পত্রিকা: 'প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর জানা যাবে আজ'

Published
পড়ার সময়: ৮ মিনিট

মানবজমিনের প্রথম পাতার একটি খবরের শিরোনাম— প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর জানা যাবে আজ

খবরটিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পরই দিল্লি যান ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। সেখানে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদীর সাক্ষাৎ হয়।

নরেন্দ্র মোদির বার্তা নিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী গত শুক্রবার বিকালে ঢাকায় ফিরে এসেছেন।

সূত্রের খবর, ফিরতি বার্তা নিয়ে আজ রোববার দিনের যেকোনো সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন দীনেশ ত্রিবেদী।

তাদের এই সাক্ষাতের পরই জানা যাবে তারেক রহমান ভারত সফরে যাচ্ছেন, কি যাচ্ছেন না।

যদি নয়াদিল্লির তরফে ইতিবাচক বার্তা আসে, তাহলে এ মাসেই প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সম্ভাবনা বেশি।

তবে দিল্লির মনোভাব মনঃপূত না হলে ঢাকা বিকল্প সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

টাইমস অব বাংলাদেশের প্রধান খবর— Deadlock over Hasina: PM's India visit signals breakthrough; অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে শেখ হাসিনা ইস্যুতে অচলাবস্থা নিরসনে অগ্রগতি হতে পারে।

এ খবরে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ নিয়ে সমস্যার সমাধান করতে পারে।

একই সঙ্গে এটি আগামী দিনগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কের গতিপথ কোন দিকে যাবে, তা-ও নির্ধারণ করে দিতে পারে।

ভারতের আমন্ত্রণে চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে এই সফর হতে পারে। সফরটি হলে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মুখোমুখি আলোচনার একটি ভালো সুযোগ তৈরি হবে। এতে একে অপরের অগ্রাধিকার বোঝা সহজ হবে।

এছাড়া, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠার নতুন পথ মিলবে।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ভারতে চলে যাওয়া শেখ হাসিনা এ বছরের পাঁচা অগাস্ট একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে ফেরার কথা জানান।

এ বিষয়ে জানা সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশ সরকার যদি শেখ হাসিনার পর্যাপ্ত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে, তবে ভারত তার ফেরার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে রাজি আছে।

এই খবরে বলা হয়েছে, গ্যাস সংকট মেটাতে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার।

এরই মধ্যে মহেশখালীতে তৃতীয় এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে চীনের একটি প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আরো নতুন তিনটি এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কথা জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

যদিও গ্যাস সংকটের টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান নিশ্চিতে এলএনজি টার্মিনাল বাড়ানোর চেয়ে এ খাতে অনুসন্ধান বৃদ্ধি, মজুদ নিশ্চিতে কূপ খননের পাশাপাশি ত্রিমাত্রিক জরিপ ও রিগে বিনিয়োগ করার ওপর জোর দেওয়ার কথা বলছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

তাদের ভাষ্য, বিদ্যমান দুটি এলএনজি টার্মিনালের নানাবিধ সমস্যা এখন দৃশ্যমান। নতুন টার্মিনাল নির্মাণের ক্ষেত্রে বড় ব্যয়, অর্থনীতিতে বিভিন্নমুখী চাপ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন অনিশ্চয়তার মতো বিষয় রয়েছে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার এলএনজি আমদানি বাড়িয়ে দেশের অর্থনীতিতে বড় চাপ সৃষ্টি করে গেছে। এলএনজি আমদানিনির্ভরতার একই পথে হাঁটলে জ্বালানি খাত ভঙ্গুর পরিস্থিতি থেকে বের হতে পারবে না বলে মনে করেন তারা।

আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম— জুয়ায় দিনে ৩০ নতুন সাইট

এই খবরে বলা হয়েছে, দেশে একটি জুয়ার ওয়েবসাইট বন্ধ করা হলে কিছুদিন পর একই ধরনের আরেকটি সাইট হাজির। এভাবে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫টি জুয়ার সাইট খোলা হয়।

পুলিশের হিসাব বলছে, বর্তমানে দেশে ৫৮৬টি জুয়ার সাইট সক্রিয়। এসব জুয়ার ওয়েবসাইটে অবৈধ লেনদেনে ব্যবহৃত হচ্ছে ৩ হাজার ৮৬৪ টি মোবাইল ব্যাংকিং (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট। এতে দৈনিক ৩০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা লেনদেন হয়।

অনলাইন জুয়ায় লেনদেন হওয়া টাকার বড় অংশ ক্রিপ্টোকারেন্সি ও হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ বলছে, জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপস নিয়মিত বন্ধের জন্য বিটিআরসিতে তালিকা দেওয়া হয়। তারা বন্ধও করে, তবে জুয়াড়িরা নতুন সাইট খুলে আবার শুরু করে। তাই অনলাইন জুয়া একেবারে বন্ধ করা যাচ্ছে না। কারণ, সাইট ও অ্যাপের অনেকগুলোর নিয়ন্ত্রণ দেশের বাইরে।

বিটিআরসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৫ হাজার ১০৯ টি জুয়ার ওয়েবসাইট এবং ৪৫০টি অ্যাপ বন্ধ করেছে তারা।

নিউ এইজের দ্বিতীয় প্রধান খবর— ROHINGYA EXODUS: Bangladesh rejects Myanmar claim of only 5.4 lakh; অর্থাৎ ৫ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতির মিয়ানমারের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ।

এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার বিষয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

যেখানে রাখাইনের বাসিন্দা হিসেবে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া পাঁচ লাখ ৪০ হাজার ব্যক্তিকে ফেরত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

মিয়ানমারের দাবি, আরসার হামলার আগে বুথিদং, মংডু ও রাথিডং টাউনশিপে সাত লাখ ৪০ হাজারের বেশি 'বাঙালি' বসবাস করত। ঘটনার পর সেখানে দুই লাখের বেশি থেকে যায় এবং ৫ লাখ ৪০ হাজার বাংলাদেশে চলে যায়।

২০১৭ সালে বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা প্রবেশের পর এখানে বসবাসরত এই জনগোষ্ঠীর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য মিয়ানমারকে সরবরাহ করার কথা জানিয়েছেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। সেই সাথে মিয়ানমারের দাবি প্রত্যাখ্যান করার কথাও জানালেন।

'তবে অন্তত নয় বছর পর তারা যে একটি পদক্ষেপ নিয়েছে, সেটিকে আমরা স্বাগত জানাই'- যোগ করেন এই কর্মকর্তা।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতেও মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাসরত ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জনের একটি তালিকা ঢাকার জমা দেওয়ার কথা ওঠে আসে।

তালিকার মধ্যে ২০২৬ সালের ৩১শে জুলাই পর্যন্ত মিয়ানমার চার লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনকে যাচাই করেছে।

ওই তালিকার মধ্যে তিন লাখ আট হাজার ৭৯৭ জন রাখাইন রাজ্যের সাবেক বাসিন্দা বলে প্রমাণিত, চার হাজার ২৪১ জন 'সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত' বলে চিহ্নিত এবং এক লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

মিয়ানমারের এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার নির্ভরযোগ্যতাও নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ।

দ্য ডেইলি স্টারের প্রধান শিরোনাম— Shipbreaking yards: 'Green' on paper, deadly on ground; অর্থাৎ জাহাজ ভাঙার ইয়ার্ড কাগজে-কলমে 'পরিবেশবান্ধব', বাস্তবে প্রাণঘাতী।

এই খবরে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অনেক জাহাজ ভাঙা ইয়ার্ড কাগজে-কলমে পরিবেশবান্ধব হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও শ্রমিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকি কাটেনি। গত বছর দেশে হংকং কনভেনশন কার্যকর হওয়ার পর থেকে অন্তত ৮৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।

হংকং কনভেনশন হচ্ছে, নিরাপদ ও পরিবেশসম্মত উপায়ে জাহাজ পুনর্ব্যবহারসংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি, যা ২০০৯ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) কর্তৃক গৃহীত হয়। জাহাজ ভাঙার ফলে মানবস্বাস্থ্য, শ্রমিকের নিরাপত্তা বা পরিবেশের কোনো ক্ষতি যেন না হয় সেজন্যই হংকং কনভেনশন। ২০২৫ সালের ২৬শে জুন এটি কার্যকর করে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৬শে জুন থেকে চলতি বছরের ১৪ই অগাস্ট পর্যন্ত ৮৪টি দুর্ঘটনায় ১৫ জনের প্রাণ গেছে এবং ৮১ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন।

বেশিরভাগ দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে ভারী বস্তু ও গার্ডার খসে পড়া, ক্রেন ছিঁড়ে যাওয়া এবং গ্যাস বিস্ফোরণ।

দেশে বর্তমানে জাহাজ ভাঙার ইয়ার্ড চালু রয়েছে ৩১টি; যার মধ্যে ২৩টি পরিবেশবান্ধব স্বীকৃতি পেয়েছে এবং আটটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে।

গত শুক্রবার সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে একটি পুরোনো জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে, তাতে নয়জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনা কারখানাগুলোকে দেওয়া পরিবেশবান্ধব স্বীকৃতি এবং বাস্তবতার মধ্যকার ফারাককে আবারও সামনে তুলে ধরল।

সমকালের প্রধান শিরোনাম— সারের মজুত কমছে প্রভাব পড়ছে মাঠে

এই খবরে বলা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ তিন ধরনের নন-ইউরিয়া সার ডাই- অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি), ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) ও মিউরেট অব পটাশের (এমওপি) মজুত এরই মধ্যে নিরাপদ সীমার নিচে নেমে গেছে।

