দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক শাসন জারি, সংসদের বিরোধিতা; ভারত ইস্যুতে বুধবার থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে প্রধান উপদেষ্টার সংলাপ

দক্ষিণ কোরিয়ায় সামরিক শাসন জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইউল তবে এর বিরোধিতা করেছে দেশটির জাতীয় সংসদ। ভারত ইস্যুতে ‘জাতীয় ঐক্যের’ ডাক দিতে বুধবার থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে সংলাপে বসছেন প্রধান উপদেষ্টা। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত আগরতলা থেকে সব ধরনের ভিসা ও কনসুলার সেবা কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত। এক নজরে দেখুন দিনের ঘটনাপ্রবাহ।

সার সংক্ষেপ

  • দক্ষিণ কোরিয়াতে সামরিক শাসন জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইউল, তবে এর বিরোধিতা করেছে দেশটির সংসদ
  • আগরতলায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলার ঘটনায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
  • বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বাংলাদেশের যা করা দরকার তাই করা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন
  • ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেছেন বাংলাদেশের সাথে ইতিবাচক সম্পর্ক চায় ভারত এবং একটা বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক আটকে থাকার কারণ নেই
  • প্রধান উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাৎ করে ভারতের সঙ্গে হওয়া সব চুক্তি প্রকাশের দাবি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহর
  • রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন শুনানি পিছিয়ে জানুয়ারিতে ঠিক করেছে আদালত
  • সোমবার আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনায় সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তিনজন পুলিশ কর্মীকে সাসপেন্ড এবং ডিএসপি পদমর্যাদার একজন অফিসারকে ‘ক্লোজ’ করা হয়েছে

সরাসরি কভারেজ

  1. বাংলাদেশ হাইকমিশনে হামলার ঘটনায় ত্রিপুরায় তিন পুলিশ সদস্য সাময়িক বরখাস্ত

    ভারতের ত্রিপুরার আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনায় তিনজন পুলিশ সদস্যকে সাসপেন্ড করেছে রাজ্য সরকার।

    পশ্চিম ত্রিপুরার পুলিশ সুপার ড. কিরণ কুমার কে স্বাক্ষরিত একটি সাসপেনশন অর্ডারে বলা হয়, কর্তব্যে গাফিলতির কারণে তাদের ব্যাপারে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    যে তিনজন পুলিশের কথা বলা হয়েছে, তারা হলেন– দিলু জামাতিয়া, দেবব্রত সিনহা ও জয়নাল হোসেন।

    কেন্দ্রীয় সিভিল সার্ভিস বিধিমালা, ১৯৬৫ অনুযায়ী তাদেরকে গতকাল সোমবার বিকাল থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

    যেহেতু এই পুরো ঘটনাটি এখনও তদন্তাধীন, তাই সাসপেনশনের এই সময়ে ওই পুলিশ সদস্যরা সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী ভাতা পাবেন।

    ত্রিপুরার ঘটনায় তিনজন পুলিশ সাসপেন্ড
    ছবির ক্যাপশান, সাসপেনশন অর্ডার
  2. বাংলাদেশিদের পরিষেবা দেবে না ত্রিপুরার হোটেলগুলো

    বাংলাদেশিদের জন্য ‘সাময়িকভাবে’ পরিষেবা বন্ধ করার কথা জানিয়েছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের হোটেলগুলো।

    অল ত্রিপুরা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন নামক একটি সংগঠন প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, এক জরুরি সভায় তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে দোসরা ডিসেম্বর থেকে ত্রিপুরায় আগত বাংলাদেশি নাগরিকদের কোনও ধরনের হোটেল পরিষেবা দেওয়া হবে না।

    বিজ্ঞপ্তিতে তারা আরও বলেছে, “আমরা ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ। সব ধর্মের প্রতি আমাদের সম্মান আছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ভারতের জাতীয় পতাকার অবমাননা বা বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দুদের প্রতি এক শ্রেণির উগ্র জনগণ তীব্র অত্যাচার করছে।”

    তারা দাবি করেছে, যে এগুলো “আগেও হতো। কিন্তু এখনকার মতো না।”

    “বর্তমান পরিস্থিতি ভীষণ উদ্বেগের। আমাদের রাজ্যে বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশ থেকে আগত নাগরিকদের আমরা অতিথির সম্মান দিয়ে থাকি। সেখানে বাংলাদেশের এক শ্রেণির নাগরিকদের সে দেশের সংখ্যালঘুদের প্রতি এমন আচরণ নিন্দনীয়,” বলা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

    All Tripura Hotel & Restaurant Owner’s Association

    ছবির উৎস, All Tripura Hotel & Restaurant Owner’s Association

    ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশিদের জন্য হোটেল বন্ধের সিদ্ধান্ত ত্রিপুরার হোটেল মালিকদের
  3. ভারতকে বুঝতে হবে, এটা শেখ হাসিনার বাংলাদেশ নয়: আসিফ নজরুল

    ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলার ঘটনায় আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, “ভারতকে বুঝতে হবে, এটা শেখ হাসিনার বাংলাদেশ নয়।”

