বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের হয়ে বাবা-ছেলে জুটির গল্প এবং ফাঁকা মাঠের কাহিনি

Published

বাস ডি লিডি হায়দ্রাবাদের রাজীভ গান্ধী স্টেডিয়ামে আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে একাদশে থাকলেই তার নাম ইতিহাসের পাতায় লেখা হয়ে যাবে। তার বাবা টিম ডি লিডিও ১৯৯৬ এর ওয়ানডে বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের জার্সি পরে মাঠে নেমেছেন। তারা হবেন ওয়ানডে ক্রিকেট বিশ্বকাপ ইতিহাসের সপ্তম বাবা-ছেলে জুটি।

১৯৯৬ সাল সেটা ছিল নেদারল্যান্ডসের ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ। সেবারও টিম ডি লিডির বিশ্বকাপ অভিষেক ছিল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভারতের ভাদোদারায়। ছেলে বাস ডি লিডিও মাঠে নামবেন ভারতেই, বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচে।

নানা প্রেক্ষিতেই টিম ডি লিডি ছিলেন নেদারল্যান্ডসের তারকা ক্রিকেটার, বাস ডি লিডিও এখন ডাচ ক্রিকেট দলের সবচেয়ে বড় তারকা।

ফাস্ট বোলিং অলরাউন্ডার বাসের পারফরম্যান্সও নজরকাড়া, শেষ পাঁচ ম্যাচের রান- ১২৩, ৩৯, ৪১, ৩৩, ৪১*।

গত বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮৯ রানের একটি ইনিংসও খেলেছেন এই অলরাউন্ডার।

একই ম্যাচে ১০০ রান ও ৫ উইকেট নেয়া বিরল এক রেকর্ডও রয়েছে তার নামের পাশে, এই তালিকায় আছেন ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তী ভিভ রিচার্ডস, ইংল্যান্ডের পল কলিংউড, সংযুক্ত আরব আমিরাতের রোহান মুস্তফার।

যদিও বাস ডি লিডি একজন প্রফেশনাল ক্রিকেটার, তার বাবা ছিলেন চাকরিজীবি, ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্মৃতি রোমন্থন করেন, “তখন (১৯৯৬ সালে) বেতন ছিল না, চুক্তি ছিল না, কিন্তু অনেক আনন্দ ছিল খেলায়। আমরা চাকরি থেকে ছুটি নিয়ে খেলতে আসতাম”।

টিম ডি লিডি ২০০৩ ও ২০০৭ বিশ্বকাপেও খেলেছেন।

২০০৩ বিশ্বকাপের ফাইনালিস্ট ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের একটি ম্যাচে টিম ৩৫ রান দিয়ে চার উইকেট নিয়েছিলেন।

সাচিন টেন্ডুলকার, রাহুল দ্রাবিড়ের উইকেটও ছিল যার মধ্যে।

বড় ব্যবধানে হেরে গেলেও টিম ডি লিডি ম্যান অফ দ্য ম্যাচের পুরস্কার পেয়েছিলেন।

এবারের বিশ্বকাপে অনেকেই নেদারল্যান্ডসের মধ্যে অঘটন ঘটানোর সম্ভাবনা দেখছেন।

পাকিস্তানকে হারাতে পারবে?

ক্রিকেট বিশ্লেষক ও কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিম বলছেন, “এই সম্ভাবনা খুব একটা নেই। পাকিস্তান আর নেদারল্যান্ডসে শক্তিমত্তার অনেক ফারাক।”

তবে তিনি একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছেন না কথাটা, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে যদি পাকিস্তান বড় রান করে সেক্ষেত্রে সেটা ডাচ দলটা তাড়া করতে পারবে না তবে ২৫০ বা ২৪০ এর মতো রান তাড়া করার সক্ষমতা নেদারল্যান্ডসের আছে।

গত বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শক্তিশালী ক্রিকেটারে ঠাসা দল দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে দিয়েছিল নেদারল্যান্ডস, সেবার পাকিস্তানও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল।

তবে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়িয়ে ফাইনালে গিয়েছিল।

মি. ফাহিম বলেন, “বিশ্বকাপ আসলে এমনই এক জায়গা, সাধারণত যেসব দল বড় দলের সাথে খেলার তেমন সুযোগ পায়না তাদের কিছু করে দেখানোর তাড়না থাকে এখানে”।

পাকিস্তান গত পাঁচ বিশ্বকাপের চারটিতেই প্রথম ম্যাচ হেরে শুরু করেছে।

তবে পাকিস্তান এই ম্যাচে মুখিয়ে থাকবে, পাকিস্তানের এই দলটা মাস দেড়েক আগেও একটা দুর্দান্ত অবস্থানে ছিল হঠাৎ করে ফখর জামানের ফর্ম হারানো, শাদাব খানের স্পিনে ধার কমে যাওয়া এবং নাসিম শাহ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ায় খানিকটা এলোমেলো লাগছে।

তবে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচটাকে ফখর ফর্মে ফেরার উপলক্ষ্য ভাবতে পারেন।

নেদারল্যান্ডস ওয়ানডে বিশ্বকাপের ইতিহাসে ১৫ ম্যাচ খেলে মাত্র দুটিতে জয় পেয়েছে।

এই ম্যাচে আর ২৬ রান করলে পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম ওয়ানডে বিশ্বকাপে ৫০০ রান পূর্ণ হবে।

আজ হায়দ্রাবাদে বৃষ্টির তেমন সম্ভাবনা নেই, ইসপিএনক্রিকইনফোর বিশ্লেষণ বলছে বড় রান হবে এই ম্যাচে।

তবে গ্যালারিতে দর্শকের অভাব একটা বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দর্শক খরার কারণ?

ওয়ানডে বিশ্বকাপকে এ বছরের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট আসর মনে করা হয়েছিল, সে তুলনায় ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার প্রথম ম্যাচে তেমন দর্শক দেখা যায়নি।

প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার ধারণক্ষমতার নরেন্দ্র মোদী ক্রিকেট স্টেডিয়াম ফাঁকা দেখাচ্ছিল, টেলিভিশনে যারা খেলা দেখেছেন তারা প্রশ্ন তুলেছেন, ‘মানুষ কই?’।

টুইটারে ইংল্যান্ডের নারী দলের ক্রিকেটার ড্যানি ওয়াট লিখেছেন, “হোয়্যার ইজ দ্য ক্রাউড”।

এটা রিটুইট করে জবাব দিয়েছেন ভারতের জেমিমাহ রদ্রিগেজ, “ভারত পাকিস্তান ম্যাচের জন্য অপেক্ষায়”।

ম্যাচের একটা সময় দেখা গেছে ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান জয় শাহ নিজেই বসে পড়েছেন গ্যালারিতে।

রাভি শাস্ত্রী ধারাভাষ্য বক্সে বলেন, “গত ২৭ বছরে এই প্রথম আয়োজক দেশ প্রথম ম্যাচে খেলছে না। এটা মনে হয় একটা বড় কারণ স্থানীয় দর্শক না আসার”।

মজার কথা হচ্ছে, ২৭ বছর আগের সেই বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচও ছিল ইংল্যান্ড বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচের ক্রিকেট স্টেডিয়ামেই, ১৯৯৬ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে, তখন এটি মোতেরা স্টেডিয়াম নামে পরিচিত ছিল।

মূল সমস্যা ছিল টিকিট ব্যবস্থায়, টুর্নামেন্ট শুরুর ১ মাস ১০ দিন আগে টিকিট ছেড়েছে আয়োজকরা।

এতে করে যারা অন্য দেশ থেকে আসবেন তাদের পরিকল্পনা করতে সমস্যা হয়েছে।

টিকিট সিস্টেম নিয়ে নিজেদের অসন্তুষ্টি অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন।

ভারতের সাবেক ক্রিকেটার ভেঙ্কাটেশ প্রাসাদ টুইটারে বলেছিলেন, "ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবারের বিশ্বকাপে সব এলোমেলো করে ফেলছে। তারা যখন ইচ্ছা ম্যাচের দিন তারিখ বদল করছে"