হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা ইতিবাচক বলছে ওমান, তবে চুক্তি হলেও এখনই খুলবে না হরমুজ - সতর্কতা ইরানের

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় অস্থির হয়ে ওঠেছে জ্বালানি তেলের বাজার

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় অস্থির হয়ে ওঠেছে জ্বালানি তেলের বাজার
    • Author, জ্যাক বার্জেস ও বার্নড ডেবুসম্যান জুনিয়র
    • Role, হোয়াইট হাউস বিষয়ক প্রতিবেদক, বিবিসি
  • Published
  • পড়ার সময়: ৪ মিনিট

বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ-যান চলাচলের পথ সুরক্ষিত করার লক্ষ্যে একটি চুক্তি সম্পাদনের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে 'ইতিবাচক' আলোচনা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ওমান।

তবে কোনো চুক্তির ফলেই হরমুজ প্রণালিকে 'সহসাই' খুলে দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেছে তেহরান।

ইরান এবং ওমান, উভয় দেশের পক্ষ থেকেই শনিবার জানানো হয়েছে যে, জলপথটি নিয়ে একটি চুক্তির ব্যাপারে তাদের মধ্যে আলোচনা এগোচ্ছে।

আলোচনাটি 'চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে' বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। যদিও কবে নাগাদ চুক্তিটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যেতে পারে, সে ব্যাপারে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।

আবার চুক্তি হলেই যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে, বিষয়টি এমন নয় বলে জানিয়েছে দিয়েছে তেহরান। জলপথটি পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টি অন্যান্য আরও 'বেশকিছু শর্তের ওপর নির্ভরশীল' বলে মন্তব্য করেছেন মি. আরাঘচি।

এদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর হামলার বিরুদ্ধে তেহরানকে সতর্ক করেছে ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফলে এটি ঘিরেও দু'পক্ষের মধ্যকার চলমান আলোচনা যে ভেস্তে যেতে পারে, সেই শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের(এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ সাধারণত এই প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হয়ে থাকে।

ট্রাম্প

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, ইরানের সঙ্গে 'শিগগিরই একটি চুক্তি হতে পারে" বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

কিন্তু গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরোধ করে রেখেছে ইরানি বাহিনী। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা নৌ-অবরোধ অব্যাহত রেখেছে।

এর ফলে জলপথটি দিয়ে নৌ-যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি তেলের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে।

এ অবস্থায় হরমুজ খুলে দেওয়ার বিষয়ে সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে ওমান। তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন যে, হরমুজ পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়টি আরও বেশকিছু শর্তের ওপর নির্ভর করছে।

তেহরান বলছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার পাশাপাশি স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে আলোচনাকে এগিয়ে নিতে গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে চুক্তিটি সই হয়েছিল, ইরানের ওপর পুনরায় হামলা চালিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন সেটি লঙ্ঘন করেছে।

ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে এখন ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। তবেই হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবে তেহরান।

ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহাম্মদ বাকের জুলকাদর দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমকে জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র তার 'আচরণ সংশোধন' না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পুনরায় নৌ-যান চলাচল শুরু হবে না।

হরমুজ প্রণালি

ছবির উৎস, AFP via Getty Images

ছবির ক্যাপশান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করা হয়ে থাকে

তিনি আরও বলেছেন যে, জলপথটি উন্মুক্ত করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ছয়টি দাবি পূরণ করতে হবে।

সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া বন্ধ করা, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া এবং ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ ছেড়ে দেওয়া।

এদিকে, স্থায়ীভাবে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে তেহরানের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানের সঙ্গে 'শিগগিরই একটি চুক্তি হতে পারে" বলে সম্প্রতি জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু গত শনিবার দেশটির ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অবশ্য চুক্তির বিষয়টি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

ফক্স নিউজকে তিনি বলেছেন যে, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও "এখনও অনেক কাজ বাকি আছে"।

"আমরা এখন খেলার মাঝপথে আছি," বলেন জেডি ভ্যান্স।

মি. ভ্যান্স আরও বলেন, "আমেরিকার জনগণের জন্য সর্বোত্তম একটি ফলাফল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিকসহ নানান ধরনের পন্থা আমরা অবলম্বন করছি।"

হরমুজ প্রণালি

ছবির উৎস, Elke Scholiers/Getty Images

ছবির ক্যাপশান, হরমুজ প্রণালিতে পাল্টা-পাল্টি অবরোধ অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

তিনি এটাও দাবি করেছেন যে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার আগে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে যে পরিমাণ তেল উত্তোলিত হতো, ভবিষ্যতেও ঠিক সেই পরিমাণই তেল উত্তোলন করা হবে।

যদিও বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য দেননি মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট।

তবে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টিকে যে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, সেটির বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন জেডি ভ্যান্স।

"আমরা এখন মূলত এমন একটি নৌ চলাচল ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা করছি, যেখানে জাহাজগুলো নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবে," বলেন মি. ভ্যান্স।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে এর আগেও তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনা হলেও মতবিরোধের জেরে সেটি সফল হয়নি।

তাদের মতবিরোধের অন্যতম প্রধান কারণ হলো জলপথটির ওপর আধিপত্য বজায় রাখার উপায় হিসেবে ইরানের শুল্ক আরোপের কথিত হুমকি।

একজন ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্স এর আগে এক খবরে জানিয়েছিল যে, হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে পণ্যমূল্যের পাঁচ থেকে সাত শতাংশ পর্যন্ত হারে মাশুল দাবি করছে ইরান।

তবে খবরটিকে গুরুত্ব না দিয়ে মার্কিন ভাইস-প্রেসিডেন্ট মি. ভ্যান্স বলেন, "ইরানি কর্মকর্তারা আমাদের জানিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপের কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।"