এডিটার'স মেইলবক্স: মিরসরাইয়ে মৃত্যু, গ্রামীণ নিয়ে তদন্ত আর বিবিসি নিয়ে ভুল প্রচার

ছবির উৎস, Akhter Hossain
- Author, সাবির মুস্তাফা
- Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
- Published
- পড়ার সময়: ৮ মিনিট
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের একটি লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় একটি মাইক্রোবাসের ১১ জন আরোহী ঘটনাস্থলেই নিহত হবার মর্মান্তিক খবরটি সবাইকেই নাড়া দিয়েছে।
সে বিষয় দিয়ে আজ শুরু করছি। প্রথমে লিখেছেন রংপুরের খটখটিয়া থেকে মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন:
''দেশের কিছু শীর্ষ পত্রিকার তথ্য ও প্রতিবেদন হতে জানা যায় বর্তমানে সারাদেশ ব্যাপী প্রায় ৩০০০ কিলোমিটার রেলপথে আড়াই হাজারের বেশি রেল ক্রসিং রয়েছে। রেলওয়ে নথিপত্র অনুসারে ২০১৫ সাল থেকে এই রেল ক্রসিংগুলো নিরাপদ করতে ১৯৬কোটি টাকা খরচ করেছে রেলওয়ে।
''রেলক্রসিং উন্নয়নের মধ্যে প্রতিবন্ধক বসানো ও পাহারাদারের জন্য ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। অথচ এত কিছুর পরেও কর্তৃপক্ষের অবহেলায় সম্প্রতি মিরসরাই রেলক্রসিং ট্রাজেডিতে ১১টি তাজা প্রাণ অকালে চলে গেল।
''এই মর্মান্তিক ও দুঃখজনক ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে এখনেই সজাগ ও সচেতন হতে হবে যাতে ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।''

ছবির উৎস, Fire Service
আপনি ঠিকই বলেছেন যে রেল ক্রসিংগুলো নিরাপদ করার জন্য কর্তৃপক্ষর যা করার প্রয়োজন তা করতে হবে। কিন্তু আমি আপনার সাথে পুরোপুরি একমত হতে পারছি না মি. হোসেন।
দু:খজনক হলেও সত্য যে বাংলাদেশে অনেক যান চালক রেলক্রসিং-এর তোয়াক্কা না করে ট্রেন কাছে চলে আসা সত্ত্বেও পার হবার চেষ্টা করে। এখানে শৃঙ্খলার একটা চরম অভাব আছে।
মানুষ সচেতন না হলে, রেল ক্রসিং এর নিয়ম মেনে না চললে, কর্তৃপক্ষর শত প্রচেষ্টাও সফল হবে বলে আমার মনে হয় না।
বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

ছবির উৎস, SOPA Images
তদন্তর পর তদন্ত
পরের চিঠি লিখেছেন রংপুরেরই পীরগাছা থেকে মোহাম্মদ মিলন খন্দকার খালেক:
''ভবনে আগুন লাগার পর তদন্ত। ভবন ধসের পর তদন্ত। লঞ্চ ডুবির পর তদন্ত। ট্রেন দুর্ঘটনার পর তদন্ত। খুন, গুম, ধর্ষণ, চোরাচালান, অর্থ পাচার, মানব পাচার সহ দুর্নীতির মতো খবরগুলো প্রকাশের পর তদন্ত। শুধু তদন্ত! তদন্ত! তদন্ত!
''শুধু দুর্ঘটনার খবর দেখি আর তদন্ত হবে শুনি। কিন্তু তারপর আর জানিনা, এসব তদন্তের রিপোর্টে ঐসব দুর্নীতি বা দুর্ঘটনা কার ইঙ্গিতে, কিসের অভাবে, কার গাফিলতি অবহেলা বা অব্যবস্থাপনায় হলো, এবং এর পেছনে কে সাধু কে চোর, তার বেশির ভাগ যেন অজানার আবরণেই ঢেকে যায়।
''আর সেই অজানা আবরণের ভিড়ে, আবারো অকালেই ঝরে গেলো এগারোটি তাজা প্রাণ। তাই ঐসব তদন্তকারী সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে দেশবাসীর প্রশ্ন, এবারের তদন্ত রিপোর্টটি আবারও অনন্য তদন্ত রিপোর্টগুলোর মত, তলানিতে গিয়ে পড়ে থাকবে না তো?''

