বাংলাদেশে ধর্মীয় পোশাক নিয়ে নির্দেশ

bangladesh burka
ছবির ক্যাপশান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় পোশাক পরতে বাধ্য করা যাবে না
    • Author, আকবর হোসেন
    • Role, বিবিসি বাংলা, ঢাকা
  • Published
  • পড়ার সময়: ২ মিনিট

বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় পোশাক পরতে বাধ্য করা যাবে না বলে এক সরকারি নির্দেশ জারি করা হয়েছে৻

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জারি করা এক পরিপত্রে বলা হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বোরকা বা ধর্মীয় পোশাক পড়তে বাধ্য করা ‘অসদাচরণ‘ বলে গণ্য করা হবে।

এর আগে হাইকোর্টের পক্ষ থেকেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কর্মস্থলে মহিলাদের বোরকা পরতে বাধ্য না করার নির্দেশ দেওয়া হয়৻

একটি রিট মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ঐ আদেশ দেয়৻

বাংলাদেশের মূলত গ্রামাঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বোরকা, হিজাব বা নেকাব পড়ার বিষয়টি চালু রয়েছে।

অনেক জায়গায় এ ধরনের পোশাক পড়া সামাজিক রীতি হলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তা পরতে বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে।

নাটোরের একটি কলেজের একজন ছাত্রী তানিয়া সুলতানা বলেন তাদের কলেজে বোরকা পরার জন্য অধ্যক্ষ চাপ প্রযোগ করেন।

তিনি বলেন, যেসব ছাত্রী বোরকা না পরে কলেজে যেত তাদের বের করে দেওয়া হতো।

তানিয়া সুলতানা বলেন এমন পরিস্থিতিতে অনেক মেয়ে কলেজ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

তানিয়া সুলতানা বলেন, “তিনি (কলেজ অধ্যক্ষ) যদি বুঝিয়ে আমাদের বোরকা পড়ে আসতে বলতেন তাহলে ভিন্ন কথা। আমরা সেটি মানব কি মানব না সেটি আমাদের বিষয়।”

তিনি অভিযোগ করেন হিন্দু ধর্মবলম্বী ছাত্রীদেরও অনেক সময় বড় সুতির ওড়না জড়িয়ে আসতে হত ।

শুধু গ্রামাঞ্চলে নয়, শহরের অনেক নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও সাধারণ স্কুল পোশাকের বাইরে ভিন্ন ধরনের পোশাক পরার নিয়ম রয়েছে - যেমন ছাত্রীদের এ্যাপ্রোন পরা কিংবা বাধ্যতামূলক হিজাব বা বড় ওড়না পরা।

শহরের একটি নামকরা স্কুলের একজন ছাত্রীর অভিভাবক নাজমা আনোয়ার সরকারের পদক্ষেপকে যুক্তিসঙ্গত বলে বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন, “পর্দা করা একটি ব্যক্তিগত ব্যাপার৻ বাধ্য করা ঠিক হবে না ৻ ভেতরে যদি কেউ খারাপ কাজ করে তাহলে উপরে পর্দা করলেই তো হবে না।”

দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষক গোলাম সরওয়ার বলেন , একসময় তার স্কুলে বোরকা পরা বাধ্যতামূলক থাকলেও এখন আর সেটি নেই।

বাধ্যতামূলক না হলেও সামাজিক রীতি হিসেবে বোরকা পরার বিধান চালু আছে বলে তিনি জানান।

প্রধান শিক্ষক গোলাম সরওয়ার বলেন, “আমাদের এলাকা কিছুটা ইসলামী মনোভাবাপন্ন। সেজন্য অনেকে বোরকা পরে স্কুলে আসে।”

তিনি আরও বলেন, “সরকার যা চাইবে তাই হবে। আমি স্কুলে নোটিস দিয়ে দেব যে বোরকা পরা বাধ্যতামূলক নয়।”

এদিকে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানিয়েছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলতে মাদ্রাসাও এর মধ্যে অন্তর্ভূক্ত হবে।

তিনি বলেন, “মাদ্রাসাতেও ছাত্রীদের স্বাধীনতা থাকবে। তারা যদি মনে করে বোরকা পরবে আর যদি মনে না করে তাহলে পরবে না। কিন্তু সেজন্য বাধ্য করা যাবে না।”

শিক্ষামন্ত্রী বলেন ধর্মের নামে কোন পোশাক পড়ে আসার বিষয়টি চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।

তিনি বলেন, কোন শিক্ষার্থীকে স্বাধীন পোশাক পরা থেকে বঞ্চিত করা যাবে না ।

শিক্ষামন্ত্রীর সাথে কথা বলেন আকবর হোসেন৻