'আইএমএফের ঋণ প্রাপ্তিতে অনিশ্চয়তা'

Published

বাংলাদেশে চলমান রিজার্ভ সংকটের মধ্যে আশঙ্কার বার্তা দিয়ে শিরোনাম করেছে নয়া দিগন্ত, ‘আইএমএফের ঋণ প্রাপ্তিতে অনিশ্চয়তা’। খবরে বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে ঋণপ্রাপ্তির শর্ত অনুযায়ী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণ করতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ অবস্থায় সফররত আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত বৈঠক তেসরা এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সফররত প্রতিনিধিদের কাছে রিজার্ভ সংরক্ষণে ব্যর্থতার কারণ তুলে ধরা হবে।

তবে ঋণের কিস্তির অর্থ ছাড় হবে কি না তা নির্ভর করবে সফররত টিমের প্রতিবেদনের ওপর।

আইএমএফের কাছ থেকে ঋণ পাওয়ার শর্ত অনুযায়ী মার্চের শেষে ১৯ দশমিক ২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রিজার্ভ রাখার কথা ছিল। কিন্তু প্রকৃত রিজার্ভ ১৬ বিলিয়নের চেয়েও কম।

শর্ত পূরণে আইএমএফ কিছুটা কঠোর হওয়ায় ঋণপ্রাপ্তি নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে নয়া দিগন্ত।

ডলার সঙ্কট কাটাতে আইএমএফ থেকে ৪৭০ কোটি ডলার ঋণসহায়তা নিচ্ছে সরকার। এ ঋণের তৃতীয় কিস্তির অর্থছাড়ের আগে সংস্থাটির একটি রিভিউ মিশন বাংলাদেশ সফরে এসেছে।

নিউ এইজের প্রধান শিরোনাম, ‘Frequent power cuts at places as heatwave returns’ অর্থাৎ, ‘তাপপ্রবাহ ফিরে আসায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে’। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, শীত শেষে এ বছর প্রথমবারের মতো গ্রীষ্মের তাপপ্রবাহ দেখা দিতেই বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের দুরাবস্থা আবারও স্পষ্ট হয়েছে।

তাপমাত্রার সাথে সাথে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লেও বিদ্যুৎ উৎপাদন চাহিদার তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে। ফলে উষ্ণতম মাস এপ্রিলের প্রথম দুই দিনে বাংলাদেশের কিছু অংশে ১০ ঘন্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা দেখা দিয়েছে।

পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে প্রতি এক-দুই ঘণ্টা পর পর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এর বড় প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতে।

প্রয়োজনীয় সেচের ব্যবস্থা করা না গেলে দীর্ঘ বিদ্যুতের ঘাটতি ফসলের উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বোরো চাষীরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন।

এ তো গ্রীষ্মের শুরু মাত্র। সামনের দিনগুলোয় গরম আরও বাড়বে। মাসের প্রথম প্রান্তিক পর্যন্ত তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে বলে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন।

অব্যাহত ডলার সংকটের কারণে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক করেছেন, সরকারকে বিদ্যুৎ খরচ কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম, ‘চালের পোকা মারার ট্যাবলেটে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি’। খবরে বলা হচ্ছে, চালের পোকা দমনে অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড যা গ্যাসের ট্যাবলেট নামে পরিচিত, এর যথেষ্ট ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।

একই উদ্দেশ্যে ডাল, সুজি, গম ও শাকসবজিতেও অতি বিষাক্ত এই কীটনাশক ব্যবহৃত হচ্ছে।

এ নিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও গবেষকরা বলছেন সুরক্ষার নিয়ম না মেনে ব্যবহার করা হলে এটি ব্যবহারকারী ও ভোক্তার জন্য বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে।

মাত্রা বেশি হলে ঘটতে পারে মৃত্যু বিশেষজ্ঞরা বলছেন অ্যালুমিনিয়াম ফসফাইড অতিমাত্রায় বিষাক্ত অজৈব যৌগ।

মূলত খাদ্যশস্য গুদামজাতকরণে এটি বিশ্বব্যাপী ব্যবহার করা হয় তবে তা করা হয় শুধু গুদামে ও সুরক্ষার নিয়ম মেনে।

তবে বাংলাদেশের আড়ত, পাইকারি এমনকি খুচরা দোকানেও চালের বস্তায় পোকা দমনে নিয়ম না মেনে যথেচ্ছ ব্যবহার হচ্ছে এই উপাদানটি।

ব্যাংকের একীভূতকরণ নিয়ে ডেইলি স্টারের প্রধান শিরোনাম, ‘Forced bank mergers could be counterproductive’ অর্থাৎ, ‘জোর করে ব্যাঙ্ক একীভূত করলে হিতে বিপরীত হতে পারে’

বিশ্বব্যাংক বলেছে, ব্যাঙ্কগুলিকে একীভূত করার আগে সরকারের উচিত বিশ্বব্যাপী সর্বোত্তম অনুশীলনগুলোর কথা মাথায় রেখে একটি স্পষ্ট নির্দেশিকা তৈরি করা।

সম্পদের প্রকৃতির বিষয়ে মূল্যায়ন না করেই জোরপূর্বক ব্যাঙ্ক একীভূত করা হীতে বিপরীত হতে পারে বলে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে।

সংস্থাটির মতে, দুর্বল ব্যাঙ্কগুলির সম্পদের মানের একটি মূল্যায়ন প্রয়োজন যাতে খারাপ ব্যাঙ্কগুলোকে গ্রহণ করার ফলে উল্টো ভাল ব্যাঙ্কগুলি দুর্বল না হয়ে যায়।

বান্দরবানে ব্যাংক লুটের ঘটন নিয়ে যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম, ‘সোনালী ব্যাংকে লুট, ম্যানেজার অপহরণ ’। প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে পাহাড়ের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) রুমা উপজেলায় সোনালী ব্যাংকে লুট করেছে।

এ সময় তারা পুলিশ ও আনসার বাহিনীর ১৪টি অস্ত্র, মোবাইল, ব্যাংকের ভোল্টের সব টাকাসহ ব্যাংক ম্যানেজারকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে বলে খবর প্রকাশ হয়েছে।

অস্ত্রধারীদের হামলায় ইউএনও অফিস ও ব্যাংকের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, রাত ৯টার দিকে কুকি চিনের একটি দল হঠাৎ উপজেলা পরিষদ ঘেরাও করে এরপর তারা ১০ জন কর্মরত পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে দশটি অস্ত্র এবং পরিষদে কর্মরত আনসারের কাছে থেকে চারটি অস্ত্র ও ৩৫ রাউন্ড গুলি নিয়ে যায়।

এ সময় উপজেলা প্রশাসনের ভেতরে থাকা সোনালী ব্যাংকে প্রবেশ করে ম্যানেজারকে অপহরণ করে। সেইসাথে ব্যাংকের ভল্টের তালা ভেঙে প্রায় দেড় কোটি টাকা লুট করে সশস্ত্র গোষ্ঠী।

এছাড়া যাওয়ার সময় মসজিদে নামাজরত মুসল্লিদের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায়।

অপহৃত ব্যাংক ম্যানেজার, লুণ্ঠিত অস্ত্র ও টাকা উদ্ধারে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা অভিযানে নেমেছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনকে ঘিরে প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম, ‘বাংলাদেশের অর্থনীতিতে চার চ্যালেঞ্জ, তিন ঝুঁকি’।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি, আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থিক খাতের ঝুঁকি- বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বর্তমানে এই চার ধরনের চ্যালেঞ্জ আছে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

চলতি বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে পাঁচ দশমিক ছয় শতাংশে নেমে যেতে পারে বলে সংস্থাটি পূর্বাভাস দিয়েছে, যা সাত শতাংশ প্রত্যাশা করা হয়েছিল।

মঙ্গলবার বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের অর্থনীতির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেখানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

এর পাশাপাশি অর্থনীতিতে তিনটি ঝুঁকি বিরাজমান বলেও মনে করে সংস্থাটি। প্রথম ঝুঁকি হলো, মুদ্রা বিনিময় হার সংস্কার বিলম্ব হওয়ায় তা বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি এবং আমদানি নিয়ন্ত্রণকে দীর্ঘস্থায়ী করছে।

দ্বিতীয়ত, জিনিসপত্রের বাড়তি দামের কারণে উচ্চ মূল্যস্ফীতি দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত থাকা। আর তৃতীয় ঝুঁকি হলো - সমন্বিত সংস্কার কর্মসূচি না নেওয়ায় তা আর্থিক খাতের চলমান ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

তবে এমন পরিস্থিতিতেও বাংলাদেশের অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা আছে বলে বিশ্বব্যাংক মনে করে।

সমকালের প্রথম পাতার একটি খবর - ‘তেলের লরি উল্টে আগুন তিনজন নিহত, দগ্ধ ৭’।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে একটি তেলের লরি উল্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে ওই তেলবাহী লরির আশপাশের কয়েকটি যানবাহনের অন্তত ১০ জন দগ্ধ হন।

দগ্ধদের মধ্যে তিন জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। দগ্ধ বাকি সাতজন এখন ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন।

এরমধ্য এক কিশোরের শরীর প্রায় শতভাগ পুড়ে যাওয়ায় তার অবস্থা সংকটাপন্ন।

পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া তেলবাহী একটি লরি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের জোড়পুল এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।

পরে সেটি সড়কে ইউটার্ন নির্মাণের জন্য রাখা কংক্রিটের ব্লকে ধাক্কা লেগে উল্টে যায়। এরপর তেল ছড়িয়ে পড়ে এবং আগুন ধরে যায়।

মুহূর্তে ওই সড়কে থাকা একটি তরমুজবোঝাই ট্রাক, একটি সিমেন্টবাহী ট্রাক, একটি কাভার্ডভ্যান ও একটি প্রাইভেটকারে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এতে ওই যানবাহনগুলোর চালক-যাত্রীরা দগ্ধ হন।

সার আমদানি নিয়ে বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম, ‘সারের আমদানি ব্যয় কমেছে ৫১ শতাংশ, কৃষক সুফল পাবেন কি’।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক বাজারে কমছে সব ধরনের সারের দাম। ফলে আগের চেয়ে কম মূল্যে পণ্যটি আমদানি করতে পারছে সরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসের (জুলাই-জানুয়ারি) তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে সারের আমদানি ব্যয় কমেছে ৫১ শতাংশের বেশি।

তবে খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার আগের চেয়ে অর্ধেক দামে সার আমদানি করলেও এতে কৃষক লাভভান হচ্ছেন না। কেননা দেশের বাজারে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে পণ্যটি।

এতে করে কৃষি খাতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। কমে যাচ্ছে কৃষকের মুনাফার মার্জিন।

একই সঙ্গে তা খাদ্যের উৎপাদন এবং বাজার পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। প্রভাব ফেলছে সার্বিক মূল্যস্ফীতিতেও।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ২০২২ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম ওঠে রেকর্ড সর্বোচ্চে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সে বছরের আগস্টে কৃষক পর্যায়ে ইউরিয়ার দাম কেজিতে ছয় টাকা বাড়ায় সরকার।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম, ‘ভোটে হস্তক্ষেপ রোধে কঠোর আওয়ামী লীগ’।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট আয়োজনে গুরুত্ব দিচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

তারা চাইছে স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হোক।

এ জন্য দলের নেতাদের অধিক হারে প্রার্থী হওয়ার জন্য উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন না হওয়া এবং ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ায় বিভিন্ন দেশে-বিদেশে সমালোচনায় পড়েছে আওয়ামী লীগ।

এ জন্য তারা নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তারা দলের নেতাকর্মীদের জন্য প্রার্থিতা উন্মুক্ত রেখেছে। আওয়ামী লীগের যে কেউ চাইলে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর একাধিক নেতার মতে, দলের প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখার উদ্দেশ্য হলো নির্বাচন যেন অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়। বেশিসংখ্যক প্রার্থী থাকলে ভোটার উপস্থিতি বাড়ারও সম্ভাবনা বাড়বে।

কিন্তু অনেক উপজেলায় মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্যরা নিজের পছন্দের প্রার্থীকে জিতিয়ে আনার ফন্দি করছেন। এ বিষয়ে নানা অভিযোগ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কাছে আসায় তারা ক্ষুব্ধ।