আর্জেন্টিনা আর ইংল্যান্ড ম্যাচ ঘিরে যেসব তথ্য জেনে রাখতে পারেন

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল

ছবির উৎস, Getty Images

    • Author, সৈয়দ ফায়েজ আহমেদ
    • Role, অতিথি লেখক, বিবিসি নিউজ বাংলা
  • Published
  • পড়ার সময়: ৬ মিনিট

ফুটবল খেলার মাঠ এবং মাঠের বাইরের রাজনীতির কারণে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের মধ্যে খেলা হলেই তা উত্তেজনা ছড়ায়। আর যদি তা হয় বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচ তবে সে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠে যাবে।

এমনটিই হতে যাচ্ছে বুধবার (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ১টায়)। জর্জিয়ার আটালান্টা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে এই দুই দল।

গতবারের চ্যাম্পিয়ান আর্জেন্টিনা আরো একটি ফাইনাল খেলার জন্য উজ্জীবিত হয়ে থাকবে, আর ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপ জিততে না পারা ইংল্যান্ড উন্মুখ হয়ে থাকবে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠার জন্য।

আর্জেন্টিনার জন্য এবারও উজ্জীবনার মূল উৎস লিওনেল মেসি। গত বিশ্বকাপে দুর্দান্তভাবে ৩৬ বছরের খরা কাটিয়ে দলকে বিশ্বকাপ এনে দেওয়ার পর, ৩৯ বছর বয়সি এই মহাতারকা এই বিশ্বকাপেও অসাধারণ পারফরম্যান্স করে যাচ্ছেন।

এ যাবৎ টুর্নামেন্টে ৮ গোল দিয়ে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার, গোল্ডেন বুটের অন্যতম দাবিদার হয়ে আছেন, এবং ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২১ গোল করে রেকর্ড করেছেন।

মেসির এই অনবদ্য পারফরম্যান্সের উপর ভর করেই আর্জেন্টিনা একের পর এক ম্যাচে জিতে এই পর্যায়ে এসেছে।

এই বিশ্বকাপটা প্রায় নিশ্চিতভাবেই মেসির শেষ বিশ্বকাপ, ফলে পুরো দল আবারও চাইবে মেসির হাতে আরো একবার বিশ্বকাপ তুলে দিয়ে তাঁকে সর্বকালের সেরাদের কাতারে আরো উঁচুতে তুলে ধরতে।

অন্যদিকে ইংল্যান্ডও এবার মরিয়া হয়ে খেলছে। দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দুর্দান্ত হ্যারি কেইন। সঙ্গে আছেন একগাদা অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়, যারা একজোট হয়ে একের পর এক ম্যাচ জিতে চলেছেন। জুড বেলিংহাম দারুণ ফর্মে আছেন। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে গোল করছেন। সর্বোপরি, এই ইংল্যান্ডকে দেখে মনে হচ্ছে, তারা যে কোনো চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত।

তবে, ইংল্যান্ডের সামনে কেবল মেসিই নয়, চ্যালেঞ্জ হতে পারে গোটা আর্জেন্টিনা দলই। যদিও এই টুর্নামেন্টে এখনো পর্যন্ত সব ম্যাচে তেমনভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি, তবে, রদ্রিগো দে পল, এনজো ফের্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক এলিস্টার ও লিয়ান্দ্রো পারেদেস মিলে প্রতিপক্ষের মাঝমাঠকে দমবন্ধ করে রাখার সক্ষমতা রাখেন।

ছোট ছোট পাস ও নড়াচড়ার মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে টেনে এনে ফাঁকা জায়গা তৈরি করে গোলের সুযোগ তৈরি করতে এই মিডফিল্ডাররা সিদ্ধহস্ত।

এই দলের আরেকটি শক্তির জায়গা তাদের অভিজ্ঞতা ও ঐক্য। আর্জেন্টিনার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান কোচ লিওনেল স্কালোনি প্রায় গতবারের স্কোয়াড নিয়েই এবার হাজির হয়েছেন।

১৯৮৬ সালে ইংল্যান্ডের সাথে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে ম্যারাডোনা হাত দিয়ে গোল দেওয়ার সেই ঘটনা ঘটেছিল।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ১৯৮৬ সালে ইংল্যান্ডের সাথে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচে ম্যারাডোনার হাত দিয়ে গোল দেওয়ার সেই ঘটনা ঘটেছিল।
স্কিপ করুন বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল পড়ুন
আপনার হোয়াটসঅ্যাপে বিবিসি বাংলা।

বিবিসি বাংলার সর্বশেষ খবর ও বিশ্লেষণ এখন সরাসরি আপনার ফোনে।

ফলো করুন, নোটিফিকেশন অন রাখুন

বিবিসি বাংলার সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ বিবিসি বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল

দীর্ঘদিন একসাথে খেলায় এই দলের খেলোয়াড়দের বোঝাপড়া দারুণ। তবে, এর উলটো দিকে এই দলে কিছুটা তারুণ্য ঘাটতি আছে যা এই টুর্নামেন্টে দলটিকে ভুগিয়েছে। গতিশীল দলের বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনা হিমশিম খেয়েছে।

রক্ষণভাগে ক্রিস্তিয়ান রোমেরো ভুল করার প্রবণতা দেখিয়েছেন, আর লিসান্দ্রো মার্তিনেজ এরিয়াল বলে দুর্বলতা দেখিয়েছেন। কেপ ভার্দে, মিশর ও সুইজারল্যান্ড, তিন প্রতিপক্ষই আর্জেন্টিনার রক্ষণের দুর্বলতা প্রকাশ করে দিয়েছে।

এছাড়াও, দলটি ম্যান মার্কিং না করে জোনাল মার্কিং করায় অনেকসময় ক্রস ও দ্রুত গতিতে ঢোকা বিপক্ষ ফরোয়ার্ডদের সামলাতে বেগ পেতে হয়।

আর্জেন্টিনার জন্য ভীতিকর হয়ে উঠতে পারেন কেইন ও বেলিংহ্যাম জুটি, যারা মিলে এখনো পর্যন্ত ইংল্যান্ডের ১৩ গোলের মধ্যে ১২টিই করেছেন, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে কোনো জুটির সর্বোচ্চ গোলসংখ্যার রেকর্ড। বেলিংহ্যাম টানা দুই নকআউট ম্যাচে জোড়া গোল করে ১৯৮৬ সালের পর দিয়েগো মারাদোনার পর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই কীর্তি গড়েছেন।

এছাড়াও তরুণ স্ট্রাইকার এন্থনি গর্ডন দারুণ খেলছেন। নিয়মিত বলের জোগান দিচ্ছেন কেন ও বেলিংহ্যামকে। আর মধ্য মাঠকে নিশ্ছিদ্র রাখাই শুধু না, মাঝে মাঝে প্রতিপক্ষের সীমানায় গিয়েও ভীতি ছড়াচ্ছেন প্রিমিয়ার লীগ চ্যাম্পিয়ান আর্সেনালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ডেকলান রাইস।

এছাড়াও এই ইংল্যান্ড দলটি সেটপিস তথা ফ্রি কিক ও কর্নার থেকে বিপজ্জনক অবস্থা তৈরি করতে পারে। এই দলের আরেকটি শক্তিশালী দিক হচ্ছে বদলি খেলোয়াড়েরা। বুকায়ো সাকা, মর্গান রজার্সরা বদলি নেমে খেলার ফলাফল নিজেদের দিকে নিয়ে আসার মতো ক্ষমতা রাখেন। যুক্তরাষ্ট্রের গরমে এই টুর্নামেন্টে বদলি খেলোয়াড়েরা এই টুর্নামেন্টে বড়ো ভূমিকা রেখেছেন।

তবে, ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শক্তি দলটির মানসিক দৃঢ়তা। জার্মান কোচ টমাস টুখেলের অধীনে দলটি প্রতিটি নকআউট ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছে, তবু বারবার ফিরে এসেছে। স্বাগতিক মেক্সিকোর বিপক্ষে ১০ জনে খেলেও ৩-২ জয়, নরওয়ের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও অতিরিক্ত সময়ে জয় এই দলের দারুণ মানসিক শক্তির প্রমাণ।

অবশ্য গোলপোস্টে জর্ডান পিকফোর্ডকে মাঝে মাঝে একটু নড়বড়ে দেখা গেছে। টানা কয়েকটি উত্তেজনার এবং অতিরিক্ত সময়ের ম্যাচ খেলে দলটি ক্লান্তও হতে পারে। তবে, এই ধকল আর্জেন্টিনাকেও সইতে হয়েছে। তবে, সেমিফাইনালের মতো আসরে দুই দলের খেলোয়াড়রাই নিজেদের শেষ শক্তিটুকু নিংড়ে দিয়ে খেলবে।

আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনি টুর্নামেন্ট জুড়ে ৪-৪-২ বা ৪-১-৩-২ ফরমেশন ব্যবহার করেছেন, তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-৫-২ বা ৪-২-৩-১-এ পরিবর্তনের কথাও ভাবছেন বলে জানা গেছে, যাতে মাঝমাঠে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ পাওয়া যায়।

১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড শুধুমাত্র একবার বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল, অন্যদিকে আর্জেন্টিনা এই শিরোপা পেয়েছে তিনবার

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ড শুধুমাত্র একবার বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল, অন্যদিকে আর্জেন্টিনা এই শিরোপা পেয়েছে তিনবার

সম্ভাব্য পরিকল্পনায় লাউতারো মার্তিনেজ বা হুলিয়ান আলভারেজ মূল স্ট্রাইকার, আর মেসি দ্বিতীয় স্ট্রাইকার হিসেবে নিচে নেমে খেলবেন, যাতে প্রতিপক্ষের রক্ষণের পেছনের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগানো যায়।

আর্জেন্টিনার লক্ষ্য থাকবে মাঝমাঠে বল দখলে রেখে ছোট পাস ও দ্রুত নড়াচড়ার মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে টেনে আনা, এরপর টেকনিক্যাল দক্ষতা দিয়ে ফাঁকা জায়গায় খেলা তৈরি করা এবং বলের নিয়ন্ত্রণ রাখতে প্রেসিং করে যাওয়া।

অন্যদিকে ইংল্যান্ডের কোচ টুখেল সম্ভবত ৪-২-৩-১ ফরমেশনে খেলাবেন যেখানে ডেকলান রাইস ও এলিয়ট অ্যান্ডারসন ডাবল পিভটে, তাদের সামনে সাকা, বেলিংহ্যাম ও অ্যান্থনি গর্ডন, আর সবার ওপরে কেইন।

মোটা দাগে ইংল্যান্ডের অন্যতম লক্ষ্য হবে মেসিকে আটকানো, আর আক্রমণে মাঠের দুইপাশ ব্যবহার করে উইং দিয়ে ঢোকা ও ক্রস করা। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা চাইবে শুধু মেসি নয়, অন্য খেলোয়াড়েরা জ্বলে উঠুক এবং ইংল্যান্ডের গতির বিপরীতে মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ফাঁকা জায়গার ব্যবহার।

আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্বে দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে মাত্র এক গোল হজম করেছিল। তবে নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচেই তাদের কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে। রাউন্ড অব ৩২ এ কেপ ভার্দের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে গোল করে ৩-২ গোলে জয় পেয়েছে।

রাউন্ড অফ ১৬তে মিশরের বিরুদ্ধে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ গোলে নাটকীয় প্রত্যাবর্তন করেছে। আর কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ছন্নছাড়া ফুটবল খেললেও, ইউরোপের দলটি লাল কার্ডে দশজনের দলে পরিণত হলে অতিরিক্ত সময়ে দুই গোল দিয়ে ৩-১ গোলে জেতে আর্জেন্টিনা।

অন্যদিকে ইংল্যান্ডের যাত্রাও মসৃণ ছিল না। গ্রুপে এ শীর্ষে থাকলেও ঘানার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছিল। রাউন্ড অব ৩২ এ কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে কেইনের গোলে উদ্ধার পায়। রাউন্ড অব ১৬তে মেক্সিকোর বিপক্ষে আজতেকা স্টেডিয়ামে একটি লম্বা সময় ১০ জনে খেলেও রক্ষণাত্মক মাস্টারক্লাস দেখিয়ে ৩-২ জয়, আর কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও জয়, জোড়া গোলে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ জয় পায়।

ইংল্যান্ড  ও আর্জেন্টিনা দল

ছবির উৎস, Getty Images

পারিসাংখ্যিকভাবে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছে। নকআউট পর্বে দুই দলের প্রতিটি ম্যাচেই প্রচুর গোল হয়েছে। তবে, দুইদলই রক্ষণ নিয়ে কিছুটা চিন্তায় থাকবে। এই ম্যাচেও প্রচুর গোল দেখার আশা করবেন দর্শকেরা।

আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড এই নিয়ে ষষ্ঠবার বিশ্বকাপে মুখোমুখি হচ্ছে। সার্বিক পরিসংখ্যানে ইংল্যান্ড এগিয়ে ৩-২ ব্যবধানে। প্রায় প্রতিটা ম্যাচেই স্মরণীয় ঘটনা ঘটেছে, সবচেয়ে স্মরণীয় হয়ে আছে ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনাল, যেখানে দিয়েগো মারাদোনা একই সাথে বিতর্কিত হ্যান্ড অফ গড ও গোল অফ দ্যা সেঞ্চুরি করে দলকে ২-১ গোলে জিতিয়েছিলেন।

তবে, গত দুই দশক ধরে এই দুই দল মুখোমুখি হয়নি। সবশেষ মুখোমুখি লড়াই হয়েছিল ২০০৫ সালে জেনেভায় একটি প্রীতি ম্যাচে, যেখানে ইংল্যান্ড ২-১ পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে ৩-২ গোলে জিতেছিল। সেই ম্যাচে ১৮ বছর বয়সি মেসি সাসপেনশনে থাকায় খেলতে পারেননি। ফলে, বুধবারের ম্যাচই হবে তার ক্যারিয়ারে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম মুখোমুখি লড়াই।

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড রেষারেষি ফুটবলের সবচেয়ে তিক্ত ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি, যার শিকড় প্রায় দুই শতাব্দী পুরোনো এবং রক্তক্ষয়ী ইতিহাসের সঙ্গেও জড়িত।

দুই দেশের ফুটবল সম্পর্কের শুরু ব্রিটিশ রেলওয়ে শ্রমিকদের হাত ধরে। ১৮৬৭ সালে আর্জেন্টিনায় প্রথম রেকর্ডকৃত ফুটবল ম্যাচ খেলেছিল ব্রিটিশ শ্রমিকরা, আর নিউয়েলস ওল্ড বয়েজ ও রোজারিও সেন্ট্রালের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোরও ব্রিটিশ যোগসূত্র আছে। ১৯৫১ সালে ওয়েম্বলিতে স্কটল্যান্ডের পর আর্জেন্টিনাই ছিল দ্বিতীয় দেশ, যারা সেখানে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে (ইংল্যান্ড ২-১ জয়ী)।

তবে প্রাথমিক এই সৌহার্দ্য ধীরে ধীরে তিক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপ নেয়, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে। ১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ (আর্জেন্টাইনদের কাছে যা "লাস মালভিনাস" নামে পরিচিত) নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘাত হয়। আর্জেন্টাইন সেনারা এই ব্রিটিশ দ্বীপ আক্রমণ করলে ৭৪ দিনের যুদ্ধ শুরু হয়, যাতে দুই পক্ষ মিলিয়ে ৯০০-র বেশি মানুষ প্রাণ হারান।

এই যুদ্ধের চার বছর পর, ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে দুই দল মুখোমুখি হয়। সেখানেই মারাদোনা জ্বলে উঠেন। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে এই ম্যাচকে অনেকেই মাঠের বাইরে যুদ্ধের এক প্রতীকী "প্রতিশোধ" হিসেবেও দেখেন।

এই দুই দল ১৯৯৮ সালে আবার মুখোমুখি হয়, এবং সেবার ইংল্যান্ডের তারকা ডেভিড বেকহ্যাম বিতর্কিতভাবে লাল কার্ড দেখলে উত্তেজনা মাঠ পেরিয়ে মিডিয়ার প্রধান আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এর চার বছর পর বেকহ্যাম পেনালটি থেকে গোল দিয়ে সেই ম্যাচের হারের শোধ নেন।

এবারের খেলাটি আরো বেশী উত্তেজনা নিয়ে আসবে। এই ম্যাচের বিজয়ী ফাইনালে উঠে যাবে। আর তাই দুই দলেরই মূলমন্ত্র হবে বিনা যুদ্ধে নাহি দেব সূচ্যগ্র মেদিনী।

জয়ী দল ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে, যারা প্রথম সেমিফাইনালে দুর্দান্ত খেলে বিদায় করে দিয়েছে টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্সকে।