এডিটার'স মেইলবক্স: শাহরুখ খানের দোয়া, কর্নাটকে হিজাব আর ফেসবুকে আত্মহত্যা নিয়ে প্রশ্ন

ছবির উৎস, Hindustan Times
- Author, সাবির মুস্তাফা
- Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
- Published
- পড়ার সময়: ৯ মিনিট
দক্ষিণ এশিয়া উপমহাদেশের সঙ্গীত জগতের কিংবদন্তী ব্যক্তিত্ব লতা মঙ্গেশকার চলতি সপ্তাহে মারা গিয়েছেন, সে কথা আপনারা সবাই জানেন। তার প্রয়াণে শোকাহত হয়ে শত শত মানুষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে। যেমন জানিয়েছেন ভারতের বিনোদন জগতের আরেক কিংবদন্তী, শাহরুখ খান।
কিন্তু সেখানেও বিতর্ক, যেমন লিখেছেন বগুড়ার শেরপুর থেকে সম্পদ কুমার পোদ্দার:
''সারা বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তদের কান্নার সাগরে ভাসিয়ে পরপারে চলে গেলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকার। অন্য সবার মতো বলিউড বাদশাখ্যাত নায়ক শাহরুখ খানও শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। কিন্তু তিনি সেটি করেছেন তাঁর নিজ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী।
''একজন অমুসলিমের জন্য অন্য এক মুসলিমের শ্রদ্ধা ভালোবাসা ও প্রার্থনা নিঃসন্দেহে মহানুভবতার বার্তা দেয়। অসাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মনিরপেক্ষতার বার্তা দেয়।
''কিন্তু বিশেষ একটি দল যখন থুথু ছিটানোর মিথ্যে অভিযোগ দিয়ে প্রশ্ন তোলেন তখন সব মানবিকতা বরবাদ হয়ে যায়। সব বিষয় নিয়ে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করা একদম ঠিক নয়। কারণ যে দেশে ভালোর কোনো মূল্য নেই, সে দেশে ভালো কিছু আশা করা যায় না। তাছাড়া আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।''

ছবির উৎস, Getty Images
শাহরুখ খানের ঘটনা সত্যিই অবাক করার মত মিঃ পোদ্দার। মুসলমানরা যে কারো জন্য দোয়া করে তার উদ্দেশ্যে ফুঁ দেয়, সেটা অন্তত ভারতে অজানা নয়।
শাহরুখ খানের ফুঁ দেওয়াকে থুথু দেয়া বলে প্রচার করাটা অত্যন্ত নিচু মানসিকতার কাজ বলে আমার মনে হচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে এটা ভারতে সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দেবার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

ছবির উৎস, Ashley Allen - CPL T20
শাহরুখ খানকে অপমান
এ বিষয়ে আরো লিখেছেন চাঁপাই নবাবগঞ্জের ভোলাহাট থেকে মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম মিঞা:
''শাহরুখ খান মুসলিম রীতি অনুযায়ী মোনাজাত করেন। এর পর মুখের মাস্ক নামিয়ে ফুঁ দিয়ে দোয়া ছড়িয়ে দেন মরদেহের উদ্দেশ্যে। এ নিয়ে ভারতের একাংশ বলছে এটা ভারতের সংস্কৃতি, যেখানে ভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের মানুষ সহাবস্থান করে।
''অন্য দিকে কট্টর পন্থীরা শাহরুখের এই দোয়ার ভঙ্গিকে কটাক্ষ করে বিতর্ক করছেন। তারা বলেন, শাহরুখ মরদেহে থুতু দিয়েছেন। শাহরুখ কি সত্যি থুতু দিয়েছেন? ভারত ধর্ম নিরপেক্ষ হয়ে এভাবে মুসলিম বিদ্বেষী কেন? এটি কি শাহরুখকে অপমান করা নয়?''
ভারতের সবাই মুসলিম বিদ্বেষী না মিঃ হাকিম, এবং আমার মনে হয় অনেকে রাষ্ট্রীয় নীতি হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতাকে ধরে রাখতে চায়। কিন্তু এটাও অনস্বীকার্য যে, এই থুতু তত্ত্বের পক্ষেও প্রচুর মন্তব্য হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে। ধর্মের বিষয়টি ভারতে বড় বিভেদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যারা রাজনৈতিক ফায়দা লুটার চেষ্টা করছেন বা রাজনৈতিক ভাবে লাভবান হবার আশা রাখছেন, তারা নিশ্চয়ই জানেন এ'ধরনের বিভেদ ভবিষ্যতে কী ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।
লতা মঙ্গেশকারের কোন সাক্ষাৎকার আমাদের কাছে আছে কি না, তা জানতে চেয়ে লিখেছেন পঞ্চগড়ের বোদা এবং দেবীগঞ্জ থেকে পলাশ চন্দ্র রায় এবং দীপক চক্রবর্তী।
আমি দু:খিত মিঃ রায় এবং মিঃ চক্রবর্তী, বাংলা সার্ভিসের আর্কাইভে লতা মঙ্গেশকারের কোন সাক্ষাৎকার নেই। সম্ভবত হিন্দি বা ইংরেজি বিভাগে আছে।
এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of YouTube post, 1
আরো পড়ুন:
ভারত আর হিজাব
এবারে আসি ভিন্ন প্রসঙ্গে। ভারতে হঠাৎ করে কলেজ মেয়েদের হিজাব পরা নিয়ে বিতর্ক এবং পাল্টা প্রতিবাদের ঝড় ঊঠেছে। সে বিষয় লিখেছেন খুলনার পাইকগাছা থেকে মোহাম্মদ আজিজুল হাকিম রাকিব:
''সম্প্রতি ভারতের কর্নাটকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব নিষিদ্ধ করে নিয়ম প্রণয়নের ঘটনায় প্রতিবাদরত এক মুসলিম ছাত্রীর একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এক্ষেত্রে ভারতের বিজেপিপন্থী রাজনীতিবিদগণ বলছেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সবার একই রকম পোশাক পরিধান করা উচিৎ।
''এখন আমার প্রশ্ন হলো, যেখানে ইসলামি নিয়ম অনুযায়ী নারীদের হিজাব পরিধানের বিধান রয়েছে সেখানে এ ধরনের নিয়ম প্রণয়ন কি ইসলাম বিদ্বেষী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ নয়? এক্ষেত্রে কি বলা যায়, এ ধরনের নিয়মের মাধ্যমে ভারতীয় মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে?
''শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব নিষিদ্ধ করে কি ভারতে ধর্মীয় বিভাজন সৃষ্টি করা হচ্ছে না?''

বিষয়টি জটিল মিঃ হাকিম। কলেজ এবং স্কুলের ইউনিফর্মের বাইরে ছাত্র-ছাত্রীরা কিছু পরলে তা নিয়ে কর্তৃপক্ষ আপত্তি করতে পারে। তা না হলে প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ভেঙ্গে পড়বে।
অন্যদিকে, ধর্মীয় রীতির কারণে যেমন শিখদের পাগড়ি পরতে বা লম্বা চুল এবং দাড়ি রাখতে দেয়া হয়, তেমনি মুসলিম নারীও ধর্মীয় কারণে হিজাব পরার অধিকার দাবি করতে পারে।
আপনি যে ভিডিওর কথা বলছেন, সেখানে দেখা গেছে ৫০-৬০ জন যুবক হিন্দুত্ববাদের গেরুয়া রং-এর কাপড় ঘোরাতে ঘোরাতে আর জয় শ্রীরাম স্লোগান দিয়ে বোরকা পরা একজন মেয়ে, মুসকান খানকে হয়রানি করছে।
এই দৃশ্য কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য না। নারী যেটাই পরুক না কেন, তার জন্য তাকে হেনস্তা হতে হবে, তা কোন সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

কেমন ইসি চান?
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান একটি বিষয় হচ্ছে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া। খুলনার পাইকগাছা থেকে আরিফুল ইসলাম বলছেন বর্তমান কমিশনের মত ইসি মানুষ আর চায় না:
''নুরুল হুদার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন প্রশ্নবিদ্ধ ও সমালোচনার শিকার, কারণ এই কমিশনের অধীনে জাতীয় ও ইউপি নির্বাচনগুলোতে ব্যাপক সহিংসতা সৃষ্টি হয়েছে । দিনের ভোট রাতে হওয়ার অভিযোগ এবং পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ভাবে নির্বাচনের মাঠে ক্ষমতাসীনদের টিকে থাকার অনিয়মের অভিযোগ আছে।
''সাধারণ জনগণ জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচনে যেন তাদের পছন্দ মতো প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন সেই রকম স্বচ্ছ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ একটি কমিশন চাই । আমরা এই স্বাধীন দেশে এই রকম নুরুল হুদা কমিশনের মতো চাই না । আমাদের এই গণতন্ত্র যেন ফিরে পাই।''
সবাই একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন দেখতে চায় মিঃ ইসলাম, যারা নিরপেক্ষভাবে আগামী নির্বাচন পরিচালনা করবে। কিন্তু বিগত দুটি সংসদীয় নির্বাচন পর্যালোচনা করলে মনে হয় নির্বাচন কমিশন খাতা-কলমে স্বাধীন হলেও, বাস্তবে তারা নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করতে পেরেছে বলে মনে হয় না।
''ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল যদি হস্তক্ষেপ না করে, তাহলেই নির্বাচন কমিশন স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারবে। বিশেষ করে, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় কাজ না করলে নির্বাচন নিরপেক্ষ করা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।

ছবির উৎস, BANGLADESH POLICE/FACEBOOK
ফেসবুক লাইভে আত্মহত্যা
সম্প্রতি ফেসবুক লাইভে এসে একজন ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে প্রচুর আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। সে বিষয়ে লিখেছেন খুলনার পাইকগাছা থেকে লিম্পা দে:
''সম্প্রতি একজন ৫৮ বছর বয়সী মানুষের ফেসবুক লাইভে এসে আত্মহত্যার ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় চলছে। আত্মহত্যার আগে বলে যাওয়া কথার চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে। আমার প্রশ্ন, ১৬ মিনিটের মধ্যে তার এই লাইভ চোখে পড়ারা কি অন্ধত্বের অভিনয় করেছিলেন।''
ফেসবুক ফলোয়াররা কেন নিষ্ক্রিয়?
এ বিষয়ে আরো লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:
''বিবিসি বাংলা সহ অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমে জানা যাচ্ছে যে, আত্মহত্যা করার আগে আবু মহসিন খান প্রায় ১৭ মিনিট ধরে ফেসবুক লাইভে তার কষ্টের কথা বলেছেন। সেসময় বহু মানুষ সেই লাইভ দেখছিলেন। ৯৯৯ এ নাকি একটা কলও গিয়েছিল। প্রশ্ন হল, মি: খানকে কি চেষ্টা করলে বাঁচানো যেত?
''আমার মতে উত্তরটি হবে, অবশ্যই যেত। যারা ১৭ মিনিট ধরে লাইভ দেখলেন তারা কি তার কাছের মানুষ বা কাছাকাছি থাকে এমন কাউকে জানিয়েছিলেন? এখন তো ৯৯৯ এ কল দিয়ে সাহায্য চাওয়া খুবই সহজ, তাহলে মাত্র একটা কল কেন গেল?
তবে পুলিশ কখন সেখানে পৌঁছেছিল সে খবর যতটা নেওয়া দরকার, তার চেয়ে বেশি জানা দরকার মি: খানের আত্মীয় স্বজন বা ফেসবুক ফলোয়াররা কেন এতটা নিষ্ক্রিয়তা দেখালেন।''
আপনাদের দু'জনের কথা হচ্ছে, যারা লাইভ দেখেছিলেন তাদের কারও উচিত ছিল তার বাসায় গিয়ে তাকে আত্মহত্যা থেকে বিরত রাখা। কিন্তু সেই লাইভ যে বহু মানুষ দেখেছে, তা ঠিক না। পরবর্তীতে সেই ভিডিও অনেকে দেখেছে, কিন্তু যখন লাইভ হচ্ছিল তখন অনেক মানুষ সেটা দেখেছিল বলে মনে হয় না।
আর যারা দেখেছেন তাদের কয়জন মিঃ খানের ঠিকানা জানতেন তাও নিশ্চিত না। তবে এটা ঠিক যে, পুলিশের আরো সক্রিয় হওয়া উচিত ছিল। বাংলাদেশে মানসিক চিকিৎসায় কাউন্সেলিং-এর সুবিধা আরো বাড়ানো উচিত বলেও মনে হয়।

ছবির উৎস, MD ALAMGIR KABIR
বেকার নিয়ে রিপোর্ট না সাপোর্ট?
এবারে আসি বগুড়ার বেকার যুবক আলমগির কবির প্রসঙ্গে। সাতক্ষীরা সিটি কলেজ থেকে রুমানা আক্তার শিউলি মনে করছেন, বিবিসি বাংলা তাকে সাপোর্ট দিয়েছে:
''বগুড়ার আলমগির কবিরের খাবারের বিনিময়ে প্রাইভেট পড়ানোর একটা পোস্টারের পর পুলিশের এসপি তাকে চাকরি দিয়েছেন।
''আপাতদৃষ্টিতে এটি সহযোগিতা মনে হলেও এই ধরণের নেতিবাচক প্রচারণায় কি সহায়তা করা হল না? বিবিসিও দেখলাম বেশ সাপোর্ট দিয়ে নিউজ ছেপেছে।''
বিবিসি রিপোর্ট করেছে মিস আক্তার, সাপোর্ট করে নি। একজন বেকার যুবক কাজ পাবার জন্য মরিয়া, তাই আমরা ঘটনাকে একটি মানবিক কাহিনী হিসেবে দেখেছি। কিন্তু আমাদের রিপোর্টিং বস্তুনিষ্ঠই ছিল। তার কাহিনী জানার জন্য আমাদের পাঠকদের মধ্যে যে প্রবল আগ্রহ দেখলাম, তা থেকে মনে হল বাংলাদেশের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠী মিঃ কবিরের প্রতি সহানুভূতিশীল।

আওয়ামী লীগের মাথা ব্যথা
আমাদের আরেকটি প্রতিবেদন নিয়ে কিছু প্রশ্ন তুলেছেন শামীম উদ্দিন শ্যামল, যিনি ঢাকার ধানমন্ডির বাসিন্দা:
''ইউপি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিপর্যয় নিয়ে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনটি পড়লাম। মূলত প্রতিবেদনটিতে উঠে এসেছে তৃণমূল নেতাদের পাশ কাটিয়ে জেলা কমিটির সিদ্ধান্তে ভুল প্রার্থীদের মনোনয়নের বিষয়টি। কিন্তু সেটিই প্রধান কারণ নয়। মানুষ এখন দলের চাইতে স্থানীয় যোগ্য প্রার্থীদের মূল্যায়ন করছে বেশি।
''এলাকায় শুধু প্রভাব-প্রতিপত্তি নয়, ভাল মানুষ হিসেবে যারা পরিচিত তারা যে দল থেকেই নির্বাচন করুক না কেন, সাধারণ জনগণ সেদিকেই বেশি ঝুঁকেছে। তাছাড়া, এত বছরে আওয়ামী লীগের মধ্যেই প্রকট বিরোধী গ্রুপ তৈরি হয়েছে।
''অপরদিকে, অতীতে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে আসা কিছু জনগণের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে আওয়ামী বিরোধী ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, যেটার সুযোগ নিয়েছেন অন্য দল থেকে নির্বাচনে আসা স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের মাথা ব্যথার কারণ বটে, যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় ভবিষ্যতে।''
সেটাই সব চেয়ে বড় প্রশ্ন মিঃ শামীম উদ্দিন। মানুষ যদি নতুন নেতৃত্বের জন্য আগ্রহী হয়, বিশেষ করে যাদের নিয়ে দুর্নীতি বা ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ নেই, তাহলে তারা বর্তমান ক্ষমতাসীনদের বলয়ের বাইরের দিকেই তাকাবে।
বিশ্বের যেসব দেশে গণতান্ত্রিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত, সেখানেও দেখা যায় একটি দল অনেক দিন ক্ষমতায় থাকলে মানুষ বিকল্প কিছু খোঁজে। সেজন্য দলের ভেতরে নবায়ন প্রক্রিয়ার মত নতুন নেতৃত্ব গোড়ে তোল খুবই জরুরি।

ছবির উৎস, Getty Images
পুলিশ নিয়ে প্রতিবেদন
এবারে আমাদের একটি প্রতিবেদনের প্রশংসা করে ছোট একটি চিঠি, লিখেছেন নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ থেকে মোহাম্মদ আবু তাহের:
''অনেক দিন ধরে আমি বিবিসি শুনি,কিন্তু কখন লিখা হয়নি। আজ প্রথম লিখছি। এ'মাসের চার তারিখে পুলিশ নিয়ে যে বিশেষ প্রতিবেদন করা হয়েছিল, তা শুনে আমার অনেক ভাল লেগেছে। প্রতিবেদককে আমার শুভেচ্ছা দিয়েন, তার সুন্দর উপস্থাপনের জন্যে।''
আপনাকেও ধন্যবাদ মিঃ তাহের, আমাদের অনুষ্ঠান শোনার জন্য এবং অবশেষে চিঠি লেখার জন্য। আপনার শুভেচ্ছা আমি প্রতিবেদক সাঈয়েদা আক্তারকে পৌঁছে দেব। (প্রতিবেদনটি পড়তে চাইলে এখানে ক্লিক করুন)
বিবিসি কি সরকার-বিরোধী?
কিন্তু বিবিসি বাংলার সব খবর নিয়ে সবাই সব সময় খুশি থাকেন না। যেমন, খুলনার সরকারি বিএল কলেজ থেকে ইব্রাহিম হোসেন বলছেন, পক্ষপাতিত্বের কথা:
''বিবিসির খবর বেশিরভাগ বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে যায়। আসলে বিবিসি কি বাংলাদেশের সরকারের বিরুদ্ধে না আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে?
''আমি প্রায়ই খেয়াল করি বিবিসির ওয়েবসাইটে বাংলাদেশের সরকারের বিপক্ষে যায় এমন খবর বেশি থাকে। যেমন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি।''
না মিঃ হোসেন, বিবিসি কোন দেশের কোন সরকার বা দলের পক্ষেও না, বিপক্ষেও না। খবরের গুরুত্ব অনুযায়ী আমরা তা পরিবেশন করি, সে খবর কার পক্ষে বা বিপক্ষে গেল, সেই বিবেচনায় না। তবে আপনি যদি মনে আমাদের অনেক খবর সরকারের বিরুদ্ধে যায়, তাহলে সেখানে কোন রহস্য আছে বলে আমি মনে করি না।
যে কোন দেশে যেসব ঘটনা বড় করে শিরোনাম হয় সেগুলো সাধারণত নেতিবাচক - বিপর্যয়, দুর্ঘটনা, হত্যাকাণ্ড, অপরাধ, নিপীড়ন, সামাজিক সংঘাত, নারী নির্যাতন, রাজনৈতিক বাক-বিতণ্ডা ইত্যাদি। আপনি রিজার্ভ চুরির কথা বলছেন - সেটা অবশ্যই সরকারের বিপক্ষে যায়। কিন্তু তাই বলে কি সে খবর বিবিসি চেপে যাবে? অবশ্যই না।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির খবর শুধু বাংলাদেশ না, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় মাপের খবর ছিল।

ছবির উৎস, Anadolu Agency
ইরানের সফলতার প্রচার নেই কেন?
আমাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে আরো প্রশ্ন তুলে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান। তিনি বলছেন, সাতই ফেব্রুয়ারি ইরানের অভ্যন্তরে ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের তৎপরতা নিয়ে আমরা যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছি, তা পক্ষপাতদুষ্ট ছিল:
''প্রতিবেদনটিতে ইরানের গোয়েন্দা দুর্বলতাকে নানাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের গোয়েন্দা সংস্থাও তো ইসরায়েলের অভ্যন্তরে বিভিন্ন গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করে, সেটা হয়তো মোসাদের সমান নয় কিন্তু বিবিসিতে এ ধরনের কোন রিপোর্ট কখনও আমার দৃষ্টিগোচর হয়নি।
আমি যতটুকু জানি বিবিসির সম্পাদকীয় নীতিতে উভয় পক্ষকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এক্ষেত্রে শুধু ইরানকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের গোয়েন্দা তৎপরতা সম্পর্কে কিছুই বলা হয়নি। এটা কোনভাবেই কাম্য নয় এবং এটা বিবিসির একপেশে সম্পাদকীয় নীতি বা দৃষ্টিভঙ্গি নয়কি?''
না মিঃ রহমান, এই রিপোর্টে কোন এক পেশে দৃষ্টিভঙ্গি ছিল না। প্রতিবেদনটি ছিল ইরানের ভেতরে ইসরায়েলের গোয়েন্দা তৎপরতা নিয়ে, কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের পারমানবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে ইসরায়েল বার বার আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে (যেমন, ২০২০ সালে ইরানের প্রধান পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফাকরিযাদে দূর-নিয়ন্ত্রিত অস্ত্রের গুলিতে নিহত হন, যেটা ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের কাজ বলে ধারণা করা হয়। এখানে ইরানের গোয়েন্দা দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে, যেটা বাস্তবতা এবং বিবিসিতে আমরা বাস্তব সত্যটিই রিপোর্ট করেছি।
ইরানের গোয়েন্দারা ইসরায়েলের ভেতরে সফল তৎপরতা চালাচ্ছে বলে কোন তথ্য আমাদের কাছে নেই। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলে তেমন কোন তাৎপর্যপূর্ণ বিপর্যয় হয়নি, যার জন্য ইরানকে দায়ী করা হয়েছে।
এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of YouTube post, 2
যৌনতায় জড়িয়ে সুখলাভ
আমাদের পরিবেশনার অন্য একটি দিক নিয়ে লিখেছেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে গাজী মোমিন উদ্দিন:
''অযৌন চিত্ত শব্দটির সাথে প্রথম পরিচিত হলাম বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে একটি নিউজের কল্যাণে। বিবাহিত ও বিবাহবহির্ভূত জীবনের একটি বড় পার্থক্য হল যৌন জীবন।
''প্রতিটি পূর্ণবয়স্ক নারীপুরুষ জানে বৈবাহিক জীবনের বড় আকর্ষণ ও চাহিদা হল যৌনতায় জড়িয়ে সুখলাভ ও সন্তান উৎপাদন এবং প্রজন্ম ঠিক রাখা। কেউ কেউ বলেন বংশ রক্ষা। এতে অযৌন-চিত্তের অবকাশ কোথায়? যদি কেউ থাকেও তারা মুল স্রোতের বাইরের মানুষ। তারা তো আর এই নিউজের শিরোনাম হতে পারে না।''
আপনি নিশ্চয়ই এসেক্সুয়ালিটি নিয়ে আমাদের ভিডিওর কথা বলছেন মিঃ মোমিন উদ্দিন। এই ভিডিও কিন্তু আমাদের মূল খবরের অংশ ছিল না। এটা একটি ব্যতিক্রমী গল্প এবং সেভাবেই বলা হয়েছে। আপনি ঠিকই বলেছেন যে, এসেক্সুয়ালরা মূল স্রোতের বাইরের মানুষ। কিন্তু তাদের অস্তিত্ব আছে, তাদের জীবন এবং গল্প কাল্পনিক না।
সমাজের সব মানুষের গল্প আমাদের অনুষ্ঠানে রাখা আমাদের লক্ষ্য, তারা সংখ্যায় যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন।
এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:
দিপায়ন মন্ডল, তালা, সাতক্ষীরা।
মোহাম্মদ আবু নাসিম, মিরপুর ঢাকা।
দেব প্রসাদ রায়, রংপুর।
মনিরা আক্তার লিখি, কেশবপুর, যশোর।
মেনহাজুল ইসলাম তারেক, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।
মোহাম্মদ মাসুদ রানা, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, খটখটিয়া, রংপুর।
ঝুমুর সুলতানা, ডুমুরিয়া, খুলনা।
ফয়সাল আহমেদ সিপন, ঘোড়াদাইড়, গোপালগঞ্জ।
রিপন চন্দ্র সিংহ , বালিয়াডাঙ্গী,ঠাকুরগাঁও।
জহিন মুমতাহিনাহ, লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা








