'ছিনতাই খুন লুটে ভয়ার্ত মানুষ'

ছিনতাই খুন লুটে ভয়ার্ত মানুষ— সমকাল পত্রিকার প্রধান শিরনাম। এই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের বর্তমান ভঙ্গুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে তুলে ধরা হয়েছে।
বলা হচ্ছে, 'ডেভিল হান্ট' নামক বিশেষ অভিযানের মধ্যেও খুনোখুনি, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণ, মব ভায়োলেন্স– এমন কোনও অপরাধ নেই, যা বাংলাদেশে এই মুহূর্তে ঘটছে না।
যেমন: মহাসড়কে বাসের ভেতরে অস্ত্র ঠেকিয়ে ধর্ষণ, মধ্যরাতে ব্যবসায়ীকে গুলি করে সোনাদানা ছিনতাই, দিনদুপুরে রাজধানী ঢাকাতেও চলন্ত বাসে অস্ত্র ঠেকিয়ে লুটতরাজ।
এসব অপরাধের নানা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে ভীতি।
অভিযানের মধ্যেও অপরাধীরা যখন এমন বেপরোয়া, তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়ে উঠেছে নানামুখী প্রশ্ন।
অপরাধ বিশ্লেষকরা বলেছেন, 'ডেভিল হান্ট' অভিযানটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বেশি পরিচালিত হচ্ছে। সংঘবদ্ধ অপরাধে যারা জড়িত, তাদের মধ্যে ধারণা জন্মেছে– তারা অভিযানের ফোকাসে নেই। এ কারণে অভিযানের পূর্ণ ফল আসেনি।

অপরাধীরা বেপরোয়া, আতঙ্কে মানুষ— দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম এটি।
পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এখানে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক কালে ডাকাতি ও দস্যুতার (ছিনতাই) ঘটনায় মামলা বেড়েছে।
গত জানুয়ারিতে দেশে ডাকাতি ও দস্যুতার ঘটনায় মামলা হয়েছে ২৪২টি, যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় ৯৯টি বেশি (৬৯ শতাংশ)।
ডাকাতি ও দস্যুতার ঘটনায় গত ডিসেম্বরে মামলা হয়েছে ২৩০টি, যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় ৯৫টি (৭০ শতাংশ) বেশি।
সব মিলিয়ে গত আগস্ট থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ছয় মাসে ডাকাতি ও দস্যুতার ঘটনায় মামলা হয়েছে এক হাজার ১৪৫টি, যা ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের তুলনায় ৩৮২টি বেশি (৫০ শতাংশ)।

যৌথবাহিনীর টহল শুরু ঢাকায়— নয়া দিগন্ত পত্রিকার প্রধান শিরোনাম এটি।
এখানে বলা হয়েছে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গতকাল সোমবার সন্ধ্যা থেকে ঢাকায় যৌথবাহিনীর অভিযান শুরু হয়েছে।
এ ব্যাপারে গতকাল আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদেরকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে অপারেশন আরও জোরদার করা হচ্ছে।
"আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে অপারেশন আরো জোরদার করা হবে।
অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে আরো টহল বাড়ানো হবে, চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হবে," জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি 'সন্তোষজনক' বলেই মনে করছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা— সংবাদ পত্রিকার প্রধান শিরোনাম।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত ওই কোর কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ওই মন্তব্য করেন।
গত কয়েক দিনের ঘটনায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে, এক সাংবাদিকের এমন বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, "মানুষকে আশ্বস্ত করতেই সোমবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সভা করা হয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে আপনারা পরিস্থিতি টের পাবেন।"
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক বলে দাবি করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এও বলেন, পরিস্থিতি আরও উন্নতি করার সুযোগ রয়েছে।
গত রোববার রাত তিনটায় কেন তাকে সংবাদ সম্মেলন করতে হলো, সাংবাদিকের এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "রাতে সংবাদ সম্মেলন আপনাদের এটা বোঝানোর জন্য করা হয়েছে যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা শুধু দিনে নয়, রাতেও কাজ করেন।"

Uprising party set for launch on Friday বা নতুন দলের আত্মপ্রকাশ শুক্রবার— ইংরেজি পত্রিকা দ্য ডেইলি স্টারের অন্যতম প্রধান শিরোনাম এটি।
এখানে বলা হয়েছে, জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বাধীন নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটবে আগামী শুক্রবার বিকাল তিনটায়, ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে।
তখন আহ্বায়ক কমিটির বিস্তারিত তথ্য ও সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হবে।
জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, "জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে শুরু হওয়া আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া আমাদের দায়িত্ব।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে আমরা নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছি। ২৮শে ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩টায় মানিক মিয়ায় এ দলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।"

