বিবিসির মতে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা ১০টি আইকনিক জার্সি

জার্সি
    • Author, অ্যালেক্স বাইসাউথ
    • Role, বিবিসি স্পোর্ট
  • Published
  • পড়ার সময়: ৮ মিনিট

কেউ কেউ বলেন যে আপনি বিশ্বকাপ দিয়ে একটি জীবন পরিমাপ করতে পারেন।

চার বছর পরপর আসা এই টুর্নামেন্ট একজন উৎসুক শিশু থেকে আগ্রহী কিশোর এবং তার পরবর্তী জীবনের একেকটি মাইলফলক। মাথায় ঘোরে বিশ্বকাপের স্মৃতি - প্রিয় দল, আরাধ্য নায়ক, এবং তাদের পরা আইকনিক শার্টগুলো।

সেসব পোশাক যেন গল্প বলে। একেকটি জার্সি যেন সময় অতিক্রম করা শিল্পকর্ম।

কোন জিনিস এগুলোকে ফুটবলপ্রেমীদের মনে এত দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে?

এটি নিয়ে বলতে পারেন ম্যাথিউ উলফ।

তিনি সবচেয়ে বেশি পরিচিত ২০১৮ বিশ্বকাপে নাইজেরিয়ার জনপ্রিয় জার্সি এবং সেই টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের জার্সি ডিজাইন করার জন্য।

তবে এই মার্কিন ডিজাইনারের কাজের তালিকায় আছে প্যারিস সাঁ জার্মেই এবং আরও বহু ক্লাব।

১৯৯৮ সালে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে জাপান এবং মেক্সিকো উভয়ই স্মরণীয় জার্সি পরেছিল।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে জাপান এবং মেক্সিকো উভয়ই স্মরণীয় জার্সি পরেছিল

উলফ বলেন, "আমার সবচেয়ে প্রিয় ফুটবল জার্সিগুলোর বেশিরভাগই ৯০-এর দশক আর ২০০০ সালের শুরুর দিকের শৈশবস্মৃতি থেকে এসেছে।

"জীবনের সেই পর্যায়ে খেলোয়াড়দের সত্যিই সুপারহিরোর মতো মনে হয়, আর তাদের পোশাকগুলোও যেন জাদুকরী লাগে।

"মেক্সিকো ১৯৯৮, ইউএসএ ১৯৯৪, জার্মানি ১৯৯০ এবং ১৯৯৪, জাপান ১৯৯৮, ২০০২ সালের নাইকির সেট, এমনকি ২০০২ সালে ক্যামেরুনের স্লিভলেস (হাতাকাটা) টপ। এগুলো আমার কাছে বিশেষ কিট কারণ ছোটবেলায় এগুলো আমার কাছে কত বড় এবং দুর্দান্ত বলে মনে হয়েছিল।"

"কেউ একটি শার্ট পরে থাকার সময় কী ঘটেছিল, তার ওপর ভিত্তি করেও সেটি আইকনিক হয়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একটি ফুটবল কিটকে আমরা কীভাবে দেখি এবং মূল্যায়ন করি, সেটিও পরিবর্তিত হয়।"

"যদিও ইউনিফর্ম ডিজাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের নান্দনিকতা এবং সংস্কৃতির উপস্থাপন দেখা অনুপ্রেরণাদায়ক, এটি কনজিউমারিজম (ভোক্তাবাদ) সম্পর্কে প্রশ্ন তোলে; প্রকৃত সাংস্কৃতিক প্রকাশ বনাম পণ্যের চক্র কতটুকু এবং আমরা কত দ্রুত এই পোশাকগুলো বদলাচ্ছি, তা নিয়েও প্রশ্ন জাগে।"

শীর্ষ ১০টি আইকনিক বিশ্বকাপ কিটের র‍্যাঙ্কিং

এটি মাথায় রেখে, আমরা পেছন ফিরে তাকাতে যাচ্ছি। কিটগুলো সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করার সময় সবসময়ই এক ধরনের নস্টালজিয়া কাজ করে - শৈশবের সেই আবছা স্মৃতিগুলো যেন একটি সোনালী ফিল্টারের মাধ্যমে জীবন্ত হয়ে ওঠে।

৯০-এর দশক ও ২০০০ সালের শুরুর দিকের বর্ণিল প্রিন্ট আর ঢিলেঢালা জার্সি, কিংবা ৮০-এর দশকের শেষের ডিজাইনগুলো সহজেই জায়গা করে নিতে পারত।

তাই ভারসাম্য রাখার জন্য নিয়ম করা হয়েছে: একটি বিশ্বকাপ বা একটি দেশ থেকে একটির বেশি জার্সি নয়।


২০০২ সালে আফ্রিকা কাপ অফ নেশন্সে ক্যামেরুনের হাতাকাটা শার্ট পরে উদযাপন।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ২০০২ সালে আফ্রিকা কাপ অফ নেশন্সে ক্যামেরুনের হাতাকাটা শার্ট পরে উদযাপন

১০. ক্যামেরুন (২০০২)

এটি কিছুটা বিতর্কিত, কারণ এই জার্সি কখনও বিশ্বকাপে ব্যবহারই করা হয়নি।

কিন্তু ঠিক সেটাই একে স্মরণীয় করেছে।

আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে ক্যামেরুন হাতাবিহীন জার্সি ব্যবহার করেছিল, তবে ২০০২ বিশ্বকাপে এসে ফিফা ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়।

সাবেক মিডফিল্ডার এরিক জেম্বা-জেম্বা বিবিসি স্পোর্ট আফ্রিকাকে বলেন, "আফ্রিকার সবাই ওই জার্সি পরতে চাইত।"

এমনকি সেরেনা উইলিয়ামসও সেই গ্রীষ্মে ফ্রেঞ্চ ওপেনে নিষিদ্ধ কিট দ্বারা অনুপ্রাণিত একটি পোশাক পরেছিলেন - যদিও শার্টের পেছনে তার লাকি নম্বর ২৬ রাখার অনুরোধ আয়োজকরা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

এর পরিবর্তে, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের জন্য পুমার ডিজাইনে হাতা যুক্ত করতে বলা হয়েছিল - যা আপনি নিচে দেখতে পাচ্ছেন।

তবে এটিই শেষবার ছিল না যখন ক্যামেরুনের কিট ডিজাইনাররা ফিফা প্রধানদের ক্ষুব্ধ করেছিলেন - দুই বছর পর, শার্ট এবং শর্টস একসাথে সেলাই করে তৈরি একটি 'ওয়ানসি' কিট প্রকাশ করা হলে, সেটিও ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা দ্বারা নিষিদ্ধ হয়েছিল।

ক্যামেরন

ছবির উৎস, Getty Images

৯. ইংল্যান্ড (অ্যাওয়ে জার্সি, ১৯৬৬)

১৯৬৬ সালে ববি মুর বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে ধরেছেন

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ১৯৬৬ সালে ববি মুর বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে ধরেছেন।

থ্রি লায়ন্সদের লাল জার্সিটি আইকনিক কারণ এটি ইংল্যান্ডের জন্য কী প্রতিনিধিত্ব করে—তাদের একমাত্র বিশ্বকাপ জয়।

ওয়েম্বলির পবিত্র ঘাসে ঐতিহাসিক জয়, জিওফ হার্স্টের হ্যাটট্রিক, আর সেই বল যেটি হয়তো গোললাইন পেরিয়েছিল।

এই জার্সি দেখলেই মনে পড়ে সতীর্থদের কাঁধে জুলে রিমে ট্রফি উঁচিয়ে ধরা ববি মুরকে।

১৯৮২ ও ১৯৯০ সালের জার্সিও বিবেচনায় ছিল, কিন্তু তালিকায় যদি একটিই ইংল্যান্ড জার্সি থাকে, তাহলে সেটি এটিই।

৮. ফ্রান্স (১৯৮২)

ফ্রান্সের জিন টিগানা এবং জেরার্ড জ্যানভিয়ন।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ফ্রান্সের জিন টিগানা এবং জেরার্ড জ্যানভিয়ন

ফ্রান্স অধিনায়ক মিশেল প্লাতিনি ১৯৮২ সালের সেমিফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে পরাজয়ের স্মৃতি মনে করে বলেছিলেন:

"ওটাই ছিল আমার সেরা ম্যাচ। কোনো সিনেমা বা নাটক এত বৈপরীত্য ও আবেগ তুলে ধরতে পারবে না। এটা ছিল নিখুঁত। দুর্দান্ত।"

গোলরক্ষক হারাল্ড শুমাখারের ভয়াবহ ট্যাকল, অতিরিক্ত সময়ে ৩-৩ সমতা, আর বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম টাইব্রেকার।

সেভিলের প্রচণ্ড গরমেও পুরো ম্যাচজুড়ে ফ্রান্স ছিল স্থির, আর সেই ঐতিহাসিক পোশাকের মূল আকর্ষণ ছিল তাদের প্রধান জার্সি।

৭. নেদারল্যান্ডস (১৯৭৪)

জোহান ক্রুইফ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ইয়োহান ক্রুইফ

বিদ্রোহী, একগুঁয়ে এবং অসাধারণ স্টাইলিশ।

ইয়োহান ক্রুইফ ছিলেন নেদারল্যান্ডসের "টোটাল ফুটবল" বিপ্লবের মুখ।

১৯৭৪ বিশ্বকাপে আসার আগেই তিনি আয়াক্সের হয়ে তিনটি ইউরোপিয়ান কাপ এবং দুটি ব্যালন ডি'অর জিতেছিলেন।

ডর্টমুন্ডের ওয়েস্টফালেনস্টাডিওনে সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচে দলের অন্যদের জার্সির হাতায় ছিল অ্যাডিডাসের তিনটি স্ট্রাইপ।

কিন্তু ক্রুইফের ছিল দুটি।

কারণ তার ছিল পুমার সঙ্গে চুক্তি, আর তিনি অ্যাডিডাস বুট পরতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

অবশেষে বিভিন্ন পক্ষের বিরোধের পর তার জার্সি থেকে একটি স্ট্রাইপ সরিয়ে ফেলা হয়।

নিজের আত্মজীবনীতে ক্রুইফ লিখেছেন:

"কে-এন-ভি-বি খেলোয়াড়দের না জানিয়েই অ্যাডিডাসের সঙ্গে চুক্তি করেছিল।

"তারা ভেবেছিল এটা জরুরি নয়, কারণ জার্সিটি তাদের।

'কিন্তু এর ভেতর থেকে যে মাথাটা বের হয়, সেটা তো আমার,' আমি বলেছিলাম।"

৬. ক্রোয়েশিয়া (১৯৯৮)

ক্রোয়েশিয়া বিশ্বকাপ দলের ছবি ১৯৯৮।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ক্রোয়েশিয়া বিশ্বকাপ দলের ছবি ১৯৯৮

দাভর সুকার, ফ্রান্স ১৯৯৮, কাঁধ জুড়ে লাল-সাদা চেকার্ড নকশা।

অসাধারণ!

এই ডিজাইন দ্রুতই ক্রোয়েশিয়ার পরিচয়ে পরিণত হয় এবং মাঠে তাদের সহজেই আলাদা করে তোলে।

স্বাধীনতা ঘোষণার সাত বছর পর এটিই ছিল তাদের প্রথম বিশ্বকাপ।

সুকার, রবার্ট যার্নি, জভোনিমির ববান ও রবার্ট প্রসিনেচকিদের নিয়ে দলটি সেমিফাইনালে ওঠে।

সেই ম্যাচে স্বাগতিক ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রথমে এগিয়েও গিয়েছিল ক্রোয়েশিয়া, যদিও পরে ফরাসিরা ঘুরে দাঁড়ায়।

৫. নাইজেরিয়া (১৯৯৮)

নাইজেরিয়ার হয়ে আহমেদ মুসার উদযাপন।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, নাইজেরিয়ার হয়ে আহমেদ মুসার উদযাপন

২০১৮ সালের নাইজেরিয়া জার্সি ছিল বিশাল এক ঘটনা।

এটি এমন এক বিরল উদাহরণ, যেখানে মাঠের পারফরম্যান্সের কারণে নয়, বরং সংস্কৃতি ও ফ্যাশনে প্রভাব ফেলার মাধ্যমে একটি জার্সি তাৎক্ষণিক আইকনে পরিণত হয়েছিল।

এই জার্সির জন্য ৩০ লাখ মানুষ আগাম অর্ডার দিয়েছিল, আর বাজারে আসার পর লন্ডনে নাইকির প্রধান দোকানের সামনে ক্রেতাদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।

ডিজাইনার উলফ বলেন, "আমরা সরাসরি নাইজেরিয়ার জার্সির ইতিহাস থেকেই অনুপ্রাণিত হয়েছিলাম।

"২০০২ সালের জার্সির সেই উজ্জ্বল সবুজ রং আমি ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলাম। আর অবশ্যই ১৯৯৪-৯৫ সালের কিটও অনুপ্রেরণা ছিল।

"লক্ষ্য ছিল শূন্য থেকে নতুন কিছু বানানো নয়, বরং দেশের ফুটবল পরিচয়ের বিদ্যমান সূত্রগুলোকে এগিয়ে নেওয়া।

"সময়টাও ছিল নিখুঁত। ফ্যাশন, সংগীত, কবিতা, শিল্প ও চলচ্চিত্রে নাইজেরিয়া তখন বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক উত্থানের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। জার্সিটি সেই ঢেউয়ের মাঝেই আসে।"

৪. ব্রাজিল (১৯৭০)

ব্রাজিল দল বিশ্বকাপ ১৯৭০

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ব্রাজিল বিশ্বকাপ দল ১৯৭০

ফুটবলে ব্রাজিলের মতো আর কোনো দেশ হয়তো একটি রঙের সঙ্গে এতটা সমার্থক নয়।

পুরনো ও দানাদার ফুটেজেও ১৯৭০ সালের ক্যানারি-হলুদ জার্সি উজ্জ্বল ও দৃষ্টিনন্দন লাগে।

পেলে, কার্লোস আলবার্তো, রিভেলিনো, জাইরজিনহো।

পেলে, কার্লোস আলবার্তো, রিভেলিনো, জাইরজিনহো। প্রতিটি বিশ্বকাপে দেখানো আর্কাইভ ক্লিপগুলো দেখে মনে হয় যেন আপনি অ্যাজটেকায় বসে দুর্দান্ত ব্রাজিলিয়ানদের ইতালির বিরুদ্ধে জয় দেখছেন।

তাদের সুন্দর সাধারণ হলুদ শার্টগুলো ফুটবলের লোককথার এক মাস্টারপিস।

৩. যুক্তরাষ্ট্র (অ্যাওয়ে জার্সি, ১৯৯৪)

ইউএসএ অ্যাওয়ে শার্ট ১৯৯৪।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ইউএসএ অ্যাওয়ে শার্ট ১৯৯৪

যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯৪ বিশ্বকাপ আয়োজনের অধিকার পাওয়ার পর প্রাক্তন ইউএস সকার প্রেসিডেন্ট অ্যালান রোদেনবার্গ স্মরণ করেন, "আমাদের সীমান্তের বাইরে, বিশ্বের বেশিরভাগ ফুটবল অনুসারীদের কাছ থেকে অনেক সংশয় ছিল যারা মাথা চুলকে বলছিল: 'এই নন-সকার-নেশন কীভাবে এটি আয়োজন করতে পারে?"

খেলোয়াড়রা - যাদের বেশিরভাগই পেশাদার ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করার পরিবর্তে ইউএস সেন্ট্রাল চুক্তিতে ছিলেন - তারা হাসির পাত্র হতে চাননি।

কিন্তু যখন অ্যাডিডাস টুর্নামেন্টের জন্য কিটগুলো উন্মোচন করেছিল, তখন তেজোদ্দীপ্ত সেন্টার ব্যাক অ্যালেক্সি লালাস এবং তার সতীর্থরা ভেবেছিলেন যে তাদের সাথে প্র্যাঙ্ক বা মজা করা হয়েছে।

স্টোন-ওয়াশড ডেনিমজুড়ে ছড়ানো বড় আকারের তারাগুলো নিখাদ আমেরিকান হতে পারে, কিন্তু ফুটবলীয় অর্থে এটি ছিল দুঃসাহসী ও দাম্ভিক এবং দলটি ভয় পেয়েছিল যে তাদের উপহাস করা হবে। অন্তত একটি প্রস্তাবিত টাই-ডাই জার্সি শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়ায়নি।

২. আর্জেন্টিনা (অ্যাওয়ে জার্সি, ১৯৮৬)

আর্জেন্টিনা

ছবির উৎস, Getty Images

স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয় ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত দুটি গোলের সাক্ষী।

দিয়েগো ম্যারাডোনার "হ্যান্ড অব গড" এবং মাঝমাঠ থেকে শুরু করা অবিশ্বাস্য গোল, যেটিকে ফিফা "শতাব্দীর সেরা গোল" বলেছে।

কিন্তু সেদিন আর্জেন্টিনার গায়ে যে জার্সি ছিল, তার গল্পও সমান অবিশ্বাস্য।

ফিফা আর্জেন্টিনাকে জানায় যে, ইংল্যান্ডের সাদা জার্সির সঙ্গে বিভ্রান্তি এড়াতে তাদের গাঢ় নীল বিকল্প জার্সি পরতে হবে।

কিন্তু আগের ম্যাচে খেলোয়াড়রা সেই জার্সিকে মেক্সিকোর গরমে ভারী ও অস্বস্তিকর মনে করেছিলেন।

নির্মাতা লে কক স্পোর্তিফের কাছে বিকল্প না থাকায় কোচ কার্লোস বিলার্দো মেক্সিকো সিটির তেপিতো এলাকায় লোক পাঠান নতুন জার্সি খুঁজতে।

কথিত আছে, শেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ম্যারাডোনা নিজেই।

তিনি বলেছিলেন:

"কী সুন্দর এই জার্সি। এটা পরেই আমরা ইংল্যান্ডকে হারাব!"

ম্যাচের আগের ২৪ ঘণ্টা জার্সিগুলোতে নম্বর ও জাতীয় প্রতীক সেলাই করতেই কেটে যায়।

ছত্রিশ বছর পর ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার স্টিভ হজ সেই ম্যাচে ম্যারাডোনার সঙ্গে বদল করা জার্সিটি নিলামে তোলেন।

এটি বিক্রি হয় ৭ দশমিক ১ মিলিয়ন পাউন্ডে (৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)।

আর্জেন্টিনা

ছবির উৎস, Getty Images

১. পশ্চিম জার্মানি (১৯৯০)

জার্মানি

ছবির উৎস, Getty Images

এক নম্বরে রয়েছে ডিজাইনের এক ক্লাসিক।

সংগ্রাহকদের অত্যন্ত কাঙ্ক্ষিত এই জার্সিকে প্রায়ই নতুন প্রজন্মের ফুটবল জার্সির সূচনা হিসেবে ধরা হয়।

বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের 'স্পোর্টিং উইটনেস'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে 'আ কালচার অফ কিটস' বইয়ের লেখক জন ব্লেয়ার বলেন, "সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে জার্সিগুলোকে দেখতে হতো। কারণ তখন শার্টের ডিজাইন ছিল বেশ সাধারণ ও সাদামাটা। এটি সেই যুগের অন্যতম সেরা ডিজাইন, একটি বিজয়ী দল এবং প্রথমবারের মতো ফুটে ওঠা এক চমৎকার শৈল্পিক ভাবনার সংমিশ্রণ।"

তবে, এই জার্সিটি প্রায় বাদই পড়ে গিয়েছিল। ইউরো ৮৮-তে যখন আয়োজক দেশ সেমিফাইনালে হেরে যায়, তখন প্রথম এই জার্সিটি পরা হয়েছিল।

ডিজাইনার ইনা ফ্রাঞ্জম্যান নতুন একটি ডিজাইন করার কাজ শুরুও করেছিলেন, কিন্তু প্রধান কোচ ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার তাতে বাধা দিয়ে বলেন যে, তিনি আগের ডিজাইনটিই রাখতে চান।

ফ্রান্সমান, যিনি অ্যাডিডাসের জন্য টেনিস পোশাকও ডিজাইন করতেন এবং নিজে ফুটবলের ভক্ত ছিলেন না, তাকে জাতীয় দলের জার্সিতে "ছোট্ট একটি বিপ্লব" আনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, "হর্স্ট ড্যাসলারই প্রথম একটু রং ব্যবহারের ধারণা দেন। তাই জার্মানির রং ব্যবহার করাই স্বাভাবিক ছিল।"

ড্যাসলার ১৯৮৭ সালে মারা যান, ফলে ইতালি '৯০-এ পশ্চিম জার্মানির বিশ্বকাপ জয়ের দৃশ্য তিনি দেখে যেতে পারেননি।

ফ্রান্সমান বলেন:

"এই জার্সি অনেক বছর পর এসে এক শিল্পকর্মে পরিণত হয়েছে।

"এটি নিয়ে মানুষের এত আগ্রহ দেখে আমি খুব গর্বিত। সবাই এর পেছনের গল্প জানতে চায়।"