধারণত এপ্রিল
ও মে মাসে গ্রীষ্মকালীন সময়ে অনুষ্ঠিত হয়।
কিন্তু এই বছরের
তাপমাত্রা রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছে, দেশটিতে চলছে দীর্ঘমেয়াদী তীব্র তাপপ্রবাহ।
উত্তর ও মধ্য
ভারতের কিছু জায়গায় তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যার ফলে লোকজনের জন্য বের হয়ে ভোট দেওয়া কঠিন
হয়ে পড়েছিল। তবুও কোটি কোটি মানুষ ভোট দিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের ট্রেন্ড : তারকা প্রার্থীরা কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে?
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেব
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে এবার যেমন সিনেমা-সিরিয়ালের
অভিনেতা-অভিনেত্রী অনেককেই প্রার্থী করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস আর বিজেপি, তেমনই রাজনীতির মাঠে তারকা প্রার্থীও
ছিলেন অনেকে।
দেখে নেওয়া যাক বেলা ১২টায় তারা কে এগিয়ে বা
পিছিয়ে আছেন?
বীরভূম আসন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের তিনবারের সংসদ
সদস্য অভিনেত্রী শতাব্দী রায় তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী দেবতনু
ভট্টাচার্যের চেয়ে প্রায় ৫৩ হাজার ভোটে এগিয়ে আছেন।
বলিউড ছবির একসময়ের নায়ক শত্রুঘ্ন সিনহা এবার
আসানসোল কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছিলেন। তিনি বিজেপির প্রাক্তন
সংসদ সদস্য, বিজেপি
প্রার্থী এস এস আলুওয়ালিয়ার চেয়ে প্রায় ২৩ হাজার ভোটে এগিয়ে আছেন।
পাশের কেন্দ্র বর্ধমান-দুর্গাপুরে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করেছিল প্রাক্তন ক্রিকেটার কীর্তি আজাদকে। তার বিপরীতে বিজেপির হেভিওয়েট
রাজনৈতিক তারকা প্রার্থী ছিলেন দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। মি. আজাদ
এখন ৪০ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।
বাঁকুড়া কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ডা. সুভাষ সরকার। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হয়েছিলেন তৃণমূল
কংগ্রেস নেতা অরূপ চক্রবর্তী। তিনি বিজেপি প্রার্থীর চেয়ে প্রায় ছয় হাজার ভোটে
এগিয়ে।
মেদিনীপুর কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী করেছিল
অভিনেত্রী জুন মালিয়াকে। তার বিপরীতে ছিলেন বিজেপির বিধানসভা সদস্য ও ফ্যাশন
ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পাল। মিজ. মালিয়া এখন এগিয়ে আছেন প্রায় পাঁচ হাজার ভোটে।
ঘাটাল কেন্দ্রে বাংলা সিনেমার দুই হিরো দেব ও হিরণ
মুখোমুখি লড়াই করেছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী দেব, যার পোষাকি নাম দীপক অধিকারী, তিনি নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী
বিজেপির হিরণ চ্যাটার্জীর থেকে আট হাজারের কিছু বেশি ভোটে এগিয়ে আছেন।
হুগলি কেন্দ্রে ‘দিদি নাম্বার ওয়ান’ খ্যাত রচনা
ব্যানার্জী তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ছিলেন, বিপরীতে ছিলেন বিদায়ী সংসদ সদস্য বিজেপির লকেট চ্যাটার্জী।
রচনা ব্যানার্জী ১৭ হাজারের কিছু বেশি ভোটে এগিয়ে আছেন।
পাশের কেন্দ্র শ্রীরামপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের বিদায়ী
সংসদ সদস্য কল্যাণ ব্যানার্জীর বিপরীতে তারই প্রাক্তন জামাই কবীর কৃষ্ণ বসুকে দাঁড়
