'বদলে যাচ্ছে বিসিএস পরীক্ষা'

Published

বদলে যাচ্ছে বিসিএস পরীক্ষা— এটি আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। এখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার পদ্ধতি ও মূল্যায়নে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। ৪৬তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা থেকে শুরু হবে এর বাস্তবায়ন। নতুন পদ্ধতিতে লিখিত পরীক্ষার উত্তর লিখতে হবে প্রশ্নের ক্রমানুসারে।

পিএসসির চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, ৪৬তম বিসিএস লিখিত থেকে পরীক্ষা পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। এর মধ্যে অন্যতম—লিখিত পরীক্ষায় উত্তরগুলো প্রশ্নের ক্রমানুসারে লেখা, যা প্রশ্নপত্রে স্পষ্ট করে উল্লেখ থাকবে।

“উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কেউ যদি তিন নম্বর প্রশ্নের উত্তর আগে লিখতে চান, তাহলে এর জন্য খাতায় নির্দিষ্ট জায়গা রেখে দিতে হবে। কোনোভাবেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রশ্নের ক্রম লঙ্ঘন করা যাবে না।” পরীক্ষকেরা লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র দেখবেন ঢাকার সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) কার্যালয়ে বসে।

পিএসসির চেয়ারম্যান জানান, লিখিত পরীক্ষার খাতা দেখার জন্য একেকটি দলে ১৩-১৪ জন জনবল থাকবেন। একজন এক নম্বর প্রশ্নের উত্তর দেখবেন, অন্যজন দুই নম্বর দেখবেন। এভাবে সব প্রশ্নের উত্তর দেখা হবে। পরীক্ষকদের কারও কোনো ভুল হলো কি না, তা দেখার জন্যও সেখানে আলাদা পরীক্ষক থাকবেন। এখানে প্রধান পরীক্ষকও থাকবেন। ফলে খাতা দেখার জন্য দ্বিতীয় ও তৃতীয় পরীক্ষকের প্রয়োজন হবে না।

যে কারণে সুইস ব্যাংক থেকে আমানত সরাচ্ছেন বাংলাদেশিরা— মানবজমিন পত্রিকার প্রধান শিরোনাম এটি। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) সর্বশেষ প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী এখানে বলা হয়েছে, সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংক বা সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিকদের জমানো অর্থ দুই বছর ধরে অস্বাভাবিক হারে কমেছে।

২০২২ সাল শেষে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ ছিল পাঁচ কোটি ৫৩ লাখ সুইস ফ্রাঁ। ২০২৩ সালে তা কমে হয়েছে এক কোটি ৭৭ লাখ ফ্রাঁ। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ফ্রাঁ ১৩২ টাকা ধরে) যার পরিমাণ ২৩৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে দেশটির ব্যাংক থেকে বাংলাদেশিরা তিন কোটি ৭৬ লাখ ফ্রাঁ সরিয়ে ফেলেছেন। এ হিসাবে কমেছে ৬৮ শতাংশ। আগের বছর এই হার ছিল ৯৪ শতাংশ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে অর্থ জমার ক্ষেত্রে আগে যে গোপনীয়তা দেশটি রক্ষা করতো, এখন আর সেটি নেই। এজন্য ধনীরা এখন ঝুঁকছেন দুবাই, বৃটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ, কেমান আইল্যান্ড অথবা বারমুডার মতো দেশগুলোর দিকে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ডলার সংকটসহ অর্থনৈতিক সংকটে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা অনেক কমে গেছে। এ কারণে দেশটির ব্যাংকে বাংলাদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জমা অর্থ যেমন উত্তোলিত হয়েছে, তেমনি নতুন করে জমা অর্থেও টান পড়েছে।

একই বিষয়ে ‘বিকল্প গন্তব্যে পাচারের অর্থ’ শীর্ষক প্রধান শিরোনাম করেছে যুগান্তরও।

ফ্যাক্টরি রিসোর্ট শুটিং স্পট সবই আছে মতিউরের— এটি সমকালের প্রধান শিরোনাম। এখানে বলা হয়েছে, ছাগলকাণ্ড ছাড়িয়ে এখন আলোচনায় রাজস্ব কর্মকর্তা মতিউর রহমানের সম্পদ। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করেছে।

জানা গেছে, নরসিংদী, ময়মনসিঙ্ঘের ত্রিশাল ছাড়াও গাজীপুরের পূবাইলে রিসোর্ট, শুটিং স্পট, বাংলো, জমিসহ নামে-বেনামে অনেক জমি ও স্থাপনা রয়েছে। বরিশালেও তার সম্পদ আছে। ঢাকায়ও আছে একাধিক প্লট ও দামি গাড়ি। তিনি তার স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয়স্বজনের নামে এই সম্পদ গড়েছেন।

ঢাকায় তার স্ত্রী-সন্তান ও ঘনিষ্ঠদের নামে দুই ডজন বিলাসবহুল ফ্ল্যাট আছে। আবার, টঙ্গীতে ৪০ হাজার বর্গফুটের এসকে ট্রিমস নামে ব্যাগ ম্যানুফ্যাকচারিং ও অ্যাকসেসরিজ কারখানা আছে তার। যদিও কাগজে-কলমে কারখানার মালিক তার ভাই এমএ কাইয়ুম হাওলাদার। ওই কারখানায় স্কুলব্যাগ তৈরি হয়।

নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনা নরেন্দ্র মোদি বৈঠক আজ— এটি বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। এখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় এক আনুষ্ঠানিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে আজ। নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউজে অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকের পর দুই দেশের মধ্যে ১০টির বেশি চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই ও নবায়ন হতে পারে।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দুই দেশের সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সেপা) নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেয়ার ঘোষণা দেয়া হতে পারে। এ চুক্তি সই হলে দুই দেশের বাণিজ্যে ভারসাম্য আসার পথ সুগম হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এছাড়া দ্বিপক্ষীয় ঋণচুক্তি বাস্তবায়নের গতি ত্বরান্বিত করা নিয়েও যৌথ ঘোষণা আসতে পারে। দুই দেশের মধ্যে কানেক্টিভিটি ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের পাশাপাশি তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি, সীমান্ত হত্যা পুরোপুরি বন্ধের মতো বিষয়ও আলোচনায় স্থান পেতে পারে।

আলোচনায় গুরুত্ব পাবে চীনও— এটি প্রথম আলো পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। এখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ শনিবার দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে আলোচনায় বসছেন। নতুন কোন কোন ক্ষেত্রে দুই দেশের মাঝে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা করবেন তারা।

তবে দুই দেশের কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুই প্রধানমন্ত্রী এবার শীর্ষ বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন ভিন্ন সময় আর ভিন্ন পরিস্থিতিতে। আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে শেখ হাসিনার বেইজিং যাওয়ার কথা রয়েছে। পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এবার দুই দেশের সম্পর্কের চেয়ে যেন বড় হয়ে উঠছে চীন প্রসঙ্গ।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, ভারতে এনডিএ জোট আবার ক্ষমতায় আসার পর প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের ব্যাপারে মনোযোগ অব্যাহত রাখছে। বিশেষ করে এ অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতির নিরিখে ভারত ‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেন এ বিষয়ে বলেন, “ভারত ও চীন সফর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে “জিরো সাম গেম” (এক পক্ষই লাভবান) বলে কিছু নেই। সবার জন্য লাভজনক এমন একটি পরিস্থিতিতে থাকতে চাইছি সব দেশের সঙ্গে।”

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়টি প্রধান শিরোনাম হিসেবে এসেছে দ্য ডেইলি স্টার, দেশ রূপান্তরসহ আরও কয়েকটি পত্রিকায়।

পুঁজিবাজার ছেড়েছেন লাখের বেশি বিনিয়োগকারী— এটি নয়া দিগন্ত পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। এখানে বলা হয়েছে, চলতি বছরের শুরুতেই পুঁজিবাজারের মন্দা অবস্থার আরো অবনতি হতে থাকে। মন্দার কারণে বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজার ছাড়ছে।

গত মার্চ থেকে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়। অব্যাহত দরপতনে বিনিয়োগকারীরা চরম আতঙ্কে থাকে। বিনিয়োগকৃত অর্থ ফিরে পাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে একটা অস্থিরতা দেখা দেয়। প্রতি দিনই বাজারমূলধন থেকে তারল্য উধাও হয়ে যাচ্ছে।

জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দুই লাখ ৪১ হাজার ২১৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা বাজারমূলধন বের হয়ে গেছে। ফলে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রায় ছয় মাসে ব্যালেন্স শূন্য বিও হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে এক লাখ এক হাজার ৯৯২টি।

বেতন-ভাতা ও মর্যাদায় বাংলাদেশের শিক্ষকরা পিছিয়ে— এটি কালের কণ্ঠ পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। এখানে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বেতন-ভাতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের শিক্ষকরা বেশ পিছিয়ে।

বিশেষ করে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে। গত ১৫ বছরে সরকার একাধিকবার শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন করে শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের আওতায় আনা হয়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের কয়েক হাজার নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন গ্রেড কয়েক ধাপ উন্নীত করা হয়েছে। এর পরও অন্যান্য দেশের তুলনায় বেতন-ভাতা ও মর্যাদার দিক থেকে বাংলাদেশের শিক্ষকরা পিছিয়ে। প্রাথমিক পর্যায়ে সহকারী শিক্ষকরা তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর মর্যাদা পান।

শুধু প্রধান শিক্ষকের পদ দ্বিতীয় শ্রেণির। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মধ্যে অনেকে জাতীয় বেতন স্কেলের শুধু মূল বেতন পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অথচ ফিনল্যান্ড, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, সৌদি আরবসহ বেশ কিছু দেশের শিক্ষকরা অনেক বেশি বেতন পান। বাংলাদেশি টাকার হিসাবে তাদের মাসিক বেতন গড়ে আট লাখ থেকে ১২ লাখ টাকা, যা বাংলাদেশের একজন শিক্ষকের কয়েক বছরের বেতনের সমান।

ডিআইজি জামিল হাসান যেন আরেক ভূস্বামী— এটি ইত্তেফাক পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। এখানে বলা হয়েছে, পুলিশের বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি জামিল হাসান যেন একালের ভূস্বামী। রিসোর্ট করার জন্য জমি কিনেছেন ৪০ একর (১২০ বিঘা)।

নিজের পৈতৃক বাড়িটি নতুন করে গড়েছেন ৩০ বিঘা জমির ওপর। এর পাশেই আছে অন্তত ৩৬ বিঘা জমির ওপর গরুর খামার। এর সঙ্গে আছে গরুর হাট, যে হাট থেকে ইজারা নেন তারাই। তার এসব জমি বরিশালের উজিরপুর উপজেলায়। এর বাইরে ঢাকায় তার আছে দু’টি ফ্ল্যাট, এর একটিতে তার পরিবার বসবাস করে। অন্যটি প্রস্তুত হচ্ছে। গত চার-পাঁচ বছরের মধ্যে তিনি এই সম্পদ করেছেন।

মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে এত সম্পদ কীভাবে অর্জন করা সম্ভব, জানতে চাইলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “একজন পুলিশ কর্মকর্তার ‘এটুকু’ সম্পদ থাকা অস্বাভাবিক নয়। কারণ তারা কাদের রোল মডেল হিসেবে মনে করেন? সাবেক আইজিপি বা পুলিশ কমিশনারকে? তাদের যদি হাজার হাজার বিঘা জমি থাকতে পারে, তাহলে একজন ডিআইজির কেন কয়েকশ’ বিঘা জমি থাকবে না?”