ভারতে নিয়মিত বিমান চলাচল ফের শুরু, ভাড়া কমার আশা

    • Author, শুভজ্যোতি ঘোষ
    • Role, বিবিসি বাংলা, দিল্লি
  • Published

দীর্ঘ দুবছরেরও বেশি সময়ের ব্যবধানে ভারতে আবার আজ থেকে নিয়মিত সময়সূচি অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল শুরু হয়েছে।

এর ফলে বাংলাদেশ-সহ বিভিন্ন দেশের মোট ষাটটি এয়ারলাইন ভারতে আবার তাদের নিয়মিত বিমান পরিষেবা শুরু করতে পারবে - এবং আন্তর্জাতিক রুটের বিমানভাড়াও অনেকটা নাগালের মধ্যে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত বছরখানেকেরও বেশি সময় ধরে এই সব রুটে বিমান চলাচল করেছে 'এয়ার বাবল' সিস্টেমের আওতায় এবং সীমিত ক্যাপাসিটিতে - ফলে প্রায় সব রুটেই ভাড়া ছিল আকাশছোঁয়া।

এখন বাংলাদেশ-ভারত রুটেও ভাড়া কমবে বলে বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ যাত্রীরা একমত, তবে তা হয়তো প্রাক-কোভিড পর্যায়ে নেমে আসবে না।

কোভিড মহামারির একেবারে গোড়ার দিকে, ২০২০ সালের ২৩ মার্চ ভারতে প্রায় রাতারাতি সব ধরনের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।

পরে ওই বছরের শেষের দিকে আলাদা আলাদা দেশের সঙ্গে 'এয়ার বাবল' চুক্তি করে ট্র্যাভেল করিডর স্থাপনের মাধ্যমে ওই সব দেশের সঙ্গে সীমিত আকারে ভারতের বিমান যোগাযোগ আবার শুরু হয়।

তবে আজ রবিবার থেকে আবার দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনগুলো 'পূর্ণ ধারণক্ষমতায়' ভারতে তাদের ফ্লাইট চালাতে পারবে।

ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া এদিন এই ফুল ফ্লাইট অপারেশনের উদ্বোধন করে বলেন, "আজ মার্চের ২৭ তারিখ খুব গুরুত্বপূর্ণ দিন, কারণ আজ আন্তর্জাতিক সামার শিডিউল অনুযায়ী ১৩৫টা নতুন ফ্লাইট চালু হল।"

"সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট খুলে দেওয়ার মাধ্যমে ভারতকে বাকি বিশ্বের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত করার প্রক্রিয়াও আবার শুরু হল।"

তিনি আরও জানান, "ডোমেস্টিক সেক্টর আমরা শতকরা ১০০ ভাগ খুলে দিয়েছিলাম গত অক্টোবরেই, এখন আন্তর্জাতিক সেক্টরও শতকরা একশোভাগ উন্মুক্ত করে দেওয়া হল।"

ভারতে যে দেশ থেকে সবচেয়ে বেশি বিদেশি পর্যটক আসেন, সেই বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতি সপ্তাহে ভারতের অন্তত ৩০ থেকে ৪০টি ফ্লাইট চালু ছিল ২০২০র গোড়া পর্যন্তও।

বাংলাদেশের ন্যাশনাল ক্যারিয়ার বিমান বা বেসরকারি এয়ারলাইন রিজেন্ট, ইউনাইটেড যেমন এই সব রুটে ফ্লাইট চালাত - তেমনি চালাত ভারতের এয়ার ইন্ডিয়া, স্পাইসজেট, ইন্ডিগো বা ভিস্তারাও।

এয়ারলাইনগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতার কারণে ভাড়াও ছিল বেশ নাগালের মধ্যে - কিন্তু এয়ার বাবলের আওতায় সেই ছবিটা আমূল পাল্টে যায়।

ঢাকা-দিল্লির মধ্যেই যেমন গত বছরদেড়েক ধরে সপ্তাহে এতদিন মাত্র দু-তিনটে ফ্লাইট চলেছে (তাও অনিয়মিতভাবে), রিটার্ন টিকিটের দামও ঠেকেছিল তিরিশ-চল্লিশ হাজার রুপিতে।

এখন সেটা অনেক কমে আসবে বলে আশা করছেন এই সেক্টরের বিশেষজ্ঞরা।

ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন অব ট্যুর অপারেটরসের প্রেসিডেন্ট রাজীব মেহরা যেমন বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, "বেশ কিছু এয়ারলাইন ইতিমধ্যেই তাদের ফুল সামার শিডিউল আপলোড করে দিয়েছে। বাকিরা কেউ ১৫ এপ্রিল, কেউ ১লা মে-র মধ্যেই করবে।"

"আমরা আশাবাদী, আগামী দুসপ্তাহের মধ্যেই দেখতে পাব কোভিডের আগেকার মতো না-হলেও সব রুটে ভাড়া কমছে - কারণ এয়ারলাইনগুলো এখন ফুল ক্যাপাসিটিতে অপারেট করতে পারবে, ফ্লাইটের সংখ্যাও বাড়বে।"

"একটা উদাহরণ দিই, দিল্লি-লন্ডন রুটে কোভিডের আগে গড় ভাড়া ছিল ৫০০ পাউন্ড - এখন সেটাই বারোশো পাউন্ডে গিয়ে ঠেকেছে। কিন্তু আমরা ইঙ্গিত পাচ্ছি, এটাই এখন ছশো সাড়ে-ছশো পাউন্ডে নেমে আসবে", বলছিলেন মি মেহরা।

চিকিৎসা ও অন্য নানা প্রয়োজনে নিয়মিত কলকাতা বা চেন্নাই আসেন ঢাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম।

বিবিসিকে তিনি বলছিলেন, গত দুবছর এই সব রুটে অতিরিক্ত ভাড়ার জন্য অসম্ভব দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

মি. ইসলামের কথায়, "২০১৮ সালেও কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশে ঢাকা-কলকাতা রিটার্ন ফ্লাইটের ভাড়া ছিল বারো হাজার টাকার মতো।"

"কোভিডের সময় দেখলাম সেটাই অন্তত শতকরা তিরিশ থেকে চল্লিশ ভাগ বেড়ে গেছে। অথচ এতটা বাড়ার কিন্তু কোনও যৌক্তিকতাই ছিল না। তার ওপর টিকিট পাওয়া যেত না, পরে অনলাইন বুকিংয়ের ব্যবস্থা করা হলেও সেই টিকিট অফিসে যাওয়াই লাগত।"

"মধ্যপ্রাচের রুটগুলোয় তো ভাড়া আরও বাড়ানো হয়েছিল, সত্তর বা আশি শতাংশ কিংবা আরও বেশি। তিরিশ হাজার টাকা ওখানে বেড়ে হল পঞ্চান্ন থেকে ষাট হাজার টাকার মতো।''

কিন্তু ভারত এখন ফুল ফ্লাইট অপারেশন চালু করার পর অন্তত ভারতের রুটগুলোয় কি ভাড়া কমতে পারে?

নাজমুল ইসলাম জবাব দেন, "দেখেন একটা জিনিসের দাম যখন একবার বেড়ে যায় তখন পুরোটা কি আর কমানো যায়? তাই কোভিডের আগের পর্যায়ে দাম যাবে এতটা আশা করছি না, কিন্তু কিছুটা তো নিশ্চয় কমবে।"

"তা ছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তেলের দামও অনেক বেড়ে গেছে। তবু আশা করব বর্তমান সরকার ও বেসরকারি এয়ারলাইনগুলো যতটা সম্ভব ব্যবস্থা নেবে, ভাড়া মানুষের নাগালে অন্তত নিয়ে আসবে।''

''আর একটা জিনিস হল, দুটো ফ্লাইটের জায়গায় এখন বিশটা ফ্লাইট চললেও সেগুলো সব ভর্তি হবে কি? যাত্রীদের দিয়ে ফ্লাইট 'ফুল' না-হলে ভাড়া তো সেই বাড়ানোই লাগবে", বলছিলেন তিনি।

তবে এই সব রুটে সক্রিয় এয়ারলাইনগুলো আশা করছে, দিনকয়েক আগে থেকে ভারত আবার বাংলাদেশিদের পর্যটন ভিসা দিতে শুরু করায় আর যাই হোক, যাত্রীর কোনও অভাব হবে না।

বিবিসি বাংলায় আরো খবর: