'অজ্ঞাত মৃতদেহে উদ্বেগ'

Published
পড়ার সময়: ৮ মিনিট

দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম, 'অজ্ঞাত মৃতদেহে উদ্বেগ'।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দেশে অজ্ঞাত পরিচয় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ক্রমাগত বাড়ছে। মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারি-অক্টোবর পর্যন্ত ৩৭৭টি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ২৮ শতাংশ বেশি। এদের বেশিরভাগই পুরুষ।

এসব মরদেহ সাধারণত পুকুর, খাল, রেলপথ বা রাস্তা থেকে উদ্ধার করা হয়। পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় এসব মরদেহ "বেওয়ারিশ" হিসেবে গণ্য হয়ে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম বা অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে দাফন করা হয়।

বিশেষত জুলাই-অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে বহু মরদেহ উদ্ধার হয়, যেগুলোর মধ্যে কিছুতে গুলির চিহ্নও ছিল।

ঢামেক হাসপাতাল মর্গে এখনো এমন সাতটি মরদেহ রয়েছে, যেগুলোর ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হলেও পরিচয় মেলেনি।

এসব মরদেহ নিয়ে উদ্বিগ্ন মানবাধিকারকর্মীরা বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং প্রশাসনের গাফিলতির কারণে অজ্ঞাত মরদেহের সংখ্যা বাড়ছে।

অজ্ঞাত মরদেহ শনাক্তে পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়লেও প্রক্রিয়াগত জটিলতায় অনেক সময় দেরি হয়। এমএসএফ জানিয়েছে, ২৪ শতাংশ মরদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে, বাকিগুলোর পরিচয় এখনো অজানা।

এই সমস্যা সমাধানে প্রশাসন, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার কার্যকর উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করেন মানবাধিকারকর্মীরা।

প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম, 'করের টাকা 'অপব্যয়ের' আরেক উদাহরণ'

প্রতিবেদনে বিগত সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা তুলে ধরা হয়েছে যেগুলোর পেছনে কাড়াকাড়ি টাকা খরচ হলেও আদতে কোনো কাজে আসেনি।

বলা হচ্ছে, প্রায় দুই বছর আগে ঢাকার সাভারে গবাদিপশুর পুষ্টিকর খাবার তৈরির একটি কারখানা উদ্বোধন করা হয়েছিল। যার পেছনে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৩৩ কোটি টাকা

কিন্তু উদ্বোধনের পরপরই কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়। কেননা কারখানার জন্য আধুনিক ভবন নির্মাণ ও জার্মান প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি আনা হলেও কারখানা চালানোর জন্য কোনো জনবল নিয়োগ দেয়া হয়নি।

একই প্রকল্পের অধীনে তৈরি দুটি পূর্ণাঙ্গ ও পাঁচটি ছোট (মিনি) আকারের পরীক্ষাগার বা ল্যাবরেটরিও নির্মাণের পর ফেলে রাখা হয়েছে। কারণ, সেখানেও জনবল নিয়োগ করা হয়নি। সাতটি পরীক্ষাগারে ব্যয় হয় ৪১ কোটি টাকা।

গবাদিপশুর ভ্রূণ স্থানান্তরের নামে ২১ বছরে তিন দফা প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় অবকাঠামো হয়েছে, যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে, কিন্তু ভ্রূণ আর স্থানান্তর হয়নি। তিন দফার প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৫৮৩ কোটি টাকা।

মানুষের করের টাকা খরচ হলেও কোনো সুফল মেলেনি উল্টো গরুর মাংসের দাম বেড়েছে কয়েক গুণ, যা এখন ৭০০-৭৮০ টাকা। দুধের লিটার ছাড়িয়েছে ৯০ টাকা। এসব প্রকল্পের ভবিষ্যত কী সে বিষয়ে একাধিক কর্তৃপক্ষের কাছে প্রশ্ন রাখা হলেও কারো থেকে সদুত্তর মেলেনি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার জন্য দায়ী।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের মতে, এমন 'শ্বেতহস্তী প্রকল্প' জনগণের জন্য কোনো উপকার বয়ে আনেনি। ভবিষ্যতে এই অবকাঠামো ব্যবহারে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ প্রয়োজন এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, নির্বাচন ইস্যুতে সরকারকে চাপে রাখতে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করে নতুন কর্মসূচিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে বিএনপি।

সরকার এখনো নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা না করায়, সভা-সমাবেশের মাধ্যমে জনগণকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতির বার্তা দিতে চায় দলটি।

দলের নেতারা মনে করেন, প্রযুক্তিগত সংস্কার ও নির্বাচনি রোডম্যাপ দ্রুত বাস্তবায়ন করা সরকারের দায়িত্ব।

বিএনপি মনে করে, সরকারের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের শেষ থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নির্বাচন আয়োজনের ধারণা শুধু সময়ক্ষেপণ।

তাদের দাবি, চার থেকে ছয় মাসের মধ্যেই নির্বাচনমুখী সংস্কার সম্পন্ন করা সম্ভব এবং নির্বাচন আয়োজনের জন্য তিন থেকে চার মাস যথেষ্ট। তাই দ্রুত সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে, সরকারকে চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি সহযোগিতা করা হবে। দলটি হরতাল বা অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচিতে না গিয়ে জনমত তৈরি এবং নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে বড় সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা করছে।

