বিজ্ঞানের আসর : মঙ্গলের বুকে জৈব অণু পাওয়া যাবার অর্থ কী?

Published

মঙ্গলগ্রহের বুকে জৈব অণু এবং কাদার খনিজ খুঁজে পেয়েছে কিউরিওসিটি রোভার। বলা হচ্ছে, মঙ্গলগ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে হলে যেসমস্ত জৈব পদার্থের উপস্থিতি থাকতে হবে তার এ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সংগ্রহ খুঁজে পেয়েছে কিউরিওসিটি।

নিউ সায়েন্টিস্ট সাময়িকীতে প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হচ্ছে - মঙ্গলগ্রহের বুকে গেল ক্রেটার নামে একটি জ্বালামুখের ভেতর থেকে কার্বন এবং সালফার পাওয়া গেছে - যা প্রাণের অস্তিত্বের জন্য দরকার। এখন বিজ্ঞানীরা জানার চেষ্টা করবেন যে মঙ্গলের বুকে এসব অণু এলো কিভাবে?

এগুলো কি মঙ্গলে কোন সময় প্রাণের অস্তিত্ব থাকার ফলে সৃষ্টি হয়েছে? নাকি কোন রাসায়নিক প্রক্রিয়ার ফলে এগুলোর জন্ম হয়েছে?

মঙ্গলগ্রহে প্রাণ আছে কিনা, বা কখনো ছিল কিনা - তার জবাব পেতে কতটা সহায়ক হতে পারে এসব আবিষ্কার?

প্রশ্ন করেছিলাম নাসার অডিসি প্রকল্পের বিজ্ঞানী ড. অমিতাভ ঘোষকে। তিনি বলছিলেন, মঙ্গল ও পৃথিবীর মধ্যে অনেক মিল আছে।

"মঙ্গলে পানি পৃথিবীর আগে থেকেই ছিল। ৪৫০ কোটি বছর থেকে ৪০০ কোটি বছর আগে পর্যন্ত পৃথিবীতে কোন জল ছিল না। কিন্তু মঙ্গলে ছিল। আজকে রোভারের মাধ্যমে আমরা জানতে পারছি যে কি পড়ে আছে।"

"পৃথিবীতে প্রাণ সৃষ্টি হয়ে তার পর এখনো তা আছে। আর মঙ্গলে যদি প্রাণ একসময় থেকেও থাকে তাহলে কয়েকশ' কোটি বছরের মধ্যে লস অব এ্যাটমোস্ফিয়ারের জন্য প্রাণ নষ্ট হয়ে যায়।"

"তো আজকে পড়ে আছে মঙ্গলের মাটিতে? আজকে কিছু কেমিক্যালস পড়ে আছে যেখান থেকে আমরা হয়তো ট্রেস করতে চেষ্টা করতে পারি যে সেখানে প্রাণ আগে ছিল কিনা।"

"কিউরিওসিটি বেনজিন, বেনজয়িক এসিড. এ্যামোনিয়া ক্লে মিনারেল এসব দেখতে পাচ্ছে। কিন্তু এগুলো প্রাণ থেকে তৈরি হতে পারে কেমিক্যাল থেকেও তৈরি হতে পারে।"

"এসব যে পাওয়া যাচ্ছে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এগুলো কোন প্রাণ থেকে এসেছে কিনা - নাকি প্রাণ ছাড়াই তৈরি হয়েছে - সেই লিংকটা আমরা এখনো পাইনি ।"

"কোথা থেকে এগুলো এসেছে - প্রাণ, নাকি ন্যাচারাল প্রসেস, নাকি মিটিওরাইট - এটা আমাদের এখনো জানা নেই। "

মঙ্গলের মাটিতে কাদার খনিজের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে ঠিকই, কিন্তু কোন মুহূর্তে কাদা থেকে প্রাণ সৃষ্টি হলো , কি করে হলো তা বিজ্ঞানীরা এখনো জানেন না - বলছিলেন অমিতাভ ঘোষ।

"জড় বস্তু থেকে প্রাণ - কি করে এই ট্রানজিশনটা হলো, আর কেনই বা হলো - এটা আমরা এখনো বুঝতে পারি না।"

শুধু তাই নয়, মঙ্গলগ্রহের বুক থেকে চীনের ঝুরং রোভার এমন কিছু তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে যাতে আভাস মিলছে যে এই গ্রহের মাটি ও শিলার যে ভৌগলিক বৈশিষ্ট্য - তা হয়তো বাতাস ও পানির প্রবাহের ফলেই সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।

অমিতাভ ঘোষ বলছেন, মঙ্গলে যে একসময় অনেক জল বা নদী ছিল, তার চিহ্ন বারে বারেই বিভিন্ন রোভারের অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে।

"মঙ্গলের মাটির তলাতেও যদি জল পাওয়া যায়, তাহলে হিউম্যান মিশনের খুব সুবিধা হবে - কারণ মানুষের জন্য পৃথিবী থেকে জল নিয়ে যাওয়া খুব কঠিন।"

অমিতাভ ঘোষ বলছেন, আমাদের জীবদ্দশাতে না হোক পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে অবশ্যই মঙ্গল গ্রহে যাবার মত যান তৈরি হয়ে যাবে।

"আমরা যখন কথা বলছি - তখন সেই মহাকাশযানের টেস্ট হচ্ছে। স্টারশিপের উনিশটা টেস্ট হয়ে গেছে। এটা এক বিশাল স্পেসক্রাফট যা মানুষ ও অনেক জ্বালানি নিয়ে যেতে পারবে।"