ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলনকারীরা নিজেদের দাবিতে অনড়, বিজেপির বনধ্ ঘিরে আবার উত্তপ্ত রাঁচি

Published
পড়ার সময়: ৭ মিনিট

দিল্লির যন্তর মন্তরের পর ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ঝাড়খণ্ডে যুব সমাজের বিক্ষোভ ঘিরে ক্রমশ উত্তাপ বাড়ছে।

সোমবার আন্দোলনকারী ছাত্রদের উপর লাঠিচার্জের বিরোধিতা করে মঙ্গলবার সেখানে বনধের ডাক দিয়েছিল বিজেপি। মঙ্গলবার ঝাড়খণ্ড বিধানসভার দিকে দলের কর্মীরা মিছিল শুরু করার পর ব্যাপক বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়।

আরএসএসের ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) সদস্যরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এবিভিপির কমপক্ষে ১১০ জন কর্মীকে আটক করে পুলিশ।

ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রী ইরফান আনসারি বিজেপির ডাকা বনধের সমালোচনা করে বলেছেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে "হাইজ্যাক" করার চেষ্টা করছে।

ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (জেএসএসসি)-এর সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলনে সামিল হয়েছেন ছাত্র যুব সম্প্রদায়। জুলাই মাসের শেষ দিক থেকে এই আন্দোলন চলছে।

সোমবার বিধানসভা অভিযানের ডাক দিয়েছিল তারা। আন্দোলনকারীদের প্রতিহত করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে, কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে এবং জল কামান ব্যবহার করে।

লাঠির আঘাতে অনেক আন্দোলনকারী আহত হন। তাদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করলেও তাদের উপর পুলিশ বল প্রয়োগ করেছে।

পুলিশের ওই পদক্ষেপকে ঘিরে ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্তরে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

বিজেপি-বিরোধী জোট 'ইন্ডিয়া' ব্লকে রয়েছে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের দল ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা । ওই জোটের শরিকদের মধ্যে আম আদমি জনতা পার্টির অরভিন্দ কেজরিওয়াল পুলিশি বল প্রয়োগের সমালোচনা করেছেন, কংগ্রেসের রাহুল গান্ধীও ছাত্রদের পক্ষে কথা বলেছেন।

পাশাপাশি ককরোচ জনতা পার্টির অভিজিৎ দীপকে ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনকারী ছাত্রদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে পুলিশি পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করেছেন।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতি

ঝাড়খণ্ডে ক্ষমতাসীন হেমন্ত সোরেনের নেতৃত্বাধীন ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার সমালোচনা করে পুলিশি পদক্ষেপের প্রতিবাদে মঙ্গলবার রাজ্যব্যাপী বনধ ডেকেছে বিজেপি।

মঙ্গলবার বিজেপির সহযোগী ছাত্র সংগঠন এবিভিপির কর্মসূচিকে ঘিরে দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাঁচি। এবিভিপির বিধানসভা অভিযানের সময়ে পুলিশ বাধা দিলে সংঘর্ষ বেঁধে যায়।

বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনীতির অভিযোগ তুলেছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি সরকারের দাবি, আন্দোলনকারীদের সিংহভাগ দাবিই মেনে নেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন জানিয়েছেন, পুলিশ-প্রশাসন সোমবার মিছিলের সময়ে 'সংযম' দেখিয়েছে।

মি. সোরেন এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, "আজকের (সোমবার) ছাত্র বিক্ষোভ চলাকালীন সংযম, সংবেদনশীলতা এবং পূর্ণ দায়িত্বের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য আমি প্রশাসন ও পুলিশের সকল কর্মকর্তা ও কর্মীদের ধন্যবাদ জানাই।"

সোমবার সরকারি চাকরির পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের অভিযোগে ঝাড়খণ্ড সিআইডি ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (জেপিএসসি) সাবেক চেয়ারপার্সন এল খিয়াংতেকে গ্রেফতার করেছে।

তবে সরকারের বক্তব্য মানতে নারাজ আন্দোলনকারীরা। তাদের সমস্ত দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।

এদিকে, সোমবার রাতে ওই ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতোর স্বাস্থ্যের অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

তিনি গত নয়দিন ধরে অনশন করছিলেন। বিধানসভা অভিযানে অংশগ্রহণ করেছিলেন তিনি। তারপর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়।

কেন এই বিক্ষোভ

দিন কয়েক আগেই সর্বভারতীয় মেডিকেল প্রবেশিকা 'নিট' পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস-সহ একাধিক অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়েছিল ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তর, যার আঁচ ছড়িয়ে পড়েছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

এবার যুব সম্প্রদায়ের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ঝাড়খণ্ড।

জুলাই মাসের শেষ থেকে এই পড়ুয়ারা ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরির নিয়োগের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে সামিল হন। ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (জেপিএসসি) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (জেএসএসসি)-এ অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাঁচির জয়পাল সিং মুণ্ডা স্টেডিয়ামে শত শত ছাত্র-ছাত্রী জড়ো হতে থাকেন।

ঝাড়খণ্ডের প্রশাসনিক ও অন্যান্য সরকারি চাকরিতে নিয়োগের প্রধান প্রতিষ্ঠান হলো জেপিএসসি এবং জেএসএসসি। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এই কমিশনগুলো দ্বারা পরিচালিত পরীক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চলছে। যার ফলে লক্ষ লক্ষ যুবকের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রথম দিকে ছাত্র এবং চাকরিপ্রার্থীরাই মূলত এই আন্দোলনে সামিল হলেও ধীরে ধীরে যুবসম্প্রদায়ের সংখ্যা জমায়েতে বাড়তে থাকে। বয়স নির্বিশেষে অনেকেই এই আন্দোলনে সামিল হন। কেউ সকালের খাবারের জোগান থাকেন, কেউ বা জল।

অনুষ্কা নামে এক আন্দোলনকারীদের বিবিসি বাংলার সাংবাদিক ময়ূরী সোমকে বলেছেন, "ঝাড়খণ্ডে চাকরির সুযোগ কম। তাই বহু চাকরিপ্রার্থী রাজ্য সরকারে চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন দেখেন, নিজেদের এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার আশায়। অনেকের কাছে কৃষিকাজ বা দিনমজুরির কাজ থেকে বেরিয়ে আসার এটাই একটাই একমাত্র পথ।"

"কিন্তু প্রায় প্রতিবারই ঝাড়খণ্ডের সরকারি চাকরির পরীক্ষায় কোনও না কোনও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অযোগ্য প্রার্থীরা দুর্নীতির মাধ্যমে চাকরি পাচ্ছেন। যোগ্য প্রার্থীরা বার বার বঞ্চিত হন।"

জেপিএসসি, ২০২৫-এর প্রিলিমিনারি (প্রাথমিক স্তর)-র ফল প্রকাশের পর কারচুপির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। তীব্র বিতর্কের মুখে রাজ্য সরকার পরীক্ষা বাতিল করতে রাজি হয় এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) ও সিআইডি এই নিয়ে তদন্ত শুরু করে। এরপর সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদের পর ২২শে জুলাই জেপিএসসি চেয়ারম্যান এল খিয়াংতে পদত্যাগ করেন।

রাঁচিতে বিক্ষোভস্থলে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবি ছিল এই মামলার তদন্তের ভার সিবিআইকে দেওয়া হোক বা রাজ্যের বাইরের কোনো অবসরপ্রাপ্ত হাইকোর্টের বিচারপতিদের নিয়ে প্যানেল তৈরি করে এর স্বাধীন তদন্ত হোক।

পাশাপাশি জেপিএসসি এবং জেএসএসসিতে সংস্কার ও ১৪তম ঝাড়খণ্ড পিএসসি সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষা সহ বেশ কয়েকটি নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল করা হোক।

চাকরি প্রার্থী ছাড়াও বিজেপি সমর্থিত ছাত্র সংগঠন এবং ঝাড়খণ্ড লোকতান্ত্রিক ক্রান্তিকারী মোর্চা সমর্থিত ছাত্র সংগঠনও এই বিক্ষোভে যোগ দেয়। বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের কর্মীদেরও আন্দোলনে সামিল হতে দেখা গিয়েছে।

বিক্ষোভস্থলে এসে ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো অনশনের বসার কথা ঘোষণা করেন। পাশাপাশি অন্যান্য আন্দোলনকারীরাও অনশন শুরু করেন। মি. মাহাতো ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাঁচি কেন্দ্র থেকে জেএলকেএম-এর প্রার্থী ছিলেন। তিনি এই ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ।

তবে রাজনীতির ছোঁয়াচ সন্তর্পণে এড়িয়ে চলতে চাইছেন আন্দোলনকারীরা।

বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা ময়ূরী সোম রাঁচি থেকে জানিয়েছেন, "এই মঞ্চে যাতে রাজনীতির রং না ঢোকে সে বিষয়ে বেশ সচেতন আন্দোলনকারীরা। তারা এই আন্দোলনকে সংবিধান মেনে এবং শান্তি বজায় রেখে চালানোর উপর যেমন জোর দিয়েছেন তেমনই অনুরোধ করেছেন কেউ যেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই মঞ্চ ব্যবহার না করেন।"

'এবার চাষের কাজই করতে হবে'

সরকারি চাকরিতে নিয়োগ নিয়ে ঝাড়খণ্ডের যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে ক্ষোভ রয়েছে। এক আন্দোলনকারী জানিয়েছেন, কয়েক প্রজন্ম ধরে তার পরিবার কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল।

তিনি বিবিসিকে বলেছেন, "আমার পরিবারের আমিই প্রথম সদস্য যে চাষের বদলে চাকরির জন্য চেষ্টা করেছি। গ্রাম থেকে সব কিছু ছেড়ে এসে রাঁচিতে থেকে চাকরির পরীক্ষার জন্য পড়াশোনা করেছি। কিন্তু প্রতিবারই কোনো না কোনো অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে।"

"আমাদের বয়স বেড়ে যাচ্ছে। এরপর আমাকে হয়তো চাকরির আশা ছেড়ে বাবা-কাকার মতো চাষের কাজ করতে হবে।"

উম্মে হাবিবা নামে এক অনশনকারী বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "বিয়ের জন্য চাপ উপেক্ষা করেই এই চাকরির পরীক্ষাগুলো দিচ্ছিলাম। ভেবেছিলাম চাকরি পেয়ে গেলে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারব।"

"ঝাড়খণ্ড তৈরির পর থেকে আজ পর্যন্ত একটাও সরকারি চাকরির পরীক্ষা সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে হয়নি। কখনও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়ে যায়, বা পরীক্ষার খাতায় অসঙ্গতি পাওয়া যায়। চাকরি বিক্রিও হয়। আমাদের লড়াই কোনও রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়। আমরা চাই শিক্ষাব্যবস্থায় কাঠামোগত পরিবর্তন," তিনি অভিযোগ করেন।

"মন্ত্রীদের ছেলেমেয়েরা বিদেশে পড়তে চলে যায়। আমার বাবা একজন কৃষক। আমার সেই ক্ষমতা নেই। আমাদের সবারই একটাই স্বপ্ন, একটা চাকরি, যা আমাদের সামাজিক ও আর্থিক পরিস্থিতি বদলাতে পারবে। যাতে মা-বাবা গর্ব করতে পারেন, আর আমরা সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারি।"

সরকারের বক্তব্য

এরই মাঝে সরকারের সঙ্গে দু'দফা বৈঠক হয় আন্দোলনকারীদের। রোববারের বৈঠকে সরকার ১৪তম জেপিএসসি এবং কম্বাইন্ড সিভিল সার্ভিসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষাসহ তিনটে পরীক্ষা বাতিল করতে রাজি হয়।

চতুর্দশ জেপিএসসি পরীক্ষা সংক্রান্ত কথিত আর্থিক অনিয়মের তদন্তভার এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-কে দেওয়ার দাবিও মেনে নেওয়া হয়। ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে রোববার ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (জেপিএসসি) তিন সদস্য পদত্যাগ করেন।

কারিগরি ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী সুদিব্য কুমার সোনু জানান সরকার ৯৮% দাবি মেনে নিয়েছে।

অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের বক্তব্য জেএসএসসি-সিজিএল পরীক্ষার ফলাফল বাতিল না হওয়া এবং জেপিএসসি-সংশ্লিষ্ট সমস্ত পরীক্ষায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন।

সরকারের যুক্তি যেহেতু ওই পরীক্ষা আদালতের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছিল, তাই রাজ্য সিজিএল পরীক্ষার ফলাফল বাতিল করতে পারে না।

এরই মাঝে সোমবার রাজ্য বিধানসভা অভিযান কর্মসূচির সময় ছাত্রদের উপর পুলিশি বল প্রয়োগের অভিযোগ ওঠে।

