ইউক্রেনে গুচ্ছ বোমাই ব্যবহৃত হচ্ছে, নিশ্চিত করলো যুক্তরাষ্ট্র

খারকিভে এই অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে।

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, খারকিভে এই অস্ত্র ব্যবহৃত হয়েছে।
Published

হোয়াইট হাউজ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে ইউক্রেন নিজ ভূখণ্ডে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে ক্লাস্টার বা গুচ্ছ বোমা ব্যবহার করছে।

দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা মুখপাত্র জন কিরবি বলেছেন প্রাথমিকভাবে যে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে তাতে করে বোঝা যাচ্ছে যে রাশিয়ানদের অবস্থান বা অভিযানকে লক্ষ্য করে এই বোমা কার্যকরভাবেই ব্যবহার করা হচ্ছে।

ক্লাস্টার বোমা বলতে সাধারণত অনেকগুলো ছোট ছোট বোমাকে বোঝায়, যা লক্ষ্যবস্তুতে একসাথে নিক্ষেপ করা হয়। বেসামরিক মানুষের বেশি হতাহতের ঝুঁকি থাকায় বিশ্বের একশটিরও বেশি দেশ ক্লাস্টার বোমা নিষিদ্ধ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনে যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ কার্যক্রমকে জোরদার করতে এই বোমা সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে। ইউক্রেন অঙ্গীকার করে বলেছে, তারা এই বোমা শুধু সুনির্দিষ্টভাবে রাশিয়ান শত্রু সেনাদের লক্ষ্য করে ব্যবহার করবে।

“তারা সঠিকভাবেই এটি ব্যবহার করছে,” বলেছেন মি. কিরবি। “তারা কার্যকরভাবেই এটি ব্যবহার করছে এবং তারা রাশিয়ার প্রতিরক্ষা অবস্থান ও কৌশলের ওপর প্রভাব ফেলেছে”।

ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণের গতি ধীর

ছবির উৎস, Magnum Photos

ছবির ক্যাপশান, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের পাল্টা আক্রমণের গতি তাদের প্রত্যাশার চেয়েও কিছুটা ধীর।

রাশিয়ার বিরুদ্ধে এই গ্রীষ্মেই পাল্টা আক্রমণের সময় যুদ্ধ করার মতো উপকরণ শেষ হয়ে আসছে বলে ইউক্রেন সতর্ক করার পর যুক্তরাষ্ট্র তাদেরকে এই ক্লাস্টার বোমা সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই সিদ্ধান্তকে ‘কঠিন’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। কারণ তার যুক্তরাজ্য, কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও স্পেন এর বিরোধিতা করছিলো।

ক্লাস্টার বোমার অবিস্ফোরিত বোমাগুলো বছরের পর বছর মাটিতে পড়ে থাকতে পারে এবং যখন তখন তার বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।

এ অস্ত্র সুরক্ষিত পরিখা এবং অবস্থানে থাকা সৈন্যদের লক্ষ্য করে নিক্ষেপের জন্য খুবই কার্যকর। কারণ এটি বিস্তৃত এলাকা জুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে। ফলে পুরোপুরি অপসারণ না করে কেউ কোনদিকে চলাচল করতে পারে না।

২০২৩ সালের এপ্রিলে ইউক্রেনের একটি মাঠে পাওয়া ক্লাস্টার বোমার অবশিষ্টাংশ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ২০২৩ সালের এপ্রিলে ইউক্রেনের একটি মাঠে পাওয়া ক্লাস্টার বোমার অবশিষ্টাংশ

গত বছর ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে রাশিয়াও একই ধরণের অস্ত্র ব্যবহার করছে। এমনকি বেসামরিক এলাকাতেও তারা এটি ব্যবহার করছে।

তবে ক্লাস্টার বোমা পাঠানোর যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন তার দেশেরও এই অস্ত্র আছে এবং ‘আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হলে আমরাও সেগুলো ব্যবহার করবো’।

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে অপারেশনের দায়িত্বে থাকা ইউক্রেনের জেনারেল ওলেকসান্দ্রার সিয়ারস্কি গত সপ্তাহে বিবিসিকে বলেছেন যে ‘শত্রুর পদাতিক বাহিনীর সর্বোচ্চ মাত্রার ক্ষতি করার মতো’ অস্ত্র তার দরকার।

“আমরা দ্রুত ফল পেতে চাই কিন্তু বাস্তবতা হলো এটি অসম্ভব। তবে পদাতিক যারা এখানে মরবে তাদের স্বজনরা রাশিয়ায় তাদের সরকারকে প্রশ্ন করবে যে -কেন (অর্থাৎ ইউক্রেনে কেন হামলা হচ্ছে)?”

তিনি অবশ্য বলেন যে এই ক্লাস্টার বোমা তাদের সব সমস্যার সমাধান করবে না এবং এর ব্যবহার যে বিতর্কিত তাও তিনি স্বীকার করেন। “রাশিয়ানরা ব্যবহার না করলে সম্ভবত বিবেক আমাদেরও এটি ব্যবহারে সায় দিতো না”।