আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
এডিটার'স মেইলবক্স: ভারতে হিজাব, রাশিয়ার যুদ্ধ আর জঙ্গি বিতর্ক নিয়ে প্রশ্ন
- Author, সাবির মুস্তাফা
- Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
- Published
- পড়ার সময়: ৭ মিনিট
ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের হাইকোর্ট সম্প্রতি এক রায়ে বলেছে, নারীদের হিজাব পরা ইসলামে অপরিহার্য নয়। হাইকোর্টের মতে, মেয়েদের হিজাব পরা নিষেধ করে যে নিয়ম কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বলবত আছে, তা মুসলিম মেয়েদের ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে না।
এই রায় নিয়ে ভারতে বেশ বিতর্ক শুরু হয়েছে এবং শুরু করছি সে বিষয় দিয়েই। প্রথমে লিখেছেন চাঁপাই নবাবগঞ্জের ভোলাহাট থেকে মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম মিঞা:
''মঙ্গলবার বিবিসি নিউজ বাংলার ফেসবুক পাতায় দেখলাম ভারতের কর্ণাটক রাজ্যর হাইকোর্ট মঙ্গলবার এক গুরুত্বপূর্ণ রায় ঘোষণা করে বলেছে -মেয়েদের হিজাব পরা ইসলাম ধর্মের অপরিহার্য অংশ নয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব পরার অধিকার চেয়ে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের কয়েকজন মুসলিম ছাত্রী যে আবেদন করেছিলেন, সেই মামলাতেই আদালত এই রায় দিয়েছেন।
''আমরা জানি পর্দা ইসলামের সার্বক্ষণিক পালনীয় অপরিহার্য বিধান। কুরআন সুন্নাহর অকাট্য দলীল প্রমাণাদির ভিত্তিতে নামায,রোযা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি বিধানের মতো মেয়েদের জন্য পর্দা করা বা হিজাব পরা সুস্পষ্ট এক ফরজ বিধান। ভারতীয় আদালত হিজাবের বিপক্ষে যে রায় দিয়েছে তা মুসলমানদের জন্য হতাশা ব্যঞ্জক।
''এই রায় ভারতের ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রের প্রমাণ করে না। এটি সুস্থ মস্তিষ্ক সম্পন্ন বিচারকের রায় হতে পারে না। এটি কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের বক্তব্যের বহিঃপ্রকাশ মাত্র।''
বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:
ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি
একই রকম অনুভূতি প্রকাশ করে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:
''হিজাব বা পর্দা মুসলিম নারী পুরুষ উভয়ের জন্য ফরজ বা অত্যাবশ্যকীয় একটি ধর্মীয় আদেশ। এ ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অথচ সংবেদনশীল বিধান পরিবর্তনের এখতিয়ার কোন আদালতের নেই, সেটা যে ধর্মেরই হোক। একজন বিচারক যার ইসলাম সম্পর্কে নূন্যতম ধারণা নেই, তার দ্বারা এ ধরনের রায় শুধু অনাকাঙ্ক্ষিতই নয়, মুসলমান সমাজের কাছে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্যও বটে।
''এ ধরনের রায় দেয়ার আগে আদালতের অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া দরকার ছিল। আমার ধারণা এ ধরনের অজ্ঞানতাবশত রায় শুধু ধর্মীয় বিদ্বেষ নয়, ধর্মীয় বিভাজনও সৃষ্টি করবে এবং এর ফলাফল হবে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী।''
কর্ণাটক হাইকোর্টের রায় যে বিতর্কিত, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই মিঃ মিঞা এবং মিঃ রহমান। কিন্তু বিচারকরা ইসলামী আইন-কানুন না জেনে বা না বুঝে রায় দিয়েছেন, একথাও গ্রহণযোগ্য না। হিজাব পরা যে অত্যাবশ্যকীয়, বা হিজাব না পরলে ইসলামের মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হবে, বা যে পরবে না সে ধর্মচ্যুত হবে, তেমন কোন প্রমাণ আদালতের সামনে হাজির করা হয়নি।
আদালতের অভিমত ছিল যে, মুসলিমদের পবিত্র গ্রন্থ কোরানে হিজাব পরা উপদেশ হিসেবে দেয়া আছে, আদেশ না। তবে এই রায় যে ভারতে ধর্মীয় বিভাজন আরো তীব্র করে তুলেতে পারে, সে আশঙ্কা মোটেই উড়িয়ে দেবার মত না।
রাশিয়ানরা দেশ ছাড়ছে কেন?
সম্প্রতি আমাদের ওয়েবসাইটে একটি খবর ছিল যে, অনেক রুশ নাগরিক দেশ ছেড়ে প্রতিবেশী ফিনল্যান্ড, জর্জিয়া, আর্মেনিয়া ইত্যাদি জায়গায় চলে যাচ্ছেন। সে বিষয়ে কিছু প্রশ্ন করে লিখেছেন খুলনার কপিলমুনি থেকে শিমুল বিল্লাল বাপ্পী:
''রাশিয়া ইউক্রেনে সামরিক হামলা চালাবার পর গণমাধ্যমে জানছি অনেক রাশিয়ান নাগরিক স্বেচ্ছায় দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে। তাহলে এই রাশিয়ান নাগরিকরা কি পুতিন সরকারকে সমর্থন করে না? গণমাধ্যমে জানলাম রাষ্ট্রের সাথে বিশ্বাসঘাতকতাকে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ করে রাশিয়ায় নতুন একটি আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। তাই কি রাশিয়ানরা নির্বাসিত হচ্ছে?
''আবার কয়েকজন রুশ নাগরিক গণমাধ্যমে বলেছে, সরকার চাইলে যে কোন সময় তাদেরকে সামরিক বাহিনীতে নিয়ে যেতে পারে, তাই তারা রাশিয়া ছাড়ছে। আসলে কী কারণে রাশিয়ান নাগরিকরা তাদের মাতৃভূমি থেকে চলে যাচ্ছেন?''
আপনি যে কারণগুলি উল্লেখ করেছেন মিঃ বিল্লাল, সেগুলো সবই দেশ ছাড়ার পেছনে কাজ করছে বলে আমার মনে হয়। তার সাথে যোগ হয়েছে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ভয়। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ফলে রুশ অর্থনীতি ভেঙ্গে পড়তে পারে, সে ভয়েও অনেকে দেশ ছাড়ছেন।
আরো একটা বিষয় আছে আর তা হল, বিশেষ করে বড় বড় শহরগুলোতে অনেক রুশ বিলাস-বহুল জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলেন, হয়তো তারা আশঙ্কা করছেন পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার ফলে এই জীবনযাত্রা ব্যাহত হবে।
নিম্নবিত্ত আর টিসিবির ট্রাক
এবারে জিনিসপত্রের দাম বাড়া নিয়ে দু'একটি চিঠি, প্রথমে লিখেছেন পঞ্চগড়ের বকসী পাড়া থেকে পিংকি রানী:
''দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে মধ্যবিত্তের ভোগান্তি বা কেন তাদের টিসিবির ট্রাকের পেছনে ছুটতে হচ্ছে, সে সম্পর্কে ভিডিওটা দেখলাম বিবিসি বাংলা ইউটিউব চ্যানেলে। সত্যি, বর্তমান সময়ে হত দরিদ্ররা টিসিবির পণ্য পাচ্ছে না, কিন্তু সেখানে মধ্যবিত্ত বা উচ্চ বিত্ত ব্যক্তিদের বেশি দেখা যায়। গত কয়েক মাস ধরে আমিও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ভুক্তভোগী।
''এখানে কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট কোন বণ্টন ব্যবস্থা নেই, সেজন্য এমন হচ্ছে। টিসিবির সাথে যারা জড়িত, তারা যাতে সঠিক ভাবে বণ্টন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে, তার অনুরোধ করছি।''
আপনি হয়তো ইতোমধ্যেই দেখেছে মিস রানী, বাংলাদেশ সরকার একটি বিশেষ কার্ড চালু করতে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো অল্প দামে টিসিবির পণ্য কেনার জন্য অগ্রাধিকার পাবে। হয়তো এই কার্ডের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষের ভোগান্তি কিছুটা হলেও লাঘব হবে। তবে অনেক কিছুই নির্ভর করবে এই কার্ড বিতরণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ এবং দুর্নীতি মুক্ত হয় কি না, তার ওপর।
তেল নিয়ে তেলেসমাতি
পরের চিঠি লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''তেল নিয়ে তেলেসমাতি বেশ ভালোই চলছে বাংলাদেশে। গত মঙ্গলবার যশোরে ১২ হাজার লিটার তেল মজুদের অপরাধে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। এ থেকে বিষয়টি বেশ পরিষ্কার কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তেল মজুদ করে কৌশলে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে বলেই তেলের দাম হুহু করে বাড়ছে।
'যেসব অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরির মাধ্যমে দ্রব্য মূল্য বৃদ্ধি করছে তাদের কেবল জরিমানা করাটাই যথেষ্ট নয় এদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি নিশ্চিত করাটাও খুব জরুরি বলে মনে হয়।''
নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে মিঃ সরদার। তবে মজুতদারি তার একটি হলেও হতে পারে। যারা অবৈধ কাজে লিপ্ত তাদের অবশ্যই আইন অনুযায়ী বিচার এবং দণ্ড দেয়া উচিত। তবে এমনও হতে পারে যে, দাম বৃদ্ধির পেছনে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতাও কাজ করছে। সরকারের উচিত ঠাণ্ডা মাথায়, বস্তুনিষ্ঠ ভাবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে পদক্ষেপ নেওয়া।
এবারে আমাদের পরিবেশনা নিয়ে দু'একটি মন্তব্য।
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আমাদের পরিবেশনা ভাল লাগছে জানিয়ে লিখেছেন নাটোর থেকে এ. কে. সরকার:
''রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি ভালো ভাবে তুলে ধরার জন্য বিবিসি বাংলাকে ধন্যবাদ। আমি দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পর আবার বিবিসিতে লিখতে বসলাম। আমার চাকরির ব্যস্ততার জন্য আর লিখতে পারতাম না। কিন্তু নিয়মিত প্রবাহ ও পরিক্রমা অনলাইনে শুনি, ইউটিউবে দেখি। আমার খুব ভাল লাগে। ধন্যবাদ বিবিসির সকল সাংবাদিকদের।''
আপনাকেও ধন্যবাদ মিঃ সরকার, আমাদের পরিবেশনার ওপর আস্থা রাখার জন্য এবং পুনরায় চিঠি লেখার জন্য। আশা করি ভবিষ্যতে অনুষ্ঠান নিয়ে আরো বিস্তারিত মতামত জানাবেন।
কে জঙ্গি আর কে বীর?
আমাদের অনুষ্ঠানে ভাষা প্রয়োগ নিয়ে লিখেছেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থেকে মোহাম্মদ আবু তাহের:
''এ'মাসের ১৩ তারিখে ইতিহাসের সাক্ষী শুনলাম। বাহরাইন এ মুসলমান মুসলমান কত বিদ্বেষ। অথচ মুসলমান মুসলমান ভাই। সিরিয়া বা ইরাক যুদ্ধের সময় অনেক মুসলিম দেশি বা বিদেশি যোদ্ধা আমেরিকার সৈন্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে। পশ্চিমা বিশ্ব তাদেরকে জঙ্গি বলে সম্বোধন করে, আর ইউক্রেন যুদ্ধে দেশি বা বিদেশি যারা ইউক্রেনের হয়ে যুদ্ধ করছে তারা বীরের মর্যাদা পাচ্ছে।
''বিবিসি কাছে আমার প্রশ্ন, মুসলিম হলে জঙ্গি আর অন্য জাতি হলে বীর। অন্য অনেক দেশে বন্দুকধারী গুলি করে লোক মারে, তাদেরকে জঙ্গি বলা হয় না, তাদেরকে বলা হয় বন্দুকধারী। এমনটা বলা হয় কেন, জানাবেন কি?''
ভাল প্রশ্ন করেছেন মিঃ তাহের, যদিও প্রশ্নটি নতুন না। যেসব দেশি-বিদেশি লোকজন সিরিয়া বা ইরাকে রাশিয়া বা আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তারা মূলত যোগ দিয়েছিল আল-কায়েদা, ইসলামিক স্টেট বা সেরকম সশস্ত্র গোষ্ঠীতে। এই সংগঠনগুলো আন্তর্জাতিকভাবে জঙ্গি বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃত। তাই তাদের পক্ষে যারা যুদ্ধ করে তাদের জঙ্গি বা সন্ত্রাসী বলা যুক্তিসঙ্গত।
অন্যদিকে, সিরিয়ার সরকারের পক্ষে লেবানন, পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে শত শত লোক যুদ্ধ করেছে। তারা যেহেতু একটি সরকারের সম্মতিক্রমে কাজ করেছে, তাই তাদের জঙ্গি বলা হয় না।
একই ভাবে, বর্তমানে যারা ইউক্রেনে যাচ্ছেন, তারাও কিয়েভ সরকারের আমন্ত্রণে তাদের সংগঠিত বাহিনীতে যোগ দিচ্ছেন। সেজন্য তাদেরও জঙ্গি বলা হয় না।
কে বই পড়ে?
এবারে ভিন্ন প্রসঙ্গে যাই। পাবলিক লাইব্রেরি আর বই পড়া নিয়ে লিখেছেন কুড়িগ্রামের রাজিবপুর থেকে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সোহেল:
''বিবিসি বাংলার শর্টওয়েভে পাবলিক লাইব্রেরির পাঠক বিমুখতার সংবাদটি শুনলাম। শোনার পর আমার পাবলিক লাইব্রেরি বিমুখতার কারণ খুঁজলাম। কর্মসূত্রে আমি বর্তমানে অন্য একটি জেলায় থাকি। সেখানকার একটি পাবলিক লাইব্রেরিতে নিয়মিত যাতায়াত করতাম।
''কিন্তু সেখানে আমার জন্য প্রধান সমস্যা ছিল আগের দিন যে বইটা পড়তাম, সেই বইটা পরেরদিন গিয়ে খুঁজে পেতাম না। বই টেবিলে রেখে আসার পর সেই বই তারা আবার কোথায় রাখে তা খুঁজে পেতে হিমশিম খেতে হতো। লাইব্রেরির কারো কাছে খুঁজে চাইলে বিরক্তির ভাব প্রকাশ করত।
আমাদের বই পড়ার অভ্যাস প্রতিনিয়ত কমছে। একাডেমিক বইয়ের বাইরে কোনো বই পড়ার লাভটা কি, তা আমাদের কাছে অজানা। এমন কী বাচ্চারা মোবাইল ফোনে গেমস খেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নষ্ট করলেও বাবা-মা যতটা উদ্বিগ্ন হন না, ওই বাচ্চা প্রাতিষ্ঠানিক বইয়ের বাইরে কোনো বই পড়তে গেলে তারচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন হন। বাবা-মা মনে করেন প্রাতিষ্ঠানিক বইয়ের বাইরে কোনো বই পড়লে বিভিন্ন তথ্য মাথায় নেওয়ায় বাচ্চারা পরীক্ষায় খারাপ করবে।''
তথ্য প্রযুক্তি আসলেই আমাদের, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মর জীবন পাল্টে দিয়েছে মিঃ ইসলাম। এখন তথ্য সংগ্রহ করা কত সহজ - কিছুক্ষণ ইন্টারনেটে ঘাঁটাঘাটি করলেই সব তথ্য চলে আসে। জীবন যাত্রার গতিও পাল্টে গেছে। যার ফলে মানুষের সময়, ধৈর্য সব কিছুই কমে গেছে।
বই পড়ার জন্য সময় দরকার, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দরকার। এখন সব কিছুই প্রতিযোগিতামূলক। আগের মত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা খুবই কঠিন।
বন্যপ্রাণী নিয়ে ব্যবসা
সবশেষে, বন্যপ্রাণী নিয়ে আমাদের একটি রিপোর্ট নিয়ে লিখেছেন সাতক্ষীরা সরকারি বিদ্যালয় থেকে গাজী মোমিন উদ্দিন:
''বন্যপ্রাণী দিয়ে বিভিন্ন রিসোর্ট, পার্ক, গার্ডেন চলে দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য। এই বন্যপ্রাণী রাখা আইনে নিষেধ থাকলেও দীর্ঘসময় ধরে এটা চলে আসছে। সম্প্রতি কিছু অভিযানে কিছু প্রাণী উদ্ধার হয়েছে। সাতক্ষীরাও এ ঘটনা ঘটেছে। এ'সংক্রান্ত একটা নিউজ বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে দেখলাম।
''আমার প্রশ্ন, এই অভিযান আইনের বাস্তবায়ন ঠিকই, কিন্তু সর্বত্র কি এই অভিযান চলে, না অভিযোগের প্রেক্ষিতে? তা যদি হয় তাহলে আইনের বাস্তবায়ন ঠিকঠাক হবে না। আবার আইনি প্রক্রিয়া ঠিক রেখে সাধারণ মানুষের জন্য বন্যপ্রাণী দেখার ব্যবস্থা করতে করণীয় ঠিক করার জন্য বিবিসি নিউজে অবজারভেশন দিতে পারতো।''
হয়তো সর্বত্র এসব অভিযান চলে না মিঃ মোমিন উদ্দিন। সম্ভবত প্রমাণ সহ অভিযোগ আসর পরেই অভিযান চালানো হয়। কোন প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানোর জন্য নিশ্চয়ই আদালত থেকে ওয়ারেন্ট-এর প্রয়োজন হয়।