এডিটর'স মেইলবক্স: রুশ ইউক্রেন উত্তেজনা, ফোনে আড়ি পাতা আর মান্ধাতার আমল নিয়ে প্রশ্ন

    • Author, মানসী বড়ুয়া
    • Role, বিবিসি নিউজ বাংলা, লন্ডন
  • Published

চলতি সপ্তাহেও রাশিয়া আর ইউক্রেন ঘিরে উত্তেজনা হ্রাস পাবার কোন লক্ষণ দেখা যায়নি। ইউক্রেন সঙ্কট কোন দিকে মোড় নিচ্ছে, রাশিয়ার ইউক্রেনে হামলা চালানোর আশংকা কতটা এবং তা ঠেকাতে নানা দেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কি আদৌ কোন ফল আনছে?

এসবের মাঝে যুদ্ধের দামামা এখনও বাজছে কিনা সে দিকেই মানুষের নজর ছিল বেশি। এ প্রসঙ্গেই লিখেছেন কপিলমুনি, খুলনা থেকে শিমুল বিল্লাল বাপ্পী:

"আমি মনে করি যুদ্ধ মানব জাতির জন্য অতীতে কোন ভাল ফল নিয়ে আসতে পারেনি। বরং যখনই বিশ্বের কোন দেশে যুদ্ধ বেঁধেছে সেখানে রক্তপাতের পাশাপাশি ধ্বংসযজ্ঞ চলেছে। বিশ্বের অনেক বড় বড় সমস্যা কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে সমাধান হয়েছে। বর্তমান সময়ে রাশিয়া -ইউক্রেন নিয়ে যে উত্তেজনা তা চরম মাত্রায় পৌঁছেছে।

''আমার মনে হয় বিশ্বের অন্য যে সকল রাষ্ট্র যুদ্ধ চায় না, সেই সকল রাষ্ট্র যদি সংকট সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখতো তাহলে মনে হয় সম্ভাব্য যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হতো।"

যুদ্ধ যে মানব জাতির জন্য কখনই শুভ নয় সে বিষয়ে আপনার সঙ্গে কেউই দ্বিমত পোষণ করবে না মি. বিল্লাল। এই যুদ্ধের আশংকা নিয়ে উত্তেজনা এখন চরমে। ইউক্রেনে যুদ্ধ বাধলে তা একটা বিস্তৃত রূপ নিতে পারে এমন আশংকা অনেকেই করছেন। তারা বলছেন এর অর্থনৈতিক মূল্য হবে যেমন ভয়াবহ, তেমনি মানবিক পরিস্থিতিও বিপর্যয়কর হয়ে উঠতে পারে। রাশিয়া যদিও বারবার বলছে ইউক্রেন আক্রমণের কোন পরিকল্পনা তাদের নেই, কিন্তু পশ্চিমের দেশগুলো মনে করছে একটা যুদ্ধের বাস্তব সম্ভাবনা আছে।

যুদ্ধ কোন দেশই চায় বলে মনে হয় না, সে কারণেই আপনি যেমনটা বলছেন বিশ্বের বড় দেশগুলো কূটনৈতিকভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে। আর সঙ্কটটা যেহেতু ইউরোপ কেন্দ্রিক- তাই মূলত ইউরোপের দেশগুলোই এই কূটনীতিতে মূল ভূমিকা নিচ্ছে। আর অবশ্যই তাদের পাশে আছে নেটোর সদস্য আমেরিকা। এই যুদ্ধ বাধলে, গত কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথম ইউরোপ আবার একটি বড় আকারের যুদ্ধের মুখোমুখি হবে - এমন আশংকা করছেন অনেকে।

আরও পড়তে পারেন:

ফেনে আড়ি পাতা কেন থামছে না?

বাংলাদেশে সম্প্রতি আইনমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার ফোন আলাপ ফাঁসের বিষয়টি ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে লিখেছেন শেরপুর, বগুড়া থেকে সম্পদ কুমার পোদ্দার:

"বাংলাদেশে টেলিফোনে আড়িপাতা এবং কথোপকথনের গোপন রেকর্ড অন লাইনে ফাঁস করা আইনগতভাবে পুরোপুরি অবৈধ। এর আগে বহুবার প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেত্রীসহ অনেক ভিআইপি ব্যক্তির কথোপকথনের রেকর্ড ফাঁস হয়েছে, যা জাতীয় এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ। প্রথম প্রশ্ন সরকার কেন এটি থামাতে পারছে না। দ্বিতীয়ত জনৈক মন্ত্রী এই কথোপকথনকে ইনোসেন্ট বলে দাবি করলেও সেখানে আমরা একটি বড় ধরনের দুর্নীতির প্রমাণ দেখতে পাচ্ছি।"

আপনি ঠিকই বলেছেন বাংলাদেশে টেলিফোন আলাপ রেকর্ড এবং ফাঁস করা - দু'টোই আইনে গুরুতর অপরাধ। কিন্তু তারপরেও এধরনের ফাঁসের ঘটনা ঘটছে দীর্ঘদিন ধরে। সবচেয়ে বড় কথা হল ফোন আলাপ কোথায় রেকর্ড করা হয়, কারা রেকর্ড করে বা কারা এসব ফাঁস করে কোন ঘটনার পর তা চিহ্নিত করা গেছে বলে কখনও শোনা যায়নি। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কখনও এ ধরনের ঘটনা তদন্ত করেছে এমন তথ্যও পাওয়া যায় না।

তদন্তের স্বার্থে বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে টেলিফোনে আড়ি পাতার জন্যও সরকারের অনুমতির প্রয়োজন হয়। তাই সরকারের উচ্চ পর্যায়ের দু'জনের টেলিফোন আলাপ ফাঁস হওয়ার ঘটনা সাধারণ মানুষকে রীতিমত শংকিত করেছে। এসব ঘটনার যথাযথ তদন্ত করা না হলে এই রহস্য উন্মোচন হবে না, আর এই অপরাধগুলোও থামবে বলে মনে হয় না।

আরও পড়তে পারেন:

মান্ধাতার আমল

আমাদের একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পেছনের কারণ জানতে চেয়ে ভোলাহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে লিখেছেন শামীম উদ্দিন শ্যামল:

"জানতামই না যে, "মান্ধাতার আমল" নামে কোন আমল ছিলো কিংবা এই শব্দটি কিভাবে বাংলা ভাষায় স্থান করে নিলো? কিন্তু বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে হঠাৎ করেই এ নিয়ে লেখা সত্যিই অবাক করে দিলো। জানতে পারলাম এই শব্দটি অর্থাৎ "মান্ধাতার আমল" শব্দটি বাংলা ভাষায় এমনিতেই আসেনি। এর পেছনে একটি লক্ষ কোটি বছর আগের আমল রয়েছে।

আমি কোন শব্দের বাংলা অর্থ কিংবা কোন শব্দের উৎপত্তি জানার জন্য বাংলা একাডেমি'র অভিধান ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু কখনো মাথায় আসেনি এই শব্দটির অর্থ কিংবা উৎপত্তির বিষয়ে জানার চিন্তা বা আগ্রহ। বিবিসি বাংলা আমাকে এরকম কিছু অর্থ খুঁজে দেখার আগ্রহ তৈরি করে দিলো নিঃসন্দেহে। তাই জানতে ইচ্ছা করলো বিবিসি বাংলা কি কারণে বা কোন উদ্দেশ্যে এই "মান্ধাতার আমল" কথাটির ইতিহাস খুঁজে দেখার প্রয়োজনবোধ করলো?"

প্রতিবেদনটি আপনার কৌতূহল জাগিয়েছে শুনে ভাল লাগল। তবে, বিশেষভাবে শুধু মান্ধাতার আমল কথাটির ইতিহাস খুঁজে দেখাটা এই প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য ছিল না মি. শামীম উদ্দিন। এবছর ২১শে ফেব্রুয়ারি বাহান্নর ভাষা আন্দোলনের ৭০তম বার্ষিকী। এই বার্ষিকীকে সামনে রেখে আমরা বাংলা ভাষায় বহুল ব্যবহৃত কিছু শব্দের উৎপত্তি খোঁজার চেষ্টা করেছি। যেসব শব্দ আমরা হরহামেশাই ব্যবহার করি, কিন্তু যেগুলোর উৎপত্তি খুবই আগ্রহজনক, যা আমরা অনেকেই হয়ত জানি না।

এরকম চালু কিছু শব্দের ইতিহাস তুলে ধরতে বিবিসি বাংলা ১৬ থেকে ২০শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশেষ কিছু প্রতিবেদন প্রকাশেরউদ্যো নিয়েছে। এসব শব্দের উৎস জানতে চোখ রাখুন আমাদের ওয়েবসাইট বিবিসিবাংলা ডট কম-এ।

পড়তে পারেন এই সিরিজে এ পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো:

রাধা বিনোদ ও বাঙালি-জাপানি মৈত্রী

কুষ্টিয়ায় জন্ম নেয়া বিচারক রাধা বিনোদ পালকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন ভাল লেগেছে জানিয়ে লিখেছেন গেন্ডারিয়া, ঢাকা থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

"রাধা বিনোদ পাল সম্পর্কে আগে ভাসাভাসা গল্প শুনেছিলাম, কিন্তু তিনি জাপানিদের কাছে এত প্রিয় ও সম্মানিত তা এতদিন জানা ছিল না। রাধা বিনোদ পাল টোকিও ট্রায়ালে যে ভূমিকা পালন করেছিলেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয়। একারণেই তিনি জাপানের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন। ইতিহাসের এ অমর ব্যক্তিত্বের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালবাসা।

"সম্প্রতি জাপান ও বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ কুটনৈতিক সম্পর্কের পঞ্চাশ বছর পূর্ণ হয়েছে। মি. পালের সুনাম ও সম্মানে আগামী দিনগুলোতেও জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে, এটা আমাদের বিশ্বাস ও প্রত্যাশা।"

প্রতিবেদনটি আপনাকে অনুপাণিত করেছে জেনে ভাল লাগল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতাদের যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে যে আন্তর্জাতিক সামরিক ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি করা হয় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাধা বিনোদ পাল সেই ট্রাইব্যুনালে এগারোজন বিচারকের মধ্যে ছিলেন একমাত্র বিচারক যিনি জাপানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে রায় দিয়েছিলেন।

ওই বিচারে তার ভূমিকার জন্য জাপানে তাকে জাতীয় বীরের যে সম্মাননা দেয়া হয়েছিল তা সত্যিই ইতিহাসের একটা স্মরণীয় ঘটনা।

বাংলাদেশের লবণে প্লাস্টিক

বাংলাদেশে লবণের ব্র্যান্ডে উদ্বেগজনক পরিমাণ প্লাস্টিককণা পাওয়ার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ছোট জামবাড়িয়া, ভোলাহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম মিঞা:

"জানতে পারলাম, বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে যে বাংলাদেশে একজন মানুষ প্রতি বছর ১৩,০৮৮টি মাইক্রোপ্লাস্টিক লবণের মাধ্যমে গ্রহণ করে থাকে। এসব মাইক্রোপ্লাস্টিক জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। প্লাস্টিকের এসব কণা মানবদেহে ক্যান্সারের অন্যতম কারণ। এর ফলে যকৃৎ,ফুসফুসসহ অন্যান্য অঙ্গের সমস্যা হতে পারে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক মানবদেহে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করার কারণে নারী ও পুরুষের প্রজনন ক্ষমতাও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তুলনামূলক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, বাংলাদেশের লবণে এই প্লাস্টিক দূষণের হার অনেক বেশি। বাংলাদেশের মানুষ প্লাস্টিকের কণা যুক্ত লবণ গ্রহণের ভয়াবহ প্রভাব থেকে বাঁচতে কী করতে পারে?''

সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও প্লাস্টিকের ব্যবহার বেড়েছে, প্লাস্টিকের দূষণও বেড়েছে। মানুষ যেখানেই প্লাস্টিক ব্যবহার করুক বা ফেলুক না কেন, শেষ পর্যন্ত এসব প্লাস্টিক বর্জ্য হিসাবে সাগরে গিয়ে পৌঁছচ্ছে। প্রতিবেদন থেকে আপনি নিশ্চয়ই জেনেছেন কক্সবাজারের প্রচুর জমিতে লবণ উৎপাদিত হয় সাগরের জল থেকে। ফলে এই প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে তৈরি মাইক্রোপ্লাস্টিক সমুদ্রের জল থেকে লবণে গিয়ে ঢোকে।

প্লাস্টিকের দূষণ কমাতে না পারলে প্লাস্টিককণা যুক্ত লবণের প্রভাব থেকে বাঁচার আর কোন পথ আছে বলে তো মনে হয় না। পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশে আইন হয়েছিল এক দশকের বেশি আগে। কিন্তু প্রশ্ন হল সে আইন মানুষ কতটা মানছে?

পড়তে পারেন:

ফোন-ইন বিভ্রাট

আমাদের অনুষ্ঠান নিয়ে একটি অভিযোগ করেছেন দেবীগঞ্জ পঞ্চগড় থেকে দিপক চক্রবর্তী:

''১৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় খবরে বলা হলো রাতে আপনারা শুনতে পাবেন ফোন ইন অনুষ্ঠান। আমরা ফোন ইন শোনার জন্য অনেক আশা নিয়ে বসেছিলাম। কিন্ত দুঃখজনক হল একটা শ্রোতার ফোনও নেওয়া হলো না! তাহলে কি বিবিসি আগে রেকর্ড করতে পারে না?''

মি. চক্রবর্তী- আপনার অভিযোগ পড়ে প্রথমে একটু হকচকিয়ে গিয়েছিলাম। কারণ ১৫ই ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছিলাম আমি এবং যেহেতু সেদিন রাতের অনুষ্ঠানে ছিল ক্রিকেটার শাহাদাত হোসেনের বিশেষ সাক্ষাৎকার, তাই ফোন ইনের কথা সন্ধ্যের অধিবেশনে কোন সময়ই উল্লেখ করিনি আমি।

যাহোক তারিখটা আপনি একটু গোলমাল করে ফেলেছেন। সমস্যাটা হয়েছিল সোমবার ১৪ই ফেব্রুয়ারি। সেদিন রাতের অধিবেশনে হৃদরোগ নিয়ে ফোন ইন হবার কথা ছিল, যে অনুষ্ঠানটি ঢাকা থেকে লাইভ প্রচারের কথা ছিল। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে লন্ডন ও ঢাকা স্টুডিও সেদিন সংযুক্ত করা যায়নি, যা অনুষ্ঠানে উপস্থাপক জানিয়েছিলেন। ফোন ইন মি. চক্রবর্তী আমরা সবসময়ই লাইভ করি। এটা আগে থেকে রেকর্ড করে আমরা প্রচার করতে চাই না। এধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি কখনও সখনও অপ্রত্যাশিতভাবে হতেই পারে। তবে তা এতই বিরল যে তার জন্য অনুষ্ঠানের আঙ্গিক আমরা বদলাতে চাই না।

বার্ধক্য ও বৃদ্ধ নিবাস কেন জরুরি

বার্ধক্য এবং বৃদ্ধদের বাসস্থান নিয়ে বিবিসি বাংলার রাকিব হাসনাতের প্রতিবেদন ভাল লেগেছে জানিয়ে লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:

''বৃদ্ধ বয়স নিয়ে বেশিরভাগ মানুষ হয়ত কথা বলেন না, কিন্তু চিন্তিত থাকেন এটা বলাই বাহুল্য।

''জনমিতি যে বলছে, "আগামী দশক থেকেই বাংলাদেশে বয়স্ক বা প্রবীণদের সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে থাকবে এবং ২৫ বছর পরে বাংলাদেশ পরিণত হবে একটি বয়স্ক সোসাইটিতে" এটা একেবারেই ঠিক। কারণ বাংলাদেশে এখন "ইকোনমিক ডিভিডেন্ড" স্তর চলছে, যার ফল এখন ভোগ করলেও পরবর্তী নেতিবাচক স্তর মোকাবেলা করা লাগবেই। তাছাড়া বয়স্কদের প্রতি পরিজনদের যেমন দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি দায়িত্ব রয়েছে রাষ্ট্রেরও।''

বিজ্ঞানের কল্যাণে মানুষের গড় আয়ু এখন বাড়ছে। অন্যদিকে প্রজনন হারও কমছে। ফলে সমাজে বয়স্ক মানুষের সংখ্যাও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আসলে পারিবারিক কাঠামোর বাইরেও বার্ধক্যে বৃদ্ধদের স্বাধীন ও সুস্থভাবে জীবন যাপনের একটা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা থাকা খুবই জরুরি। যেমন প্রবীণ নিবাস বা বৃদ্ধদের কেয়ার হোম। কারণ সময় পাল্টাচ্ছে। অনেকেই ছেলেমেয়ের সংসারে তাদের জন্য বোঝা হয়ে আর থাকতে চান না। তারা চান সমবয়সীদের সাহচর্যে, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে মর্যাদার সঙ্গে শেষ জীবনটা কাটাতে। সেই ব্যবস্থার কথা এখন থেকেই ভাবা দরকার।

১৪ই ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত বিবিসি বাংলার দুটি ভিডিও নাড়া দিয়েছে পার্বতীপুর, দিনাজপুরের মেনহাজুল ইসলাম তারেককে

''বিবিসি বাংলা'র ওয়েবসাইটে ও সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ফাল্গুনি-সুব্রত ও সোহেল-রওশনের ভিডিও দুটি যতবার দেখেছি, শুধুই অবাক হয়েছি! কিছু লেখার ভাষা যেন হারিয়ে ফেলেছি! তবুও না লিখে পারলাম না! তবে এমন ভালোবাসা আমাদের বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করছি, অথচ সেটাকেই তারা সম্ভব হিসেবে প্রমাণ করেছেন; কারণ ভালো চাকুরি, অনেক টাকার মালিক না হলে, আমাদের দেশে বিয়ে হয় না, যদিও বা হয় তা বেশিদিন টিকে থাকে না! বিবিসি বাংলা'র প্রীতিভাজনেষুর মাধ্যমে আরও একবার ফাল্গুনি-সুব্রত ও সোহেল-রওশনের ভালোবাসার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করলাম।''

দুটি ভিডিওতে সত্যিই নিঃস্বার্থ ভালবাসার কাহিনি উঠে এসেছে, যা আশা করি অনেক তরুণকে অনুপ্রাণিত করবে। অনেক সমালোচনা এড়িয়ে, বাধা পেরিয়ে সুব্রত ও ফাল্গুনি যেভাবে সুখের সংসার গড়েছেন তা সত্যিই প্রশংসার। সোহেল রওশনের কাহিনিও মনকে নাড়া দেবার মত।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তিস্বীকার:

সাইদুর রহমান, কাউনিয়া,বরিশাল

মুহাম্মদ মাসুদুল হক মাশুক, চরফ্যাশন, ভোলা

আরিফুজ্জামান নিশাত, ত্রিশাল,ময়মনসিংহ

মোঃ আবুল কাশেম সরদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

শাহীন তালুকদার, মৌকরণ, পটুয়াখালী

ওমর ফারুক, রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম।