এডিটার'স মেইলবক্স: নারীর পোশাক, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নিয়ে প্রশ্ন

Published
পড়ার সময়: ৭ মিনিট

চলতি সপ্তাহে বিভিন্ন খবরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বাংলাদেশে সম্প্রতি পোশাকের কারণে এক নারীর নরসিংদীতে রেল স্টেশনে হয়রানি ও হামলার শিকার হওয়ার ঘটনা।

নারীদের পোশাক নিয়ে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘিরে বিতর্ক দিয়ে লিখেছেন রংপুরের পীরগাছা থেকে মোহাম্মদ মিলন খন্দকার খালেক:

''গত ২১শে মে বিবিসি বাংলায় রিপোর্টটি শুনলাম। নরসিংদীতে একজন নারী তার পোশাক নিয়ে হেনস্তার শিকার হওয়ায় এক ব্যক্তি গ্রেফতার। কোনো নারী হেনস্তার শিকার হোক, বা তা নিয়ে কোনো পুরুষ গ্রেফতার হোক, তা যেমন কেউই আশা করেনা, তেমনি ৯০ ভাগ মুসলিম দেশের এই মাটিতে, এমন পোশাক পরে কোনো নারী খোলামেলা ভাবে চলাফেরা করুক, সেটাও কেউ আশা করেনা। তাহলে নারী তার অর্ধাঙ্গী পোশাক পরে চলবে তাতে দোষ নেই, আর তা নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করলেই যদি দোষ হয়, তাহলে নারী-পুরুষ সমান অধিকার নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের বক্তব্যটাই বা কি?''

নারী কী পোশাক পরলো আর না পরলো, তা নিয়ে মনে হয় পুরুষের চিন্তার আর শেষ নেই। আপনার বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে একজন নারীর পোশাকের প্রতিবাদ করায় পুরুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে মি. খন্দকার। কিন্তু আসলেই কি তাই? এখানে একজন তরুণীকে শুধু হেনস্তা করা হয়নি, তাকে শারীরিক আক্রমণও করা হয়েছিল। প্রতিবাদ করা বেআইনি না, কিন্তু এই সহিংসতা বেআইনি এবং নাগরিক হিসেবে ঐ নারীর অধিকারের লঙ্ঘন।

আরেকটি কথা হল, পোশাক শালীন কিংবা অশালীন, সেটা বিচার করবে কে? আর এটাই বা কেন হবে, যে সব সময় নারীকেই তার পোশাকের জন্য জবাবদিহি করতে হবে, হেনস্তার শিকার হতে হবে?

পোশাকের স্বাধীনতা থেকে আসি মত প্রকাশের স্বাধীনতায়। তবে পরের চিঠিতে বিবিসিকে জড়িয়েই প্রশ্নটি করেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:

''বাংলাদেশে 'সবাই নিজের মত প্রকাশ করতে পারে' বলে মন্তব্য করেছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। বিবিসি বাংলাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে তা ফলাও করে প্রচারও হয়েছে।

আমার প্রশ্ন হলো, একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম হিসেবে বিবিসি বাংলা তাদের মতামত কতটুকু প্রকাশ করতে পারে? আমি জানি, আপনারা বলবেন, বিবিসি কখনও নিজের মত প্রকাশ করে না। এখানেও আমার বড় প্রশ্ন থেকে যায় - মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর শেষে সংবাদ সম্মেলনগুলোতে বিবিসি'র কোন সাংবাদিককে প্রশ্ন করতে দেখা যায় না কেন? নাকি আপনাদের সাংবাদিককে ওসব অনুষ্ঠানে ডাকা হয় না? আর যদি ডাকা হয়েও থাকে, তাহলে বিবিসি'র মাধ্যমে কেন আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে দু'একটি গ্রহণযোগ্য ও সময়োপযোগী প্রশ্নের জবাব শুনতে পাই না? এটা বিবিসি বাংলা'র ব্যর্থতা নাকি সরকারের সাথে আপোষকামীতা?''

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন না করাটা কী করে সরকারের সাথে আপোষকামীতা হয়, তা আমাদের বোধগম্য নয় মি. ইসলাম। যাই হোক, আমাদের প্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রীর সব সংবাদ সম্মেলনে যান না। সব সম্মেলনে আমন্ত্রণও আমরা পাই না - যেমন ২০১৮ সালে নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে বিবিসির ইংরেজি বিভাগের সাংবাদিককে আমন্ত্রণ জানানো হলেও বিবিসি বাংলাকে বাদ দেয়া হয়েছিল। আর আপনি যদি প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনগুলো মনোযোগ দিয়ে দেখেন, তাহলেই বুঝবেন প্রশ্ন করার জন্য মাইক্রোফোন কীভাবে, কার হাত থেকে কার হাতে কাছে পৌঁছে দেয়া হয়।

আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি সংবাদ নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে, যা নিয়ে লিখেছেন কুড়িগ্রামের রাজিবপুর থেকে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সোহেল:

''বিবিসি বাংলা থেকে আমরা জেনেছিলাম, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এ পর্যন্ত কোনো আয় করতে পারেনি। আপনাদের এই সংবাদটি খুবই সাড়া ফেলেছিল বলা যায়। কিন্তু আপনাদের সংবাদের ২দিন পরই দেশের মিডিয়াগুলো বলছে ৩০০ কোটি টাকা আয় করেছে। জানতে চাই কে সত্য বলছে? দেশীয় মিডিয়া না কি আপনারা?''

বিষয়টি সত্য বা মিথ্যার বিষয় না মি. ইসলাম। আমাদের রিপোর্টে কোন মিথ্যা কথা ছিল না, আর স্যাটেলাইট কোম্পানির বিবৃতি, যার ওপর ভিত্তি করে অন্যান্য মিডিয়া রিপোর্ট করেছে, সেখানেও কোন মিথ্যা ছিল না। বিভ্রান্তির কারণ ছিল আমাদের একটি বাক্য চয়ন। কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে আমাদের প্রতিবেদকের ধারণা হয়েছিল স্যাটেলাইট প্রথম তিন বছরে তেমন কোন আয় করেনি। কিন্তু লেখার সময় সেটা ''কোন আয় করে নি'' বলা হয়, যেটা বিভ্রান্তির জন্ম দেয়। কর্তৃপক্ষ তখন আয়-ব্যয়ের কোন হিসেব দিতেও রাজি হয়নি।

আমাদের রিপোর্টে বলা হয়েছিল, '' চার বছর পর এসে কর্তৃপক্ষ বলছে, নানা কারণে উৎক্ষেপণের প্রথম তিন বছরে স্যাটেলাইটটি থেকে কোন আয় করতে পারেনি বাংলাদেশ। ফলে খরচ উঠে আসার যে প্রাথমিক হিসেব নিকেশ করা হয়েছিল, তাতে দেখা যাচ্ছে এই খরচ উঠতে আরো বেশি সময় লাগবে।''

অর্থাৎ এই খরচ না উঠে আসার সম্ভাবনা থেকে ''কোন আয় হয়নি'' শব্দগুলো ব্যবহার করা হয়েছিল। স্যাটেলাইট কোম্পানি পরবর্তীতে তাদের বিবৃতিতে বলেছে এ'পর্যন্ত তিন'শ কোটি আয় হয়েছে এবং প্রতি মাসে ১০ কোটি টাকা আয় হচ্ছে। স্যাটেলাইট তৈরি এবং উৎক্ষেপণে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছিল, যা ২০২৫ সালের মধ্যে আয় করা হবে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই লক্ষ্য যে আদৌ অর্জন করা সম্ভব না, সেই উপলদ্ধি থেকে ''আয় হয়নি'' কথাটি বলা হয়েছিল।

মহাকাশ থেকে আবার বিশ্বে ফিরে আসি। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে বিবিসি বাংলার পরিবেশনা কি হঠাৎ করে ঝিমিয়ে পড়েছে? তাই মনে করছেন রাজশাহীর গোদাগাড়ী থেকে এনামুল হক সুমন:

''রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ তিন মাসে গড়ালেও সেই যুদ্ধের খবর জানা নিয়ে বিশ্ববাসীর এখনও আগ্রহের কমতি নেই। অন্যান্য গণমাধ্যম এখনও সেই যুদ্ধের খবর ঢালাওভাবে প্রচার করলেও, হয়ত বিবিসি সেই যুদ্ধের খবর প্রচার করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। তাই সেই যুদ্ধের খবর খুবই অল্প বা কোন কোন দিন প্রচার করা হচ্ছে না। আমার প্রশ্ন বিবিসি রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের খবর প্রচারে এত ক্লান্তি এল কেন?''

ক্লান্তি আসার তো প্রশ্নই আসে না মি. হক। আপনার চিঠির জবাব যখন লিখছি, তখন আমাদের ওয়েবসাইটের প্রধান শিরোনাম হচ্ছে, ''ডনবাসে রুশ বাহিনীর প্রচণ্ড আক্রমণ সামলাতে পারছে না ইউক্রেনীয় সেনারা।'' তাছাড়া, এ'সপ্তাহে আমাদের দুটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান, সোমবারের বাংলাদেশ ট্রেন্ডিং আর বৃহস্পতিবার রাতের বিবিসি প্রবাহ, দুটোরই প্রধান প্রতিবেদন ছিল ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে। তবে হ্যাঁ, প্রথম দিকে যত খবর এবং বিশ্লেষণ দেয়া হত, সেই তুলনায় এখন কমই দেয়া হচ্ছে। কিন্তু সেটা ক্লান্তির কারণে না।

পরের চিঠি লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

''ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে সর্বোপরি বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে দেশে এখন সবকিছুর মূল্য বেড়ে চলেছে। এমনকী সামনের অর্থবছর আসন্ন হওয়ায় কিছু কিছু পণ্যের দাম আগে থেকেই ব্যবসায়ীরা বাড়িয়ে দিয়েছে। এসব ব্যবসায়ীদের বলার যেমন কেউ নেই বা বলে লাভ নেই, তেমনি দেখার কেউ নেই। এরই মধ্যে আবার বিদ্যুৎ -গ্যাসের দাম বৃদ্ধির জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই মুহূর্তে সরকার যদি এই সুপারিশ গ্রহণ করে তাহলে জনগণের জন্য মারাত্মক খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হবে। যা আমরা কেউ চাই না।''

জ্বালানির এবং অন্যান্য জিনিস-পত্রের দাম সারা বিশ্বেই বেড়ে চলেছে মি. শামীম উদ্দিন। করোনা মহামারির কারণেই সেটা হচ্ছিল, কিন্তু ইউক্রেন যুদ্ধ এখন তার মাত্রাটা বহু গুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। উন্নত দেশের মানুষরা যেখানে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে অপেক্ষাকৃত গরীব দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে পড়বে। বাংলাদেশ সরকার কী করে পরিস্থিতি সামাল দেবে, সেটা হবে তার দক্ষতার একটি বড় পরীক্ষা।

অর্থনীতি থেকে আসি রাজনীতির বিষয়ে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ নিয়ে লিখেছেন সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গাজী মোমিন উদ্দিন:

''গত ২৪শে মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের মধ্যকার সংঘর্ষ রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সর্বত্র এখন আলোচনার বিষয়। ছাত্রদল শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করলে ছাত্রলীগ বাধা দিত বলে মনে হয় না। কিন্তু ছাত্রদল দেশের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটাক্ষ ও হিংসাত্মক শ্লোগান দিয়েছে, যা রাজনৈতিক শিষ্টাচার বর্জিত। এরপর ছাত্রলীগ কর্মীরা বাধা দিতে চেষ্টা করেছে। তাছাড়া দেশের উন্নয়ন অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় অগ্রসরমান। সে সবের দিকে না তাকিয়ে বিরোধিতার খাতিরে অশালীন বাক্য ব্যয়ে শ্লোগান দেওয়া সচেতন কেউ আশা করে না। বিভিন্ন দাবিতে মিছিল হতে পারে কিন্তু তা শালীন হওয়াটা বাঞ্ছনীয়।''

শালীন হওয়াটা যে বাঞ্ছনীয়, তা নিয়ে কোন দ্বিমত নেই মি. মোমিন উদ্দিন। কিন্তু ক্যাম্পাসে মিছিল করার অধিকার সবার নিশ্চয়ই আছে। সেখানে অশালীন শ্লোগানও যদি দেয়া হয়ে থাকে, তাও সেটা অন্য পক্ষকে আক্রমণ করার লাইসেন্স দেয় না। আপনি যদি সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক সহনশীলতার পরিচয় দিতে চান, তাহলে প্রতিপক্ষের অশালীন কথাও সহ্য করতে হবে।

তাছাড়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে কটাক্ষ বা ব্যঙ্গ করে শ্লোগান দেয়া নতুন কিছু না। কিন্তু পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে এই ব্যঙ্গ সহ্য করার ক্ষমতা অনেকে হারিয়ে ফেলেছে। অথবা নিজেদের আধিপত্য প্রকাশ করার জন্য কোন প্রকার সমালোচনা তারা সহ্য করতে প্রস্তুত না। ক্যাম্পাসে প্রতিপক্ষের মিছিলের ওপর হামলা অনেকে অশনি সংকেত হিসেবেই দেখবেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি যা ঘটে গেল, তার তুলনায় ঢাকার সংঘর্ষ অতি ক্ষুদ্র ঘটনাই বটে। মঙ্গলবার আমেরিকার টেক্সাস রাজ্যে এক স্কুলে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে একজন ১৮-বছর বয়সী যুবক ১৯জন শিশু সহ ২১জনকে হত্যা করে। যুবক নিজে পুলিশের গুলিতে মারা যায়। সে বিষয়ে লিখেছেন খুলনার পাইকগাছা থেকে মোহাম্মদ আজিজুল হাকিম রাকিব:

''যুক্তরাষ্ট্রে প্রায়শই স্কুলসহ বিভিন্ন স্থানে বন্দুকধারীদের হামলার ঘটনা ঘটে চলেছে। এক্ষেত্রে কি বলা যায় যুক্তরাষ্ট্র তার নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ? এ ধরণের হামলার ঘটনা কমানো যাচ্ছে না কেন?''

এ বিষয়ে আরো লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''খুবই নির্মম, বীভৎস ও দুঃখজনক ঘটনা। হামলায় যে সমস্ত শিশুরা মারা গেছে তাদের প্রত্যেকের বয়স ছিল ৭ থেকে ১০ বছরের মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের বেশ কয়েকটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে এবং এর শিকার নিরীহ নিরপরাধ মানুষ, যা কোন ক্রমেই কাম্য ও গ্রহণযোগ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের ক্ষেত্রে বৈধ অস্ত্র যেভাবে যথেচ্ছ ব্যবহার করা হচ্ছে তা খুবই উদ্বেগজনক। আমার মনে হয় মানুষের জীবনের কথা চিন্তা করে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র আইন সংস্কার ও এর ব্যবহার সীমিত করা দরকার।''

আপনারা ঠিকই বলেছেন মি. হাকিম এবং মি. রহমান। এধরনের হত্যাকাণ্ড যুক্তরাষ্ট্রে অহরহ ঘটছে এবং এর ফলে জনমনে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নও উঠছে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট বা কংগ্রেস এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারছে না। দেখে মনে হয় তারা অসহায়। এর কারণ হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রে সব নাগরিকের অস্ত্র বহন করার অধিকার সংবিধানে দেয়া আছে। সংবিধানের দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে এই অধিকার সংরক্ষণ করা আছে। এই সংশোধনী বাতিল করার পক্ষে যেমন মতামত আছে, তেমনি বাতিলের বিপক্ষে প্রবল মতামত রয়েছে। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আমেরিকায় বর্তমানে সব চেয়ে বিতর্কিত বিষয়গুলোর অন্যতম এবং আইন প্রণেতারা পুরোপুরিই বিভক্ত। ফলে একের পর এক হত্যাযজ্ঞ ঘটলেও, কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আবার ফিরছি বাংলাদেশ প্রসঙ্গে। সিলেটের বন্য নিয়ে লিখেছেন সাতক্ষীরার প্রসাদপুর থেকে শামীমা আক্তার লিপি:

''সিলেটে বন্যা কবলিত বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিশ্ববাসীকে আহবান জানাতে বিবিসি বাংলা বিশেষ প্রতিবেদন প্রচার করতে পারে। সেখানকার মানুষের জীবন ও বর্তমান অবস্থার অডিও প্রচার করে মানবিক মানুষের হৃদয় স্পর্শ করার চেষ্টা করা যায়। বিবিসি উদ্যোগ নিক এমনটাই চাই।''

সিলেটে বা অন্যান্য অঞ্চলে বন্যা বা অন্য কোন প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলে বিবিসি বাংলা অবশ্যই সাধ্য অনুযায়ী প্রতিবেদন, বিশ্লেষণ বা আলোচনা প্রচার করবে মিস আক্তার। তবে কোন আহ্বান জানানো আমাদের কাজ না। সেটা সাধারণত সরকার বা এনজিওরা করে থাকে।

অনুষ্ঠানের প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে আমরা স্মরণ করছি বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক এবং লেখক আব্দুল গাফফার চৌধুরীকে, যিনি সম্প্রতি লন্ডনে মারা গেছেন। মি. চৌধুরীর লেখা ''আমার ভাই-এর রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি'' গানটি গায়নি, এমন মানুষ বোধহয় বাংলাদেশে খুব কমই পাওয়া যাবে।

আজকের অনুষ্ঠান শেষ করছি আব্দুল গাফফার চৌধুরী স্মরণে দুটি চিঠি দিয়ে, প্রথমে লিখেছেন রংপুরের খটখটিয়া থেকে মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন:

''আব্দুল গাফফার চৌধুরী আর নেই। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ প্রগতিশীল, সৃজনশীল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী একজন অগ্রপথিককে হারালো। তিনি দীর্ঘ সাংবাদিকতার পেশায় জাতির সামনে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে আমৃত্যু কাজ করে গেছেন। তার রাজনৈতিক কলামগুলো বেশ জনপ্রিয় ছিল।''

আরো লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:  

''চলে গেলেন বরেণ্য কলামিস্ট আবদুল গাফফার চৌধুরী। সাত দশক ধরে তিনি কেবল রাজনৈতিক কলাম লিখেছেন তাই নয়, লিখেছেন অনেক গল্প এবং উপন্যাস। মি. চৌধুরীর কোন পরিচয়টি বড়? এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা হতে পারে কিন্তু 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো' গানটির মাধ্যমে তিনি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন সেকথা বলার অপেক্ষা রাখে না। আবদুল গাফফার চৌধুরীর লেখা 'একুশ শতকের বটতলায়' নামের একটি কলাম পড়ে প্রথম তাঁর লেখার প্রেমে পড়ে যাই। সেই থেকে নিয়মিত পড়তাম তাঁর লেখা বিভিন্ন কলাম। আজ তিনি নেই তবু রেখে গেছেন অনেক কলাম, গল্প ও উপন্যাস এবং সর্বোপরি ভাষা শহিদদের নিয়ে লেখা কালজয়ী সেই গান। মিঃ চৌধুরীর আত্মার শান্তি কামনা করি।''