আমেরিকা ছেড়ে চীনের সাথে গাঁটছড়া বাঁধছে সৌদি আরব

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং সৌদি যুবরাজ মোহামেদ বিন সালমান

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে রিয়াদে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং সৌদি যুবরাজ মোহামেদ বিন সালমান
    • Author, শাকিল আনোয়ার
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, লন্ডন
  • Published

মধ্যপ্রাচ্যে গত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নাটকীয় এক ঘটনা ঘটে গেছে। সাত বছর আগে ভেঙ্গে পড়া সম্পর্ক পুন:স্থাপন করেছে অঞ্চলের সবচেয়ে দুই প্রভাবশালী বৈরি দেশ সৌদি আরব এবং ইরান।

বিস্ময়কর যেটা তা হলো এই সম্পর্ক জুড়তে মধ্যস্থতা করেছে সৌদি আরবের দীর্ঘ দিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরঞ্চ বর্তমানে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের এক নম্বর প্রতিপক্ষ – চীন।

মার্চের দশ তারিখে বেইজিংয়ে সৌদি ও ইরানের কর্মকর্তাদের পাশে নিয়ে শীর্ষ চীনা কূটনীতিক ওয়াং ই এই বোঝাপড়ার কথা ঘোষণা করেন। তারপর, দ্রুতগতিতে ঘটনা গড়াচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সল বিন ফারহান এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আমির আব্দুল্লাহিয়ানের মধ্যে এক বৈঠক থেকে দুই মাসের মধ্যে দূতাবাস খোলা এবং তেহরান ও রিয়াদের মধ্যে যাত্রী বিমান চলাচলের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এমনকি, ইরানের প্রেসিডেন্ট রাইসি সৌদি আরব সফরের জন্য বাদশাহ সালমানের একটি আমন্ত্রণও গ্রহণ করেছেন বলে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

'মূল সমস্য বিন সালমানের সাথে বাইডেনের'

যে দেশটিকে ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের যে কোনো বোঝাপড়া, মীমাংসা অসম্ভব বলে মনে করা হতো, সেই আমেরিকা এই পুরো প্রক্রিয়ায় অনুপস্থিত।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব-প্রতিপত্তি যে দ্রুত কমছে ইরান-সৌদি মীমাংসা চুক্তিকে তার জলজ্যান্ত একটি উদাহরণ হিসাবে তুলে ধরা হচ্ছে।

এমন কথাও অনেক বিশ্লেষক বলছেন, সৌদিরা আট দশক পর শেষ পর্যন্ত আমেরিকার একচ্ছত্র প্রভাব বলয় থেকে বেরিয়ে স্বাধীনভাবে ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথ নিয়েছে।

লন্ডনে মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক সাদি হামদি অবশ্য মনে করেন এখনই এমন উপসংহার টানা ঠিক হবেনা।

তিনি বলেন, সৌদি আরবের সাথে আমেরিকার যে দূরত্ব এখন দেখা যাচ্ছে সেটা যতটা না দুই দেশের মধ্যে তার চেয়ে বেশি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং প্রেসিডেন্ট বাইডেনের মধ্যে।

“মূল সমস্যা বিন সালমানের সাথে বাইডেন এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সম্পর্ক। কিন্তু আপনি জানেন না রিপাবলিকানরা ক্ষমতায় এলে পরিস্থিতি একইরকম থাকবে কিনা,” বলেন মি হামদি।

তার মতে, সৌদি আরব যে বোঝাপড়া ইরানের সাথে করেছে তা তার দেশের অর্থনীতির স্বার্থে কিছুটা বাধ্য হয়ে “সন্ধি করার মত।“

বেইজিংয়ে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সল বিন ফারহান এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আমির আব্দুল্লাহিয়ান

ছবির উৎস, Reuters

ছবির ক্যাপশান, বেইজিংয়ে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সল বিন ফারহান এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আমির আব্দুল্লাহিয়ান, এপ্রিল ২০২৩

মি, হামদি বলেন, তেল নির্ভর অর্থনীতির বিকল্প ‘ভিশন টুয়েন্টি থার্টি’ নামে পরিচিত যে উন্নয়ন কর্মসূচি এখন যুবরাজ বিন সালমানের ধ্যান-জ্ঞান তাকে বাঁচাতে তার এই আপোষ। কারণ ইরানপন্থী মিলিশিয়ারা ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে গত ক বছরে সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এতটাই হুমকিতে ফেলেছে যে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ভয় পাচ্ছে।

“গত ছয় বছরে তার ঐ উচ্চাভিলাষী উন্নয়ন পরিকল্পনায় পশ্চিমাদের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য কোনো বিনিয়োগ তিনি পাননি। ফলে ইরানের সাথে সন্ধি করা ছাড়া তার উপায় ছিলনা,” বলেন মি. হামদি।

এটা ঠিক যে ইরান সমর্থিত মিলিশিয়ারা, বিশেষ করে ইয়েমেনের হুতি মিলিশিয়ারা, গত কয়েক বছর ধরে যেভাবে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন দিয়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন তেলের স্থাপনাগুলো টার্গেট করছিল তা রিয়াদের জন্য চরম মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে । ২০১৯ সালে তাদের সবচেয়ে বড় তেলের স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সৌদিদের প্রচণ্ড ভীত করে তুলেছিল।

End of https://bbc.com.im/bengali/articles/cj7z82zndpro%3C/p%3E%3C/div%3E%3C/section%3E%3Cdiv dir="ltr" class="css-1k9op6x e17x9cvu0">

চীনের প্রবেশ