কক্সবাজারে বিমানঘাঁটিতে হামলা-গুলি, তরুণের মৃত্যু— আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদনটি করা হয়েছে।
গতকাল সোমবার দুপুরে কক্সবাজার বিমানবাহিনীর নির্মাণাধীন ঘাঁটিতে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে এক তরুণ নিহত হয়েছেন।
তরুণ নিহতের ওই ঘটনার বিচার চেয়ে রাতে মশাল মিছিল করেছেন কক্সবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) বলেছে, দুর্বৃত্তদের ছোড়া ইটের আঘাতে শিহাব কবির নাহিদ গুরুতর আহত হন।
বিমানবাহিনীর গাড়িতে করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা যান। তবে নিহত শিহাব কবির নাহিদের বাবা নাছির উদ্দিন অভিযোগ করেছেন, বিমানবাহিনীর সদস্যের ছোড়া গুলিতে তার ছেলে নিহত হয়েছেন।

অযৌক্তিক প্রকল্পে অপচয় ১৪-২৪ বিলিয়ন ডলার— দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম।
এখানে বলা হয়েছে, গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রায় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে।
এ ছাড়া রাজনৈতিক প্রভাব ও অযৌক্তিক প্রকল্প ব্যয়ের মাধ্যমে ১৪ থেকে ২৪ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ অর্থ অপচয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে গড়ে ব্যয় বেড়েছে ৭০ শতাংশ।
দেশের চলমান সংকট কাটিয়ে ওঠার উপায় খুঁজতে সরকার গঠিত টাস্কফোর্সের এক প্রতিবেদনে বিগত সরকারের দুর্নীতি সম্পর্কে শ্বেতপত্র পর্যালোচনা করে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

জানুয়ারিতে ভারত থেকে বাংলাদেশের আমদানি বেড়েছে ১৭%— বণিক বার্তা পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। এখানে বলা হয়েছে, সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ অনেকের বক্তব্যেই ভারতবিরোধিতা ও এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা উঠে এসেছে।
নাগরিক পর্যায়েও ভারতীয় পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমানোর ডাক দিয়েছেন অনেকেই।
যদিও দুই দেশের বাণিজ্য পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রকৃতপক্ষে সরকার পতনের পর পণ্য আমদানিতে ভারতের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা আরও বেড়েছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশে ভারত থেকে আমদানি বেড়েছে ১৭ দশমিক ২৭ শতাংশ।
যদিও গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর বাংলাদেশে ভারত থেকে পণ্য আমদানি নিম্নমুখী হয়ে উঠেছিল।
জুলাই-অগাস্টে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির প্রভাব পড়ে দুই দেশের বাণিজ্যে। টানা তিনদিন বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ ছিল।
গত বছরের অগাস্টে ভারত থেকে আমদানি কমেছিল ১৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

১৬ বছর পর ষড়যন্ত্র উন্মোচনের চেষ্টা— পিলখানায় তৎকালীন বিডিআর সদর দপ্তরে সেনা অফিসারদের হত্যাযজ্ঞের ১৬ বছর উপলক্ষে দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম।
এখানে বলা হয়েছে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এই দিনটিকে 'জাতীয় শহীদ সেনা দিবস' ঘোষণা করেছে।
পিলখানার ভেতরে সেনা অফিসারদের হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ উন্মোচনের চেষ্টা করছে অন্তর্বর্তী সরকার। এজন্য গঠন করা হয়েছে 'জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন'।
এ পর্যন্ত কমিশন ৩৭ জনের সাক্ষ্য নিয়েছে। শহীদ সেনা পরিবারের পক্ষ থেকে ন্যায় বিচারের দাবিতে গঠন করা হয়েছে 'শহীদ সেনা অ্যাসোসিয়েশন'।
এদিকে, এই দিনটি যথাযথভাবে পালনের জন্য সরকার ও বিজিবির পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচী নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি, প্রধান উপদেষ্টা বা তাদের প্রতিনিধিরা বনানীর সামরিক কবরস্থানে শহীদদের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধানরা (সম্মিলিতভাবে), স্বরাষ্ট্র সচিব এবং বিজিবি মহাপরিচালক শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।









