পত্রিকা: 'হাসিনাকে ফেরাতে কলকাতায় বসে ঢাকায় নাশকতার ছক'

Published
পড়ার সময়: ৯ মিনিট

নয়া দিগন্তের প্রথম পাতার খবর, 'হাসিনাকে ফেরাতে কলকাতায় বসে ঢাকায় নাশকতার ছক'।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, একটি গোপন ষড়যন্ত্রের অভিযোগ উঠেছে, যাতে দাবি করা হয়েছে যে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনতে ঢাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, কলকাতায় জড়ো হওয়া সাবেক এমপি ও সংগঠনের নেতারা টেলিগ্রাম গ্রুপে বাংলাদেশে থাকা কর্মীদের নির্দেশনা দিচ্ছেন।

এর অংশ হিসেবে ঢাকার বসুন্ধরা, উত্তরা, শাহবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিচালিত হয়, যেখানে সেনা সদস্য ও সাবেক সরকারি কর্মকর্তারাও যুক্ত ছিলেন।

মেজর সাদেক নামের এক সেনা কর্মকর্তা এই প্রশিক্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক হন এবং বর্তমানে তাকে সেনা হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অগাস্টের আট তারিখে বড় ধরনের নাশকতার চেষ্টা ছিল, তবে তা ব্যর্থ হয়।

আবারও নভেম্বর ও ডিসেম্বরকে সামনে রেখে নতুন হামলার ছক আঁকা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একাধিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সদস্য ও সংগঠকদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে এবং জানিয়েছে, এখনই আগস্টকে ঘিরে কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই।

তবে গোয়েন্দারা নিশ্চিত করেছেন, ঢাকায় অরাজকতা তৈরি করে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা এখনো সক্রিয় রয়েছে।

প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম, 'শুল্ক কমেছে, বাংলাদেশে স্বস্তি'।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা শেষে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্কহার কমে ২০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ৭ই অগাস্ট থেকে কার্যকর হবে।

এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য বড় স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কারণ আগে এই হার ছিল ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত।

আলোচনার মাধ্যমে এই হার কমাতে বাংলাদেশ সরকার ও ব্যবসায়ীরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং শুল্ক প্রায় শূন্য করেছে।

একইসাথে আইএলও কনভেনশন মেনে চলা ও শ্রম আইন সংশোধনের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রকে বছরে সাত লাখ টন গম, এলএনজি, এবং ২৫টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতিসহ প্রায় ২৬ কোটি ডলারের সয়াবিন ও তুলা আমদানির সমঝোতা চুক্তিও হয়েছে।

এসব উদ্যোগে শুল্ক আলোচনায় ইতিবাচক ফল আসে। শুল্ক হার কমানোর ফলে এখন বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রয়েছে।

বাণিজ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে একটি বড় অর্জন। তবে এটি শুধুই স্বস্তি নয়, বরং ভবিষ্যতে আরও সুনির্দিষ্ট, টেকসই ও বৈচিত্র্যপূর্ণ বাণিজ্য কৌশল গঠনের জন্য একটি সতর্কবার্তাও।

আলোচনায় অংশ নেওয়া দল ও সরকারের পরিণত দৃষ্টিভঙ্গি এবং কৌশলগত সিদ্ধান্তকে বিভিন্ন মহল প্রশংসা করেছে।

মানবজমিনের প্রথম পাতার খবর, 'ইতিবাচক অগ্রগতি হলেও আত্মতুষ্টির কারণ নেই'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করায় এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক অগ্রগতি।

এতে করে রপ্তানি খাত বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে কিছুটা মুক্তি পেয়েছে এবং ভারতের চেয়ে কম শুল্ক হার থাকায় বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তুলনামূলক ভালো অবস্থানে এসেছে।

তবে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, ২০ শতাংশ শুল্ক এখনো অনেক বেশি এবং আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই।

বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা টিকিয়ে রাখতে হলে সরবরাহব্যবস্থা, নীতিগত স্থিতিশীলতা, ও শ্রম অধিকার নিয়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

গবেষকরা বলছেন, এই শুল্ক সুবিধা বাংলাদেশের জন্য একটি সতর্ক বার্তা, এখনই বৈচিত্র্যময় ও টেকসই বাণিজ্য কৌশল গড়ে তোলা প্রয়োজন।

বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতারা মনে করেন, শুল্ক কমায় প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং চীন-ভিয়েতনাম থেকে অর্ডার বাংলাদেশে আসার সম্ভাবনা বাড়ছে।

তবে এই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে দক্ষতা বাড়ানো, সরকারের সহায়তা নিশ্চিত করা এবং বিদেশি চাপ মোকাবিলায় নীতিগত দৃঢ়তা বজায় রাখা জরুরি।

সবমিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার কমানোর সিদ্ধান্ত বাংলাদেশকে স্বস্তি দিয়েছে, কিন্তু সেইসঙ্গে রপ্তানি সক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে বাস্তবমুখী পরিকল্পনা ও আন্তরিক প্রচেষ্টা অপরিহার্য।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি আমদানি পণ্যের ওপর অনেক দেশের জন্য শুল্কহার পুনর্নির্ধারণ করেছে, যার ফলে বাংলাদেশসহ প্রায় ৫০টি দেশের ওপর শুল্ক কমানো হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় জানানো হয়, বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর আগে ৩৫ শতাংশ শুল্ক ছিল, যা এখন কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে।

অনেক দেশের জন্য এই হারে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক কমানো হয়েছে। এর মধ্যে কম্বোডিয়ার শুল্ক ৪৯ থেকে ১৯ শতাংশ, শ্রীলঙ্কার ৪৪ থেকে ২০ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের ৪৬ থেকে ২০ শতাংশে নামানো হয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধিকাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্ক ২০ থেকে ১৫ শতাংশ হয়েছে। তবে কিছু দেশের ক্ষেত্রে শুল্ক বাড়ানোও হয়েছে, যেমন সুইজারল্যান্ডের ৩১ থেকে বেড়ে ৩৯ শতাংশ হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মতে, এই পরিবর্তন মূলত ব্যবসায়িক ভারসাম্য ও ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে।

শুল্ক হ্রাসের ফলে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি আরও প্রতিযোগিতামূলক হবে এবং রপ্তানি খাত কিছুটা স্বস্তি পাবে।

যদিও কিছু দেশের ওপর শুল্ক আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে, তবে সামগ্রিকভাবে এই সিদ্ধান্তকে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর, 'আটক সেনা কর্মকর্তার বিষয়ে তদন্ত আদালত গঠন : আইএসপিআর'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, এক সেনা কর্মকর্তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।

প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় এ বিষয়ে একটি তদন্ত আদালত গঠন করা হয়েছে। তদন্ত শেষে আদালতের সুপারিশ অনুযায়ী সেনা আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যদিও অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেজর সাদিকুল হকের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ ছড়িয়েছে।

সেনাসদরের এক ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, মেজর সাদিক সেনা হেফাজতে আছেন এবং তদন্ত চলছে।

গত ৮ই জুলাই বসুন্ধরার পাশে একটি কনভেনশন সেন্টারে ছাত্রলীগের আয়োজনে একটি গোপন বৈঠক হয়, যেখানে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মিলিয়ে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ জন অংশ নেন এবং সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয়।

এরপর ভাটারা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয় এবং ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে, মেজর সাদিক ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

এরপর ১৭ জুলাই তাকে ঢাকার উত্তরা থেকে আটক করা হয়।

আইএসপিআর বলেছে, সেনাবাহিনী একটি অরাজনৈতিক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং কোনো সদস্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়ালে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত জানানো হবে না।

দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর, 'বাংলাদেশের ওপর নিবিড় নজর রাখছে ভারত'।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর জানিয়েছেন, বাংলাদেশে চলমান বিভিন্ন ঘটনার ওপর নয়াদিল্লি নিবিড়ভাবে নজর রাখছে।

তিনি বলেন, ভারতের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা বিবেচনায় বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

সম্প্রতি লোকসভার এক আলোচনায় বিজেপির এক এমপি অভিযোগ করেন যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রদর্শনীতে 'সালতানাত-ই-বাংলা' নামের একটি ইসলামপন্থি গোষ্ঠী 'গ্রেটার বাংলাদেশ' নামে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে ভারতের কিছু রাজ্যকে বাংলাদেশের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এই গোষ্ঠী তুরস্কভিত্তিক এনজিও 'তার্কিশ ইউথ ফেডারেশন'-এর সহায়তায় কাজ করছে।

জয়শঙ্কর জানান, এই বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বাংলাদেশের সরকারি তথ্য যাচাই প্ল্যাটফর্ম 'বাংলাফ্যাক্ট'-এর তথ্যমতে, ১৪ই এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ঐতিহাসিক প্রদর্শনীতে মধ্যযুগীয় বাংলার মানচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছিল, যা কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়নি।

প্রদর্শনীর আয়োজকরা জানিয়েছে, তাদের কোনো বিদেশি সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক নেই এবং বাংলাদেশে 'সালতানাত-ই-বাংলা' নামে কোনো সংগঠনের অস্তিত্ব নেই।

জয়শঙ্কর বলেন, ভারত তার জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে কোনো আপস করবে না এবং বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার ওপর নজর রাখা হবে।

সংবাদের প্রথম পাতার খবর, 'শাহবাগে অবরোধকারীদের ওপর 'প্রকৃত জুলাই যোদ্ধাদের' হামলা, দুই পক্ষকেই পুলিশের লাঠিচার্জ'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে 'জুলাই যোদ্ধা' নামে পরিচিত একদল আন্দোলনকারী টানা ৩২ ঘণ্টা ধরে সড়ক অবরোধ করে রাখেন।

তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, শহীদদের স্বীকৃতি এবং সংবিধানে তা অন্তর্ভুক্তির দাবি তোলেন।

এতে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয় এবং সাধারণ মানুষ, রোগী ও যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজেদের 'প্রকৃত জুলাই যোদ্ধা' দাবি করে আরেকদল আন্দোলনকারী শাহবাগে এসে ব্যারিকেড ভেঙে দেয় এবং সংঘর্ষ শুরু হয়।

পরে পুলিশ দুই পক্ষকেই লাঠিচার্জ করে সরিয়ে দেয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এই ঘটনায় কেউ গুরুতর আহত হননি।

পুলিশ জানায়, প্রথম থেকেই তারা অবরোধকারীদের আলোচনার মাধ্যমে সড়ক ছাড়ার অনুরোধ জানায়, কিন্তু আন্দোলনকারীরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সরে না যাওয়ার ঘোষণা দেন।

অবরোধের কারণে ঢাকা মেডিকেলসহ আশপাশের হাসপাতালের রোগীরা দুর্ভোগে পড়ে। সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে হেঁটে চলাফেরা করেন।

অনেকে বলেন, যৌক্তিক দাবি থাকলেও সড়ক অবরোধ করে জনগণের কষ্ট বাড়ানো ঠিক নয়।

শেষ পর্যন্ত 'প্রকৃত' জুলাই যোদ্ধা পরিচয়ে আসা একদল মানুষ আন্দোলনকারীদের 'ভুয়া' দাবি করে তাড়িয়ে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

সমকালের প্রথম পাতার খবর, 'মৌলিক সংস্কারের যৌগিক চিত্র'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত একটি সংলাপে ২০টি মৌলিক সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।

এর মধ্যে নয়টি সিদ্ধান্তে দলগুলোর মধ্যে পূর্ণ ঐকমত্য হয়নি। বিএনপি চারটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে রাজি হয়নি এবং তিনটিতে আপত্তিসহ একমত হয়েছে।

জামায়াত একটিতে নারাজ ও তিনটিতে আপত্তি জানিয়েছে। এনসিপি ১৮টিতে একমত হলেও নারীদের সাত শতাংশ মনোনয়নের পরিবর্তে ১৫ শতাংশ চেয়েছে।

সংলাপে সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় ছিল পিআর পদ্ধতিতে সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন, সংবিধান সংশোধনে উচ্চকক্ষের ক্ষমতা এবং প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সীমিত করা।

বিএনপিসহ কয়েকটি দল এসব সিদ্ধান্ত মানবে না বলে জানিয়েছে। জামায়াত ও এনসিপি এসব সংস্কারে একমত হলেও নারী মনোনয়ন নিয়ে কিছু আপত্তি জানিয়েছে।

কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর পদে সর্বোচ্চ ১০ বছর থাকা যাবে, এতে সব দল একমত হয়েছে।

বিচার বিভাগ, পুলিশ, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও মতবিরোধ আছে।

সবশেষে জানানো হয়েছে, জুলাই সনদের খসড়া চূড়ান্ত করে রাজনৈতিক দলগুলোকে দেওয়া হবে।

তাতে কোন সিদ্ধান্তে ঐকমত্য, কোনটিতে আপত্তি তা স্পষ্ট করা হবে। তবে বাস্তবায়ন নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, গত বছরের ৫ই অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়ে।

পুলিশ ফাঁড়ি ও থানায় হামলা হয়, অস্ত্র লুট হয়, জনসাধারণের আস্থা কমে যায়।

এরপর ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নিলেও আইনশৃঙ্খলা এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

এক বছরে খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, মব ভায়োলেন্সসহ নানা অপরাধ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। শুধু খুনের ঘটনাই দিনে গড়ে আট থেকে ১১টি হচ্ছে, ১১ মাসে মামলা হয়েছে এক লাখ ৫৩ হাজারের বেশি।

মানবাধিকার লঙ্ঘনও বেড়েছে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, কারাগারে মৃত্যু, সাংবাদিক নির্যাতন, শিশু ও নারী ধর্ষণ উদ্বেগজনক।

পুলিশের দুর্বলতা, জনগণের আইন না মানা, রাজনৈতিক দৌরাত্ম্য পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে।

তবে সরকার বলছে, তারা অপরাধ দমন, মামলা রেকর্ড, তদন্ত ও গ্রেপ্তার কার্যক্রম জোরদার করেছে। সাইবার নজরদারি, মাদক ও অস্ত্রবিরোধী অভিযান, চেকপোস্ট, হটলাইন ও প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে।

পুলিশ বলছে, অতীতে যারা মামলা করতে পারেনি, এখন পারছে বলেই পরিসংখ্যান বেশি।

যদিও পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জনগণের আস্থা ফিরে না এলে এবং নির্বাচন না এলে আইনশৃঙ্খলা পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না। পরিস্থিতি এখনো টালমাটাল, তবে ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে প্রতি বছর আলিয়া ও কওমি মাদ্রাসা থেকে প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থী স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করলেও, তাদের বড় একটি অংশ প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসংস্থানে অংশ নিতে পারছে না।

কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, আধুনিক কারিগরি শিক্ষা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা, সামাজিক নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, প্রযুক্তি ও যোগাযোগ দক্ষতায় ঘাটতি এবং কওমি ধারায় দাওরায়ে হাদিস ছাড়া অন্য স্তরগুলোর স্বীকৃতি না থাকা।

ফলে অধিকাংশ মাদ্রাসা শিক্ষার্থী বাধ্য হচ্ছে অনানুষ্ঠানিক চাকরি বা ক্ষুদ্র ব্যবসার দিকে ঝুঁকতে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ মাত্র ৪ শতাংশের মতো, আর কওমিদের ক্ষেত্রে তা আরো কম।

বেশিরভাগই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বা মসজিদে শিক্ষকতা, ইমামতি বা খতিব হিসেবে কাজ করছেন। অনেকেই হতাশ হয়ে স্বল্প বেতনের চাকরি ছেড়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায় মনোযোগ দিচ্ছেন।

অথচ তাদের মধ্যে বহু শিক্ষার্থী আরবি ভাষা ও ইসলামি জ্ঞানসহ আধুনিক বিষয়েও পারদর্শী।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মাদ্রাসা শিক্ষার কারিকুলাম যুগোপযোগী করে দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটিয়ে তাদের জন্য কর্মসংস্থানের পথ সুগম করা জরুরি।

তা না হলে উচ্চশিক্ষা অর্জনের পরও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা বেকারত্বের দুঃচক্রে পড়ে থাকবে।

নিউ এইজের প্রথম পাতার খবর, 'Human smuggling to Malaysia as tourist surges' অর্থাৎ, 'ট্যুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়ায় মানবপাচার বেড়েছে'।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় বেআইনি উপায়ে লোক পাঠানোর ঘটনা সম্প্রতি বেড়ে গেছে, বিশেষ করে যখন কর্মী পাঠানো বন্ধ থাকায় অনেকেই 'ট্যুরিস্ট ভিসা' নিয়ে দেশটিতে ঢুকছে।

মালয়েশিয়া গত বছরের ৩১শে মে থেকে নিয়মিত শ্রমিক গ্রহণ বন্ধ করে দিলে হতাশ কর্মীপ্রত্যাশীরা দালালের মাধ্যমে বেআইনি পথে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করছে।

মালয়েশিয়ার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ মার্চ থেকে অন্তত ৭৭১ জন বিদেশিকে প্রবেশে বাধা দিয়েছে, যার মধ্যে ২৭০ জনই বাংলাদেশি। কারণ তারা পর্যটক হিসেবে ভিসার শর্ত পূরণ করতে পারেনি।

চট্টগ্রামের মোজাফফর নামে এক যুবক চার দশমিক আট লাখ টাকা খরচ করে মালয়েশিয়া যান পর্যটক সেজে, কাজের আশায়।

কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুত কাজ না পেয়ে, বরং দালালদের নির্যাতনের শিকার হয়ে আরও টাকা দিতে বাধ্য হন।

শেষে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয় এবং চার মাস জেল খেটে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ঘটনা আসলে পর্যটনের ছদ্মাবরণে মানবপাচার। দালালরা সহজ-সরল মানুষদের প্রতারণা করে পাচার করছে। ফলে তারা হয়ে পড়ছে কাগজপত্রহীন, এবং মানবপাচারকারীদের সহজ শিকার।

বিশেষজ্ঞরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে এবং মালয়েশিয়ায় নিয়মিত কর্মী পাঠানোর পথ আবার চালু করতে।