    গতকাল সোমবার রাতে ওই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে এক ফেসবুক পোস্টে এ কথা লিখেছেন আইন উপদেষ্টা।

    তিনি লিখেন, “আমরা সমমর্যাদা আর সমানাধিকার ভিত্তিক বন্ধুত্বে বিশ্বাসী। শেখ হাসিনার সরকার বিনাভোটে ক্ষমতায় থাকার লোভে ভারত-তোষন নীতিতে বিশ্বাসী ছিল।”

    “এই বাংলাদেশ স্বাধীন, সার্বভৌম ও আত্মমর্যাদাশীল। এই বাংলাদেশ নির্ভীক একটি তরুণ সম্প্রদায়ের,” তিনি যোগ করেন।

    গতকালের ঘটনায় বাংলাদেশে সংখ্যালঘু ইস্যু ঘিরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বিধানসভায় দেয়া বক্তব্যে বলেছেন, জাতিসংঘ যাতে বাংলাদেশে শান্তিরক্ষী পাঠায়, সেজন্য তাদের সাথে আলোচনা করতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি তিনি অনুরোধ জানাচ্ছেন।

    তিনি বলেছেন, “রাষ্ট্রপুঞ্জের সঙ্গে এই বিষয়ে ভারত সরকার কথা বলুক যাতে সেখানে তারা শান্তি বাহিনী পাঠাতে পারে। আমাদের এই বিষয়ে অনুরোধ রইল।”

    মিজ ব্যানার্জীর ওই কথার নিন্দা জানিয়ে মি. ইসলাম আরও লেখেন, “ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে যা ঘটে, সংখ্যালঘু ও দলিত সম্প্রদায়ের উপর, এর জন্য বরং উল্টো ভারতের (এবং মমতার) লজ্জিত হওয়া উচিত।”

    আসিফ নজরুলের ফেসবুক পোস্ট

    ছবির উৎস, Dr. Asif Nazrul/Facebook

    ছবির ক্যাপশান, আসিফ নজরুলের ফেসবুক পোস্ট
  4. 'কেমন পুলিশ চাই' শীর্ষক জনমত জরিপের ফলাফল প্রকাশ

    'কেমন পুলিশ চাই' শীর্ষক পুলিশ সংস্কার কমিশন পরিচালিত জনমত জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। জরিপের ফলাফল পুলিশ সংস্কার কমিশনের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে।

    এতে দেখা যাচ্ছে, এই জরিপে সাড়া দিয়েছে মোট ২৪ হাজার ৪৪২ জন। তাদের মাঝে ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সী মানুষই বেশি, ৪২ দশমিক সাত শতাংশ।

    এছাড়া, জরিপে অংশ নেয়াদের ৮৬ দশমিক ছয় শতাংশেরই বয়স ১৮ থেকে ৪৪ বছরের মধ্যে।

    সাড়া দানকারীদের মাঝে প্রায় ৯৫ শতাংশই পুরুষ, নারীদের অংশগ্রহণ মাত্র পাঁচ শতাংশ।

    পেশার দিক থেকে উত্তরদাতাদেরকে ১৪টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। দেখা গেছে, যারা উত্তর দিয়েছেন তাদের বেশিরভাগই চাকুরিজীবী। এরপরের অবস্থানে আছে শিক্ষার্থীরা।

    উত্তরদাতাদের মাঝে ঢাকা জেলার সর্বোচ্চ। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা।

    এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ১৪ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনটি প্রকাশের খবর জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিককালে দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র জনতার আন্দোলনকে প্রতিহত করতে কিছু সংখ্যক পুলিশ সদস্যের সহিংস ভূমিকা নিয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে সমালোচনার প্রেক্ষিতে ‘পুলিশ সংস্কার’ এখন সময়ের দাবি। সে লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার পুলিশ বাহিনীর সংস্কারের লক্ষ্যে ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন’ গঠন করেছে যার কার্যক্রম চলমান।

    'কেমন পুলিশ চাই' শীর্ষক জনমত জরিপের ফলাফল প্রকাশ

    ছবির উৎস, prc.mhapsd.gov.bd

    ছবির ক্যাপশান, 'কেমন পুলিশ চাই' শীর্ষক জনমত জরিপের ফলাফল প্রকাশ
  5. হাইকমিশনের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতকে যে পরামর্শ দিলেন আসিফ মাহমুদ

    হাইকমিশনের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের উদ্দেশে পরামর্শ দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

    গতকাল সোমবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি বলেন, “যদি ভারতের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো হাইকমিশনকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তারা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীর থেকে সাহায্য চাইতে পারেন।”

    তিনি আরও বলেন, “সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা মিশনের জন্য অতিরিক্ত সৈন্য প্রদানের মাধ্যমে সহায়তা বাড়াতে পারে।”

    ভারতের উদ্দেশে এমন বার্তা দেওয়ার জন্য ওই পোস্টের মন্তব্যে অনেকেই শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তাকে।

    আসিফ মাহমুদের ফেসবুক পোস্ট

    ছবির উৎস, Asif Mahmud Shojib Bhuyain/Facebook