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সূত্র জানায়, এর মধ্যে ডিএপির ঘাটতি সবচেয়ে বেশি। ডিএপি সার সংকটের আশঙ্কায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে গত ২৬ জুলাই কৃষি মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে তারা।

বিভিন্ন জেলা থেকে কৃষকরা চাহিদামতো সার না পাওয়ার অভিযোগ করছেন। কোথাও কোথাও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতেও নন-ইউরিয়া সার আমদানির জন্য সরকার এখনও ক্রয়-সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করেনি।

পরিপত্র জারির পর এলসি খোলা, জাহাজে সার তোলা এবং দেশে পৌঁছাতে সাধারণত দুই থেকে তিন মাস সময় লাগে। ফলে এখন আমদানির উদ্যোগ নিলেও নতুন সার দেশে পৌঁছাতে অক্টোবর বা নভেম্বর লাগতে পারে।

এতে আমনের পরবর্তী পর্যায় এবং শীতকালীন ফসলের মৌসুমে সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরির শঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারের ঝুঁকি।

ঋণ আদায়ে বেক্সিমকোর সম্পত্তি নিলামে— যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর এটি।

এতে বলা হয়েছে, খেলাপি ঋণ আদায়ে বেক্সিমকোর বন্ধক রাখা জমি নিলামে তুলেছে রূপালী ব্যাংক।

১৯১ কোটি টাকা আদায়ে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে ২৬ একর জমি ও সম্পত্তি নিলামে ডাকা হয়েছে। তবে রূপালী ব্যাংকে বেক্সিমকোর মোট খেলাপি ঋণ ৪৮৩ কোটি টাকা।

এছাড়া, অন্য সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে গ্রুপটির খেলাপি ঋণ ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বেক্সিমকোর সম্পত্তি বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা আটকে যায়। এছাড়াও জিএমজি এয়ারলাইন্সের ঋণের বিপরীতে ২০১৬ সালে সালমান এফ রহমানের বাড়ি নিলাম ডেকেছিল সোনালী ব্যাংক।

তবে শেষ পর্যন্ত ক্রেতা মেলেনি। এই নিলামেও ক্রেতা পাওয়া কঠিন হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

প্রথম আলোর প্রধান খবর— গ্যাসের অভাবে শতাধিক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ

এই খবরে বলা হয়েছে, দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে নিত্যপণ্যসহ ওষুধ, সিরামিক, ইস্পাতসহ গ্যাসনির্ভর প্রায় সব কারখানায় উৎপাদন কমেছে।

অনেক কারখানায় উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।

সবচেয়ে বেশি সংকটে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও চট্টগ্রাম এলাকার কারখানাগুলো।

ওষুধ, ইস্পাত, হিমাগার খাতের কিছু কারখানা বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ডিজেল ব্যবহার করে সীমিত পরিসরে উৎপাদন চালু রেখেছে। এতে তাদের ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে।

গতকাল শনিবার নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, সাভার, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, হবিগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও খুলনা এলাকায় বিভিন্ন শিল্পকারখানার তথ্য নেয় দৈনিকটি। যেখানে দেশের বেশিরভাগ উৎপাদনমুখী বড় শিল্পকারখানা অবস্থিত।

তথ্য নিয়ে জানতে পারে, গ্যাস-সংকটের কারণে গত এক সপ্তাহে এসব অঞ্চলে ১০০টির বেশি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ নিত্যপণ্যের কারখানা।

বন্ধ হওয়া কারখানার মধ্যে বড় শিল্পগোষ্ঠীর কারখানাই অর্ধশতাধিক। এছাড়া, বন্ধ না হলেও উল্লেখযোগ্য হারে উৎপাদন কমেছে দেড় শতাধিক কারখানায়।

এই খবরে বলা হয়েছে, দেশের চলমান গ্যাস সঙ্কটকে দীর্ঘমেয়াদি অব্যবস্থাপনার ফল হিসেবে দেখছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, সাম্প্রতিক এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি, বৈরী আবহাওয়া কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা দিয়ে বর্তমান সঙ্কটের পুরো চিত্র ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।

এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের নীতিগত দুর্বলতা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে পর্যাপ্ত বিনিয়োগের অভাব এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সাথে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সমন্বয়হীনতা।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একের পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দেয়া হলেও এসব কেন্দ্র চালু রাখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক জ্বালানির দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

একই সময়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো, বঙ্গোপসাগরে অনুসন্ধান কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং গ্যাসের বিকল্প উৎস তৈরির উদ্যোগও প্রত্যাশিত গতি পায়নি।

ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়লেও জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়েনি। বরং এলএনজি ও অন্যান্য আমদানি করা জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।