৮১ দিন পর হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া

খালেদা জিয়া (ফাইল ছবি)

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, এনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে তাঁর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। (ফাইল ছবি)
Published

বাংলাদেশের বিরোধী দল বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া দুই মাস ২১ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তার গুলশানের বাসায় ফিরেছেন।

তাঁর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যে হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন, সেখানে কর্মীদের মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় খালেদা জিয়াকে তারা বাসায় রেখে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মঙ্গলবার তার চিকিৎসক চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. ফখরুদ্দিন মোহাম্মদ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, কয়েকটি অস্ত্রোপচারের পর তার শরীরের বড় ধরনের রক্তক্ষরণের সম্ভাবনা সাময়িকভাবে থামানো গেছে। কিন্তু ভবিষ্যতে রক্তক্ষরণের সম্ভাবনা আছে।

গত বছরের তেরই নভেম্বর থেকে খালেদা জিয়া ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর তার শরীরে কয়েক দফায় অস্ত্রোপচার করা হয়।

গত বছরের ২৮শে নভেম্বর চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়েছেন।

লিভার সিরোসিস এমন একটি রোগ, যার ফলে লিভার বা যকৃৎ তার স্বাভাবিক কাজগুলো, যেমন বিপাক ক্রিয়া, রক্ত জমাট বাঁধার উপকরণ তৈরি, ওষুধ ও রাসায়নিকের শোষণ, খাদ্যের পুষ্টি উপাদানের ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি করতে পারে না। লিভার সিরোসিস হলে লিভার বা যকৃতে সূক্ষ্ম সুতার জালের মতো ফাইব্রোসিসের বিস্তার ঘটে। যকৃতে তখন ছোট ছোট দানা বাঁধে। আস্তে আস্তে সেটির বিস্তার ঘটতে থাকে।

ফাইব্রোসিস ছড়িয়ে পড়লে সেখানে আর লিভার নিজেকে পুনরুদ্ধার করতে পারে না, ফলে লিভার সংকুচিত হয়ে পড়ে।

খালেদা জিয়া সর্বশেষ গত ১৩ই নভেম্বর ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, খালেদা জিয়া সর্বশেষ গত ১৩ই নভেম্বর ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। (ফাইল ফটো)

৭৬ বছর বয়সী খালেদা জিয়া এর পাশাপাশি ডায়াবেটিস,আর্থ্রাইটিস, ফুসফুস, কিডনি, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন অনেকদিন ধরে।

বিদেশে তার উন্নত চিকিৎসার দাবীতে নানা কর্মসূচী পালন করছে বিএনপি। সরকারের কাছে খালেদা জিয়ার পরিবার থেকেও আবেদন করা হয়েছে। তবে আইনে সেই সুযোগ নেই বলে সরকার জানিয়েছে।

২০১৮ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়। সেই দিনই তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে সেই সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর করে হাইকোর্ট।

পরে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলাতেও তাকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

সরকার প্রধানের নির্বাহী আদেশে ২০২০ সালের ২৫শে মার্চ প্রথম দফায় দণ্ড স্থগিত করা হলে কারাগার থেকে তিনি সাময়িক মুক্তি পান।

এরপর কয়েক দফায় খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর: