আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
পত্রিকা: অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর এখনো উদ্ধার হয়নি দেড় হাজার অস্ত্র
ইত্তেফাক পত্রিকার প্রথম পাতার শিরোনাম- অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছর এখনো উদ্ধার হয়নি দেড় হাজার অস্ত্র
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- বর্তমান সরকারের এই এক বছরে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে পুলিশ বাহিনীকে।
গত বছরের ৫ আগস্ট থানা ও স্টেশনগুলো ফেলে পালিয়ে গিয়েছিল পুলিশ সদস্যরা। লুট হয়েছিল তাদের আগ্নেয়াস্ত্র। লুট হওয়া অস্ত্রের একটা অংশ উদ্ধার হলেও এখনো প্রায় দেড় হাজার আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়নি।
যেগুলো অপরাধীদের কাছে চলে গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন। আগামী নির্বাচনের আগে এই অস্ত্র উদ্ধার করতে না পারলে নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই।
এমন পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী গতকাল রোববার সাংবাদিকদের বলেছেন, গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর যেসব অস্ত্র হারিয়ে গেছে বা লুট হয়েছে, তা উদ্ধারের ব্যাপারে একটা পুরস্কারও ঘোষণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আসন্ন নির্বাচনের আগে এসব অস্ত্র উদ্ধার করতে না পারলে বড় রকমের হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। তাই নির্বাচনকে সামনে রেখে লুটের অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের বিকল্প নেই।
পুলিশের তথ্য বলছে, উদ্ধার না হওয়া বিপুলসংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র অপরাধীদের হাতে চলে গেছে বহু আগেই।
সর্বশেষ গত ২৮ মে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানা এলাকা থেকে মো. পারভেজ ও রিয়াজুর রহমান নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় দুই জনের কাছ থেকে ধারালো দেশীয় অস্ত্রসহ একটি রিভলভার ও গুলি উদ্ধার করে পুলিশ।
ইংরেজি পত্রিকা NEW AGE এ প্রকাশিত প্রধান শিরোনাম- SMART DRIVING LICENCE: 7.5 lakh cards not printed অর্থাৎ স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স: সাড়ে সাত লাখ কার্ড ছাপানো হয়নি
এখানে বলা হয়েছে, প্রায় সাড়ে সাত লাখ স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স কার্ড মুদ্রণের অপেক্ষায় রয়েছে, যার ফলে ভোগান্তিতে পড়ছে জনগণ।
চলতি বছরের জুলাই মাসে আগের ঠিকাদার কোম্পানির সাথে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও, এখনও নতুন কোম্পানি নিয়োগের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেনি, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি।
বর্তমানে, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স কার্ড দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে, সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ ২৯ জুলাই, ২০২০ তারিখে চেন্নাই-ভিত্তিক ভারতীয় কোম্পানি মাদ্রাজ সিকিউরিটি প্রিন্টার্স প্রাইভেট লিমিটেডের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে, যাতে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স কার্ড ক্রয় এবং মুদ্রণ করা যায়।
এই পটভূমিতে, ২০২২ সালের ২৬শে সেপ্টেম্বর সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত তৎকালীন সংসদীয় স্থায়ী কমিটি স্মার্ট ড্রাইভিং লাইসেন্স কার্ড মুদ্রণ ও বিতরণের বিলম্ব এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং দ্রুত বিতরণের ব্যবস্থা করার সুপারিশ করে।
মাদ্রাজ ফার্মের সাথে চুক্তির মেয়াদ এই বছরের ২৮ জুলাই শেষ হয়েছে, যদিও রবিবার পর্যন্ত এই কাজের জন্য কোনও নতুন কোম্পানি নিয়োগ করা হয়নি।
বিআরটিএ কর্মকর্তাদের মতে, প্রথমে নতুন ঠিকাদার কোম্পানি নিয়োগের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হবে।
এদিকে, আগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা দুই দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল, বিআরটিএ প্রকৌশল বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
বণিক বার্তা পত্রিকায় আজকের প্রধান সংবাদ- জিয়াউর রহমানের উদ্যোগ বাতিল করেন এরশাদ- এসএসপি অকার্যকরে প্রশাসন ক্যাডারের কর্তৃত্ব আরো পাকাপোক্ত হয়
এতে বলা হয়েছে- সরকারের উচ্চপদে পদায়নে বৈষম্য নিরসনসহ বেশকিছু লক্ষ্য নিয়ে সিনিয়র সার্ভিস পুল (এসএসপি) চালু করেছিলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
জনমুখী, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দক্ষ প্রশাসন কাঠামো গড়ে তুলতে এসএসপির মাধ্যমে সে সময় লিখিত পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে উচ্চপদের জন্য বিভিন্ন ক্যাডারের মধ্যে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়।
এতে জনপ্রশাসনে প্রশাসন ক্যাডারের প্রাধান্য কমে যাওয়ার বাস্তবতা তৈরি হয়। তাই সে সময় প্রশাসন ক্যাডারদের একটি অংশ এর বিরোধিতা করেন। ফলে এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সেভাবে গতি আসেনি।
জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর এসএসপির কার্যক্রম অকার্যকর হয়ে পড়ে এবং পরে এরশাদ সরকার সেটি বাতিল করে।
এসএসপি গঠন প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ বণিক বার্তাকে বলেন, 'এসএসপি অবশ্যই ভালো ব্যবস্থা ছিল। এটা চালু থাকলে ভালো হতো। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এটা বাতিল করা হয়।'
এ প্রসঙ্গে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা বণিক বার্তাকে বলেন, 'এসএসপি গঠনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত ছিল যে একটি প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এ পুলে কর্মকর্তাদের যুক্ত করা হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ পদ্ধতি রয়েছে। অর্থাৎ সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে যারা যোগ্য, দক্ষ ও অধিকতর মেধাবী তাদের দেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নিয়ে আসা।
তবে সে সময়ে যারা সচিবালয়ে কর্মরত ছিলেন তারা পরীক্ষা ছাড়াই পুলে যুক্ত হয়ে যান। তাদের পরবর্তী সময়ে যারা আসবেন তারা পরীক্ষার মাধ্যমে যুক্ত হবেন। কিন্তু পরে এ পদগুলো আর খালি হয়নি। এরপর এরশাদ সাহেব এসে এগুলো বাতিল করে দেন।'
হাসিনার নির্দেশেই ঢাকায় সব গণহত্যা, মিশন বাস্তবায়নে হাবিব- যুগান্তর পত্রিকার প্রধান শিরোনাম
এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজধানী ঢাকায় নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান ছিলেন বেপরোয়া।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে এই পুলিশ কর্মকর্তা রাজধানীতে সংঘটিত সব গণহত্যার মিশন বাস্তবায়ন করেন।
তার উপস্থিতিতেই পুলিশ ১৯ জুলাই রামপুরায় আন্দোলনকারী নাদিম ও বৃদ্ধ মায়া ইসলামকে গুলি করে হত্যা করে। এদিন আহত হয় ৬ বছরের শিশু বাসিত খান মুসা ও আমির হোসেন নামের এক যুবক।
এছাড়াও এদিন আরও অন্তত ২৩ জনকে গুলি করে হত্যা এবং বহু মানুষকে আহত করে পুলিশ।
রামপুরায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অভিযোগপত্রে এমন ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। রোববার মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
এ মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ৪ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। তারা সবাই পলাতক।
প্রসিকিউটর বিএম সুলতান মাহমুদ যুগান্তরকে বলেন, রাজধানীর রামপুরা এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বৃহস্পতিবার দাখিল করে প্রসিকিউশন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ অভিযোগ দাখিল করা হয়।
এতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলার পরবর্তী শুনানি ১৭ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়েছে।
1 year of interim govt- Education left behind অর্থাৎ অন্তর্বর্তী সরকারের ১ বছর শিক্ষা পেছনেই রয়ে গেছে- ইংরেজি পত্রিকা The Daily Star এ প্রকাশিত প্রথম পাতার শিরোনাম এটি।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে- ক্ষমতা গ্রহণে নিজের এক বছর সময়ে, ক্যাম্পাসে অস্থিরতা এবং শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্থিতিশীলতা আনতে লড়াই করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
অনেক প্রতিষ্ঠানেই ছাত্র বিক্ষোভ, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত নিয়োগ, শিক্ষকদের জোরপূর্বক পদত্যাগ এবং শিক্ষকদের প্রকাশ্যে অপমান করার মতো ঘটনাও ঘটেছে, যা শিক্ষাক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে প্রশাসনের দৃঢ় সংকল্পের অভাবকে স্পষ্ট করে তোলে।
ক্ষমতা গ্রহণের পর, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১১টি সংস্কার কমিশন গঠনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে ব্যাপক সংস্কার শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিলেও শিক্ষা খাতকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
গত বছরের অক্টোবরে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রাথমিক ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার উন্নতির উপায় সুপারিশ করার জন্য একটি পরামর্শ কমিটি গঠন করে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইমেরিটাস মনজুর আহমেদের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি এই বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।
কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের বিষয়ে অধ্যাপক মনজুর বলেন, "এখন পর্যন্ত, আমরা কেবল খণ্ড খণ্ড পদক্ষেপ দেখেছি, একটি ব্যাপক বা পদ্ধতিগত প্রতিক্রিয়া দেখিনি।"
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেন, এটা ঠিক যে এক বছরে সবকিছু পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, কিন্তু সরকার যা সম্ভব ছিল তাও করতে ব্যর্থ হয়েছে।
"এই সরকারের অধীনে শিক্ষাকে কেনো যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি তা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।"
চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনা-ডিসেম্বরের মধ্যেই বিদেশি অপারেটর- প্রথম আলো পত্রিকার প্রথম পাতায় প্রকাশিত খবর এটি।
আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি, লালদিয়া ও বে টার্মিনাল পরিচালনার জন্য অপারেটর নিয়োগ হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
গতকাল রোববার বন্দরের ৪ নম্বর ফটকে ব্যবহারকারীদের জন্য সেবা ডেস্ক উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
বন্দরের এসব কনটেইনার টার্মিনালে বিদেশি অপারেটর নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হয় গত আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে।
এর মধ্যে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে (এনসিটি) সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ড, লালদিয়ার চরের টার্মিনাল পরিচালনায় নেদারল্যান্ডসের এপিএম টার্মিনালস এবং বে টার্মিনাল প্রকল্পের একটিতে ডিপি ওয়ার্ল্ড ও আরেকটিতে সিঙ্গাপুরের পিএসএ ইন্টারন্যাশনালকে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া প্রায় গুছিয়ে এনেছে সরকার।
এই চার টার্মিনালের একটি নিউমুরিং টার্মিনালে সবকিছুই রয়েছে। নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড বর্তমানে টার্মিনালটি পরিচালনা করছে। বাকি তিনটি টার্মিনাল নির্মাণ করে পরিচালনা করতে হবে। তাতে বিদেশি বিনিয়োগ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আশিক চৌধুরী বলেন, 'আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ডিসেম্বরের মধ্যে বন্দরগুলোতে আমরা কিছু রূপান্তর করে দিয়ে যেতে চাই। কিছু চুক্তি সই করে দিতে চাই। এমন একটা জায়গায় আমরা নিয়ে যাব, যেখানে চাকা ঘোরানো শুরু করে দিলে এরপর এই চাকাটা থামানো সম্ভব হবে না।
নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকার আসবে। তাদের থিতু হতে সময় লাগবে। ওই সময়ে যাতে কোনো কাজ থেমে না থাকে, সে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।'
সমকাল পত্রিকার প্রধান শিরোনাম- সাত মাসে ২৫৯ শিশু খুন নির্যাতনও বাড়ছে
বিপদগ্রস্ত শিশুদের সাহায্য করতে সমাজসেবা অধিদপ্তরের চালু করা চাইল্ড হেল্পলাইনে গত জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে সহায়তা চেয়ে ফোনকল এসেছে ২৬ হাজার ১০০টি।
গত বছরের একই সময়ে হেল্পলাইনে ফোন এসেছিল ১৯ হাজার ২৬৫টি। গত বছরের তুলনায় এ বছর শিশু নির্যাতন ও সহিংসতার ঘটনায় সহায়তা চাওয়ার ঘটনা বেড়েছে প্রায় সাত হাজার।
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যানেও শিশুর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতনের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার চিত্র দেখা গেছে। তাদের তথ্যমতে, গত সাত মাসে নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৬৪০ শিশু। গত বছরের একই সময়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছিল ৪৬৩ শিশু।
চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৩০৬ শিশু। আগের বছর এই সংখ্যা ছিল ১৭৫। তার আগের বছর (২০২৩) একই সময়ে সহিংসতার ঘটনা ছিল ৬১৮ এবং ধর্ষণের শিকার হয় ১৯৪ শিশু।
বাংলাদেশ চাইল্ড হেল্পলাইনের ব্যবস্থাপক চৌধুরী মো. মোহায়মেন সমকালকে বলেন, গত জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত চাইল্ড হেল্পলাইনে শিশু-সংক্রান্ত চার লাখ ৯১ হাজার ২৬৭টি কল এসেছে। এর মধ্যে শিশু নির্যাতন ও সহিংসতার কল ছিল ২৬ হাজার ১০০টি।
একই সময় গত বছরের প্রথম ৭ মাসে ফোন কল ছিল দুই লাখ ৪২ হাজার ১৯৫টি। সে হিসাবে ১০৩ শতাংশ ফোন বেশি এসেছে এবারের প্রথম সাত মাসে। প্রতিবছর এমন ফোনের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানান তিনি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পারিবারিক অস্থিরতা, হতাশা, মানসিক অসুস্থতা, মাদকাসক্তি, দাম্পত্য টানাপোড়েনের কারণে অনেক অভিভাবক নিজের রাগ, ক্ষোভ ও হতাশা শিশুদের ওপর চাপাচ্ছেন। এ কারণে শিশু নির্যাতন বাড়ছে। এ থেকে উত্তরণে শিশুদের সঙ্গে আচরণ আরও সংযত ও মানবিক হতে হবে।
আসকের জ্যেষ্ঠ সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির বলেন, শিশুরা যখন মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়, তা শুধু আইন ও ন্যায়ের ব্যর্থতা নয়; বরং একটি রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক ব্যর্থতাও। এ প্রবণতা গভীর উৎকণ্ঠার। আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ আশা করি।
নয়াদিগন্ত পত্রিকায় আজকের প্রধান শিরোনাম- বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত সম্পৃক্ততা জেনে যাওয়ায় মেজর জাহিদকে হত্যা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- ২০০৯ সালের ২৫ ফেরুয়ারি ঘটে যাওয়া দেশের ইতিহাসের ভয়াবহতম বিডিআর হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগ সরকারের মদদ ও প্রতিবেশী ভারতের সম্পৃক্ততার তথ্য জানার অপরাধেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা মেজর (অব:) জাহিদুল ইসলামকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তার স্ত্রী জেবুন্নাহার ইসলাম।
গতকাল রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে দেয়া এক অভিযোগে জেবুন্নাহার দাবি করেন, তার স্বামীকে 'জঙ্গি' অপবাদ দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকেও দুই শিশুকন্যাসহ ৪ মাস ৭ দিন গুম করে অমানবিক নির্যাতনের শিকার করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে নতুন অভিযোগ পাওয়ার খবর দৈনিক নয়া দিগন্তকে নিশ্চিত করে প্রসিকিউটর গাজী এইচ তামিম বলেছেন, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মেজর (অব:) জাহিদুল ইসলামকে বাসা থেকে উঠিয়ে নিয়ে হত্যা এবং তার দুই মেয়ে এবং স্ত্রীকে গুমের ঘটনার একটি অভিযোগ গতকাল ট্রাইব্যুনালে জমা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ জমা দেয়ার পর জেবুন্নাহারের পক্ষে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে নৃশংসতম ঘটনার একটি মেজর জাহিদকে হত্যা। মূলত বিডিআর বিদ্রোহে আ'লীগ ও ভারত সম্পৃক্ততা জেনে যাওয়ায় মেজর জাহিদকে হত্যা করা হয়েছিল।
যে সব ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করা হয়েছে, তারা হলেন : সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক; ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক প্রধান মো: মনিরুল ইসলাম; সিটিটিসির সাবেক প্রধান মো: আসাদুজ্জামান; মিরপুর বিভাগের তৎকালীন ডিসি মাসুদ আহমেদ; রূপনগর থানার তৎকালীন ওসি সহিদ আলম; রূপনগর থানা-পুলিশের তৎকালীন অজ্ঞাত সদস্যরা।
বেকারত্বেও বাড়ছে অপরাধ- কালের কণ্ঠ পত্রিকার প্রধান শিরোনাম
এখানে বলা হয়েছে, শিল্পনগরী গাজীপুরে নতুন আতঙ্ক বেকার হওয়া শ্রমিক। তাঁদের অনেকে চুরি ছিনতাই ও প্রতারণার মতো অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গত ছয় মাসে শুধু গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা থেকে এক হাজার ৬০০ ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার মধ্যে আট শতাধিক হচ্ছে বন্ধ হয়ে যাওয়া গার্মেন্ট ও অন্যান্য কারখানার বেকার শ্রমিক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেকার সমস্যার সমাধান, যুবসমাজকে সঠিক পথে পরিচালনা করা, সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হলে এই অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। একটি সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমেই গাজীপুরসহ সংশ্লিষ্ট অপরাধপ্রবণ এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
গাজীপুর মহানগর পুলিশ-জিএমপির তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি গাজীপুরে অপরাধ বাড়ার পেছনে অন্যতম কারণ বেকারত্ব ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা।
গাজীপুর মহানগর পুলিশ (জিএমপি) কমিশনার নাজমুল করিম খান গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে জানান, বেকার শ্রমিকদের বিভিন্ন অপরাধে জড়ানোর তথ্য পাওয়া গেছে।
গত ছয় মাসে গাজীপুর মহানগর এলাকা থেকে এক হাজার ৬০০ ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার মধ্যে ৫০ শতাংশই বেকার হওয়া লোকজন রয়েছেন।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ ও পুলিশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মুহাম্মদ উমর ফারুক বলেন, 'এসব অপরাধ কমাতে হলে বেকারদের আয়ের সুযোগ তৈরি করতে হবে। তা না হলে অপরাধ দিন দিন আরো বাড়বে।'