করিয়েছিল বিজেপি। কল্যাণ ব্যানার্জী প্রায় আট হাজার ৮০০ ভোটে এগিয়ে আছেন। এই
কেন্দ্রে সিপিআইএম প্রার্থী দীপ্সিতা ধরও নজর কেড়েছিলেন কিছুটা। দিল্লির
জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী মিজ ধর এই কেন্দ্রে
তিন নম্বরে রয়েছে প্রায় ১৭ হাজার ভোট পেয়ে।
রাজনৈতিক হেভিওয়েটদের মধ্যে কলকাতা উত্তর কেন্দ্রের
তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী, দীর্ঘদিনের
সংসদ সদস্য সুদীপ ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন বহু দশক ধরে তারই দলীয় সতীর্থ
তাপস রায়। মাস কয়েক আগেই মি. রায় তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
সুদীপ ব্যানার্জী ১৬ হাজারের কিছু বেশি ভোটে এগিয়ে আছেন।
কলকাতার আরেকটি কেন্দ্র – কলকাতা দক্ষিণে তৃণমূল
কংগ্রেসের মালা রায় গত লোকসভা নির্বাচনে রেকর্ড ভোটে জিতেছিলেন। এবার তিনি
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, বিজেপির
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দেবশ্রী চৌধুরীর থেকে প্রায় ৮৬ হাজার ভোটে এগিয়ে
আছেন।
পাশের কেন্দ্র যাদবপুরে তৃণমূল কংগ্রেস অভিনেত্রী
সায়নী ঘোষ তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির তাত্ত্বিক নেতা অনির্বাণ গাঙ্গুলির
থেকে ৭৫ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে আছেন।
দমদম কেন্দ্রে ১৫হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে আছেন
তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা ও বেশ কয়েকবারের সংসদ সদস্য সৌগত রায়।
ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয়
সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জীর সঙ্গে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির
অভিজিৎ দাসের চেয়ে দুই লাখ ৩২ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে আছেন।
কৃষ্ণনগর কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মহুয়া
মৈত্র তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, কৃষ্ণনগরের
সাবেক রাজ পরিবারের বধূ অমৃতা রায়ের চেয়ে ৪৪ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে আছেন।
বিষ্ণুপুর আসনে বিজেপির বিদায়ী সংসদ সদস্য সৌমিত্র
খান তার প্রাক্তন স্ত্রী, তৃণমূল
প্রার্থী সুজাতা মন্ডলের চেয়ে সাড়ে পাঁচ হাজার ভোটে এগিয়ে আছেন।
তমলুক কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী, প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলি
তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্যের চেয়ে পাঁচ হাজারের বেশি
ভোটে এগিয়ে আছেন।
মতুয়া অধ্যুষিত আসন বনগাঁ কেন্দ্রে বিদায়ী কেন্দ্রীয়
মন্ত্রী ও বিজেপি প্রার্থী শান্তনু ঠাকুর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূলের
বিশ্বজিত দাসের থেকে প্রায় ২০ হাজার ভোটে এগিয়ে আছেন।
প্রাথমিক ফলাফলে উৎফুল্ল কংগ্রেস দলের কর্মীরা
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, রাহুল গান্ধীর জন্য উল্লাস করছেন সমর্থকরা
দিল্লিতে কংগ্রেস সদর দফতরে দলীয় কর্মীরা তাদের নেতা রাহুল
গান্ধীর জন্য উল্লাস করছেন কারণ প্রাথমিক ভোট গণনায় এখন পর্যন্ত বিরোধী ইন্ডিয়া
জোট প্রত্যাশার চেয়ে বেশি এগিয়েছে।
উত্তরপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যগুলিতে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো পারফর্ম করছে ইন্ডিয়া জোট।
এদিকে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে দলের সদর দফতরে শত শত
কংগ্রেস কর্মী জড়ো হয়েছেন।
অফিসের ভিতরে একটি বড় টিভি স্ক্রিন লাগানো হয়েছে এবং
দলীয় কর্মীরা নিউজ চ্যানেলে প্রদর্শিত ভোট গণনার উপর নজর রাখছেন।
'অনুপ্রবেশকারী' মানে 'অবৈধ বাংলাদেশি'
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, বিজেপির মুখপাত্র সৈয়দ জাফর ইসলাম
বিবিসির সংবাদদাতা ইয়োগিতা লিমায়ে জানাচ্ছেন দিল্লিতে দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গে বিজেপির সদর দফতরে উদ্দীপনার বেশ অভাব, নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উৎসাহও বেশ স্তিমিত।
সবশেষ ট্রেন্ড অনুযায়ী বিজেপি জোট যদিও এখনও প্রতিপক্ষ ইন্ডিয়ার চেয়ে বেশ এগিয়ে, তারপরও যেহেতু বিজেপির আসন তাদের নিজেদেরই লক্ষ্যমাত্রা বা এক্সিট পোলের পূর্বাভাসের চেয়েও অনেক কম দেখাচ্ছে - তাই বিজেপির উচ্ছ্বাসেও রীতিমতো ভাটা পড়েছে বলে লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এরই মধ্যে বিজেপির মুখপাত্র সৈয়দ জাফর ইসলাম বিবিসিকে বলেন, শেষ পর্যন্ত তারাই সরকার গড়বেন এটা নিশ্চিত। এমন কী তাদের আসন সংখ্যাও শেষে প্রত্যাশার কাছাকাছি পৌঁছবে বলে আশাবাদী বিজেপি।
সৈয়দ জাফর ইসলামকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বিজেপি কেন হিন্দু-মুসলিম মেরুকরণের লক্ষ্য নিয়ে প্রচার চালিয়েছে কিংবা প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজেও বা কেন নির্বাচনি প্রচারে মুসলিমদের 'অনুপ্রবেশকারী' বলে আক্রমণের নিশানা করেছেন?
জবাবে মি. ইসলাম বিবিসিকে বলেন, "অনুপ্রবেশকারী বলে প্রধানমন্ত্রী মোদী মোটেই ভারতের মুসলিমদের নিশানা করেননি। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে আসা অভিবাসীদের কথা।"
প্রাথমিক ভোট গণনায় মোদির ভূমিধস জয়ের আভাস মেলেনি, সৌতিক বিশ্বাস দিল্লি থেকে রিপোর্ট
নরেন্দ্র মোদি যখন "আব কি বার, চারশ পার" (এবারে চারশ ছাড়িয়ে যাব) স্লোগান দিয়ে
প্রচার শুরু করেছিলেন, তখন তিনি তার
বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের জন্য ৪০০ টিরও বেশি আসনে জয়ী হওয়ার লক্ষ্য রেখেছিলেন।
সবচেয়ে আশাবাদী বুথ ফেরত জরিপও পূর্বাভাস দিয়েছিল যে তার
জোট ৪০০ আসনে জয়ী হবে।
যাইহোক, প্রাথমিক ভোট
গণনা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচনে বিরোধী মধ্য বামপন্থী ইন্ডিয়া জোটের সাথে হাড্ডাহাড্ডি
লড়াই হতে পারে।
ভারতের ৫৪৩ আসনের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য
প্রয়োজন ২৭২টি আসন। এনডিএ ওই পর্যন্ত পৌঁছাবে কিনা তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সংশয় তৈরি
হয়েছে।
দুই জোটের মধ্যে ব্যবধান প্রত্যাশার চেয়ে কমে আসছে বলে মনে
হচ্ছে, প্রাথমিকভাবে মাত্র ৬০ থেকে ৭০টি আসনের
পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।
ছবির উৎস, Getty Images
ঝুঁকিতে বিরোধীরা
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, নরেন্দ্রো মোদীর প্রচারণা
নরেন্দ্র মোদী এবারের নির্বাচনে জয়ী হলে ভারতের প্রথম
প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর মতো টানা তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হবেন।
বিজেপি'র নির্বাচনি প্রচারণায় সরকারের কল্যাণমুলক কর্মসূচি,
হিন্দু জাতীয়তাবাদ, জাতীয় নিরাপত্তাসহ মি. মোদীর ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব
প্রাধান্য পাবে বলে ধারণা করা হলেও মি. মোদী তার প্রচারণার দিক পরিবর্তন করে বিভাজনমূলক বক্তব্য দেন, যা তার কৌশলকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
মি. মোদী কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের বিরুদ্ধে মুসলমান সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে
খুশি করার অভিযোগ আনেন।
বুথফেরত জরিপগুলো বিজেপি-নেতৃত্বাধীন জোটের পুনরায় ক্ষমতায় আসার
পূর্বাভাস দিয়েছে এবং মি. মোদীকেও জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বলেই মনে হচ্ছে।
তবে বিরোধী দলগুলো বলছে যে তিনি ক্ষমতায় থাকলে ভারতীয়রা তাদের
স্বাধীনতা হারাবে।
বিরোধীরা বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি
করতে না পারার অভিযোগ তোলে।
এক দশক ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিরোধীরা তাদের নির্বাচনি প্রচারণায় বিজেপি সরকারের
পদ্ধতিগত বৈষম্যের উপর জোর দিয়েছে।
বিরোধীরা যদি টানা তৃতীয়
মেয়াদে পরাজিত হলে সেটা দলের জন্য একটি বড় ধাক্কা হবে, ফলে কংগ্রেস পার্টিতে ঝুঁকির মুখে পড়বে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব।
উত্তর প্রদেশে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই
উত্তর প্রদেশে লড়াই ক্রমশ বাড়ছে। প্রথমে বিজেপি ৪০টি আসনে এগিয়ে থাকলেও সমাজবাদী পার্টির ঝুলিতে এগিয়ে থাকা আসনের সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে।
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সমাজবাদী পার্টি এগিয়ে রয়েছে ৩৬টি আসনে এবং বিজেপি এগিয়ে ৩৩টিতে। মূলত এই দুই দলের মধ্যেই লড়াইটা চলছে।
প্রসঙ্গত বিজেপির তারকা প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম স্মৃতি ইরানী তার প্রতিদ্বন্দ্বী ও কংগ্রেস প্রার্থী কিশোরী লালের চেয়ে পিছিয়ে আছেন।
কংগ্রেস আটটি আসনে এগিয়ে, রাষ্ট্রীয় জনতা দল দু'টিতে এবং আজাদ সমাজ পার্টি একটি আসনে এগিয়ে আছে।
ভোট গণনা এখনও চলছে।
ভারতীয় নির্বাচন কীভাবে কাজ করে?
ভারতের পার্লামেন্টে দু'টি
কক্ষ রয়েছে - নিম্নকক্ষ (লোকসভা) ও উচ্চকক্ষ (রাজ্যসভা)।
লোকসভার ৫৪৩ জন পার্লামেন্ট
সদস্যকে বেছে নেওয়ার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিটি নির্বাচনী এলাকা
প্রতিনিধিত্ব করার জন্য একজন করে এমপি পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। যিনি সবচেয়ে বেশি ভোট পান, তিনি বিজয়ী হন।
এই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে
শর্ত হচ্ছে: ভোটারদের অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে, বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি হতে হবে, তাকে একজন নিবন্ধিত ভোটার হতে হবে, সেইসাথে তাদের
একটি বৈধ সরকারি আইডি কার্ডও প্রয়োজন।
পার্লামেন্টে ১৩১টি সংরক্ষিত
আসন আছে – ভারতে যেসব গোষ্ঠী সরকারীভাবে সুবিধাবঞ্চিত হিসাবে স্বীকৃত এবং ভারতের
জনসংখ্যার প্রায় এক চতুর্থাংশ; তারাই এই সংরক্ষিত আসনগুলোর প্রতিনিধিত্ব করেন।
ভারত যদিও এক তৃতীয়াংশ আসন নারীদের
জন্য বরাদ্দ করতে একটি আইনও পাস করেছে, তবে এটি কয়েক বছর
ধরে কার্যকর হচ্ছে না।
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, ভারতের পার্লামেন্টে দু'টি কক্ষ - নিম্নকক্ষ (লোকসভা) ও উচ্চকক্ষ (রাজ্যসভা)।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে অনেক দূরে বিজেপি
ভারতীয় সময় বেলা সাড়ে এগারোটায় জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে যে সবশেষ ফলাফল বা 'ট্রেন্ড' দেখা যাচ্ছে, তাতে ক্ষমতাসীন দল বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ২৭২টি আসনের লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেকটা পিছিয়ে আছে।
মোট ৫৪৩টি লোকসভা আসনের মধ্যে বিজেপি এককভাবে জিতেছে বা এগিয়ে আছে মোট ২৩৭টি আসনে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে অন্তত ৩৫টি কম।
এরপরই সবচেয়ে বেশি আসনে এগিয়ে আছে কংগ্রেস - ৯৭টি। কংগ্রেস ২০০৯ সালের নির্বাচনের পর এবার তাদের সেরা ফল করতে চলেছে, এটা বেশ স্পষ্ট।
এছাড়া উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টি ও পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসও বেশ ভালো ফল করছে। সমাজবাদী পার্টি এই মুহুর্তে ৩৪টি ও তৃণমূল কংগ্রেস ২৯টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।
ছবির উৎস, ECI
ছবির ক্যাপশান, বেলা সাড়ে এগারোটায় নির্বাচন কমিশনের প্রকাশ করা চার্ট - বিভিন্ন দলের প্রাপ্ত আসন
নির্বাচন কমিশন থেকে বেলা সোয়া ১১টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জম্মু ও কাশ্মীরে দু'টি আসনে এগিয়ে রয়েছে ফারুখ আব্দুল্লাহ্-র দল জম্মু ও কাশ্মীর ন্যাশনাল কনফারেন্স। অন্যদিকে, বিজেপিও দু'টি আসনে এগিয়ে আছে।
জম্মু ও কাশ্মীর ন্যাশনাল কনফারেন্স পার্টির আগা সৈয়দ রুহুল্লাহ মেহেদী এগিয়ে রয়েছেন শ্রীনগর থেকে এবং ওই দলেরই অন্য আরেক প্রার্থী মিঞা আলতাফ আহমাদ অনন্তনাগ-রাজৌরি থেকে এগিয়ে রয়েছেন।
বিজেপি প্রার্থী জিতেন্দ্র সিং এগিয়ে রয়েছেন উধমপুর আসন থেকে এবং যুগল কিশোর এগিয়ে আছেন জম্মু থেকে।
গণনা এখনও চলছে, ফলে ভোটের সমীকরণ বদলাতেও পারে।
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, ছবি- কাশ্মীরে ভোট দেওয়ার পর এক স্থানীয় বাসিন্দা।
ভারতের নির্বাচনে মূল খেলোয়াড়
ভারতের লোকসভা নির্বাচনে
প্রধান দুই রাজনৈতিক জোট এবার মুখোমুখি অবস্থানে।
একটি হচ্ছে বিজেপি-নেতৃত্বাধীন
ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ), অন্যটি বিরোধী 'ইন্ডিয়া' জোট, যেখানে প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস রয়েছে।
এনডিএ একটি মধ্য ডানপন্থী
দল, আর ইন্ডিয়া জোট মধ্য-বামপন্থী।
নরেন্দ্র মোদী এনডিএ প্রধান হলেও, ইন্ডিয়া জোট তাদের প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য এখনও প্রার্থী বাছাই করেনি।
বুথ ফেরত জরিপ থেকে ধারণা
করা যাচ্ছে, ভারতের ৫৪৩ আসনের পার্লামেন্টে এনডিএ-র স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার
সম্ভাবনা রয়েছে।
এমনটা হলে নরেন্দ্র মোদী টানা
তৃতীয় মেয়াদে ভারতের শাসন ক্ষমতায় আসবেন।
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, ইন্ডিয়া জোটের সদস্যরা ভোট গণনার আগে একসঙ্গে ছবি তুলছেন।
পশ্চিমবঙ্গে কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে?
বেলা ১১টা পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী তৃণমূল
কংগ্রেস ২৮টি আসনে, বিজেপি এগিয়ে আছে ১০টি আসনে, দু'টিতে এগিয়ে কংগ্রেস, একটিতে এগিয়ে
আছে সিপিআইএম।
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী বিজেপি প্রার্থীর চেয়ে এক লাখ ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটে এগিয়ে
আছেন।
কোচবিহারে বিদায়ী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি প্রার্থী
নিশিথ প্রামানিক পিছিয়ে আছেন তৃণমূল কংগ্রেসের জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়ার থেকে।
বহুল চর্চিত সন্দেশখালি যে লোকসভা আসনের অন্তর্গত,
সেই বসিরহাট কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্র'র চেয়ে প্রায় ২৭ হাজার ভোটে এগিয়ে
আছেন ওই কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী শেখ নুরুল ইসলাম।
হুগলি আসনে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী রচনা ব্যানার্জী তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দী,
বিদায়ী সংসদ সদস্য লকেট চ্যাটার্জীর চেয়ে প্রায় ১০ হাজার ভোটে এগিয়ে, মিজ
চ্যাটার্জী আর মিজ ব্যানার্জী দু'জনেই অভিনেত্রী।
তমলুক কেন্দ্রে বিচারপতির পদে ইস্তফা দিয়ে যিনি বিজেপির
প্রার্থী হয়েছিলেন, সেই অভিজিৎ গাঙ্গুলি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল
কংগ্রেসের যুবনেতা দেবাংশু ভট্টাচার্যের থেকে এক হাজারেরও বেশি ভোটে পিছিয়ে আছেন।
কংগ্রেস যে দু'টি আসনে এগিয়ে আছেন, তার মধ্যে বিগত লোকসভায়
কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী বহরমপুর আসনে, মালদা দক্ষিণ কেন্দ্রে ইশা খান
চৌধুরী এগিয়ে আছেন।
কংগ্রেসের জোটসঙ্গী সিপিআইএমের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য
সম্পাদক মুহম্মদ সেলিম মুর্শিদাবাদ কেন্দ্রে এগিয়ে আছেন প্রায় দুই হাজার ছয়শো ভোটে।
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, অভিষেক ব্যানার্জী, সঙ্গে তার পিসি (ফুফু) তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা ব্যানার্জী
আসন বণ্টন
ভারতের রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ভিত্তিক লোকসভা আসন বণ্টন:
উত্তরপ্রদেশ - ৮০
মহারাষ্ট্র - ৪৮
পশ্চিমবঙ্গ - ৪২
বিহার - ৪০
তামিলনাড়ু - ৩৯
মধ্যপ্রদেশ - ২৯
কর্ণাটক - ২৮
গুজরাট - ২৬
অন্ধ্রপ্রদেশ - ২৫
রাজস্থান - ২৫
ওড়িশা - ২১
কেরালা - ২০
তেলেঙ্গানা - ১৭
আসাম - ১৪ ঝাড়খণ্ড - ১৪
পাঞ্জাব - ১৩
ছত্তিশগড় - ১১
হরিয়ানা - ১০
দিল্লি - ৭
জম্মু ও কাশ্মীর - ৫
উত্তরাখণ্ড - ৫
হিমাচল প্রদেশ - ৪
অরুণাচল প্রদেশ - ২
গোয়া - ২
মণিপুর - ২
মেঘালয় - ২
মিজোরাম - ২
ত্রিপুরা - ২
আন্দামান ও নিকোবার দ্বীপপুঞ্জ - ১
চণ্ডীগড় - ১
দাদরা ও নগর হাভেলি - ১
দমন ও দিউ - ১
লাদাখ - ১
লাক্ষাদ্বীপ - ১
নাগাল্যান্ড - ১
পন্ডিচেরী - ১
সিকিম - ১
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, ভারতে ভোট - প্রতীকী ছবি
ভারতে আজ ভোট গণনা, মোদীর হ্যাটট্রিক না কি বিরোধীদের বাজিমাত?
ছবির উৎস, GETTY IMAGES
এই নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তার দল বিজেপি-র নেতৃত্বাধীন জোট ‘এনডিএ’ একটানা তৃতীয়বার দেশের ক্ষমতায় আসার জন্য লড়ছে।
বিজেপির সেই লক্ষ্য সফল হলে স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর পর নরেন্দ্র মোদীই হবেন প্রথম ব্যক্তি, যিনি পরপর তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করবেন।
অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরের মূল জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতারাও আশাবাদী যে তারা সরকার গড়ার জন্য যে গরিষ্ঠতা দরকার, তা অর্জন করতে পারবেন।
ভারতে আজ ভোট গণনার শুরু হওয়ার একটু পরই শেয়ার বাজার হু হু করে পড়তে শুরু করে। প্রাথমিক ট্রেন্ডে যখন ক্রমশ বোঝা যেতে থাকে যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট অনায়াসেই জয় পাচ্ছে না - এবং তিনশো আসন অতিক্রম করাও তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে উঠতে পারে - শেয়ার বাজারেও তার প্রতিফলন দেখা যায় অবধারিতভাবে।
ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (এনএসই) ৫০ ও বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (বিএসই) - উভয় ক্ষেত্রেই বাজার খোলার ঘন্টাদেড়েকের মধ্যে সূচক তিন শতাংশেরও বেশি পড়ে যায়।
এর আগে এক্সিট পোলে এনডিএ জোটের বিপুল জয়ের পূর্বাভাস আসার পর সোমবার (৩রা জুন) শেয়ার বাজারে এক লাফে তিন শতাংশেরও বেশি সূচক বৃদ্ধি হয়েছিল। গত প্রায় সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সেটাই ছিল একটা সেশনে ভারতের শেয়ার বাজারে সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ ভবন
ভোট গণনার আগে বিরোধী নেতাদের নজরবন্দি করার অভিযোগ
ভোট গণনার আগে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব। তার অভিযোগ, ভোট গণনার আগে বিরোধী দলের নেতাদের নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে।
তার দাবি, বিরোধী দলের নেতারা ভোট গণনায় যেন অংশ নিতে না পারেন, সেই জন্য তাদের নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন অখিলেশ যাদব।
সোমবার রাতে এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটার) ভিডিওটি প্রকাশ করে কনৌজের প্রার্থী অখিলেশ যাদব লেখেন, 'মাননীয় সুপ্রিম কোর্ট, নির্বাচন প্রধান ও পুলিশ প্রধান, অবিলম্বে লক্ষ্য করুন যে মির্জাপুর, আলিগড়, কনৌজ ছাড়াও, উত্তরপ্রদেশের অনেক জেলায় জেলা শাসক ও পুলিশ প্রশাসন বিরোধীদের অবৈধভাবে নজরবন্দি করছে যাতে তারা কাল ভোট গণনায় অংশ নিতে না পারেন।'
যাদের নজরবন্দি করা হয়েছে, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার আর্জি জানিয়ে তিনি লেখেন, 'এই জাতীয় ঘটনা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। প্রশাসনিকভাবেও তা করতে হবে। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। যখন সব রাজনৈতিক দল শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করছে সেই পরিস্থিতিতে প্রশাসন যেন অনৈতিক না করে যাতে জনরোষের সৃষ্টি হয়।'
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেছেন অখিলেশ যাদব। তিনি লেখেন, 'আশা করি এমন পক্ষপাতদুষ্ট ডিএম এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের অবিলম্বে অপসারণ করা হবে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গণনা করা হবে।'
ছবির উৎস, Getty Images
ছবির ক্যাপশান, অখিলেশ যাদব (ফাইল চিত্র )।
উত্তর প্রদেশে ট্রেন্ড: কারা এগিয়ে
নির্বাচন কমিশনের তরফে এপর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উত্তর প্রদেশে মোট ৮০টি আসনের মধ্যে ৩৬টিতে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। ৩৩টি আসনে এগিয়ে সমাজবাদী পার্টি, আটটিতে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস, রাষ্ট্রীয় লোকদল দু'টিতে এবং আজাদ সমাজ পার্টি (কাশী রাম) একটি আসনে এগিয়ে আছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বারাণসী থেকে লড়ছেন। ওই আসনে তিনি এগিয়ে আছেন। পাশাপাশি বিজেপির তারকা প্রার্থীদের মধ্যে যারা এগিয়ে রয়েছেন, তারা হলেন লক্ষ্ণৌ থেকে রাজনাথ সিং, মথুরাতে হেমা মালিনী।
কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী এখনও পর্যন্ত রায়বেরিলি আসনে এগিয়ে রয়েছেন।
অন্যদিকে, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব এগিয়ে রয়েছেন কনৌজ থেকে। ডিম্পল যাদব এগিয়ে রয়েছেন ম্যায়েনপুরি থেকে।