আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন

আমাকে মূল ওয়েবসাইটে/সংস্করণে নিয়ে যান

এই ডেটা-সাশ্রয়ী সংস্করণ সম্পর্কে আরও জানুন

ইরান ও ইসরায়েল 'সম্পূর্ণ ও সর্বাত্মক' যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, ট্রাম্পের ঘোষণা

কাতারের মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান, যদিও এই হামলায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। অন্যদিকে তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের হামলা ছিল 'খুব দুর্বল,' এবং এখন শান্তির সময়। চোখ রাখুন বিবিসি বাংলার লাইভ পাতায়...

সরাসরি কভারেজ

  1. যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার হালনাগাদ তথ্য

    যদি আপনি এখন আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে থাকেন, তাহলে জেনে নিন ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর কী কী নতুন ঘটনা ঘটেছে:

    • যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে "শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের" সম্ভাবনার কথা উত্থাপন করেছেন। তিনি বলেছেন, “যদি ইরানের বর্তমান সরকার দেশকে মহান করতে না পারে, তাহলে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন হবে না কেন?”
    • ট্রাম্প আরো বলেছেন, “ইরানের সব পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আমরা বিশাল ক্ষয়ক্ষতি করেছি।” যদিও জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা এখনো সেই ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণ করতে পারেনি।
    • ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এখন মস্কো সফরে আছেন এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে।
    • জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, “ট্রাম্পকে বিশ্ববাসীর ধন্যবাদ জানানো উচিত। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রদূত যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সমালোচনা করেছে।
    • বিশ্বের বিভিন্ন শহরে প্রতিবাদ হয়েছে, যেখানে মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নিন্দা জানিয়েছে।
    • ইরানে বোমাবর্ষণে অংশ নেওয়া বিটু স্টেলথ বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ফিরে এসেছে।
  2. ‘অভিন্ন হুমকি’ নিয়ে পুতিনের সঙ্গে আলোচনা করবেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্টিভ রোজেনবার্গ, রাশিয়া বিষয়ক সম্পাদক

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, যিনি ক্রেমলিনের বৈঠকে অংশ নেওয়ার জন্য বর্তমানে মস্কোতে রয়েছেন, তিনি বলেছেন তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে “গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা” করবেন, যেখানে “অভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও হুমকির” বিষয় উঠে আসতে পারে।

    রাশিয়া ইতোমধ্যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নিন্দা করেছে। জাতিসংঘে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র “বিপদের দ্বার খুলে দিয়েছে”।

    যদি আজকের মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন, তাহলে তিনি ক্রেমলিনের নেতাদের কাছ থেকে তাদের জোরালো সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    তবে মস্কোর পক্ষ থেকে সরাসরি সামরিক সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

    সবচেয়ে বড় কথা হলো: এই মুহূর্তে রাশিয়ার অগ্রাধিকার হচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধ। যদিও রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি আছে, তবে সেটা কোনো প্রতিরক্ষা চুক্তি নয়, এবং সেটা মস্কোকে তেহরানের জন্য সামরিক সহায়তা দিতে বাধ্য করে না।

    গত সপ্তাহে পুতিন দাবি করেছিলেন, ইরান এখনো রাশিয়ার কাছে সামরিক সহায়তা চায়নি। তার মন্তব্য থেকেই বোঝা যায়, রাশিয়া এখনই কোনো সহায়তা দিতে প্রস্তুত নয়।

    ক্রেমলিন ইরান ও ইসরায়েল উভয়ের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও একটি ভালো কাজের সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।

  3. ইসরায়েলকে গোয়েন্দা সহযোগিতা দেওয়ার অভিযোগে ইরানে একজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

    ইসরায়েলকে "গোয়েন্দা সহযোগিতা" দেওয়ার অভিযোগে ইরান সরকার একজন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে।

    ইরানের বিচার বিভাগ বিষয়ক সংবাদ সংস্থা মিজান জানিয়েছে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ আমিন মাহদাভি শায়েস্তে।

    তিনি ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা "মোসাদের অধীন একটি সাইবার টিমের প্রধান" বলে দাবি করা হয়েছে, যিনি "সজ্ঞানে ইহুদি রাষ্ট্রের সন্ত্রাসী-গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন।"

    বিচার বিভাগ আরও দাবি করেছে, মাহদাভি শায়েস্তে ছিলেন "ইরান ইন্টারন্যাশনাল"-এর ভার্চুয়াল সহযোগী।

    এর আগের দিন, আরেকজন ব্যক্তি মজিদ মোসাইবিকে ইসফাহান আদালতে "বিদেশি শত্রু রাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা ও গুপ্তচরবৃত্তির মাধ্যমে যুদ্ধ ও বিশ্বে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির" অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে সঙ্গে সঙ্গেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

  4. ইরানের ছয়টি বিমানবন্দরে হামলা চালিয়ে ১৫টি যুদ্ধবিমান ধ্বংসের দাবি ইসরায়েলের

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ছয়টি বিমানবন্দরে হামলা চালিয়েছে এবং সেখানে ১৫টি বিমান ধ্বংস করেছে, পাশাপাশি রানওয়ে ও ভূগর্ভস্থ বাংকারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস আইডিএফ বলেছে, পশ্চিম, পূর্ব ও মধ্য ইরানে অবস্থিত এসব বিমানবন্দরে তারা ড্রোন হামলা চালায়।

    তাদের দাবি অনুযায়ী, ধ্বংস হওয়া বিমানগুলোর মধ্যে রয়েছে এফ-১৫ এবং এফ-৫ যুদ্ধবিমান, একটি রিফুয়েলিং প্লেন এবং একটি এএইচ-১ কোবরা অ্যাটাক হেলিকপ্টার।

    তবে এই হামলা কখন সংঘটিত হয়েছে—সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি।

    ইরান এই হামলার সত্যতা এখনো নিশ্চিত করেনি।

  5. ইরান কোথায় পাল্টা আঘাত হানতে পারে?

    ইরান “কোনো না কোনোভাবে পাল্টা জবাব দেবে। সেটা কীভাবে দেবে, বলা কঠিন,” —বিবিসিকে এ কথা বলেছেন মার্ক সি. শুয়ার্টজ। যিনি ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন বিষয়ক সাবেক মার্কিন নিরাপত্তা সমন্বয়কারী ।

    লেফটেন্যান্ট জেনারেল শুয়ার্টজের মূল উদ্বেগ হচ্ছে, ইরাকে, জর্ডানে এবং সিরিয়ায় অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীকে নিয়ে। বাহরাইন বা কুয়েতের তুলনায় সেগুলো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

    তিনি বলেন, পুরো অঞ্চলে ইরানের অনেক প্রক্সি বাহিনী আছে, যারা তাদের হয়ে কাজ করতে পারে।

    এর মধ্যে রয়েছে, কাতাইব হেজবুল্লাহ, ইরান-সমর্থিত ইরাকি শিয়া মিলিশিয়া গোষ্ঠী। এরপর ইয়েমেনের হুথিরাও আছে।

    ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র কাতাইব হেজবুল্লাহ, যারা হেজবোল্লাহ ব্রিগেড নামেও পরিচিত তাদেরকে একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।

    লেফটেন্যান্ট জেনারেল শুয়ার্টজ আরও বলেন, ইরানে ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সামরিক টার্গেট “কোনোভাবেই কম নয়”।

    যদি তাদের বাহিনীর ওপর হামলা হয়, তাহলে তারাও জবাব দিতে পারে। তবে, “সবচেয়ে ভালো হবে যদি আমরা সবাইকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পারি।”

  6. যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’ নামে ইরান অভিযান ছিল ১৮ ঘণ্টার টানা ফ্লাইটে

    ১৮ ঘণ্টার টানা ফ্লাইট, মাঝপথে একাধিকবার জ্বালানি নেওয়া, আর ধারাবাহিক বিভ্রান্তিকর মহড়া – এভাবেই ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোয় বোমা হামলার অভিযান সম্পন্ন হয়েছে, বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পদে থাকা ফোর-স্টার জেনারেল ড্যান কেইন, যিনি জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ-এর চেয়ারম্যান।

    যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’, যার পূর্ণ ফলাফল এখনো স্পষ্ট নয়, তবে কীভাবে জটিল এই অভিযানটি সম্পন্ন হয়েছে, তার একটি টাইমলাইন রোববার সকালে পেন্টাগনের এক ব্রিফিংয়ে তুলে ধরা হয়, হামলার ঠিক কয়েক ঘণ্টা পরপরই।

    সবকিছু শুরু হয় মধ্যরাতের কিছু পরে, যখন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, এবং পেন্টাগনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে যোগ দেন।

    তারা সেখান থেকে সব দেখছিলেন, যখন একটি বিমান বহর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরির এক প্রত্যন্ত বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে।

    রাতের আধারে হোয়াইটম্যান এয়ার ফোর্স বেস থেকে স্টেলথ প্রযুক্তির বিটু বোমারু বিমানগুলো উড়ে যায়, পেন্টাগন জানায়। তাদের চূড়ান্ত টার্গেট ছিল, ইরানের সবচেয়ে সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো।

  7. যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতি আবারও সমর্থন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর

    অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় তার দেশ পুরোপুরি পাশে আছে, এবং তিনি সব পক্ষকে আবারো আলোচনা টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

    ক্যানবেরায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, "আমরা কোনো উত্তেজনা বা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ চাই না," এসময় তার পাশে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং।

    "আমরা সবসময় আলোচনা এবং কূটনীতির পক্ষে আছি," বলেন আলবানিজ, এবং তিনি ইরানকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন "এমন কোন পদক্ষেপ না নেয়, যা এই অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে"।

  8. ট্রাম্প এবং ভ্যান্সের মিশ্র বার্তা সৈন্যদের জন্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, অ্যান্থনি জারচার, উত্তর আমেরিকা সংবাদদাতা

    ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার এক দিন পেরিয়ে গেলেও উত্তেজনা এখনো কাটেনি।

    ইরান আবার ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, তবে এই অঞ্চলে থাকা ৪০ হাজারের বেশি আমেরিকান সৈন্যদের ওপর তাত্ক্ষণিক কোনো বড় হামলার আশঙ্কা দেখা যায়নি।

    দিনভর মার্কিন কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা কোনো বড় হামলার অংশ নয়।

    ট্রাম্প শনিবার রাতে ইরানের আগ্রাসনের জবাবে বড় পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দেওয়ার কারণে ইরানি নেতারা আপাতত শান্ত আছে বলে মনে হচ্ছে।

    মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেন, "আমরা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি না, আমরা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছি।"

    তবে রোববার সন্ধ্যায় ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ইরানের শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলায় বিষয়টি জটিল হয়ে উঠেছে।

    যদিও বিষয়টিকে তিনি প্রশ্ন আকারে বলেছেন, যেমনটা তিনি সবসময় করেন। পোস্টে লেখা তার কথাগুলো তার উপদেষ্টাদের বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। যা ইরানকে ভাবতে বাধ্য করতে পারে।

    যদি ইরান মনে করে তাদের শাসন ক্ষমতা সরাসরি ঝুঁকিতে আছে, তাহলে তাদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত বদলে যেতে পারে।

  9. মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ ঘটনা

    ইরানে হামলার কিছুক্ষণ পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে বলেন, এখন ইরানের নিজ দেশে "শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে" এবং ভবিষ্যতে আরো বড় হামলা হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।

    পেন্টাগনের এক ব্রিফিংয়ে জানানো হয়েছে, অত্যন্ত গোপনীয় এই হামলা চালানো হয়েছে বি-টু স্টেলথ বোম্বার দিয়ে।

    মূলত ফোর্দো এবং নাতাঞ্জের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা এবং ইসফাহান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র এই হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে।

    ডোনাল্ড ট্রাম্প অনলাইনে পোস্ট করেন, ইরানের "সব" পারমাণবিক স্থাপনায় "ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি" হয়েছে।

    তেহরান বলেছে, ট্রাম্প এই হামলার মাধ্যমে ইরান এবং আমেরিকানদের সাথে "বিশ্বাসঘাতকতা" করেছেন এবং বলেছেন যে এর চিরস্থায়ী ফল ভোগ করতে হবে।

    জাতিসংঘ বলেছে, এই হামলাগুলো "বিপজ্জনকভাবে উত্তেজনা বাড়িয়েছে", যা "দ্রুত বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে"। আর জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক সংস্থা বলেছে, তারা ঠিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করতে পারেনি।

    ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের "সাহসী সিদ্ধান্ত"কে স্বাগত জানান, তবে হামলার কারণে মার্কিন কংগ্রেসে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

    বিবিসির উত্তর আমেরিকা সংবাদদাতা লিখেছেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের কারণে মার্কিন আইন প্রণেতারা মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

    ইরান ও ইসরায়েল দুই পক্ষই সামরিক হামলা চালিয়ে চলেছে, ইসরায়েল বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর জানিয়েছে, অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে যে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন।

    যুক্তরাজ্য নিশ্চিত করেছে তারা যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় জড়িত নয় এবং তারা ইরানকে আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে।

  10. ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ঘটনায় আনন্দ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেছেন ‘বুলস আই’

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশাল সাইটে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের “সমস্ত পারমাণবিক স্থাপনায়” হামলা চালিয়ে “ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি” করেছে।

    তিনি লিখেছেন, “চিরতরে ধ্বংস শব্দটি একেবারেই সঠিক।”

    তিনি একটি স্যাটেলাইট ছবির কথা উল্লেখ করেছেন, যা তিনি পোস্টে শেয়ার করেননি।

    ট্রাম্প বলেছেন, ওই ছবিতে দেখা যাচ্ছে, “একটি সাদা কাঠামো পাথরের গভীরে প্রবেশ করেছে" এবং "আগুন থেকে পুরোপুরি সুরক্ষিত”, আর “সবচেয়ে বড় ক্ষতি মাটির নিচে হয়েছে।”

    সবশেষে তিনি লিখেছেন, “বুলসআই!!!” এর অর্থ “একেবারে লক্ষ্যে আঘাত”।

  11. বিশ্বব্যাপী মার্কিন নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি

    ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে বলেছে, "বিদেশে মার্কিন নাগরিক ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বিশ্বের যেখানেই থাকুন না কেন, মার্কিন নাগরিকদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।"

    এটি মূলত ইরানে হামলার প্রতিক্রিয়ায় সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ এবং প্রতিবাদ আন্দোলনের আশঙ্কায় জারি করা হয়েছে।

  12. হরমুজ প্রণালী বন্ধ করা হবে অর্থনৈতিক আত্মহত্যা, বলছে যুক্তরাষ্ট্র, সুরঞ্জনা তিওয়ারি, এশিয়া বিজনেস সংবাদদাতা, চীন

    পারস্য উপসাগরের মুখে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনের পথ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার বিষয়ে ইরান যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে বাধা দেয়ার জন্য চীনকে আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

    বিশ্বের প্রায় এক চতুর্থাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।

    ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলা হয়েছে, ইরানের পার্লামেন্ট হরমুজ প্রণালী বন্ধের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মার্কো রুবিও ফক্স নিউজে বলেছেন, "আমি বেইজিংয়ে চীনা সরকারকে বলবো, তারা যেন এ বিষয়ে ইরানকে ফোন করে, কারণ চীন এই প্রণালী দিয়ে বিপুল পরিমাণে তেল আমদানি করে।"

    তিনি আরো বলেন, "যদি ইরান এমনটা করে, তাহলে সেটা হবে আরেকটি ভয়ানক ভুল। এটি তাদের জন্য অর্থনৈতিক আত্মহত্যার শামিল হবে।"

    এই পথ বন্ধ হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ভয়াবহ প্রভাব পড়বে, তেলের দাম বেড়ে যাবে এবং চীন, ভারত ও জাপানের মতো বড় আমদানিকারক দেশগুলো চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধের ক্ষমতা মূলত ইরানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর হাতে, পার্লামেন্টের হাতে নয়।

    তাছাড়া, ইরানের নিজের তেল রপ্তানিও এই পথের ওপর নির্ভরশীল, তাই এটি বন্ধ করা ইরানের জন্যই মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিশোধ হতে পারে।

  13. ইরান ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলা

    ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আইডিএফ তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলে সাইরেন বেজেছে।

    তবে কিছুক্ষণ পর সেনাবাহিনী ঘোষণা দেয়, পরিস্থিতি আপাতত নিরাপদ, মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বের হতে পারে।

    গত ২৪ ঘণ্টায় ইরান ও ইসরায়েল একে অপরের উপর হামলা- পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

    ইরান থেকে ইসরায়েলের দিকে:

    রোববার সকালে তেল আভিভে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে সেখানকার আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

    দুই ধাপে অন্তত ২৭টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়, যার কিছু হাইফা, নেস জিওনা এবং রিশন লেজিওনের মতো উত্তর ও মধ্য ইসরায়েলি শহরে আঘাত হানে।

    ইসরায়েল থেকে ইরানের দিকে:

    ইসরায়েল ২০টি যুদ্ধবিমান দিয়ে তেহরান, কেরমানশাহ ও হামেদানে 'গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক হামলা' চালায়।

    ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল, ক্ষেপণাস্ত্র মজুদাগার এবং উৎক্ষেপণ সুবিধা, রেডার, স্যাটেলাইট সিস্টেম ও তেহরানের কাছে একটি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার।

    এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন করে আরও সহিংসতা শুরু হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

  14. আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লো, অ্যাডাম হ্যানকক, বিবিসি নিউজ, সিঙ্গাপুর

    যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালানোর পর সপ্তাহের প্রথম লেনদেনের দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়তে দেখা গেছে।

    বিশ্ববাজারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল অর্থাৎ অপরিশোধিত তেলের দাম শুরুর দিকে তিন শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রতি ৭৯ ডলারের ওপরে উঠেছে।

    মার্কিন হামলার পর থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল যে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় বাজারে তেলের দাম বাড়বে।

    এদিকে, এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোও কয়েক ঘণ্টার মধ্যে খুলে যাবে, এবং সেখানকার বাজারেও অস্থিরতা দেখা যেতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

    ইরান-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে আরো পড়তে পারেন:

  15. ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে যে বড় প্রশ্ন এখনো রয়ে গেছে, ফ্রাঙ্ক গার্ডনার, নিরাপত্তা বিষয়ক সংবাদদাতা

    ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িয়ে পড়া, এই পুরো ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হলো, ‘ইরান কি হরমুজ প্রণালী বন্ধের চেষ্টা করবে?’

    এর চেয়েও বেশি উদ্বেগজনক বিষয় হলো, যদি এমনটা ঘটে তাহলে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সামরিক পরিণতি কেমন হবে।

    তবে সবচেয়ে ভয়ংকর প্রশ্ন, যেটির উত্তর আমাদের প্রায় কারো কাছেই নেই, সেটি হলো- ইরানের কাছে এখনো কি পর্যাপ্ত পরিমাণে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম (এইচইইউ) কোনো গভীর গোপন স্থানে মজুদ রয়েছে?

    এবং তারা কি জানে, কিভাবে এটি দিয়ে অস্ত্র তৈরি করা যায়? আর তারা কি এখন একটি অপরিশোধিত পরমাণু বোমা বানানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে?

    অন্যভাবে বললে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের এই সম্মিলিত হামলার ফলে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি কমেছে, নাকি এই ঝুঁকি আরো বেড়েছে?

    সমর বিশেষজ্ঞের মতে— যদি ইরান পর্যাপ্ত এইচইইউ সংরক্ষণ করে থাকে, তাহলে তাদের বিজ্ঞানীরা যদি অবাধে কাজ করতে পারে, তাহলে তারা একটি সাধারণ, প্রথম প্রজন্মের “গান-টাইপ” পরমাণু বোমা তৈরি করে পরীক্ষা করতে পারবে, যেটি নিউট্রন ইনিশিয়েটর ব্যবহার করে কাজ করে। এই ধরণের বোমা তৈরি করা “ইমপ্লোশন ডিভাইস”-এর চেয়ে সহজ।

    অনেক দিন ধরেই মনে করা হয়, যদি ইরান পারমাণবিক বোমা বানাতে সক্ষম হয়, তাহলে সৌদি আরব এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করবে।

    এতে শুরু হতে পারে একটি ভয়াবহ পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা।

  16. ট্রাম্পের 'শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন' বুশ পরবর্তী আমলের কথা মনে করিয়ে দেয়, অ্যালেক্স লেডারম্যান, পেন্টাগন থেকে

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, “শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন শব্দটা ব্যবহার করা রাজনৈতিকভাবে সঠিক না। কিন্তু যদি বর্তমান ইরানি সরকার 'মেইক ইরান গ্রেট এগেইন' (ইরানকে আবার মহান করে তোলা) করতে না পারে, তাহলে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন হবে না কেন?”

    এদিকে রোববার সকালে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন: “এই অভিযানের উদ্দেশ্য কখনোই ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন ছিল না।”

    এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স রোববার সংবাদমাধ্যম এবিসি-কে বলেন: “প্রথমত, আমরা শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন চাই না। আমরা চাই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অবসান।”

    শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন নিয়ে রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেই বিতর্ক আছে।

    সর্বশেষ রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ ইরাকে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের উপর জোর দিয়েছিলেন। ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র রয়েছে দাবি করে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালেও পরে তাদের সেই দাবি ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়।

    মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকাদের যুদ্ধে জড়ানো এবং সেখানে শাসন পরিবর্তনের ধারণা বেশিরভাগ রিপাবলিকান ভোটাররা ভালোভাবে দেখেন না।

    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ধারণাকে কাজে লাগিয়ে "নতুন কোনো যুদ্ধ হবে না" এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি বুশ যুগের যুদ্ধপন্থীদের বিরুদ্ধে তার অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন।

    তবে অনেক পুরনো জাতীয় নিরাপত্তাপন্থী রিপাবলিকান নেতা ও ইসরায়েলের হামলার সমর্থকরা এখনো রাজনীতিতে সক্রিয় আছেন।

    ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা ট্রাম্পের জন্য শুধু আন্তর্জাতিক কূটনীতি নয় — এটি তার মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতির হিসাব-নিকাশের সঙ্গেও জড়িত।

    তিনি দলীয় ভিন্নমত ও সমর্থকদের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে বাধ্য হয়েছেন।

    ইরান ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে আরো পড়তে পারেন:

  17. মার্কিন হামলা নিয়ে জাতিসংঘ কূটনীতিকরা যা বললেন

    যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের কূটনীতিকরা ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছেন।

    রোববারের অধিবেশনে রাশিয়া, চীন এবং পাকিস্তান ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদকে আহ্বান জানায় মধ্যপ্রাচ্যে তাৎক্ষণিক ও নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতির জন্য একটি প্রস্তাব গ্রহণ করতে।

    বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা সেখানে যা বলেছেন, তা সংক্ষেপে উল্লেখ করা হলো:

    • ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিশ্ববাসীর ধন্যবাদ জানানো উচিত। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন তারা “আলোচনাকে নাটকে পরিণত করেছে”।
    • ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি বলেন, এটি ছিল “যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট আগ্রাসন”, এবং ওয়াশিংটন “অযৌক্তিক অজুহাতে” এই হামলা চালিয়েছে।
    • চীনের রাষ্ট্রদূত ফু কং বলেন, বেইজিং “মার্কিন হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে”।
    • রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্র “বিপদের দরজা খুলে দিয়েছে’ এবং তারা “কূটনীতি নিয়ে কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না”।
    • জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, "ইতিমধ্যেই ঝুঁকির মুখে থাকা ওই অঞ্চলে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র “একটি বিপজ্জনক মোড়” এনে দাঁড় করিয়েছে। আমেরিকা সংঘাত বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার ফলে মধ্যপ্রাচ্য এক 'নিয়ন্ত্রণহীন বিশৃঙ্খলার চক্রে' পড়ে যেতে পারে।

    ইরান-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে আরো পড়তে পারেন:

  18. ট্রাম্পকে বিশ্ববাসীর ধন্যবাদ দেয়া উচিত – জাতিসংঘে ইসরায়েলি প্রতিনিধি

    ইরানের প্রতিনিধির বক্তব্যের পর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইসরায়েলের প্রতিনিধি ড্যানি ড্যানন বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিশ্ববাসীর ধন্যবাদ জানানো উচিত।

    "আজ এখানে পুরো বিশ্বের 'অন রেকর্ডে' বলা উচিত আপনাকে ধন্যবাদ," ড্যানি ড্যানন বলেন।যখন অনেকেই দ্বিধায় ছিলেন, তখন তিনি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।”

    তিনি অভিযোগ করেন, “জাতিসংঘে অনেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নিন্দা করেছেন, কিন্তু আপনি কোথায় ছিলেন যখন ইরান বেসামরিক ব্যবহারের চেয়েও অনেক বেশি পরিমাণে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছিলো? যখন তারা আমাদেরকে ধ্বংস করার প্রস্তুতি নিতে পাহাড়ের নীচে একটি দুর্গ তৈরি করেছিলো, তখন আপনি কোথায় ছিলেন?”

    তিনি আরো বলেন, “কূটনৈতিক পথ তৈরির যে চেষ্টা করা হয়েছিল সেটা অস্বীকার করা যাবে না” ।

    কিন্তু ইরান সেই “আলোচনাকে নাটকে পরিণত করেছে” এবং সেটাকে "ছদ্মবেশ" হিসেবে ব্যবহার করেছে যাতে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সময় পাওয়া যায়।

    ড্যানন আরো বলেন, ইরান এমন সব চুক্তি করেছিল, “যেগুলো তারা কখনো মেনে চলার ইচ্ছাই রাখেনি।”

    তিনি বলেন, “মুক্ত বিশ্ব ইরানকে সব সুযোগ দিয়েছিল,” এবং কোন কিছু না করলে মূল্য হতো ‘মৃত্যুদণ্ড’।

  19. যুক্তরাষ্ট্র "অযৌক্তিক অজুহাতে যুদ্ধ চাপিয়েছে": জাতিসংঘে ইরানের প্রতিনিধি

    যুক্তরাষ্ট্র "একটি বানোয়াট ও অযৌক্তিক অজুহাতে" ইরানের বিরুদ্ধে "যুদ্ধ চাপিয়েছে" বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ইরানের প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি।

    তিনি বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের "স্পষ্ট আগ্রাসনের" বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার অধিকার রাখে। সেই সঙ্গে তিনি জানান, ইরানের পক্ষ থেকে “যথাযথ জবাব কখন, কীভাবে এবং কতটা দেওয়া হবে” তা দেশটির সশস্ত্র বাহিনী ঠিক করবে।

    এক দীর্ঘ বক্তব্যে ইরাভানি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে দোষারোপ করে বলেন, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে "আরেকটি ব্যয়বহুল ও ভিত্তিহীন যুদ্ধে" টেনে এনেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইনের "স্পষ্ট লঙ্ঘন"।

    ইরাভানি আরও বলেন, ইসরায়েল এক “মিথ্যা ও প্রতারণামূলক গল্প” ছড়িয়েছে যে, ইরান "পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের দ্বারপ্রান্তে"।

    মি. ইরাভানি আরো বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও কিছু পশ্চিমা দেশ যেমন ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নীরবতা, দ্বিচারিতা ও সহযোগিতা সমানভাবে নিন্দনীয়।

    জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ যেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সম্পূর্ণভাবে জবাবদিহির আওতায় আনে এই আহ্বানের মাধ্যমে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

  20. ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ঘটনায় বিশ্বে প্রতিবাদ

    মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোয় ঘটনায় প্রতিবাদ হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে।

    বিভিন্ন শহরে সাধারণ মানুষ রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন।

    ফ্রান্স, পাকিস্তান, গ্রিস ও ফিলিপিন্সের প্রতিবাদকারীরা এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এটি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধে বড় ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।