ছবির উৎস, NurPhoto
আপনি ঠিক কথাই বলেছেন মি, খালেক। প্রতিটি দুর্ঘটনার পর তদন্ত হয়, কোন সময় একাধিক তদন্ত হয়। অনেক সময় রিপোর্ট প্রকাশও করা হয় না। কিন্তু তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, এই সব তদন্তের পর তেমন কোন পদক্ষেপও নেয়া হয় না যেটা সত্যিই ন্যক্কারজনক।
কিন্তু আগেই যেটা বলছিলাম, তদন্ত করে হয়তো রেল ক্রসিং-এর কিছু গাফিলতি বের করা যেতে পারে, সেটা ঠিকও করা যেতে পারে। কিন্তু যারা সড়ক পথ ব্যবহার করে রেল ক্রসিং পার হন, বিভিন্ন যান চালকেরা, তারা যদি ক্রসিং-এ না থামেন, তারা যদি নিয়ম-কানুন উপেক্ষা করে ঝুঁকি নেন, তাহলে হাজারো তদন্ত পরিস্থিতি উন্নয়ন করাতে পারবে না।

ভুয়া তথ্য, তারপর সংশোধন
এবারে বিবিসি নিয়ে একটি প্রশ্ন। সম্প্রতি বাংলাদেশের একজন আইনজীবী সামাজিক মাধ্যমে বিবিসি বাংলা সম্পর্কে একটি ভুয়া তথ্য দিয়েছেন, যা নিয়ে লিখেছেন সিলেট থেকে রিপন রুদ্র পাল:
''গত ৩১শে জুলাইয়ের একটা ভিডিওতে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলছিলেন "ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ' এর প্রায় ত্রিশের অধিক একটি সাংবাদিক দল মালদ্বীপে গেছেন, অবকাশ যাপনের জন্য। যেখানে ইউ এস বাংলা, বসুন্ধরা গ্রুপ, পিডিবি, ইউনাইটেড গ্রুপ, সামিট ও ওরিয়ন গ্রুপ তাদের সম্পূর্ণ যাতায়াতের অর্থের যোগান দিচ্ছে। যেখানে বিবিসি বাংলার আবুল কালাম আজাদও আছেন।
''ব্যারিস্টার সুমন বারবার বলছিলেন বিভিন্ন রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা এইসব বাণিজ্যিক গ্রুপের বিরুদ্ধে তেমন কোন রিপোর্ট করেন না। আমরা প্রশ্ন হচ্ছে ব্যারিস্টার সুমন যে অভিযোগ করছেন তাতে বিবিসি বাংলার সাংবাদিক যুক্ত আছেন কিনা?''
আপনার প্রশ্ন উত্থাপনের সময়ই আমি বলেছি আইনজীবী একটি ভুয়া তথ্য দিয়েছেন। তা থেকেই আপনি উত্তর পেয়ে গেছেন। তবে আবারো বলি, সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বিবিসি বাংলার নাম বলেছেন তার ভিডিওতে, যেটা ছিল সম্পূর্ণ অসত্য।
একজন আইনজীবী কী করে তথ্য যাচাই না করে এরকম অসত্য বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে দেন, তা আমার বোধগম্য নয়।
তিনি জুলকারনাইন সায়ের নামক একজনের ফেসবুক থেকে এই তথ্য নিয়েছিলেন। কিন্তু জুলকারনাইন সায়ের নিজেই তার ফেসবুকে স্বীকার করেছেন বিবিসি বাংলার সাংবাদিকের নাম তার তালিকায় ভুলক্রমে দেয়া হয়েছিল এবং ভুলের জন্য তিনি দু:খ প্রকাশ করেছেন।
সায়েদুল হক সুমন মি. সায়েরের পোস্টটা শেয়ার করেছেন এবং তার ভিডিওর টিজারে মি. সায়েরের ভুল সংশোধনের কথাটা যোগ করেছেন। কিন্তু তার ভিডিওতে বিবিসি বাংলার নাম রয়েই গেছে, আর এই ভুল তথ্য পরিবেশন করার জন্য তিনি দু:খ প্রকাশও করেন নি।

ছবির উৎস, YUNUSCENTRE
ড. ইউনুস না মি.ইউনুস
আমাদের অনুষ্ঠানের আরেকটি বিষয় নিয়ে লিখেছেন রাজশাহী থেকে মোহাম্মদ ফাতিউর রহমান রাকিব:
''সোমবার বিবিসি বাংলায় ড. মুহাম্মদ ইউনুসের দুর্নীতির মামলার প্রতিবেদনে রিপোর্টার তাকে মিস্টার ইউনুস বলে সম্বোধন করেছেন। উনি ওখানে মিস্টার ইউনুস না বলে ড. ইউনুস বললে কোন সমস্যা হতো কি? আর এমন একজন নোবেলজয়ী ব্যক্তিকে কেনো মিস্টার বলে সম্বোধন করবেন?''
কাওকে মিস্টার বলে সম্বোধন করা অসম্মানজনক নয় মি. রহমান। বিবিসি বাংলার স্টাইলে আমরা সব পুরুষকে মিস্টার বলে সম্বোধন করি। যেমন আপনাকেও করছি।
নোবেল পুরষ্কার পাওয়া যে অত্যন্ত সম্মানের বিষয় তা নিয়ে তো কারো সন্দেহ নেই, কিন্তু তাতে করে মিস্টার বলাটা অসম্মান হয় না।
তবে যারা পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেছেন তাদের নামের আগে আমরা ডক্টর বলে থাকি। যেমন ড. ইউনুসের ক্ষেত্রে আমাদের অনলাইনে ডক্টরই বলা হয়েছে। আমার মতে, ডক্টর বলায় তার সম্মান বাড়ে নাই, আর মিস্টার বলায় তা কমেও নাই।

ছবির উৎস, Getty Images
গ্রামীণ টেলিকম নিয়ে তদন্ত
ড. মুহাম্মদ ইউনুসের বিরুদ্ধে যে তদন্ত হচ্ছে, তা নিয়ে লিখেছেন সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গাজী মোমিন উদ্দিন:
''গ্রামীণ টেলিকমের আর্থিক দুর্নীতি তদন্তে মাঠে নামছে দুদক। বিবিসির এমন একটি নিউজের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে ডঃ ইউনুস অভিযুক্তদের তালিকায় থাকার কারণে।
''আসলে অভিযোগগুলি কী ও এই সব অভিযোগ প্রমাণিত হলে কী সাজা হতে পারে এই সব জিজ্ঞাসার জবাব মেলে এমন একটি প্রতিবেদন প্রচার করা যায় কিনা।
''ইতোমধ্যে ডঃ ইউনুস পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পিছনে প্রভাবক হয়ে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। সে বিষয়টিও এখানে তুলে ধরা যায় কিনা।''
আপনি হয়তো খেয়াল করেননি মি. মোমিন উদ্দিন, আমাদের প্রতিবেদনে ড. ইউনুসের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিস্তারিত দেয়া ছিল। একই সাথে ড. ইউনুসের প্রতিষ্ঠান ইউনুস সেন্টার অভিযোগ খণ্ডন করে যে বিবৃতি দিয়েছিল, রিপোর্টে তা থেকেও বক্তব্য দেয়া হয়েছিল।

ছবির উৎস, Foysal Ahmed
জন্মসূত্রে ভেনেজুয়েলান
এবারে আসি ভিন্ন প্রসঙ্গে। বাংলাদেশে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে এক উদ্ভট ঘটনা নিয়ে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''বিবিসি বাংলার একটি প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, মৌলভীবাজারে অন্তত ১২ জনের জাতীয় পরিচয়পত্রে তাদের জন্মস্থান ভেনেজুয়েলা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি বেশ হাস্যকর। কর্তৃপক্ষ এখনো ঠিক জানেন না কেমন করে এমনটা হয়েছে। এটি আরও বিস্ময়কর।
''জাতীয় পরিচয়পত্র কিম্বা জন্ম নিবন্ধনে ভুল হলে খুব স্বাভাবিক ভাবেই সংশ্লিষ্ট দপ্তর সেই ভুল সংশোধন করবে এটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু বাস্তবে তেমনটা হয় না। ভুল সংশোধন করতে সাধারণ মানুষকে হিমশিম খেতে হয়। এটি দেখার কেউ আছে বলেও মনে হয় না।

ছবির উৎস, PARISA GHIAS
''সারা দেশে এখন শিক্ষার্থীদের ইউনিক কার্ড তৈরির প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধনের বাংলা ও ইংরেজি ভার্সন দরকার হচ্ছে। এ কারণে ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে এখন জন্ম নিবন্ধন তৈরির ব্যাপক ভিড়। কিভাবে এবং ঠিক কত মূল্য দিয়ে সাধারণ মানুষ কত দিনে এ জন্ম নিবন্ধন কার্ড সংগ্রহ করছে?''
বিষয়টি আসলেই আশ্চর্যজনক মি. সরদার। কিন্তু আপনার মূল কথাটা আরো গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে। এসব দলিলে প্রচুর ভুল থাকে, নামের বানান থেকে শুরু করে জন্ম তারিখ পর্যন্ত।
ভুল করেন কর্মকর্তারা, কিন্তু সেটা ঠিক করতে সময়, শ্রম,অর্থ সব দিতে হয় পাবলিককে। পুরো ব্যবস্থাটা মনে হয় মোটেই গ্রাহক-বান্ধব না।

তাইওয়ান নিয়ে চীন-মার্কিন উত্তেজনা
এবারে বহির্বিশ্ব নিয়ে একটি চিঠি। চীন এবং তাইওয়ান ঘিরে যে উত্তেজনা সম্প্রতি শুরু হয়েছে, তা নিয়ে লিখেছেন চাঁপাই নবাবগঞ্জের ভোলাহাট থেকে মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম মিঞা :
''তাইওয়ান একটি স্বশাসিত রাষ্ট্র। চীন এটিকে তাদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে আসছে। চীনা হুমকির মুখে বিতর্কিত তাইওয়ান সফর শুরু করেন মার্কিন হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলসি। এই সফরকে কেন্দ্র করে চীন মার্কিন বাকবিতণ্ডা শুরু হয়েছে।
''চীনা রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন সে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতি প্রচার করেছে যাতে বলা হয়েছে, এই সফর চীন মার্কিন সম্পর্কের ভিত্তির উপর গুরুতর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে, এবং এটি চীনের সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগলিক অখণ্ডতার গুরুতর লঙ্ঘন।
''আমার প্রশ্ন হলো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাইওয়ানকে কি স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্দেশ্যে মিসেস পেলসির এই সফর? এই সফরের ফলে কি দুই পরাশক্তি চীন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বেধে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে?''
ভাল প্রশ্ন করেছেন মি. মিঞা, যদিও আপনার প্রশ্নের উত্তর আমাদের রেডিও অনুষ্ঠানে খোঁজা হয়েছে, আমাদের অন লাইন এবং টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও এই বিষয়ে বিস্তর বিশ্লেষণ প্রচার করা হয়েছে।
তবে আপনার প্রথম প্রশ্নের জবাবে বলবো, যুক্তরাষ্ট্র এখনো বলে তারা এক চীন নীতিতে বিশ্বাসী, অর্থাৎ তাইওয়ানের স্বাধীনতা তারা সমর্থন করে না। কিন্তু একই সাথে তারা তাইওয়ানকে স্বতন্ত্র গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে চায়। বিষয়টি জটিল।
আর যুদ্ধের সম্ভাবনা যে আছে, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। যুদ্ধ আদৌ হবে কি না, সেটা ভিন্ন ব্যাপার, কিন্তু সম্ভাবনা আছে।
বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:
এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of YouTube post, 1
এটিএন বাংলার মাহফুজুর রহমান
এবার আমাদের সাক্ষাতকার অনুষ্ঠান নিয়ে একটি চিঠি, লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:
''গত ২৬ জুলাই বিবিসি বাংলা'র এ সপ্তাহের সাক্ষাতকারের অতিথি ছিলেন, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলা'র বর্তমান চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমান। তার সাক্ষাতকারটি গভীর মনোযোগ সহকারে শুনছিলাম আর মনে মনে ভাবছিলাম, সব পেশা যদি আপনি একাই নিয়ে নেন, বাকি লোকজন তাহলে কি করবে?
''বিবিসি বাংলাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই যে, তারা ওনাকে বিবিসি বাংলা'য় নিয়ে আসাতে আমরা কমপক্ষে তাঁর মনের অব্যক্ত কথাগুলো জানতে পেরেছি।
''আমি এই সাক্ষাতকার পর্বে সামনের পর্বগুলোতে ডাকসুর সাবেক ভিপি নূরুল হক নূর কিংবা সম্প্রতি লাইম লাইটে আসা মহিউদ্দিন রনির সাক্ষাতকার প্রচারের বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।''
আপনাকেও ধন্যবাদ মি. ইসলাম। ডাকসুর সাবেক সহ সভাপতি নুরুল হকের সাক্ষাতকার এই সিরিজের শুরুতেই প্রচার করা হয়েছিল। আপনি ইউটিউবে বিবিসি বাংলার চ্যানেলে গিয়ে ঘাঁটা ঘাটি করলেই পেয়ে যাবেন।
মহিউদ্দিন রনির সাক্ষাতকারও প্রচার করা হয়েছে, তবে সেটা প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে, বিশেষ সাক্ষাতকার সিরিজে না।
এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of YouTube post, 2
লোড শেডিং - বিপাকে ফ্রিল্যান্সার
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বিদ্যুতের লোড শেডিং অনেক বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার ফলে সারা দেশের মানুষই কম বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সেরকম এক গোষ্ঠী, আই টি সেক্টরে যারা ফ্রিল্যান্সিং করেন, তাদের নিয়ে লিখেছেন ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিফাত রাব্বানি:
''ভারত ও পাকিস্তানের ফ্রিল্যান্সাররা কম রেটে কাজ করায়, দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও প্রতিযোগিতায় টিকতে দেশের ফ্রিল্যান্সাররাও কম রেটে কাজ নেয় জীবিকার তাগিদে।
''ফ্রিল্যান্সার ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির তথ্যমতে দেশে সক্রিয় ফ্রিল্যান্সার দুই লাখের মত। বৈদেশিক মুদ্রার একটি বড় অংশ আসছে ফ্রিল্যন্সারদের মাধ্যমে কিন্তু বাংলাদেশে স্থানভেদে ২ থেকে ১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হওয়ায় ক্ষতির সম্মুখীন তারা।
''আয় কমে যাচ্ছে অনেকের ,দীর্ঘমেয়াদী ক্লায়েন্টও ছুটে যাচ্ছে । কিভাবে প্রতিযোগিতায় টিকবে ফ্রিল্যান্সাররা? সরকার কি ভাববে না ফ্রিল্যান্সারদের কথা?''
বিদ্যুৎ সরবরাহ যেহেতু সারা দেশেই কমে গেছে, সেখানে সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মি. রাব্বানি। আর আমি যত দূর জানি, ফ্রিল্যান্সাররা নিজ বাসা থেকেই কাজ করেন, কোন নির্দিষ্ট ভবন বা কমপাউন্ডে গিয়ে কাজ করেন না। সেজন্য সরকারের পক্ষেও শুধু তাদেরকে লক্ষ্য করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব বলে তো মনে হয় না।
ফোন-ইন ভাল, ফোন-ইন খারাপ
এবারে আমাদের ফোন-ইন নিয়ে একটি প্রশ্ন, লিখেছেন নওগাঁর সাপাহার আলী আহম্মেদ আরিফ:
''পয়লা অগাস্ট রাত সাড়ে দশটার অনুষ্ঠানে ফোন ইন ছিল নাক, কান, গলা বিষয়ে। ওই দিন ঢাকা স্টুডিও থেকে শ্রোতাদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মুহাম্মদ আবু হানিফ।
''ওই দিন আমি একটা বিষয় লক্ষ্য করলাম ছেলে শ্রোতার তুলনায় মেয়ে শ্রোতা অনেক বেশি ফোন করেছে এবং প্রতিটি প্রশ্নের জবাবও দিয়েছেন অধ্যাপক হানিফ। তাকে ধন্যবাদ তার মূল্যবান সময় দেওয়ার জন্য আর ধন্যবাদ বিবিসিকে।''
আপনাকেও ধন্যবাদ মি. আহম্মেদ, আমাদের অনুষ্ঠান শোনার জন্য আর চিঠি লেখার জন্য। তবে আজ শেষ করছি ফোন ইন নিয়ে এক অভিযোগ দিয়ে, লিখেছেন পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থেকে দীপক চক্রবর্তী:
''আমরা যদি কোন প্রশ্ন করতে চাই,তাহলে কি বিবিসিতে প্রশ্ন করতে পারবো না? কেনো না সপ্তাহে দুইদিন ফোন ইন প্রচার হয়, কিন্তু আমাকে ১৪ দিন ফোন করে প্রশ্ন শুনে নেয়, তার পরে আর ফোন দেয় না, এর কারণ কি?
''আর মেয়েদের সবসময় বেশি বেশি ফোন দেওয়া হয়,তাহলে কি ছেলেরা কোন প্রশ্ন করতে পারবে না?''
অবশ্যই প্রশ্ন করতে পারবেন মি. চক্রবর্তী। তবে যারা ফোন-ইন অনুষ্ঠান পরিচালনা করে থাকেন, তাদের নানা বিষয় বিবেচনা করে কলার বাছাই করতে হয়।
সেখানে বিষয়-বস্তু যেমন বিবেচনায় রাখতে হয়, তেমনি কলার কত সাবলীল ভাবে এবং সংক্ষেপে তার বক্তব্য রাখতে পারবেন, সে দিকটাও বিবেচনা করা হয়।
আর না, পুরুষ হলেই সুযোগ পাবেন না, তেমন কোন কথা নেই।
এক সময় ১০০ ভাগ কলারই ছিল পুরুষ। সেখানে থেকে বেরিয়ে আমরা অন্তত ৫০ শতাংশ নারী কলার নিশ্চিত করতে চাই। সেজন্য আমরা ফোন-ইন অনুষ্ঠানে নারী কলারদের অগ্রাধিকার দেই তাদেরকে উৎসাহ দেবার জন্য।