শিবম কুমার নামে এক আন্দোলনকারী বার্তা সংস্থা এএনআইকে বলেছেন, "আমরা বিধানসভার বাইরে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিলাম। অপেক্ষা করছিলাম যে কেউ আমাদের সঙ্গে এসে কথা বলবেন। তবে তাদের কেউই আসেননি। পুলিশ এসে উপস্থিত হয় এবং সতর্ক না করেই লাঠি চালায়। অনেকের মাথায় চোট লেগেছে, পায়ে চোট লেগেছে।"

এদিকে, ছাত্রনেতা দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো অসুস্থ শরীর নিয়েই বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও ঝাড়খণ্ড রাজ্যের দাবিতে আদিবাসী সমাজের দীর্ঘ আন্দোলনের পুরোধা শিবু সোরেনের ছবি সঙ্গে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে চেপে বিক্ষোভস্থলে পৌঁছান মি. মাহাতো। পরে স্ট্রেচারের উপর দাঁড়িয়ে জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "লাঠি, গুলি এবং বন্দুক দিয়ে সরকার চালানো যায় না। জনগণকে সন্তুষ্ট রেখেই সরকার চলে।"

রাতে তার অবস্থার আরো অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার রক্তে শর্করার মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে কমে গিয়েছিল। আপাতত চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তিনি ছাড়াও আরো বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী অনশন করছিলেন। এদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে সোমবার রাতে দেখা করেন ঝাড়খণ্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইরফান আনসারি।

পুলিশের বক্তব্য

পুলিশের পাল্টা দাবি, তাদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া হয়েছে। রাঁচি সিটি এসপি পারস রাণা জানিয়েছেন মিছিল চলাকালীন পাথর ছোড়ায় তিন থেকে চারজন জওয়ান আহত হয়েছেন। ব্যারিকেড ভাঙার সময় জওয়ানরা পদদলিত হতে পারেন, এই আশঙ্কায় পুলিশ 'মৃদু লাঠিচার্জ' করে।

তিনি বলেন, "যে সময়ে পাথর ছোড়া হচ্ছিল, তার এক পর্যায়ে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়া হয়। একাধিক স্তরের নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও জনতা বিধানসভার সীমানার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম যে যারা এই অবরোধের ডাক দিয়েছিল, তারা বলেছিল বিক্ষোভকারীরা শান্তিপূর্ণ থাকবে। তাদের মধ্যে ৮০-৯০ শতাংশ বিক্ষোভকারী শান্তিপূর্ণ হলেও ১৫-২০ শতাংশ বিক্ষোভকারী গোলযোগ সৃষ্টি করে এবং পাথর ছোড়ে।"

সিজেপি ও অন্যান্যদের সমর্থন

ককরোচ জনতা পার্টি এই ছাত্র আন্দোলনের প্রতি সমর্থন দেখিয়েছে। সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সোমবারের কর্মসূচিকে সমর্থন করে বলেছিলেন, "আমরা সবাই আপনাদের সঙ্গে আছি।"

পরে, দেবেন্দ্র নাথ মাহাতো অসুস্থ হয়ে পড়ার পর সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে তার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন।

অভিজিৎ দীপকে এক্স-এ লিখেছেন , "যন্তর মন্তর হোক বা ঝাড়খণ্ড, ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশের এই ধরনের পদক্ষেপ পাশবিক ও অমানবিক। দেবেন্দ্র মাহাতো এবং তার দাবির প্রতি সিজেপির দৃঢ় সমর্থন রয়েছে।"

তবে প্রথমদিকে, ইন্ডিয়া ব্লকের অন্যান্য শরিক যেমন কংগ্রেস বা আম আদমি পার্টির তরফে ঝাড়খণ্ডের আন্দোলন নিয়ে বিশেষ মন্তব্য না আসাকে কেন্দ্র করে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি।

তাদের দাবি, রাহুল গান্ধী সিজেপির আন্দোলনের সময় বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হলেও ইন্ডিয়া ব্লকের জোট সঙ্গী হেমন্ত সোরেনের সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলেনি।

প্রসঙ্গত বিজেপির কঙ্গনা রানাউত ঝাড়খণ্ডে পড়ুয়াদের উপর লাঠিচার্জের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন।