এডিটার'স মেইলবক্স: শ্রীলঙ্কার আগুন, পারমানবিক হুমকি আর খাবারের ভয় নিয়ে প্রশ্ন

ছবির উৎস, ISHARA S. KODIKARA
- Author, সাবির মুস্তাফা
- Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
- Published
- পড়ার সময়: ৭ মিনিট
ইউক্রেনে যুদ্ধ এখনো পুরোদমে চলছে, কিন্তু তার মধ্যেই খবরের শীর্ষে চলে এসেছে শ্রী লঙ্কায় ব্যাপক সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ আর সহিংসতা।
প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকশা ইতোমধ্যেই পদত্যাগ করেছেন, কিন্তু বিরোধীদের জন্য সেটা যথেষ্ট নয়। তারা রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ চায়, গোটা রাজাপাকশা পরিবারের পতন চায়।
আজ তাহলে শ্রী লঙ্কা নিয়েই শুরু করা যাক, প্রথমে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:
''শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক বিপর্যয় ও অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্বের খবর ক্ষণে ক্ষণে বিশ্ব গণমাধ্যমের সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে। কতটা বিপজ্জনক হলে এ ধরনের জনরোষ তৈরি হয় তা সহজেই অনুমেয়।
''শ্রীলঙ্কান রাজনীতিবিদরা জনগণকে রাজনীতির নামে সস্তা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসে প্রায় দুই দশক ধরে স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও স্বেচ্ছাচারীর মাধ্যমে দেশকে তলানিতে ঠেকিয়েছেন।
''আমি মনে করি যারা শাসনের নামে জনগণের ভাগ্য নিয়ে তালবাহানা করে, তাদের শ্রীলঙ্কার রাজনৈতিক বিপর্যয় ও অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্ব থেকে শিক্ষা নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। কারণ রাজনীতি কারও জন্য চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নয়।''

ছবির উৎস, Anadolu Agency
আপনার শেষ কথাটা অবশ্যই ঠিক মি. রহমান। রাজনীতি সব সময়ই পরিবর্তনশীল, এমনকি যে সমাজে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ক্ষমতা বদলের রাস্তা নেই, সেখানেও চিরস্থায়ী ক্ষমতা বলে কিছু নেই।
বিভিন্ন দেশে স্বৈরশাসকদের পতনের ইতিহাস সেদিকেই ইঙ্গিত করে।
শ্রীলঙ্কার সাথে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে মানুষের আগ্রহে কোন ঘাটতি দেখছি না। পূর্ব ইউরোপের এই যুদ্ধ ঘিরে নানা ধরনের আলোচনা, জল্পনা-কল্পনা হচ্ছে, যার একটি হচ্ছে পারমানবিক সংঘাতের আশংকা।
রাশিয়া আর পারমানবিক যুদ্ধ
সে বিষয়ে লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:
''এতদিন পর্যন্ত রাশিয়ার আগ্রাসন এবং হত্যাযজ্ঞ থামানো যাচ্ছে না কারণ বেশি কিছু করতে গেলে প্রেসিডেন্ট পুতিন পারমাণবিক বিস্ফোরণ বা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধিয়ে দিতে পারেন, এই ভয়ে।
''এখন প্রশ্ন হলো, তাহলে পারমাণবিক অস্ত্র কাদের কাছে নিরাপদ? আমেরিকা ইরাক ধ্বংস করেছিল পারমাণবিক অস্ত্র আছে বলে। এমনকি তারা ইরানকেও ওই একই অজুহাত দিয়ে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।
''যদি ইরাক-ইরান বা অন্য দেশগুলোকে বিশ্বাস না করা যায় তাহলে রাশিয়া, ইসরাইল, আমেরিকার মত দেশগুলোকে কেন বিশ্বাস করতে হবে? বাস্তবতা হলো, পারমাণবিক অস্ত্র কারোর কাছে নিরাপদ নয়।''

ছবির উৎস, Mikhail Svetlov/Getty
পারমানবিক অস্ত্র নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বিতর্কিত একটি অস্ত্র। আমেরিকা ব্রিটেন বা রাশিয়ার মত দেশগুলো মনে করে এই অস্ত্র তাদের হাতে নিরাপদ কারণ, তাদের সামরিক বাহিনীতে শৃঙ্খলা এবং জবাবদিহিতা আছে।
তাছাড়া তারা জানে এই অস্ত্র ব্যবহার করা মানেই নিজের দেশ নিশ্চিত ধ্বংসের মুখে পড়বে।
অন্যদিকে, রাজনৈতিকভাবে পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়, বা যেখানে সামরিক নেতাদের হঠকারী সিদ্ধান্ত নেবার সুযোগ আছে, তাদের হাতে পারমানবিক অস্ত্র অনিরাপদ বলে মনে মনে করা হয়।
বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:
রেলমন্ত্রীর বিড়ম্বনা
এবারে আসি বাংলাদেশ প্রসঙ্গে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়ের একজন কর্মচারীকে বরখাস্ত করা নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। জানা গেছে, কয়েকজন যাত্রী রেলমন্ত্রীর পরিচয় ভাঙ্গিয়ে বিনা টিকেটে ভ্রমণ করতে চাইলে কর্মচারী তাতে বাধা দেয়।
রেলমন্ত্রীর স্ত্রীর সুপারিশের ভিত্তিতে ঐ কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হলে বিতর্ক শুরু হয়।

ছবির উৎস, Ministry of Railway
এ নিয়ে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''সম্প্রতি একজন রেল যাত্রীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে রেলের একজন কর্মচারীকে দ্রুততম সময়ে বরখাস্তের ঘটনা বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রেলমন্ত্রী যদিও বলেছেন তার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে যারা বিনা টিকিটে রেল ভ্রমণ করছিলেন তারা তার আত্মীয় কি না তা তিনি জানেন না।
''এখন প্রশ্ন হচ্ছে, রেলমন্ত্রীর আত্মীয় হলে কি তারা বিনা টিকিটে রেল ভ্রমণের সুযোগ পাবেন? আর যাত্রীরা অভিযোগ করলে কি তদন্ত ছাড়াই একজন রেল কর্মচারীকে এভাবে বরখাস্ত করা যায়?''
আমি নিশ্চিত আপনি আমার উত্তর শোনার জন্য প্রশ্ন দুটো করেন নিমি. সরদার, কারণ উত্তরগুলো ]'না' হবারই কথা।
তবে, বাংলাদেশ রেলওয়েতে মন্ত্রী বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের এমন কোন সুবিধা দেয়া আছে কি না, যাতে তারা আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধু বান্ধবদের সৌজন্যমূলক টিকেট দিতে পারেন, তা আমার জানা নেই। যদি থাকে তাহলে আপনার প্রথম প্রশ্নের উত্তর তো 'হ্যাঁ' হয়ে যাবে।
কিন্তু দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ হবার রাস্তা নেই, কারণ বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী অভিযোগ তদন্ত করে, অভিযুক্তকে তার বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেবার পরেই ব্যবস্থা নেয়া যায়।

ছবির উৎস, Monjorul Kadir Syed / EyeEm
একই বিষয়ে লিখেছেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে মোহাম্মদ রাজীব হুসাইন রাজু:
''রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে গিয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যদি উল্টো তিরস্কার ও শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়, তবে তা দেশে ভবিষ্যতে সৎ, সাহসী ও নীতিবান ব্যক্তিদের মনে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনে আশঙ্কার জন্ম দিবে।''
তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না মি. হুসাইন। নির্ভয়ে যারা নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে তাদের পুরস্কার দেওয়া উচিৎ। কিন্তু পুরস্কারের বদলে শাস্তি পেলে মানুষ নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।
এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of YouTube post, 1
ঝুঁকিপূর্ণ খাবার আর সৃষ্টিকর্তা
এবারে আমাদের অনুষ্ঠান নিয়ে একটি অভিযোগ, লিখেছেন রংপুরের পীরগাছা থেকে মোহাম্মদ সুমন আকন্দ:
''ঈদের পরের দিন সবার মতো আমিও বন্ধু বান্ধবদের সাথে হেসেখেলে দিন পার করছিলাম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবেশ করতেই চোখের সামনে ভেসে আসলো মৃত্যুর কারণ খাবার বিষয়ে একটি ভিডিও ফুটেজ। তাও আবার বিবিসি বাংলার ফেসবুক পেইজে।
''ঈদের আনন্দের মাঝে যদি এমন ভিডিও দেখি তাহলে তো মনে অশান্তি নেমে আসাটাই স্বাভাবিক। বিবিসি বাংলা এমন করে তথ্য উপাত্ত প্রচার করছে যেন সেই সব খাদ্য গ্রহণ করলে মানুষ মারা যাবে।
''কেন বিবিসি বাংলা এমন মনগড়া তথ্য প্রচার করছে আর সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তির আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে?
''যেখানে মহান রাব্বুল আলামিন সকল সৃষ্টির জন্য রিজিক মানে খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন। আর বিবিসি বাংলা কিনা আল্লাহর সেই দান করা রিজিক গ্রহণ না করার জন্য আল্লাহর সৃষ্টির মাঝেই তথ্য উপাত্ত প্রচার করছে। বিবিসি বাংলা কি সৃষ্টিকর্তাকে বিশ্বাস করে না?''
কথাটা বলা ঠিক হবে কি না জানি না মি. আকন্দ, কিন্তু যেহেতু খাবার নিয়ে কথা হচ্ছে, তাই খাবার সম্পর্কিত একটি প্রবাদ বাক্যর কথা মনে পড়ছে। বাক্যটি হল, কিসের মধ্যে কী, পান্তা ভাতে ঘি!
আমাদের ভিডিও প্রতিবেদন ছিল নিতান্তই খাবার নিয়ে, বিশেষ করে যেসব খাবার খাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে তা নিয়ে। কিন্তু সেখানে একেবারে সৃষ্টিকর্তাকেই টেনে আনলেন কেন, আবার খাবার নিয়ে এই প্রতিবেদনের সূত্র ধরে বিবিসি সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস করে কি না, সে প্রশ্নই করলেন কেন, তা আমার মোটেই বোধগম্য হচ্ছে না।
আপনি আবার প্রতিবেদনটি দেখুন, সেখানে গুরুত্বপূর্ণ এবং সঠিক কিছু তথ্য দেয়া আছে যেগুলো জানলে আপনারই উপকার হবে।
এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of YouTube post, 2
আমাদের প্রযুক্তিভিত্তিক অনুষ্ঠান ক্লিক এর প্রশংসা করে লিখেছেন পঞ্চগড়ের ময়নাদিঘী থেকে শিল্পী রানী:
''গত ৮ই মে বিবিসি বাংলা ইউটিউব চ্যানেলে বিবিসি বাংলা ক্লিক-এ প্রাণীরা কীভাবে কথা বলে, সে সম্পর্কে অনেক নতুন কিছু দেখলাম। বেশ ভালো লাগলো। ধন্যবাদ বিবিসিকে।''
আপনাকেও ধন্যবাদ শিল্পী রানী, আমাদের অনুষ্ঠান দেখার জন্য এবং চিঠি লেখার জন্য।
সাক্ষাৎকারে পশ্চিমবঙ্গ
আমাদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠান নিয়ে প্রশ্ন করে লিখেছেন খুলনার ফুলতলা থেকে মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম:
''এই সপ্তাহের সাক্ষাৎকার' অনুষ্ঠানে কি শুধুই বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের সাক্ষাৎকার প্রচার করা হয়? আমার জানামতে, পশ্চিম বাংলার অনেক মানুষও বিবিসি বাংলা শুনে থাকে । আর তাই তাদের ওখানকার কারোর সাক্ষাৎকারও তো নেওয়া যায়।''
তা অবশ্যই নেয়া যায় মি. ইসলাম এবং নেয়া হয়েছেও। তবে বর্তমানে ঢাকা থেকে সাক্ষাৎকারের যে সিরিজ করা হচ্ছে, সেখানে শুধু বাংলাদেশি ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানোই সম্ভব।
তবে শীঘ্রই ভারতে আমাদের সংবাদদাতারা সেদেশর বাংলাভাষী ব্যক্তিত্বদের সাক্ষাৎকার নেবে বলে আশা করছি, যেমন কিছু দিন আগে সহকর্মী শুভজ্যোতি ঘোষ লোকসভা সদস্য মহুয়া মৈত্রর সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন।
এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of YouTube post, 3
সাক্ষাৎকার বিষয়ে আরো লিখেছেন পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থেকে দীপক চক্রবর্তী:
''গত কয়েক দিন ধরে বিশেষ সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠান গুলো পুনঃপ্রচার করা হচ্ছে। থেকে তাহলে কি বিবিসি বর্তমানে নতুন কোনো অনুষ্ঠান রেকর্ড করে না?''
আপনি নিশ্চয়ই ঈদের সময়ের কথা বলছেন মি. চক্রবর্তী। আমরা সাধারণত ঈদের আগে পরে পাঁচ দিন বিভিন্ন অনুষ্ঠান পুনঃপ্রচার করে থাকি। সম্প্রতি আমরা সাক্ষাৎকারগুলো পুনঃপ্রচার করছি। আশা করছি আগামীতে ভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে।

ছবির উৎস, SOPA Images
ঈদ আর বিবিসি বাংলা
ঈদের পাঁচ দিন অনুষ্ঠান পুনঃপ্রচার নিয়ে আরো লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:
''বেশির ভাগ অনুষ্ঠানেরই পুণঃপ্রচার শুনতে খুব একটা ভালো লাগে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক শ্রোতার সাথে কথা বলে জেনেছি, ঈদের সময় পুণঃপ্রচারিত অনুষ্ঠান তাদের বেশ অপছন্দ।
''আর যদি বিবিসি বাংলা ভাষাভাষীদের সত্যিই গুরুত্ব দিয়ে থাকে, তবে ঈদকে কেন্দ্র করে "ঈদ অনুষ্ঠান" তৈরি করতে ক্ষতি কী? অন্যান্য সকল মিডিয়াগুলো তো তাই করে, এক্ষেত্রে বিবিসি কেন পিছিয়ে থাকবে?''

স্থানীয় মিডিয়া অনেক কিছুই করে যেটা আমাদের করা সম্ভব না, বা করা উচিৎও না। ঈদ ঘিরে অনুষ্ঠান স্থানীয় মিডিয়া ব্যাপকভাবে করে, সেখানে বিবিসির ঢুকে কোন লাভ থাকবে কি? আমার তো তা মনে হয় না।
বিবিসি বাংলা মূলত সংবাদভিত্তিক সম্প্রচার, বিনোদনের জন্য শ্রোতারা আমাদের অনুষ্ঠান শোনেন না। ঈদের সময় যেমন খুব একটা বড় কিছু ঘটে না, তাই খবরের তেমন চাহিদাও থাকে না। তাই আমরা নতুন অনুষ্ঠান ঈদের সময় দেই না। যদিও এই ঈদে বেশ কয়েকটি ভাল নতুন ফিচার প্রতিবেদন প্রচার করা হয়েছিল।
নারীর পছন্দ
সেরকম একটি ফিচার প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু নিয়ে লিখেছেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে গাজী মোমিন উদ্দিন:
''বয়সে ছোট পুরুষকে নারীদের বিয়ে করার ঘটনা বাংলাদেশে ভীষণ কম। আমি তো দেখিই না। তবে শুনেছি এরকম বিয়ে ঘটে। সমাজে ভীষণ সমালোচনার বিষয় এটি। কিন্তু কেন?
''সমাজে যত ধরণের সমালোচনা আছে তার বেশিরভাগ নারীদের নিয়ে। তাদের ছোট করে কথা বলা, হেয় করা ও অসম্মান করা বেশিরভাগ পুরুষের স্বভাবজাত বিষয়।
''বিবিসি বাংলা মাঝেমধ্যে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান করে। এতে কোন উন্নতি হচ্ছে কিনা বিবিসি কি কোন ফলোআপ অনুষ্ঠান করবে?''
আপনি যে বিষয়ের কথা বলছেন, সেটা দীর্ঘ দিন ধরে একটি সামাজিক রীতিতে পরিণত হয়েছে। তবে অনেকে নারীদের হেয় করার এই প্রবণতাকে স্বাভাবিক হিসেবে না দেখে একটি সামাজিক ব্যাধি হিসেবেই দেখছেন। এর ফলে সমাজে একটি পরিবর্তন আসবে, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই।
সামাজিক কুসংস্কার যেমন রাতারাতি তৈরি হয় না, তেমনি তার পরিবর্তনও হয় দীর্ঘ সময় ধরে। বিবিসির প্রতিবেদন এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় ছোট একটি ভূমিকা হয়তো রাখতে পারবে।
সব শেষে একটি অনুরোধ পাঠিয়ে লিখেছেন ঢাকা সেনানিবাস থেকে সোহেল হোসেন রানা:
''গত বছর বিবিসি বাংলার ৮০ বছর পূর্তি ছিল৷ সম্ভবত ঘটা করে শ্রোতা সম্মেলন করারও ঘোষণা ছিল (যদি কোন ঘোষণা নাও থাকে)৷ বিশ্বময় মহামারি করোনা সব পণ্ড করে দিয়েছিল৷
''তো সে যাই হোক, এখন তো করোনার প্রভাব কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, সে হিসেবে শ্রোতাদের দীর্ঘ দিনের দাবি এবং ৮০ বছর পূর্তির লক্ষ্যে দেরিতে হলেও একটি শ্রোতা সম্মেলনের আয়োজন করা যায় কি?''
তেমন কোন ঘোষণা ছিল বলে আমার মনে পড়ছে না মি. হোসেন। গত বছর পুরোটাই কোভিড কবলিত ছিল তাই তখন অনেক মানুষ নিয়ে কোন অনুষ্ঠান করার কথা কল্পনা করাও কঠিন ছিল। তবে হ্যাঁ, আমাদের আশা অবশ্যই ছিল, এবং আমি সেই আশার কথা এই অনুষ্ঠানে দুই-একবার বলেও ছিলাম।
এ'বছর কোন সম্মেলন হবে কি না, হলে কোথায় হবে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আমরা এখনো ভাবছি না। করোনাভাইরাস পুরোপুরি বিদায় নিয়েছে, সে কথা জোর করে বলার সময় হয়তো এখনো আসেনি।
এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:
মোহাম্মদ সাগর মিয়া, বাজিতপুর, কিশোরগঞ্জ।
মুহাম্মদ মাসুদুল হক মাশুক, চরফ্যাশন, ভোলা।
মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম মিঞা, ভোলাহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
মোহাম্মদ সাইদুর রহমান, কাউনিয়া, বরিশাল।
মোহাম্মদ আজিজুল হাকিম রাকিব, পাইকগাছা, খুলনা।
মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন, খটখটিয়া, রংপুর।




