আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
মহারাষ্ট্রের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হলেন শিবসেনা নেতা একনাথ শিন্ডে
- Author, অমিতাভ ভট্টশালী
- Role, বিবিসি, কলকাতা
- Published
ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিদ্রোহী শিবসেনা নেতা একনাথ শিন্ডে।
গত নয় দিন ধরে হিন্দুত্ববাদী দল শিবসেনা দলের মধ্যে বিদ্রোহ চলার পরে বুধবার রাতে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন উদ্ধব ঠাকরে। এর পর থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত বিজেপির দলীয় সূত্রগুলো থেকে জানানো হচ্ছিল যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দেভেন্দ্র ফাডনবীশই ওই পদে শপথ নেবেন।
কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকেল নাগাদ মি. ফাডনবীশ নিজেই এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা করেন যে একনাথ শিন্ডেই মুখ্যমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন ।
একনাথ শিন্ডে দীর্ঘদিন মহারাষ্ট্র রাজ্যে মন্ত্রী ও শিবসেনা বিধায়ক ছিলেন। গত ১০ দিন ধরে এ রাজ্যে যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন চলছিল - তাতে পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছিলেন মি. শিন্ডে। মোট ৩৬ জন শিবসেনা বিধায়ককে নিজের পক্ষে টেনে নেন তিনি, এবং তাদেরকে প্রথম গুজরাটে এবং পরে আসামের গুয়াহাটিতে বিলাসবহুল হোটেলে নিয়ে গিয়ে রাখা হয়।
এর পর মহারাষ্ট্রের রাজ্যপালের কাছে একটি চিঠি দিয়ে দেভেন্দ্র ফাডনবীশ জানান যে ৩৬ জন বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরেকে আর সমর্থন করছেন না। সেই চিঠির ভিত্তিতেই রাজ্যপাল ভগত সিং কোশিয়ারি বিধানসভায় শক্তি পরীক্ষার নির্দেশ দেন।
এর পর বুধবার রাতে এক ফেসবুক লাইভে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন উদ্ধব ঠাকরে।
সম্পর্কিত আরো খবর:
সংবাদদাতারা বলছেন, বিজেপির দলীয় সূত্রগুলো থেকে একাধিকবার বলা হলেও শেষ পর্যন্ত মি. ফাডনবীশ মুখ্যমন্ত্রী না হওয়ায় খানিকটা বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়।
মনে করা হচ্ছিল যে রাজ্য বিধানসভায় বিজেপির ১০৬ জন বিধায়ক আছেন তাই তারাই একক বৃহত্তম দল - এবং তাদেরই কেউ মুখ্যমন্ত্রী হবেন।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই অপ্রত্যাশিত ঘোষণার পিছনে সম্ভাব্য কারণ হলো: সুপ্রিম কোর্টে শিবসেনার সরকারি অংশটি, অর্থাৎ উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন অংশটি একটি মামলা করেছে - যাতে বিদ্রোহীদের ১৬ বিধায়ককে বিধানসভা থেকে বরখাস্ত করা যায়।
আগামী ১১ই জুলাই সেই মামলার রায় দেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে যদি এই ১৬জন বিধায়কের পদ খারিজ হয়ে যায় - তাহলে তারা আর বিধানসভায় ভোট দিতে পারবেন না এবং সেক্ষেত্রে নবগঠিত সরকার পড়ে যাবে।
এই ঝুঁকিটাই বিজেপি এড়াতে চাইল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।