শ্রীলংকা: গণবিক্ষোভের মুখে প্রেসিডেন্ট রাজাপাকশার পদত্যাগের ঘোষণায় শান্ত হলো কলম্বো
শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোতে এখন শান্ত অবস্থা ফিরে এসেছে। প্রেসিডেন্ট গোটাভায়া রাজাপাকশা পদত্যাগ করতে রাজি হওয়ায় বিক্ষোভকারীরা উল্লসিত ।
নয়ই জুলাই চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়া দেশটির বিক্ষুব্ধ জনতা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে ঢুকে পড়ে। আরেকদল বিক্ষোভকারী প্রধানমন্ত্রী রানিল বিক্রমাসিংহের নিজ বাসভবনে আগুন লাগিয়ে দেয়। মি. বিক্রমাসিংহে ইতোমধ্যে সর্বদলীয় সরকারের পথ সুগম করতে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
শ্রীলংকায় তামিল বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ২৫ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধ অবসানের নায়ক ছিলেন রাজাপাকশা। তবে তিনি এখন জুলাইয়ের ১৩ তারিখ পদত্যাগ করার কথা বলেছেন।
দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ প্রথমদিকে মোটামুটি শান্তিপূর্ণই ছিল।
কিন্তু সারা দেশ থেকে বিক্ষোভকারীরা কলম্বোতে এসে জড়ো হলে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
রোববারেও প্রেসিডেন্ট প্রাসাদটির ভেতর বিক্ষোভকারীদের দেখা যায়। অনেকে বিলাসবহুল প্রাসাদটির ভেতর সেলফি তোলে, কাউকে আবার পালংকের ওপর শুয়ে-বসে থাকতে দেখা যায় । ভবনটির কিছু অংশের ক্ষতিসাধনও করা হয়েছে।
দুই কোটি বিশ লক্ষ জনসংখ্যার দেশটিতে এখন খাদ্য ও জ্বালানির চরম সংকট চলছে। জুনমাসে মুদ্রাস্ফীতি ছিল রেকর্ড ৫৪.৬ শতাংশ।
কোভিড-১৯ মহামারির পর শ্রীলংকার প্রধান আয়ের উৎস পর্যটন খাতে ধস নামে, আর প্রবাসী শ্রমিকদের রেমিট্যান্স পাঠানোও কমে যায়।
সেখান থেকেই দেশটির অর্থনৈতিক সংকটের সূচনা হয়েছিল।