এছাড়া, বিএনপি দলীয় রূপরেখা ৩১ দফার নতুন ব্র্যান্ডিং করছে এবং জেলাভিত্তিক কর্মশালা চালাচ্ছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে হাইকোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়ে, দলটি এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতৈক্য গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছে।

তারা বিশ্বাস করে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, তিন বন্ধু বুয়েট শিক্ষার্থী মোহতাসিম মাসুদ, মেহেদী হাসান ও অমিত সাহা মোটরসাইকেলে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ঘুরতে গিয়ে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন।

বৃহস্পতিবার রাতে বালু ব্রিজের তল্লাশি চৌকির কাছে দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার তাদের চাপা দেয়। এতে মোহতাসিম ঘটনাস্থলেই মারা যান।

মেহেদী ও অমিত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মোহতাসিম বুয়েটের সিএসই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

ঘটনায় প্রাইভেটকারের চালক মুবিনসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। মুবিনের শরীরে অ্যালকোহলের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রাইভেটকারে মদের বোতল ও বিয়ারও পাওয়া যায়।

নিহত মোহতাসিমের বাবা মাসুদ মিয়া রূপগঞ্জ থানায় মামলা করেন। আটক তিনজনের পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

মোহতাসিমের মৃত্যুতে শোকাহত তার পরিবার ও সহপাঠীরা। বুয়েট শিক্ষার্থীরা ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন, যার মধ্যে রয়েছে দোষীদের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ।

এ ঘটনায় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপ ঠেকাতে ও ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করতে বুয়েট শিক্ষার্থীরা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করছেন।

দ্য ডেইলি স্টারের প্রধান শিরোনাম, 'Large budget looms amid high inflation' অর্থাৎ, 'উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যেই তৈরি হচ্ছে বড় বাজেট'।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, আগামী অর্থবছরের জন্য সরকার আট দশমিক ৪৮ লাখ কোটি টাকার বাজেট পরিকল্পনা করেছে, যা চলতি বাজেটের তুলনায় ছয় দশমিক তিন শতাংশ বেশি।

জিডিপি বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা পাঁচ দশমিক পাঁচ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি সাত শতাংশ নির্ধারণের কথা জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

নতুন বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) দুই দশমিক ৭০ লাখ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। তবে চলতি বছরের দুই দশমিক ৬৫ লাখ কোটি টাকার মূল এডিপি বাজেট সংশোধিত হয়ে দুই দশমিক ১৬ লাখ কোটিতে নেমে আসবে।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে, পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে আরও বরাদ্দ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকার নতুন মেগা প্রকল্প গ্রহণ এড়াতে বলেছে, যদি তা অপরিহার্য না হয় বা বিদেশি তহবিল নিশ্চিত না থাকে। এছাড়া, কিছু উদ্ভাবনী প্রকল্প নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাজেটের বড় একটি অংশ সুদ এবং ভর্তুকিতে ব্যয় হবে। চলতি বছরে সুদ পরিশোধের জন্য এক দশমিক ১৩ লাখ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল, যা প্রথম তিন মাসেই ৪২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন মন্তব্য করেছেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও রাজস্ব ঘাটতির কারণে এত বড় বাজেট যৌক্তিক নয়। বিশেষজ্ঞরা বাজেট বাস্তবায়নের আগে বাস্তবিক মূল্যায়নের পরামর্শ দিয়েছেন।

এই বাজেট মানুষকে বাড়তি করের চাপ দেবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা। তবে বাজেট পরিকল্পনায় মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশে পাকিস্তান থেকে পণ্য আমদানি ২৭ শতাংশ বেড়েছে, তবে ভারত থেকে আমদানি নয় দশমিক ৪৮ শতাংশ কমেছে।

পাকিস্তান থেকে পোশাক ও কাচশিল্পের কাঁচামাল, রাসায়নিক, এবং পেঁয়াজ-আলু আমদানি হয়। প্রথম প্রান্তিকে পাকিস্তান থেকে আমদানি হয়েছে ১৭৯ দশমিক চার মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি।

অন্যদিকে, ভারত থেকে আমদানি ২,০৫২ দশমিক এক মিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় কম।

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নতি ও বাণিজ্য বৃদ্ধির ফলে আমদানি বেড়েছে। করাচি-চট্টগ্রাম বন্দরের সরাসরি জাহাজ চলাচল এ উন্নয়নে বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে, ভারত এখনো বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানির উৎস।

ভারত থেকে আমদানি কমার পেছনে বিনিয়োগ পরিবেশের অবনতি ও রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রভাব থাকতে পারে।

বিশেষত, ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক না হওয়ায় যাতায়াতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগও বাণিজ্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তান থেকে টেক্সটাইল ও খাদ্যসামগ্রী আমদানি বাড়ছে। ভবিষ্যতে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হতে পারে।

নিজ এইজের প্রধান শিরোনামে, 'ACC back in action to net 'big fish' অর্থাৎ, 'রাঘব বোয়াল ধরতে ফের তৎপর দুদক'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, দুর্নীতির বড় অপরাধীদের ধরতে আবার সক্রিয় হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের পর ১১ই ডিসেম্বর থেকে কমিশন দ্রুতগতিতে কাজ শুরু করে।

পাঁচ দিনের মধ্যেই দুর্নীতির অভিযোগে প্রায় ১০০ জনের বিরুদ্ধে ২০টি মামলা করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিরা।

দুদক বিভিন্ন অভিযোগে ২০ জনের ওপর তদন্ত শুরু করেছে, যাদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রীরা, সংসদ সদস্য এবং ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা রয়েছেন।

এ সময় প্রায় ৩০ জনের বিরুদ্ধে বিদেশ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে ২৯টি অভিযান চালানো হয়েছে।

কমিশনের নতুন চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মোমেন জানিয়েছেন, দুর্নীতির বড় অপরাধীদের ধরতে কোনো পক্ষপাত দেখানো হবে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুদক দীর্ঘদিন রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি। তবে এবার বড় দুর্নীতির ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে।

দুদকের কার্যক্রমের গতিতে নতুন আশার সঞ্চার হলেও এর সফলতা নির্ভর করছে শক্তিশালী অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করার ওপর।

মানবজমিনের প্রধান শিরোনাম, 'যে কারণে বাংলাদেশকে বেছে নিলো ইকোনমিস্ট'

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, প্রতি বছর বিশ্বের সেরা দেশ নির্বাচন করে দ্য ইকোনমিস্ট। এবার এই গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ।

২০২৪ সালে রাজনৈতিক পরিবর্তন ও স্বৈরশাসকের পতনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পরিবেশের সূচনা করায় বাংলাদেশকে বর্ষসেরা দেশের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

এবারের তালিকায় ছিল পাঁচটি দেশ: বাংলাদেশ, সিরিয়া, আর্জেন্টিনা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও পোল্যান্ড। তবে সবচেয়ে বেশি বিতর্কের মধ্যেও বাংলাদেশকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অগাস্টে ছাত্রদের নেতৃত্বে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন শুরু হয়। দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের পর তিনি ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন।

শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনার চেষ্টা করছে।

সিরিয়া ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে। দেশটি দীর্ঘ ৫০ বছরের স্বৈরশাসনের পতন ঘটিয়েছে। তবে আসাদের পতনের পর হায়াত তাহরীর আল শামের মতো সংগঠনের মাধ্যমে দেশটি ইসলামী স্বৈরতন্ত্রের ঝুঁকিতে রয়েছে।

বাংলাদেশের মতো স্বৈরশাসক হটানো পোল্যান্ডও তালিকায় স্থান পেয়েছে। তবে বাংলাদেশকে এ বছরের বিজয়ী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে দ্য ইকোনমিস্ট জানিয়েছে, এই পরিবর্তন দেশটির জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম, 'চলচ্চিত্রের আকাশে কালো মেঘ'।

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, একসময় হলে গিয়ে ছবি দেখার প্রচলন থাকলেও, এখন প্রযুক্তির প্রসারে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ও ইউটিউবের মাধ্যমে দর্শক ঘরে বসেই ছবি উপভোগ করছে।

প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় বাংলাদেশের বহু পরিচালক বর্তমানে বেকার। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির ৫৪৫ জন পরিচালকের মধ্যে প্রায় ৪০০ জনই কর্মহীন।

প্রযুক্তির রূপান্তরের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে না পারা, পেশাদার প্রযোজকের অভাব, শিডিউল জটিলতা এবং দর্শকের স্বল্পতা এর প্রধান কারণ। পাশাপাশি, দক্ষ সংগীত পরিচালক, নৃত্য পরিচালক ও ক্যামেরাম্যানের সংকটও বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে।

একসময় দেশে বছরে শতাধিক সিনেমা মুক্তি পেলেও, ২০২৩ সালে এটি কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২২-এ। বেকারত্বের কারণে বহু পরিচালক পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছেন, গ্রামে ফিরে গেছেন কেউ, কেউ পাড়ি জমিয়েছেন বিদেশে। আবার কেউ ছোটখাটো ব্যবসা করে টিকে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।

অনেকে অসুস্থ হলেও অর্থাভাবে করাতে পারছেন না চিকিৎসা। যথাযথ চিকিৎসা করাতে না পেরে একজন পরিচালক অন্ধ হয়ে গেছেন।

তাদের মধ্যে নামকরা বেশ কয়েকজন পরিচালকও রয়েছেন। পরিচালক কাজী হায়াতের চিকিৎসার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহায়তার আবেদন করতে হয়েছিল।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মনতাজুর রহমান আকবর ও দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর মতো বিখ্যাত নির্মাতারা বর্তমানে বেকার জীবন কাটাচ্ছেন। অনেকটা মানবেতর জীবন যাপন করলেও কাউকে তা বলতে চান না তারা।

তবে সরকারের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়ে তারা জীবনের বাকি সময়টুকু শান্তিতে কাটানোর আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। চলচ্চিত্র শিল্পের এই অবক্ষয় থেকে উত্তরণে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।