বাখমুতে পিছু হটছে ইউক্রেন, মারিউপোল সফরে রুশ মন্ত্রী শোইগু

ছবির উৎস, Getty Images
ইউক্রেনের বাহিনী বাখমুতের লড়াই থেকে সীমিতভাবে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে – বলছে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার (আইএসডব্লিউ)
পূর্ব ইউক্রেনের এই শহরটিতে গত সাত মাস ধরে যুদ্ধ চলছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে এখানে রাশিয়া বিজয় পেলে তা হবে তাদের ব্যয়বহুল শীতকালীন অভিযানের প্রথম বড় পুরস্কার।
টুইটারে রাশিয়া যুদ্ধের সবশেষ আপডেটে এ কথা জানিয়ে আইএসডব্লিউ বলছে, ইউক্রেন এখনো এগিয়ে আসতে থাকা রুশ বাহিনীর ‘উচ্চমাত্রার ক্ষয়ক্ষতি’ ঘটাচ্ছে।
ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানে প্রকাশিত আইএসডব্লিউর মূল্যায়নে বলা হয়, “ইউক্রেন ঠিক কী চাইছে তা বলার সময় এখনো আসেনি, তবে বাখমুতের প্রতিরক্ষা এখনো কৌশলগতভাবে মজবুত রয়েছে এবং ইউক্রেনীয় বাহিনী হয়তো লড়াই করতে করতে ক্রমান্বয়ে সরে যাচ্ছে” – যাতে শহর এলাকায় যুদ্ধ চালিয়ে রুশ বাহিনীকে ক্লান্ত করে ফেলা যায়।
যদিও ইউক্রেনের সৈন্যরা সক্রিয়ভাবে সরে যাচ্ছে কিন্তু তবু রুশ বাহিনী শহর এলাকায় লড়াই চালিয়ে দ্রুতগতিতে খুব বেশি ভূখন্ড দখল করতে পারবে এমন সম্ভাবনা কম – বলছে আই এস ডব্লিউ।
মারিউপোল সফরে রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী শোইগু

ছবির উৎস, Getty Images
রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু এক বিরল সফরে অধিকৃত ইউক্রেনের মারিউপোল শহরে এসেছেন।
রাশিয়ার প্রকাশ করা এক ভিডিওতে দেখা যায়, মি শোইগু দৃশ্যতঃ নতুন -তৈরি কিছু স্থাপনা পরিদর্শন করছেন।
রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয় বলছে, মি শোইগুকে একটি পাইপলাইন নির্মাণের ব্যাপারে অবহিত করা হয় – যা রাশিয়ার ডন নদী থেকে অধিকৃত দোনেৎস্ক অঞ্চলে পানি নিয়ে যাবে।
গত বছর ইউক্রেন যুদ্ধের সবচেয়ে মারাত্মক লড়াইগুলোর একটি হয়েছিল মারিউপোলে এবং রুশ বাহিনী শহরটিকে প্রায় ধূলিসাৎ করে দিয়েছিল।
সী অফ আজোভের তীরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মারিউপাল বন্দরটির ওপর রুশ আক্রমণে হাজার হাজার ইউক্রেনীয় বেসামরিক লোক নিহত হয়, পালাতে বাধ্য হয় আরো কয়েক লক্ষ লোক।
জাতিসংঘ অনুমান করছে যে ওই যুদ্ধে শহরটির ৯০ শতাংশ আবাসিক ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ছবির উৎস, Getty Images
'বেইমানি'র অভিযোগ তুললেন প্রিগোশিন
ইউক্রেনে যুদ্ধরত রাশিয়ার ভাড়াটে বাহিনী ওয়াগনারের প্রধান বলছেন, তারা বাখমুত শহরের নিয়ন্ত্রণ দখলের যুদ্ধে মস্কোর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অস্ত্রশস্ত্র পাচ্ছেন না।
পূর্বাঞ্চলীয় এ শহরটি দখলের জন্য নিয়মিত রুশ সেনাবাহিনী ও ওয়াগনার গ্রুপের যোদ্ধারা লড়াই করছে।
তবে গ্রুপটির প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোশিন পর্যাপ্ত গোলাবারুদ না থাকার অভিযোগ করে বলেছেন, “এটা আমলাতান্ত্রিক কারণে হতে পারে, আবার বেইমানিও হতে পারে।“
রোববার এক পোস্টে মি. প্রিগোশিন বলেন, ২২শে ফেব্রুয়ারি দলিলপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে যাতে পরের দিনই বাখমুতে গোলাবারুদ পাঠানোর কথা ছিল, কিন্তু তার অধিকাংশই এখনো পাঠানো হয়নি।
তিনি বলেন, এটা ইচ্ছাকৃতভাবেও করা হয়ে থাকতে পারে।
শনিবার পোস্ট করা আরেক ভিডিওতে মি. প্রিগোশিন বলেন, তার যোদ্ধারা ভয় পাচ্ছে যে রাশিয়া ইউক্রেনের যুদ্ধে হেরে গেলে তাদেরকেই হয়তো বলির পাঁঠা করা হতে পারে।
বাখমুতের গুরুত্ব 'প্রতীকী'
অন্যদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন বলেছেন, বাখমুতের পতন হলেও এর এমন অর্থ করা যাবে না যে রাশিয়া এ যুদ্ধের গতিপথ ঘুরিয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, বাখমুতের গুরুত্ব অনেকটা প্রতীকী এবং এর কৌশলগত বা ‘অপারেশনাল’ গুরুত্ব ততটা নেই।
কিয়েভ জানিয়েছে, রোববার তারা শত্রুপক্ষের ১৩০টিরও বেশি আক্রমণ প্রতিহত করেছে এবং রুশ সৈন্যরা বাখমুতকে ঘিরে ফেলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ।
ইউক্রেনের অন্যান্য অংশেও যুদ্ধ চলার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় মিডিয়ার খবরে বলা হয় গত ২৪ ঘন্টায় রুশ বাহিনী দোনেৎস্ক অঞ্চলে ২৯টি আঘাত হেনেছে এবং সেখানেকার ১৪টি বসতিতে গোলাবর্ষণ করেছে।
এর মধ্যে ক্রামাটরস্ককে একটি স্কুলে রকেট হামলা হয়েছে এবং ১৫টি ফ্ল্যাটবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।











