এডিটার'স মেইলবক্স: পদ্মা সেতুর ব্যয় বিতর্ক আর বন্যার্তদের বেহাল দশা নিয়ে প্রশ্ন

পদ্মা সেতু, রাতের ছবি।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, পদ্মা সেতু, রাতের ছবি।
    • Author, মাসুদ হাসান খান
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, লন্ডন
  • Published

পঁচিশে জুন উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ এক নির্মাণ প্রকল্প - পদ্মা সেতুর। এর নির্মাণ শৈলী, ব্যয় ইত্যাদি নিয়ে দেশে-বিদেশে নানা ধরনের আলোচনা চলছে, সামাজিক মাধ্যমে চলছে বিতর্ক।

আপনাদের কাছ থেকেও এনিয়ে আমরা পেয়েছি অনেক চিঠি, অনেক প্রশ্ন, অনেক মতামত। পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রকৌশলীদের সামনে যত কারিগরি চ্যালেঞ্জ ছিলো সে প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন আমাদের ফেসবুক ফলোয়ার মোল্লা কাপাসিয়া। তিনি বলছেন:

"পদ্মা সেতু অবশ্যই আমাদের দেশের জন্য জরুরি ছিল। বলতে গেলে কয়েকটি জেলার কয়েক কোটি মানুষ এতে উপকৃত হবেন। এর সুফল অবশ্যই সারা দেশ ছুঁয়ে যাবে। অভিনন্দন জানাচ্ছি সবাইকে যারা এই সেতুকে বাস্তবে পরিণত করেছেন। ভাল কাজের প্রশংসা অবশ্যই করতে হবে, সে যে দলেরই হোক।"

আরেক ফলোয়ার রেজাউল করিম লিখছেন:

"পদ্মা সেতু নিয়ে রাজনীতি না করে, রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের প্রশংসা করুন। সরকারের সমালোচনার জন্য আরো অনেক বিষয় আছে। সেগুলো নিয়ে সমালোচনা করুন।"

মি. মোল্লা এবং মি. করিম পদ্মা সেতুর মতো একটি বিশাল প্রকল্প নিয়ে মানুষের যে আগ্রহ থাকবে, সেটাই তো স্বাভাবিক। যেহেতু সম্পূর্ণ সরকারি ব্যয়ে এটি নির্মিত হয়েছে, তাই এই সেতু নিয়ে প্রশংসা এবং সমালোচনার অধিকার সবারই রয়েছে। আর মানুষ সেটাই করছেন। তবে দেখতে হবে দীর্ঘ মেয়াদে এই সেতুর অর্থনৈতিক সুফল বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ কতটা পাচ্ছেন এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর এর কী প্রভাব পড়ছে।

পদ্মা সেতু।

ছবির উৎস, Getty Images

পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে গিয়ে দুটো বিশাল খরস্রোতা নদী গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্রর সম্মিলিত প্রবাহকে যেভাবে বাগে আনা হয়েছে সে বিষয়ে আমাদের এক রিপোর্টের প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন নজরুল ইসলাম ভুঁইয়া:

"এই পদ্মা নদীতেই ১০০ বছর আগে ব্রিটিশরা তৈরি করেছিলো হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। তখন পদ্মা আরো প্রমত্তা ছিলো। প্রযুক্তি এতো উন্নত ছিলো না। সময় লেগেছিলো পাঁচ বছর। তখনো তারা উন্নয়নের কথাই বলতো। ক্রাইমিয়া সেতুর নাম শুনেছেন? নীচে ভল্কানিক সমুদ্রতল এবং উত্তাল সমুদ্রের বুক চিরে পদ্মা সেতুর তিন গুন (১৮ কি.মি) দৈর্ঘ্যের রাশিয়া-ক্রাইমিয়ার বহুমুখী সংযোগ সেতু নির্মিত হয়েছে মাত্র তিন বছরে।

"মজার ব্যাপার হলো, পদ্মা সেতুর প্রতি কিলোমিটারে খরচ হয়েছে ক্রাইমিয়া সেতুর চেয়েও তিন গুণ বেশি। সময় লেগেছে প্রায় ১২ বছর।"

মি. ভুঁইয়া, ক্রাইমিয়া ব্রিজ নিয়ে তথ্য শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ। সেতু নির্মাণের তুলনামূলক আলোচনা করতে গেলে বেশ কিছু বিষয়কে বিবেচনার মধ্যে রাখতে হবে। যেমন, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ শুধু একটি রেল সেতু। কিন্তু পদ্মা সেতু একই সঙ্গে রেল ও সড়ক সেতু। হার্ডিঞ্জ ব্রিজের দৈর্ঘ্য পদ্মা সেতুর অর্ধেকের চেয়ে সামান্য বেশি।

ভিডিওর ক্যাপশান, পদ্মা সেতুর খরচ কি আসলেই অনেক বেশি?

আর ক্রাইমিয়া সেতুর ব্যয়ের যে তথ্য আমি পাচ্ছি তা হলো ২২৭ বিলিয়ন রুবল, মার্কিন ডলারে যা চার বিলিয়ন ডলার থেকেও বেশি। আর সেটাও ২০১৮/১৯ সালের হিসেব। আপনাকে ধন্যবাদ।

তবে দীর্ঘ সময় লাগলেও প্রকল্পটি যে শেষ হয়েছে তাতেই সন্তুষ্ট মোশাররফ হাবীব:

"চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে প্রকৌশলীরা এই পদ্মা সেতুর কাজ এগিয়ে নিয়ে আজকে বাস্তবায়ন করেছেন অবশ্য আমরা খুশি৷ কিন্তু নির্মাণ ব্যয় অতিরিক্ত হয়েছে।"

আর মনসুর রেজা একটি প্রস্তাব দিয়েছেন:

"ভালো, তবে মালামাল ও যন্ত্রপাতি বিদেশ থেকে আনতে, আর দেশীয় কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি কিনতে, এবং মজুরির টাকা ইত্যাদি নিয়ে কোনটাতে কত খরচ পড়েছে, সেগুলোর একটা বিশদ হিসাব নিয়ে White Paper অফিসিয়ালি পাবলিশ করলে ভালো হতো না?"

আপনার প্রস্তাবটা খারাপ না। যে কোন বড় প্রকল্প শেষ হওয়ার পর এধরনের হোয়াইট পেপার বা শ্বেতপত্র প্রকাশিত হলে একদিকে যেমন স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত হয়, তেমনি এনিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনারও অবসান ঘটে। সরকার বিষয়টি বিবেচনা করে দেখতে পারে।

ভিডিওর ক্যাপশান, পদ্মা সেতু নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যা হয়েছে এবং হবে

পদ্মা সেতু নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গেই দেশের পরিবেশ নিয়ে একটি মন্তব্য করেছেন লাবণী হালদার:

"বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এখানে জালের মতো নদী ছড়িয়ে আছে। দেশের সকল নদীতে ব্রিজ করে নদী প্রবাহ রোধ করার ফলে নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে, নাব্যতা কমে যাচ্ছে। ফলে বন্যার সৃষ্টি হয়ে মানুষের জীবন এখন কত দুর্বিষহ। আজকে যদি নদীর স্রোতের বাধা সৃষ্টি করে এতো এতো ব্রিজ তৈরি না হতো তাহলে নদীর নাব্যতা থাকত, আর এতো মানুষ তলিয়ে যেত না।"

মিস হালদার, সেতু নির্মাণ নিয়ে এই উন্নয়ন বিতর্ক দীর্ঘদিনের। এর পক্ষে-বিপক্ষে দু'ধরনেরই যুক্তি রয়েছে। সেই আলোচনা হয়তো আমরা ভবিষ্যতে কোন এক সুযোগে করবো।

পদ্মা সেতুর পাশাপাশি বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও আপনারা নানা চিঠি পাঠিয়েছেন আমাদের কাছে। যেমন রংপুরের খটখটিয়া থেকে এই চিঠি লিখেছেন মোঃ ইলিয়াছ হোসেন:

"দেশের মানুষ যখন পদ্মা সেতু নিয়ে উন্নয়ন-অগ্রগতির স্বপ্ন দেখছে ঠিক তখনই দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা মানুষের দুঃখ-দুর্দশা বাড়িয়ে তুলছে। সময়মতো এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা ও প্রতিহত করতে না পারলে আমাদের চলমান সকল সাফল্য ও অগ্রযাত্রা আবার ব্যাহত হবে।

ত্রাণসামগ্রী চেয়ে সিলেটে বন্যার্তদের মধ্যে হাহাকার।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, ত্রাণসামগ্রী চেয়ে সিলেটে বন্যার্তদের মধ্যে হাহাকার।

"ভৌগলিক ও প্রকৃতিগত দিক দিয়ে এ অঞ্চল বন্যা প্রবণ হলেও আমাদের রয়েছে কিছু বাস্তব ও সময়োচিত দায়িত্ব ও কর্তব্য। সরকারকে নিতে হবে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী নানা পরিকল্পনা। বাঁধ নির্মাণ, নদী, খাল, বিল, নালা, জলাধার, খনন ও গভীর করে নাব্যতা বজায় রাখা। নেপাল, ভুটান, ভারতকে সাথে নিয়ে যৌথ নদী গবেষণা, পর্যাপ্ত আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ, বন্যার সংকেত ব্যবস্থার উন্নতি, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি উদ্ভাবন, পরিকল্পিত নগরায়ন, সেতু, কালভার্ট, রাস্তা নির্মাণ প্রভৃতি অতি জরুরী কাজকে পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবেই আমরা বন্যার কবল থেকে ফসল, জীবন ও অবকাঠামো রক্ষা করতে পারবো।"

আর মাটির পিঞ্জিরা, চন্ডিপুর থেকে লিখেছেন মোঃ সুমন আকন্দ:

"বিবিসি বাংলা থেকেই জানতে পেরেছি সিলেট নাকি দ্বিতীয় লন্ডন। আর সব ধনী লোকের বসবাস নাকি সিলেটে। কই সিলেটের সেই ধনী লোকেরা কই? সিলেট আজ বন্যার পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছে আর কোমল-মতি শিশুরা না খেয়ে দিনাতিপাত করছে। কোথায় সেই ধনকুবেররা?"

বন্যার পানির মধ্যে সংসারের কাজকর্ম করছেন এক নারী।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বন্যার পানির মধ্যে সংসারের কাজকর্ম করছেন এক নারী।

মি. আকন্দ, স্থানীয় পর্যায়ে মানুষ যে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়াচ্ছে সেটা নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রচুর খবর রয়েছে। একটু ঘাঁটাঘাঁটি করলেই দেখবেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সিলেটীরাও কিন্তু নানা ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করছেন। সিলেটের অনেক সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানও কাজ শুরু করেছে। প্রবাসে যারা রয়েছেন তারাও এতে যোগ দিয়েছেন।

কিন্তু একথা সত্যি যে এই বন্যার কারণে পানি, বিদ্যুৎ এবং টেলিফোন সেবার মতো অবকাঠামোর যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে জন্য এসব কাজে বিঘ্ন ঘটছে।

বাংলাদেশের উত্তর এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এবারের আকস্মিক বন্যার পেছনে ভারতের আসাম ও মেঘালয়ে অতিবৃষ্টি যেমন একটি বড় কারণ, তেমনি এর বাইরেও আরও কিছু কারণ রয়েছে। এসংক্রান্ত আমাদের একটি খবরের ব্যাপারে লিখেছেন বেশ কয়েকজন। যেমন, এমদাদুল ইসলাম বাজালেফো নামে আমাদের ফেসবুক ফলোয়ার মন্তব্য করেছেন:

"উজানে বাঁধা দেয়ার কারণে পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে নদী। তাই নদী তার স্বাভাবিক পানি ধারণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে। ফলে বন্যা হচ্ছে। আরো হবে আগামীতে।"

সেনাবাহিনীর দেয়া খাদ্য ত্রাণ নিয়ে ফিরছে এক কিশোর।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, সেনাবাহিনীর দেয়া খাদ্য ত্রাণ নিয়ে ফিরছে এক কিশোর।

এনিয়ে সজল বিশ্বাস লিখেছেন:

"মানুষ প্রকৃতিকে তাঁর মতো থাকতে দিচ্ছে না। টিলা, বন, নদ-নদী, হাওর প্রভৃতিকে মানুষ আক্রমণ করেই চলেছে। মানুষের জন্য প্রকৃতি। মানুষ প্রকৃতির আশীর্বাদ না নিয়ে অভিশাপ নিচ্ছে, তাই প্রকৃতি ছাড় দিচ্ছে না। প্রকৃতিকে তাঁর মতো থাকতে না দিলে আগামী পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হবে।"

মি. বিশ্বাস, আপনি একবিংশ শতাব্দীতে মানবজাতির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের কথাকেই মনে করিয়ে দিলেন। একদিকে সামাজিক এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা, আর অন্যদিকে আমরা যে পৃথিবীতে বাস করি তাকে রক্ষা করার প্রয়াস। আমরা এখন এই দুটোর মাঝখানে রয়েছি। এর কোন একটিকে আমরা হয়তো বাদ দিতে পারবো না। কিন্তু একটা ভারসাম্যের প্রচেষ্টা এখনও রয়েছে, এবং চলতে থাকবে।

খুলনার দাকোপ থেকে নিয়মিত পত্রলেখক মুকুল সরদার একটি প্রশ্ন করেছেন:

"এবারের বাজেটে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনতে বেশ কিছু প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রস্তাব হচ্ছে, বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত এনে ৭% কর দেওয়া হলে ঐ টাকা সম্পর্কে রাজস্ব বোর্ডসহ কেউ কোনো প্রশ্ন তুলবে না। এ ধরনের একটি প্রস্তাব বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে দুর্নীতিকেই পরোক্ষভাবে উৎসাহিত করা হবে। আর এভাবে কি পাচার হওয়া অর্থ আদৌ দেশে ফেরত আসবে?"

ভিডিওর ক্যাপশান, সুইস ব্যাংকের বিশেষত্ব কী?

মি. সরদার, এই প্রশ্ন আপনার মতো এখন অনেকের মনেই ঘুরপাক খাচ্ছে। বাজেটের এই প্রস্তাবে পাচার সামাল দেয়ার একটা ইচ্ছে যে রয়েছে তা অর্থমন্ত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন। কিন্তু এতে পাচার হওয়া অর্থ দেশে আদৌ ফেরত আসবে কিনা, তা বলার সময় এখনও আসেনি।

যারা দেশের টাকা লুঠপাট করে বিদেশে পাচার করেছেন, তারা সেই টাকা ফেরত আনতে কতখানি আগ্রহী হবেন তা বলা যাচ্ছে না। এই অর্থ দেশে রাখতে পারেননি বলেই কিন্তু তারা বিদেশে পাঠিয়েছেন। অতীতে কালো টাকা সাদা করার লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তাতে বিশেষ কোন ফল হয়েছে বলে আমার জানা নেই।

বাংলাদেশে রাত আটটায় দোকানপাট বন্ধ রাখার বিষয়ে সরকার একটি নির্দেশনা দিয়েছে। লক্ষ্য: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে অনেকেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। আমাদের ফেসবুক ফলোয়ার মামুনুর রশীদ ভুঁইয়া লিখেছেন:

"যেভাবে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে সেভাবে মানুষের আয় বাড়েনি। স্বল্প আয়ের অনেকেই আছেন যারা পার্টটাইম জব করেন রাতের বেলা। স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য বর্তমান বাজেটে কোন সঠিক দিকনির্দেশনা নেই। দেশে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু রেখে বিদ্যুতের অপচয় কমানো কোনভাবে সম্ভব না।"

ঢাকার একটি শপিং মল।

ছবির উৎস, Huw Evans picture agency

ছবির ক্যাপশান, কর্তৃপক্ষ মনে করছে, রাত আটটায় দোকানপাট বন্ধ করা হলে প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব।

স্বল্প আয়ের মানুষের সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন মাহবুবুল আলমও:

"তা হলে শুধু বাকি থাকলো হাতেগোনা কয়েকটি আইটেমের ব্যবসা - কাপড়ের দোকান, মোবাইলের দোকান, জুতার দোকান ইত্যাদি। এই ব্যবসাগুলো কি এই দেশের বোঝা? আপনারা একরকম সবই খোলা রাখছেন। শুধু এই কয়েক ধরনের ব্যবসা বন্ধ রাখলে কি আপনাদের সাশ্রয় হবে? আমরা যারা এধরনের ব্যবসায়ী আছি, তাদের শেষ করে দিয়েন না। আমাদেরকে বাঁচতে দিন। করোনার ধাক্কা আমরা এখনও সামলে উঠতে পারিনি।"

মি. ভুঁইয়া এবং মি. আলম, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সঙ্কটের মুখে যে সরকার এই ব্যবস্থা নিয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু এই সিদ্ধান্তের পর মাত্র তিনদিন পার হয়েছে। এর সত্যিকারের প্রভাব দেখার জন্য আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে স্বল্প আয়ের মানুষ এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প একটা ব্যবস্থা রাখার প্রয়োজন ছিল।

ভিডিওর ক্যাপশান, কত পারমাণবিক অস্ত্র রাশিয়ার ভাণ্ডারে? আর কোন কোন দেশে কত পরমাণু অস্ত্র আছে?

ইউক্রেন যুদ্ধের গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে চলতি সপ্তাহেও আপনাদের আগ্রহ ছিল প্রবল। আর তা নিয়ে অনেকেই আমাদের কাছে লিখেছেন। এই যুদ্ধে এপর্যন্ত আট জন রুশ জেনারেল ইউক্রেনে নিহত হয়েছেন বলে মনে করা হয়। এদের মধ্যে চারজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্য চারজনের খবর নিশ্চিত করা যায়নি, কিন্তু এ মৃত্যুগুলোর কথা অস্বীকারও করা হয়নি। এনিয়ে আব্দুল্লাহ আল নাহিয়ান মন্তব্য করেছেন:

"এটা বোঝার জন্য স্লাভিক মিলিটারি ডক্ট্রিন নিয়ে একটু ঘাঁটাঘাঁটি করতে হবে, যা অ্যাংলো-ফোন মিলিটারি ডক্ট্রিন থেকে আলাদা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে রাশিয়ার প্রায় ৪০০ জেনারেল অফিসার রণক্ষেত্রে মারা গিয়েছিলেন, যেখানে রণক্ষেত্রে মৃত্যুবরণকারী আমেরিকার জেনারেল অফিসারের সংখ্যা ছিল ৪০ এরও কম।"

আর এটিএম আব্দুল রহিম লিখেছেন:

"বৃক্ষের পরিচয় ফলে। আর ফল বলছে যে সব ঘাটতি দুর্বলতা নিয়েও রাশিয়া ইউরোপ-আমেরিকার সামরিক জোট নেটোকে দুর্দান্ত-ভাবে হারিয়ে ঈপ্সিত লক্ষ্য পূরণ করে চলছে ইউক্রেনে। পশ্চিমাদের ইউক্রেন যুদ্ধের নিউজগুলো যদি সত্য হতো তাহলে রাশিয়ার অবস্থান থাকতো এখন ব্ল্যাক সি-এর তলদেশে।

খারকিভ শহরে সামরিক পোশাকে ইউক্রেনীয় এক নারী বিধ্বস্ত ভবনের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, খারকিভ শহরে সামরিক পোশাকে ইউক্রেনীয় এক নারী বিধ্বস্ত ভবনের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন।

"তবে হ্যাঁ, আমেরিকার স্যাটেলাইট চিত্রের সহযোগিতা নিয়ে, স্নাইপার দিয়ে বা আমেরিকার উচ্চ প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে জেনারেলদের হত্যা করা অস্বাভাবিক কিছু নয়।"

তবে এই যুদ্ধে রাশিয়ার সামরিক শক্তি নিয়ে একটি প্রশ্ন তুলেছেন ফারহানা জুঁই:

"আমাকে কেউ একটু বোঝানতো - রাশিয়া একটা ফুঁ দিলেই যে দেশের ধুলোয় মিশিয়ে যাওয়ার কথা সেখানে এখনো কেন যুদ্ধ চলে?"

এবার কয়েকটি চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করছি:

শিল্পী রানি, ময়দানদিঘী, পঞ্চগড়।

আলী আহম্মেদ আরিফ, সভাপতি, জননী বেতার শ্রোতা সংঘ। নওগাঁ সাপাহারের তিলনা খোঁচাপাড়া।

রিপন বিশ্বাস, জোত শ্রীপুর, মাগুরা ।

আপনাদের সবাইকে অনেক ধন্যবাদ।