এডিটার'স মেইলবক্স: অমিক্রন ভীতি, নববর্ষের মজা আর শালা নিয়ে প্রশ্ন

ছবির উৎস, David Talukdar
- Author, সাবির মুস্তাফা
- Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
- Published
এক বছর আগে কোভিড-১৯ ছিল একটি আতঙ্কের নাম, এবং করোনাভাইরাস নিয়ে ছিল আমাদের শ্রোতা-পাঠকদের মধ্যে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা। এই নতুন বছরে কোভিডের নতুন ভেরিয়্যান্ট অমিক্রন নিয়ে চলছে জল্পনা-কল্পনা।
তাই আজ শুরু করছি অমিক্রন দিয়ে, প্রথমে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''অমিক্রন ভেরিয়েন্ট-এর সংক্রমণ সারা বিশ্বে বেশ দ্রুত ছড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী ৩ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশেও অমিক্রন ব্যাপক সংক্রমণ ঘটাতে পারে। অমিক্রন প্রতিরোধে সরকার এরই মধ্যে বেশ কিছু বিধিনিষেধ জারি করেছে। কিন্তু এই বিধিনিষেধ কতটা পালিত হবে সে বিষয়ে সন্দেহের যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে।
''আগেও আমরা দেখেছি সাধারণ মানুষ কোনো বিধিনিষেধ মেনে চলেন না। কাজেই কেবল বিধিনিষেধ জারি করলেই চলবে না, এসব বিধিনিষেধ যাতে সাধারণ মানুষ মেনে চলেন সেটিও নিশ্চিত করতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশেও অমিক্রন সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।''
আপনি ঠিকই বলেছেন মিঃ সরদার, বিধি-নিষেধ শুধু আরোপ করলেই চলবে না, সেটা কীভাবে প্রয়োগ করা যায় তার দিকেও খেয়াল রাখা দরকার। তবে এখানে আরেকটি বিষয় আছে। বিধি-নিষেধ ঘোষণা করা এক জিনিস। কিন্তু সেই ঘোষণা তো স্পষ্ট হতে হবে, সুনির্দিষ্ট হতে হবে, যাতে সবাই পরিষ্কার করে বোঝেন কোথায়, কবে থেকে নিষেধাজ্ঞাগুলো বলবৎ হবে। এবং, বিধি নিষেধ অমান্য করলে কী ধরনের জরিমানা হতে পারে, কীভাবে সেই জরিমানা আদায় করা হবে ইত্যাদিও স্পষ্ট করা উচিত।
বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

ছবির উৎস, Hindustan Times
টিকা কাজ করবে?
খুলনারই কপিলমুনি থেকে আরো লিখেছেন মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পী:
''করোনা মহামারির বিপর্যয় কাটিয়ে যখন কেবল স্বাভাবিক জীবন যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে, তখনই আবার অমিক্রন নিয়ে নতুন উদ্বেগ শুরু হয়েছে। গণ মাধ্যমে জানলাম সরকার আবার বিধি নিষেধ আরোপ করতে পারে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, মাস্ক ব্যবহার করা,গণ পরিবহনে যাত্রী কম পরিবহন করা ইত্যাদি।
''আমাদের দেশে কি আবারও লকডাউন দেওয়া হতে পারে? যে টিকা আমাদের দেশে দেওয়া হয়েছে তা কি অমিক্রন মোকাবিলা করতে সক্ষম?''
সবাই যদি আন্তরিকভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে, তাহলে নতুন লকডাউনের সম্ভাবনা না থাকারই কথা মিঃ বিল্লাল। বাংলাদেশে যেসব ভ্যাক্সিন দেয়া হয়েছে, সবগুলোই করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, সেটা ঠিক। তবে অমিক্রনের সংক্রমণ ক্ষমতা যেহেতু অনেক বেশি, তাই অনেক দেশের সরকার এখন তৃতীয় ডোজ বা বুস্টার ডোজের কথা বলছে। মনে হচ্ছে, অমিক্রন মোকাবেলা করতে এই তৃতীয় ডোজের প্রয়োজন আছে।

ছবির উৎস, NurPhoto
ভয়াবহ বিপদ
একই বিষয়ে লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:
''অমিক্রন এখন সারাবিশ্বে এক আতঙ্কের নাম। সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতেও নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ। জানা গেছে, বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নতুন করে নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। স্বস্তির বিষয়, আমাদের দেশে বেশ কিছুদিন বিরতির পর সংক্রমণ বাড়লেও করোনা পরিস্থিতির এখনো অবনতি হয়নি।
''এ অবস্থায় করোনা নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপরই সর্বাধিক জোর দেওয়া দরকার। বর্তমানে জনসাধারণের মধ্যে এ ব্যাপারে বড় ধরনের শৈথিল্য দেখতে পাচ্ছি আমি। রাস্তায়, এমনকি ভিড়ের মধ্যেও খুব কমসংখ্যক মানুষের মুখেই মাস্ক দেখা যায়। এ শিথিলতা ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারে আমাদের।''
মাস্ক পরা সহ সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলাই যে করোনাভাইরাস মোকাবেলার সব চেয়ে কার্যকরী উপায়, সে কথা কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মহামারি শুরু হবার পর থেকেই বলে আসছে। তবে মানুষ যদি মনে করে কর্তৃপক্ষ সিরিয়াস না, তাহলে তারাও বিধি-নিষেধ মেনে চলতে চাইবে না।

ছবির উৎস, Anadolu Agency
নববর্ষের ফূর্তি
এবারে আসি নতুন খ্রিষ্টাব্দ উদযাপন নিয়ে দুটি চিঠিতে। বাড়ির ছাদে আতশ বাজি পোড়ানো আর পার্টি করা নিয়ে লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:
''বাংলাদেশে বড় শহরগুলোতে বিশেষ করে ঢাকা শহরে নতুন খ্রিষ্টাব্দ উদযাপন এবং পুলিশের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করা নিয়ে রেডিও প্রতিবেদন শুনলাম। প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে আতশবাজি ফোটানোর ব্যাপারে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কেউ মানে নি কেন?
''এ ব্যাপারে দায়িত্বজ্ঞানহীন কথা শুনলাম উদযাপনকারীদের। তাদের যুক্তি নিজের বাড়ির ছাদে আতশবাজি বা ডিজে পার্টি করলে সমস্যা কোথায়? আমিও মনে করি কোন উৎসব উদযাপনে নিষেধাজ্ঞা থাকা উচিতও না। কিন্তু উগ্র দায়িত্বজ্ঞানহীনভাবে আতশবাজি ফোটানো কিংবা উচ্চ ভলিউমে সারা রাত গান বাজানো কি সুস্থ মানসিকতার ভেতরে পড়ে?
''ঢাকা শহর এমনিতেই ঘিঞ্জি শহর। একই বিল্ডিং-এ অনেক ভাড়াটিয়া ফ্যামিলি বসবাস করে, রাত ১২টার দিকে ছোট বাচ্চারা ঘুমায়, অসুস্থ রোগী থাকে, সাথে সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুও থাকে, তাহলে কোন মানসিক উন্মাদনায় এমন আয়োজন হতে পারে?''

ছবির উৎস, Anadolu Agency
আতশ বাজি ফাটালে বা উচ্চ শব্দে গান-বাজনা বাজালে যে অনেকের অসুবিধা হয়, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই মিঃ শামীম উদ্দিন। কিন্তু আমি সেটাকে দায়িত্বজ্ঞানহীন বলবো না, মানসিক উন্মাদনা তো নয়ই। পুলিশ নিজেরাই বলছে তারা গোলযোগের কোন অভিযোগ পায়নি, কোথাও তাদের হস্তক্ষেপও করতে হয়নি।
তাছাড়া, এটা হয় বছরের একটি দিন। এমন না যে প্রতি সপ্তাহে তাই হচ্ছে। তার চেয়ে বড় কথা হচ্ছে, মানুষ কেন নিজেদের বাসার ছাদে গিয়ে পার্টি করে? তার একটা কারণ হতে পারে, থার্টি ফার্স্ট নাইটে ঢাকায় পুলিশ সব জায়গায় পার্টি নিষিদ্ধ করে দেয়।
শুধুমাত্র আপনার যদি পাঁচ তারকা হোটেল যাবার সামর্থ্য থাকে, বা মোটা অঙ্কে ঢাকার কোন ক্লাবের সদস্যপদ কিনে থাকেন, তাহলেই আপনি নতুন বছরের আনন্দ করতে পারবেন। তাহলে সাধারণ মানুষ কী করবে? তারাও তো আনন্দ করতে চায়। আনন্দ তো শুধু ধনী লোকের জন্য হতে পারে না। তাই নিরুপায় হয়েই তারা নিজ বাসার ছাদে উচ্চস্বরে পার্টি করে।
এই সব নিষেধাজ্ঞাই মানুষকে ঠেলে দেয় নিজের পথ খুঁজে নিতে।

ফানুস বিপদজনক?
নতুন খ্রিষ্টাব্দ উদযাপনের আরেকটি দিক নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে লিখেছেন রংপুরের খটখটিয়া থেকে মোহাম্মাদ ইলিয়াস হোসেন:
''ইদানিং আমাদের দেশে খ্রিষ্টীয় ও বাংলা নববর্ষ, ঈদ উৎসব, পূজা পার্বণ সহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অধিক আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে তরুণ, যুবক, বালক, রাতের আকাশে ফানুস উড়িয়ে থাকে। কখন কখনও এই ফানুসের আগুন কোন আবাসিক এলাকায় পড়ে মারাত্মক অগ্নিকাণ্ড সৃষ্টি করে।
''তাই ফানুস উড়ানো সব সময় বিপদজনক । এমতাবস্থায় কর্তৃপক্ষের উচিত যারা ফানুস তৈরি, বিক্রি ও বিপণন করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং এটি দ্রুত নিষিদ্ধ করা।''
নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সব সমস্যার সমাধান হয় বলে আমার মনে হয় না মিঃ হোসেন। আগের চিঠির উত্তরে যা বলছিলাম, অনেক সময় নিষেধাজ্ঞার কারণেই সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। ফানুস ওড়ানো নি:সন্দেহে ঝুঁকিপূর্ণ, বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়।
কিন্তু ফানুস-এর একটি ঐতিহ্য আছে, এখানে ধর্মীয় উৎসব পালনের ব্যাপার আছে, ফানুস এখন বাংলাদেশের জাতীয় সংস্কৃতির অংশে পরিণত হয়েছে। এটাকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা ভুল হবে। তবে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ফানুসের ব্যবহার নিষিদ্ধ করলে কারো আপত্তি করার কথা নয়। এটা যাতে নিরাপদে ওড়ানো যায়, সে দিকে নজর দেয়া প্রয়োজন এবং শহরের ভেতরে কিছু খোলা জায়গা ফানুস ওড়ানোর জন্য নির্দিষ্ট করে দেয়া যায়।

ছবির উৎস, Future Publishing
ইতিবাচক ব্যাংক, নেতিবাচক বিবিসি
চলতি সপ্তাহে বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে ব্যাংক গ্রাহকদের এ্যাকাউন্ট থেকে টাকার কেটে রাখা নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই প্রতিবেদন পড়ে বিস্মিত ও অবাক হয়েছেন বলে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, যিনি নিজে একজন ব্যাংক কর্মী:
''এমন একটি সংবেদনশীল বিষয়ে বিবিসি নিউজ করেছে ভাল কথা। কিন্তু নিউজটি বেশ ভাসাভাসা ও অস্পষ্ট এবং ব্যাংকিং সেক্টরকে নেতিবাচক ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ ধরনের চার্জ ও আবগারি শুল্ক বা এক্সাইজ ডিউটির কর্তন নতুন কিছু নয়। বরং চার্জ প্রতি ষাণ্মাসিকে একবার আর এক্সাইজ ডিউটি বছরান্তে ডিসেম্বরে কর্তন করা হয়।
''তাছাড়া, এক্সাইজ ডিউটির পুরো স্ল্যাবটা নিউজে আসেনি এবং বলা হয়েছে হিসাবের স্থিতি থাকলেই এটা কর্তন করা হয়। অথচ এটি জমা, উত্তোলন বা স্থিতি বিবেচনা করে কর্তন করা হয়। অন্যদিকে কোন ধরনের চার্জ কত কর্তন করা যাবে, তাও সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক সার্কুলারে সকল ব্যাংককে নির্ধারণ করে দিয়েছে, এখানে ব্যাংকগুলোর ইচ্ছেমতো কর্তনের সুযোগ নেই।
''আমার কাছে মনে হয়েছে বিবিসি ব্যাংকগুলোকে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে, অথচ ব্যাংকগুলো শুধু সরকারের আদেশ পালনে।''
আমি আপনার সাথে কিছুটা একমত কিন্তু পুরোপুরি না মিঃ রহমান। রিপোর্টকে আপনি ভাসা ভাসা বলছেন, এবং কিছু তথ্য তুলে ধরেছেন। আমি এখানে স্বীকার করবো যে ব্যাংকিং-এর মত বিষয়ের আরো গভীরে গিয়ে বিস্তারিত তথ্য রিপোর্টে থাকা উচিত ছিল। রিপোর্টটি অল্প সময়ে করা হয়েছে, তা বোঝাই যাচ্ছে।
তবে এখানে ব্যাংকিং সেক্টরকে নেতিবাচক ভাবে দেখানো হয়েছে বলে আমি মনে করি না। বছরের শুরুতে অনেক গ্রাহক টাকা কাটার বার্তা পেয়ে অবাক হয়েছেন, উদ্বিগ্ন হয়েছেন, যা থেকে বোঝা যায় ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের পর্যাপ্ত তথ্য সরবরাহ করে নি। সেজন্যই এই প্রশ্ন।
আমাদের রিপোর্টের জন্য একজন সিনিয়র ব্যাংকারের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়েছে যিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে এই ডেবিট ট্যাক্স ডিডাকশন আর এক্সাইজ ডিউটি সরকারের নির্দেশেই কাটা হয় এবং তা সরকারি কোষাগারেই যায়। অর্থাৎ এখানে ব্যাংককে দোষারোপ করা হয়নি।

ছবির উৎস, Getty Images
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে কার মাথা ব্যথা?
ভিন্ন ধরনের অভিযোগ করে লিখেছেন সাতক্ষীরার তালা থেকে শামীমা আক্তার লিপি:
''র্যাবের ৭জন কর্মকর্তার আমেরিকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে গণমাধ্যম যতটা সোচ্চার, তেমনটি দেখা যাচ্ছে না খোদ র্যাবের এমনকি সরকারেরও। পরবর্তীতে আমেরিকার সরকারও বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব দেয়নি। তাহলে বছরের প্রথম দিনেই বিষয়টা নিয়ে বিবিসির রিপোর্ট প্রচার কেন?''
আপনি যদি মনে করেন র্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের কোন মাথা ব্যথা নেই, তাহলে ভুল করবেন শিউলি আক্তার। ইতোমধ্যেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চেয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি চিঠি লিখেছেন। আগামী দিনগুলোতে আরো দেন-দরবার হবে, তা নিয়ে আমার কোন সন্দেহ নেই।
মার্কিন সরকার বিষয়টিতে গুরুত্ব দিয়েছে বলেই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তাদের মন্তব্য করার কোন প্রয়োজন নেই, কারণ কাজ করবে ট্রেজারি এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা, যারা নজর রাখবে র্যাবের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড সহ তার কর্মকর্তাদের ভ্রমণের ওপর।
বছরের শুরুতে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে প্রতিবেদন করেছি, কারণ আমাদের মতে ২০২২ সালে এই সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে পারে।

অপি করিম-এর প্রশংসায়
আমাদের অনুষ্ঠান সম্পর্কে প্রশংসা আর অভিযোগ, দুটো নিয়েই লিখেছেন ঠাকুরগাঁও-এর বালিয়াডাঙ্গী থেকে রিপন চন্দ্র সিংহ:
''গত ৪ঠা জানুয়ারি পরিক্রমায় অভিনয় শিল্পী অপি করিমের সাক্ষাৎকারটা শুনেছিলাম। সেখান থেকে তার সম্পর্কে কিছু জানতে পেরেছি। একজন সন্তানের মা হওয়া যে কতটা আনন্দের ও গর্বের তা অপি করিমের কথায় সুস্পষ্ট বুঝা যায়। আমার প্রশ্ন, বিবিসি বাংলায় বিভিন্ন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার প্রচারের মূল উদ্দেশ্যকী?
আর এই সাক্ষাৎকারটা কি ফোন কলের মাধ্যমে নেয়া হয়েছে? একই দিন প্রবাহে ছাত্রলীগের ৭৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী নিয়ে প্রতিবেদনটি শুরুর দুই মিনিট পরেই বাকি অংশটি শোনা যায়নি। কিন্তু পরে এর জন্য বিবিসি বাংলা দুঃখ প্রকাশও করলো না।''
অপি করিমের সাক্ষাৎকার আপনার ভাল লেগেছে জেনে খুশি হলাম মিঃ সিংহ। গণমাধ্যমে এ'ধরনের ব্যক্তিত্বর সাক্ষাৎকার নেয়ার উদ্দেশ্য একটাই - তার সম্পর্কে যাতে শ্রোতা-পাঠক অনেক কিছু জানতে পারেন, যেমন আপনি অপি করিম সম্পর্কে জেনেছেন। তার সাক্ষাৎকার ফোনে নেয়া হয়নি, নেয়া হয়েছিল জুম-এ, যেটা ভিডিওতেও ধারণ করা হয়েছে।
আর ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর প্রতিবেদনের শেষ দু'মিনিট সম্প্রচারে যে কোন সমস্যা ছিল তা আমাদের জানা ছিল না। যদি থেকে থাকে, তাহলে সেটা আমাদের স্টুডিওতে হয়নি, যে কারণে উপস্থাপকের দু:খ প্রকাশ করার প্রশ্নও জাগে নি।
শালা কি শুধুই গালি?
সব শেষে, বাংলা ভাষার একটি বিশেষ শব্দের ব্যবহার নিয়ে লিখেছেন ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে মোহাম্মদ কামাল হোসেন মিলন মুকসুদি:
''শালা শব্দটি বাংলা ভাষায় গালি হিসেবে ব্যবহার না করে প্রশংসামূলক শব্দ হিসেবে ব্যবহার করা দরকার। কাউকে গালি দিতে আমরা যেভাবে শালা শব্দটা ব্যবহার করি এটা অমার্জনীয় অপরাধ এর মত। শালা বলে খুব সহজে আমরা যে কাউকে গালাগালি দিয়ে থাকি। #শালা শব্দটিকে প্রশংসামূলক শব্দে ব্যবহার করলে এই সমস্যা আর থাকবে না। যেমন:- "শালা " মানে হতে পারে "যে দুলাভাই মসজিদের ইমামতি করে।"
আপনার যুক্তিটা বুঝলাম কিন্তু উদাহরণটা মোটেই বুঝলাম না। দুলাভাই কেন হঠাৎ শালা হয়ে যাবে? সে ইমামতি করুক আর যাই করুক। শালা শব্দটির অর্থই হচ্ছে কারো স্ত্রীর ছোট ভাই। কাজেই দুলাভাই মসজিদে ইমামতি করে শালা হবেন কী করে? আর তিনি যদি ইমামতি না করে ট্রাক ড্রাইভার হন?
যাই হোক, ব্যবহারিক দিক থেকে শালা তো আর শুধুই গালি না। তার আদর সুলভ ব্যবহারও আছে। অনেক লোক তাদের প্রিয় বন্ধুদেরও শালা বলে ডাকে। তাছাড়া, গালি হিসেবেও শালা খুব ভয়ানক না খারাপ একটা গালি না।
এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:
রহমত আলী মোড়ল, তালা, সাতক্ষীরা।
মুহাম্মদ মাসুদুল হক মাশুক, চরফ্যাশন, ভোলা।
এহসান আহমেদ সাবির, সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।
শাহিন তালুকদার, মৌকরন, পটুয়াখালী।
গাজী মোমিন উদ্দিন, সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।
মোহাম্মদ উজ্জ্বল ইসলাম, বড়শশী-পঞ্চগড়।
রোমানা আক্তার শিউলি, সাতক্ষীরা সিটি কলেজ।








