"বিএনপিকে এখন ছাড় দিচ্ছি, ডিসেম্বরে ছেড়ে দেবো না": ওবায়দুল কাদের

ওবায়দুল কাদের
ছবির ক্যাপশান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের
Published

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপিকে এখন ছাড় দেয়া হচ্ছে, কিন্তু আগামী ডিসেম্বর থেকে আর ছাড় দেয়া হবে না।

শনিবার ঢাকার বাড্ডায় এক শান্তি সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। এজন্য দলের নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি নেয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

গত কয়েক সপ্তাহ যাবত বিএনপি দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভাগীয় সমাবেশ করছে। আর তার বিপরীতে আওয়ামী লীগও গত সপ্তাহ থেকে রাজনৈতিক কর্মসূচী পালন শুরু করেছে।

এরই মধ্যে আজ আওয়ামী লীগের কুমিল্লা মহানগর কমিটির প্রথম ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, এবং ঢাকায় শনিবার বিকেলে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ এক শান্তি সমাবেশ আয়োজন করে। দুটি অনুষ্ঠানেই প্রধান অতিথি ছিলেন ওবায়দুল কাদের।

ঢাকার সমাবেশে মি. কাদের বলেছেন, "ডিসেম্বরে আমাদের হঠিয়ে, শেখ হাসিনাকে হঠাইয়া, খালেদা জিয়াকে নিয়ে খোমেনী স্টাইলে বিপ্লব করবেন ঢাকার রাজপথে, এ রঙ্গিন খোয়াব কর্পূরের মত উবে যাবে।"

তিনি আরো বলেন, "বিএনপিকে এখন ছাড় দেয়া হচ্ছে, কিন্তু আগামী ডিসেম্বর থেকে আর ছাড় দেয়া হবে না। খেলা হবে। দলের নেতাকর্মীরা প্রস্তুত হয়ে যান।"

"ডিসেম্বরে রাজপথ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির দখলে থাকবে, বিএনপির থাকবে না," বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে কিছুদিন যাবত দুই দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেয়ার প্রবণতা বেড়ে চলেছে।

অন্যদিকে শনিবারই বরিশালে বিএনপির বিভাগী সমাবেশে দলটির মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, "আমরা পরিষ্কার করে বলতে চাই যে শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না।"

নির্বাচনের আগে রাজপথ দখলে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, নির্বাচনের আগে রাজপথ দখলে রাখতে চায় আওয়ামী লীগ

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এবারও "কোন রকমে একটা নির্বাচন করে" আবার ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা করছে, কিন্তু সেটি তারা আর হতে দেবেন না।

অন্যদিকে কুমিল্লার সমাবেশে বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে মি. কাদের বলেন, "কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে কত লোক হয়েছে, আসেন এবং দেখে যান। আপনাদের মতো ভাড়া করা লোক নেই এখানে।"

কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের কোন্দলে সংঘর্ষ

শনিবার কুমিল্লায় মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে দলীয় কোন্দলের সূত্র ধরে সম্মেলনস্থল রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সম্মেলনে যোগদানকে কেন্দ্র করে সেখানে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, গোলাগুলি এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যাচ্ছে।

দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের প্রথম ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের সময় দলের দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেসময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মঞ্চে বক্তব্য রাখছিলেন।

রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক এবং পুলিশের সাথে কথা বলে জানা যাচ্ছে, সম্মেলনে দাওয়াত পাওয়া এবং সম্মেলনের প্রস্তুতি কমিটিতে না রাখার ঘটনা নিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আঞ্জুম সুলতানা সীমার অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

আঞ্জুম সুলতানা সীমা বিবিসির কাছে অভিযোগ করেছেন, তাকে এবং দলের আরো আটজন নেতাকে এই সম্মেলনে কোনভাবে সম্পৃক্ত করা হয়নি।

এরপর আজ যখন তিনি ও পদ-বঞ্চিত আটজন নেতা তাদের অনুসারীদের নিয়ে সম্মেলন স্থলে যান, সেখানে তাদের ঢুকতে দেয়া হয়নি। টাউন হল মাঠের দরজা ভেতর থেকে আটকে দেয়া হয়েছিল। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে কথা বলেন আঞ্জুম সুলতানা সীমা, তখন কেবল তাকেসহ মোট ৯জনকে প্রবেশের কথা বলা হয়।

বিরোধীদল বিএনপির সমাবেশের জবাবে আওয়ামী লীগও সভা-সমাবেশ করছে

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বিরোধীদল বিএনপির সমাবেশের জবাবে আওয়ামী লীগও সভা-সমাবেশ করে সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করছে

কিন্তু তাতে তারা রাজি হননি, আঞ্জুম সুলতানা সীমা দাবি করেছেন, তারা যখন ফিরে আসছিলেন তখন পেছন থেকে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে, যা আধাঘণ্টা স্থায়ী হয়। আঞ্জুম সুলতানা অভিযোগ করেছেন তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে, ককটেল ছোঁড়া হয়েছে।

তবে, স্থানীয় সংবাদ কর্মীরা বলেছেন, পুলিশের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষকেই গোলাগুলি করতে দেখা গেছে।

সংঘর্ষে কতজন আহত হয়েছেন সে নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক কর্মীরা ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন।

আঞ্জুম সুলতানা সীমা বিবিসিকে বলেছেন, তার অনুসারী সমর্থকদের মধ্যে অন্তত ১২জন আহত হয়েছেন।

ঘটনায় সময় কুমিল্লা টাউন হল মাঠে উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিকও আহত হন, যার মধ্যে দৈনিক প্রথম আলো, সমকাল এবং সময় টিভির সাংবাদিকরা রয়েছেন বলে জানা গেছে। তারা কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোঃ আব্দুল মান্নান বিবিসিকে বলেছেন, সম্মেলন চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

তিনি ককটেল বিস্ফোরণ বা গোলাগুলির তিনি খবর জানেন না বলে দাবি করেছেন। তবে এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে।

পুলিশ সুপার মি. মান্নান বলেছেন, এখনো বিষয়টি নিয়ে কোন মামলা দায়ের হয়নি, কেউ অভিযোগ জানালে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি জানিয়েছেন।