বুধবার কোটা আন্দোলনের কিছু ছবি



বৃহস্পতিবার থেকে সারা দেশে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলকারীরা। অন্যদিকে জাতির উদ্দেশে দেয়া এক ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আদালতের রায়ের জন্য সবাইকে অপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।




ছবির উৎস, BBC/Abul Kalam Azad
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের পাশাপাশি ব্যাপক সংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এছাড়া, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, রংপুর, বগুড়া, ফরিদপুর ও কক্সবাজারেও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
ঢাকার পুরানা পল্টন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সেখানে জড়ো হয়েছিলো তারা।
পল্টনে এখন অনেক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বিএনপি’র মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে, দুপুর দেড়টার দিকে বায়তুল মোকাররম এলাকা থেকে ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থকে আটক করে পুলিশ পল্টন থানায় নিয়ে গেছে।

ছবির উৎস, BBC/Ahsan Himel
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে হল সন্ধ্যা ছয়টার মাঝে হল ছাড়তে বলেছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। সেইসাথে, অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের ঘোষণা এসেছে।
দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও একই ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার মাঝে হল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ও অনির্দষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে বিকাল তিনটার মাঝে হল ছাড়তে বলা হয়েছে।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদেরকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার মাঝে, কিন্তু ছাত্রদেরকে আজ বুধবার বিকাল তিনটার মাঝে ছল ত্যাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং বুধবার দুপুর দুইটার মাঝে শিক্ষার্থীদেরকে হল ছাড়তে বলা হয়েছে।
এর আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়-কুষ্টিয়া, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও একই সিদ্ধান্ত দিয়েছে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের সিন্ডিকেট।
কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা। ছাত্রদের আজ বিকাল পাঁচটা এবং ছাত্রীদের কাল সকাল দশটার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ
এদিকে, সিটি করপোরেশন এলাকাভুক্ত সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সব পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত মেডিকেল, টেক্সটাইল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও অন্যান্য কলেজসহ সকল কলেজ পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে গতকাল একটি প্রেস রিলিজ দিয়েছে।
ইউজিসির এই বিজ্ঞপ্তি নিয়ে সমালোচনা চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। প্রশ্ন ওঠেছে ইউজিসির এই বিজ্ঞপ্তি দেয়ার এখতিয়ার নিয়ে।
প্রতিষ্ঠানটির সাবেক চেয়ারম্যান একে আজাদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ইউজিসির এই বিজ্ঞপ্তি দেয়ার এখতিয়ার নেই। ১৯৭৩ সালের অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী, ইউজিসি, সরকার কেউই বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করতে পারবে না। বন্ধ করার এখতিয়ার শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের। এমনকি চ্যান্সেলরকেও এ ক্ষমতা দেয়া হয়নি।
“ ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রাম এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এই চার বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করার এখতিয়ার শুধুমাত্র সিন্ডিকেটের, সরকারেরও নেই। সরকার যদি মনে করে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় ভাইস চ্যান্সেলরকে রিকোয়েস্ট করতে পারে আপনি নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেন” বিবিসি বাংলাকে বলেন মি. চৌধুরী।
“তখন তিনি জরুরি সিন্ডিকেট ডেকে পাস হলে বন্ধ করতে পারেন। আর যদি জটিল পরিস্থিতি থাকে তাহলে ভিসি নিজেও এক্সিকিউটিভ অর্ডারে বন্ধ করতে পারেন। তবে যদি নিজে বন্ধ করেন তাহলে চারদিনের মধ্যে সিন্ডিকেট ডেকে এটাকে রেক্টিফাই করতে হবে। যদি সিন্ডিকেটে রেক্টিফাই করতে না পারেন তবে আইন ভঙ্গের অপরাধে দায়ী থাকবেন”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এ উপাচার্য জানান, এ ধরনের কোন বিজ্ঞপ্তি কখনো দেখেননি তিনি।
“এটাতে স্বায়ত্বশাসনের ব্যত্যয় হয়েছে। এটা ক্ষমতার সঠিক ব্যবহার হয়নি। যদিও অবস্থা সিরিয়াস এটা আমি স্বীকার করি। সেটা অন্যভাবেও বলতে পারতো। ভাইস চ্যান্সলরকে অনুরোধ করতে পারতো, তিনি বন্ধ করে পরে সিন্ডিকেট ডাকতে পারতো। এ সিদ্ধান্ত স্বায়ত্বশাসনের বিপরীতে যায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দোহাই দিয়ে এটা ইউজিসি করেছে” বলেন মি. চৌধুরী।

ছবির উৎস, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন

সিন্ডিকেট সভা শেষে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
বুধবার সন্ধ্যা ছয়টার মাঝে শিক্ষার্থীদেরকে হল ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।তবে এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী।

ছবির উৎস, BBC/Abul Kalam Azad
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের পর এবার অনির্দিষ্টকালের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবার সকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন দেশের আটটি বিভাগীয় শহরের সিটি করপোরেশনের এলাকাভুক্ত সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিশু কল্যাণ ট্রাস্ট পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো পরিচালিত লার্নিং সেন্টারগুলোর শ্রেণি কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা ড. বিলকিস বেগম জানিয়েছেন যে এটা আপাতত শুধুমাত্র শহর এলাকাগুলোর জন্য, গ্রামের বিদ্যালয়গুলোর বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, তাতে উল্লেখ আছে যে শিশুদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে জরুরি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত।
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। বিকেল তিনটার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ। সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের জরুরি সভা শেষ হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করছে। হল ছেড়েছে অনেক শিক্ষার্থী।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও হল ছেড়েছে অনেক শিক্ষার্থী। বিকেল ৪টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বুধবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে বিবিসি সংবাদদাতা আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, হলগুলো দখলে নিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
“মুহসীন হল, সূর্যসেন হল, জসীমউদ্দীন হল, একাত্তর হলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছেন এবং ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের বের করে দিয়েছেন।”
সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাকে জানিয়েছেন, ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে যে ব্যবহার করেছে, তাতে ক্ষুব্ধ হয়ে হলগুলোর যেসব কক্ষে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ছিলেন, সেই কক্ষগুলো ভাঙচুর করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। বহিরাগরত ব্যক্তি বা গাড়ির ঢোকার সুযোগ নেই। এমনকি শিক্ষার্থীরাও এখন ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারবেন না, শুধু বের হতে পারবেন।
তবে, জরুরি ভিত্তিতে ক্যাম্পাসে ঢোকার জন্য শাহবাগ থেকে প্রবেশ করতে হবে।
এছাড়া, এখন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেটও নেই বলে জানান তিনি।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, “গতকালকে আমরা টেলিভিশনে দেখলাম, সহকারী প্রক্টরদের শহীদ মিনার এলাকায় যেভাবে দৌড়াতে দৌড়াতে লাঠি দিয়ে পেটানো হিয়েছে, তা এত বর্বর যে চোখে না দেখলে বিশ্বাস হয় না।”
“আমরা আশা করবো, এইসব ঘটনা আমাদের গণমাধ্যম তুলে ধরবে। সত্যকে বিকৃত করা উচিৎ না।”
তিনি প্রশ্ন করেন, (প্রক্টরকে) আক্রমণকারী কি ছাত্রলীগ?
“আজকে বেশিরভাগ হামলাই ছাত্রলীগের ওপর, এখনও চলছে। ছাত্রলীগের কেউ অপরাধ করলে শেখ হাসিনা কাউকে ছাড় দেন না,” তিনি যোগ করেন।