'পুশ-ইন' ও চোরাচালান ঠেকাতে সীমান্তে প্রযুক্তি ব্যবহারে কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?

    • Author, মরিয়ম সুলতানা
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা
  • Published
  • পড়ার সময়: ৭ মিনিট

বাংলাদেশের সাথে চার হাজার কিলোমিটারের বেশি সীমান্তে ভারত তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে। কাঁটাতারের বেড়া বসানোসহ নানা ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন রয়েছে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে।

ভারতের সাথে বাংলাদেশের এই সীমান্তের বিভিন্ন জায়গায় বছরের পর বছর ধরে চোরাচালান, মানবপাচারের মতো অপরাধের নানা ইস্যু নিয়ে আলোচনায় আছে।

সীমান্তে বিভিন্ন সময় মানুষ হত্যাও বাংলাদেশের দিক থেকে বড় উদ্বেগের বিষয়। এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের পক্ষ থেকে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে বাংলাদেশে 'পুশইন' করা বা লোক ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

ফলে সীমান্তে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

ভারত তাদের সীমান্তের বড় অংশেই কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে। সেইসাথে, তারা সেখানে ফ্লাডলাইট, আধুনিক নজরদারি ক্যামেরা, এমনকি সীমান্ত ঘেঁষা সড়কও নির্মাণ করেছে।

সেই তুলনায় বাংলাদেশের নজরদারি ব্যবস্থা খুবই এখনো অপ্রতুল। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি'র বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের সাথে এ প্রসঙ্গে কথা বলে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা মূলত আজও বিজিবির টহল ও স্থানীয় জনগণের সতর্কতার ওপর নির্ভরশীল।

তবে পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন কি না এবং এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা নিয়ে কৌতুহল রয়েছে।

সীমান্ত পাহারায় বাংলাদেশের ভরসা কী?

বাংলাদেশের সীমান্ত পাহারার দায়িত্ব পালন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), যা আগে বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) নামে পরিচিত ছিল।

বিজিবি'র বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশের সীমান্তজুড়ে বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি), পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ও নিয়মিত টহলের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। সীমান্তের নদীবেষ্টিত এলাকাগুলোয় জলপথেও টহল পরিচালনা করা হয়।

এদিকে, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের উল্লেখযোগ্য অংশ নদী, চর, পাহাড় ও বনাঞ্চলের মধ্য দিয়ে গেছে। ফলে সব এলাকায় একই ধরনের অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি এখনো।

জাতীয় নিরাপত্তা ও অপারেশনাল কারণে নজরদারি সরঞ্জামের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ না করলেও বিজিবি সদর দপ্তর জানিয়েছে, সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারির জন্য ওয়াচ টাওয়ার, পর্যবেক্ষণ পোস্ট, সিসিটিভি ক্যামেরাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর অবকাঠামো ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিশেষ করে, যশোর, সাতক্ষীরা, জয়পুরহাট ও টেকনাফ সীমান্তে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য আধুনিক বর্ডার সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম (বিএসএস) স্থাপন করা হয়েছে।

বিএসএস হলো সীমান্তে সন্দেহজনক চলাচল বা কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণের জন্য ক্যামেরা, সেন্সর ও অন্যান্য নজরদারি প্রযুক্তির সমন্বয়ে গঠিত একটি আধুনিক ব্যবস্থা।

এছাড়া, কক্সবাজার অঞ্চলের টেকনাফ, রামু, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকায় থার্মাল ইমেজিং সিস্টেম ব্যবহারের মাধ্যমে দিন-রাত নজরদারির ব্যবস্থা রয়েছে।

থার্মাল ইমেজিং সিস্টেম এমন একটি প্রযুক্তি, যা মানুষ, প্রাণী বা বস্তুর শরীর থেকে নির্গত তাপ শনাক্ত করে অন্ধকার, কুয়াশা বা কম আলোতেও তাদের উপস্থিতি শনাক্ত করতে পারে।

সীমান্ত নিরাপত্তায় ঘাটতি কোথায়

সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার নানা ধরনের ঘাটতির কথাও জানিয়েছেন বিজিবি কর্মকর্তারা।

বিশেষ করে, সীমান্ত লাগোয়া সড়কের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন তারা।

বিজিবির এক কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, এখনো তারা অনেক পুরোনো কায়দায় পায়ে হেঁটে বর্ডার পাহারা দেন, কারণ সীমান্ত এলাকায় বলতে গেলে কোনো সড়কই নেই।

"যদি বর্ডার রোড থাকতো, তাহলে হয়তো মোটরসাইকেল বা গাড়ি করে ডিউটি করতে পারতাম আমরা। এমনকি, বিএসএফও কিন্তু পায়ে হেঁটে ডিউটি করে না," বলছিলেন তিনি।

তবে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নের অংশ হিসেবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সীমান্ত সড়ক নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প হাতে নিয়েছে। প্রকল্পটি রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান এই তিন পার্বত্য জেলায় চলমান রয়েছে, যার দৈর্ঘ্য এক হাজার ৩৬ কিলোমিটার।

এর বাইরে ফ্লাডলাইট, সিসি ক্যামেরা ইত্যাদিরও অপ্রতুলতা রয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

"ওপাড়ে কাঁটাতার, ফ্লাডলাইট আছে। ওরাই দেখে, আমরা কিছু দেখতে পারি না। যেসব এলাকা চোরাচালান প্রবণ, সেগুলোতে অল্প কিছু ক্যামেরা আছে। ওদের (ভারতের বিএসএফ) তুলনায় কিছু নাই। ওদের ১০টা ক্যামেরা থাকলে বিজিবির আছে দুইটা," বিজিবির এক কর্মকর্তা জানান বিবিসি বাংলাকে।

আরেক বিজিবি কর্মকর্তা জানান, "বিজিবির যে পোস্টগুলো আছে, সেখানে ফ্লাডলাইট আছে। এর বাইরে যেগুলো স্পর্শকাতর জায়গা, সেসব জায়গায় আছে। অন্য জায়গায় নাই।"

প্রযুক্তির ঘাটতি যেসব চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে

এক সময়ের বিডিআর এবং বর্তমানের বিজিবি, দু'টো সংস্থাতেই কর্মরত ছিলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান। তিনি ২০১৮ সালে অবসরে যান।

সাবেক এই বিজিবি কর্মকর্তা তার অভিজ্ঞতা থেকে বলছিলেন, "আমি ভারতের সঙ্গে সীমান্তের উত্তর অংশের প্রায় পুরোটা হয় পায়ে হেঁটে গিয়েছি বা নৌকায় গিয়েছি বা গাড়িতে গিয়েছি।"

"আমাদের সময়ে মানুষনির্ভর প্যাট্রলিং ছিল, আর সরঞ্জাম বলতে ছিল বাইনোকুলার। মুভমেন্ট ডিটেকশনের জন্য এখন অনেক আধুনিক ইলেকট্রনিক প্রযুক্তি বের হয়েছে। উন্নত দেশগুলো সেগুলো তাদের বর্ডারে রাখে, তবে আমরা করতে পারিনি। অথচ এগুলো জরুরি।"

কারণ, সীমান্ত সড়ক থাকলে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সহজে যাওয়া যায় এবং তখন চোরাচালান, মাদকপাচার বা মানবপাচার, সবকিছু সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এছাড়া, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করাটা এখন সময়ের দাবি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সীমান্ত সড়ক প্রসঙ্গে বিজিবি'র অবসরপ্রাপ্ত আরেক কর্মকর্তা ডেল এইচ খানও বলছিলেন যে, সীমান্তের কয়েকশো কিলোমিটার বাদে বাকি অংশজুড়েই কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছে ভারত।

"নিজেদের সুবিধার জন্য সেই বেড়ার পাশ দিয়ে তারা রাস্তা নির্মাণ করেছে। সেখানে বিভিন্ন ধরনের লাইটিং, ক্যামেরা বসিয়েছে। কাঁটাতারের বেড়ায় গেটও তৈরি করেছে। কিন্তু বিজিবির সম্পদ ও অবকাঠামো সীমিত, এখনো তাদের প্রচলিত পদ্ধতিতে সীমান্ত পাহারা দিতে হয়।"

বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি থেকে আরেকটি বিওপি প্রায় পাঁচ থেকে সাত কিলোমিটারের দূরে এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেও দুই বিওপির মাঝে সড়কসংযোগ নেই। ফলে বিজিবি সদস্যদের পায়ে হেঁটে টহল দিতে হয়।

"পায়ে হেঁটে যাওয়ার সময় যতটুকু সে দেখতে পাচ্ছে, ততটুকুই তার ইনফরমেশন। এখানে সমস্যা হলো, পায়ে হেঁটে টহল দেওয়ার সময় এই পাঁচ থেকে সাত কিলোমিটারের সব পয়েন্টে একই সময় উপস্থিত থাকা সম্ভব হয় না। অনেক সময় টহল দল একটি নির্দিষ্ট অংশ অতিক্রম করার পরই গরু পাচার বা মানুষকে সীমান্ত পেরিয়ে ঠেলে দেওয়ার ঘটনা ঘটে," বলেন মি. খান।

দরকার স্মার্ট পরিকল্পনা

সীমান্তে মাদক, অস্ত্র, স্বর্ণ, মানবপাচারসহ বিভিন্ন আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে মতো ঘটনা প্রতিরোধে শুধু জনবল নয়, প্রয়োজন আধুনিক প্রযুক্তি ও কৌশলগত পরিকল্পনাও।

মি. রহমান বলছিলেন, "এই ধরনের ঘটনা প্রতিহত করতে "মুভমেন্ট ট্র্যাক করতে হবে, সেটা হোক ব্যক্তির বা বস্তুর।

"মুভমেন্ট না থাকলে আপনার বর্ডার সিকিউরড। আর মুভমেন্ট শনাক্ত করার জন্য ড্রোন, লং ডিসট্যান্স ক্যামেরা, ইনফ্রারেড ক্যামেরা, গ্রাউন্ড সার্ভেইল্যান্স রাডারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি রয়েছে। তবে কোন প্রযুক্তি কোন জায়গায় লাগবে, তা গ্রাউন্ড রিয়েলিটি বলে দেবে"।

অর্থাৎ, যেখানে দৃষ্টিসীমা খোলা ও পরিষ্কার, সেখানে এক ধরনের নজরদারি ব্যবস্থা কার্যকর হবে। যেমন, নদী। অন্যদিকে বনাঞ্চল, পাহাড় বা দৃষ্টিসীমা বাধাগ্রস্ত হয়, এমন এলাকায় ড্রোন, সেন্সর বা অন্যান্য বিশেষায়িত প্রযুক্তি ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে।

একই বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি কর্মকর্তা ডেল এইচ খান বলেন, বান্দরবানের এক পাহাড় থেকে আরেক পাহাড়ের দূরত্ব দেখে কম মনে হলেও একটি থেকে আরেকটিতে যেতে চার ঘণ্টা বা তারও বেশি লেগে যায়। ফলে সব এলাকায় একই ধরনের নজরদারি ব্যবস্থা কার্যকর নয়।

পুশইনের মতো ঘটনা প্রতিহত করতে ধারাবাহিক নজরদারি (কন্টিনিউয়াস সার্ভেইল্যান্স) প্রয়োজন এবং এটি করার জন্য বিজিবির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ভারত যদি তাদের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে কাউকে সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করে, তাহলে "পুরো প্রক্রিয়ার প্রমাণ সংরক্ষণ করাটা তো জরুরি। সেক্ষেত্রে বিজিবির কাছে তো পর্যাপ্ত ভিডিও ফুটেজ ধারনের ব্যবস্থা থাকা উচিত এবং কাদের সীমান্ত দিয়ে পাঠানো হচ্ছে, তাদের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নথিভুক্ত করার সক্ষমতা থাকা উচিত," বলেন ডেল এইচ খান।

তবে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনের পাশাপাশি কৌশলগতভাবেও বিজিবিকে এগোতে হবে। প্রয়োজনে জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে স্যাটেলাইট চিত্র সংগ্রহ করে ঘটনাগুলোর তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে মত তার।

এছাড়া, ভারতের সম্ভাব্য হোল্ডিং ক্যাম্প বা লোকজনকে জড়ো করার স্থানগুলোর সম্পর্কে আগাম তথ্য থাকলে সীমান্তমুখী চলাচল আগে থেকেই নজরদারিতে আনা সহজ হবে। তবে এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু সীমান্তরক্ষী বাহিনী নয়, পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র, আইন ও তথ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।

সরকারের পরিকল্পনা কী?

বাংলাদেশের দিক থেকে এখন পর্যন্ত সীমান্তে কোনো কাঁটাতারের বেড়া নেই। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বলেছেন, আন্তঃসীমান্ত বিভিন্ন অপরাধ দমনের লক্ষ্যে মিয়ানমার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হবে। ভারতের সাথে সীমান্তের বিভিন্ন স্থানেও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণের কার্যক্রম বিবেচনাধীন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তখন জানান, সীমান্ত এলাকায় সব ধরনের অপরাধ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ফেনসিডিলসহ সব ধরনের মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রবেশ বন্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করছে বিজিবি। সেইসাথে, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির মাধ্যমে সীমান্ত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।

এছাড়া, দুর্গম ও স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকাগুলোতে নতুন বিওপি ও টিওবি নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরো নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে করে বিজিবির বিওপিসমূহের মধ্যবর্তী দূরত্ব কমিয়ে আনা এবং টহলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। সেগুলো হলো:

  • দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্তের অতি সংবেদনশীল এলাকায় ইতোমধ্যে 'স্মার্ট বর্ডার সার্ভেইল্যান্স সিস্টেম' স্থাপন করা হয়েছে।
  • দুর্গম পার্বত্য সীমান্তে সীমান্ত সড়ক নির্মাণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে, যার ফলে বিজিবির টহল দল অত্যন্ত দ্রুততার সাথে যেকোনো সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সক্ষম হচ্ছে।
  • সীমান্ত এলাকায় বসবাসরতদের চোরাচালান ও অপরাধের কুফল সম্পর্কে সচেতন করতে এবং অপরাধীদের তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহায়তার জন্য নিয়মিত 'জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম' পরিচালনা করা হচ্ছে।

গত ২৬শে এপ্রিল বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে দ্বিতীয় পর্যায়ের সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি - একনেক, যার মোট অনুমোদিত প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে তিন হাজার ৬৬৬ কোটি ৩৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা।

সীমান্ত সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ হয়ে এলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে বাংলাদেশ অংশে কাঁটাতারের বেড়া স্থাপন প্রসঙ্গে সাবেক বিজিবি কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাহেদুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "কাঁটাতারের বেড়া একটা থাকলেই হয়। আর এখানে অনেক অর্থ বিনিয়োগের বিষয় আছে"।

"সেইসাথে, কাঁটাতারের বেড়া দিলে সীমান্ত রেখা থেকে ১৫০ গজ ভেতরে দিতে হবে। কিন্তু ওই যে ১৫০ গজ জায়গা মাঝখানে থেকে গেল, ওটা ম্যানেজ করার জন্য নতুন সিস্টেম দাঁড় করাতে হবে। কারণ কৃষক তো সেখানে যাবেই চাষাবাদ করার জন্য। তাকে সেই অ্যাক্সেস দিতে হবে"।