ক্রিকেট: দুই দিনের বৃষ্টির পরেও পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশের ইনিংস ব্যবধানে হার

বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মমিনুল হক

ছবির উৎস, Bangladesh Cricket Board

ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মমিনুল হক
Published

মাঝের দুইদিনের টানা বৃষ্টির পরও ম্যাচ বাঁচাতে পারলো না বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা, পাকিস্তানের বিপক্ষে ইনিংস ও আট রানে হেরে গেছে বাংলাদেশ।

টি-টোয়েন্টি সিরিজের পর টেস্ট সিরিজেও বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করলো পাকিস্তান।

পঞ্চম দিনের খেলায় ৭ উইকেটে ৭৬ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ।

দিনের প্রথম দিকেই ১১ রান যোগ করে ৮৭ রানে অলআউট হয়ে যায় দলটি।

ঢাকা টেস্টে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান দু'দিনের বৃষ্টির আগে ও পরে মিলিয়ে ৩০০ রান তোলে চার উইকেট হারিয়ে।

সিরিজের সেরা ক্রিকেটারের পুরষ্কার পেয়েছেন পাকিস্তানের আবিদ আলি

ছবির উৎস, Bangladesh Cricket Board

ছবির ক্যাপশান, সিরিজের সেরা ক্রিকেটারের পুরষ্কার পেয়েছেন পাকিস্তানের আবিদ আলি

এর পর ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশকে ব্যাট করতে নামায় পাকিস্তান।

পাকিস্তানের স্পিনার সাজিদ খান ম্যাচের মধ্যেই দিনশেষের এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, 'দেড় দিনেই পাকিস্তান বাংলাদেশের বিশ উইকেট নিতে পারবে।'

বাস্তবেও দেখা গেল, সাজিদ খান একাই ১২টি উইকেট তুলে নিলেন, প্রথম ইনিংসে আটটি এবং দ্বিতীয় ইনিংসে চারটি।

ফলো-অনে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের টপ অর্ডার আরও একবার ব্যর্থ হয়।

তাদের প্রথম চারজন ব্যাটসম্যানের কেউ ১০ রানও করতে পারেনি, ২৫ রানের মধ্যেই চারটি উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

শাহিন শাহ আফ্রিদি ও হাসান আলীর বল খেলতে পুরোপুরিই ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশের টপ অর্ডার।

লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিম ৭৩ রানের জুটি গড়েন, লিটন নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং করলেও সাজিদ খানের হঠাৎ উঠে আসা বলে ক্যাচ তুলে আউট হয়ে যান।

এরপর সাকিব আর মুশফিকের ৪৯ রানের জুটি ভাঙে মুশফিকের রান আউটে, যে সময়টায় রান নেয়ার কোনও তাড়াই ছিল না বাংলাদেশের।

এরপর মেহেদী হাসান মিরাজের সাথে জুটি গড়েন সাকিব আল হাসান, মিরাজকে আউট করে টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম উইকেট পান পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম।

সাকিব শেষ পর্যন্ত ১৩০ বলে ৬৩ রানের ইনিংস খেলে সাজিদ খানের বলে বোল্ড হয়ে যান।

ছবির উৎস, Bangladesh Cricket Board

ছবির ক্যাপশান, সাকিব শেষ পর্যন্ত ১৩০ বলে ৬৩ রানের ইনিংস খেলে সাজিদ খানের বলে বোল্ড হয়ে যান।

এরপর ম্যাচ বাঁচানোর চেষ্টা করেন সাকিব আল হাসান। তিনি টেস্ট ইতিহাসের ষষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে ৪০০০ রান ও ২০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করে স্যার গ্যারি সোবার্স, স্যার ইয়ান বোথাম, জ্যাক ক্যালিস, ডেনিয়েল ভেটোরির পাশে নাম লেখান।

সাকিব শেষ পর্যন্ত ১৩০ বলে ৬৩ রানের ইনিংস খেলে সাজিদ খানের বলে বোল্ড হয়ে যান।

তাইজুল ৩১ বল খেলে টেস্টটি ড্র করার চেষ্টা করেন কিন্তু সাজিদ খানের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি, তখনও পাকিস্তানের এক ইনিংসে করা রানের চেয়ে বাংলাদেশের দুই ইনিংসে স্কোরকার্ডে আট রান কম।

পাকিস্তানের সামনে বাংলাদেশের অসহায় ব্যাটিং

ঘরের মাটিতে বাংলাদেশ এর আগে দু্ই বার ১০০ বা তার নিচে অলআউট হয়েছে।

দু'হাজার সালে নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম টেস্টে ভারতের সাথে ৮৭ রানেই অলআউট হয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর ২০০২ সালেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তারা ৮৭ রানে অল আউট হয়েছিল।

এবার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দুটি টেস্টেই বাংলাদেশের টপ অর্ডার ব্যর্থ হয়েছে।

দুই টেস্টের চারটি ইনিংসে বাংলাদেশ প্রথম চার উইকেট হারিয়েছে যথাক্রমে ৪৯, ২৫, ৩১, ও ২৫ রানে।

'কোনও পরিকল্পনা দেখা যায়নি'

ক্রিকেট বিশ্লেষক তৌসিয়া ইসলাম বলেছেন, যে দুইদিন বৃষ্টি হয়েছে, মনে হয়নি বাংলাদেশ দলের মধ্যে টিম হোটেলে এই টেস্টের পরিকল্পনা নিয়ে কোনও আলাপ হয়েছে, যেন এটাকে হালকাভাবে নিয়েছে বাংলাদেশ দল।

টেস্ট খেলার যে আমেজ, উইকেটে টিকে থাকার যে চেষ্টা সেটার ঘাটতি দেখা গেছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে।

মনোযোগের অভাবটা খুব চোখে পড়েছে মিজ ইসলামের চোখে।

"স্পিনে বল টার্ন করবে সেটাই স্বাভাবিক এবং এটা চেনা উইকেট। একজন ব্যাটসম্যানকে যে উইকেটে সময় কাটাতে হবে এই ধারণার অভাবটা দেখা গেছে।"

তৌসিয়া ইসলাম প্রশ্ন তুলেছেন, যখন খেলা দুই দিন কমে গেল তখনও খেলার ধরনে কোনও পরিবর্তন নেই কেন?

"একটা ম্যাচ যখন এক ওভারও কমে যায়, সেটা নিয়ে একটা পরিকল্পনা তৈরি হয়। খেলার ধরনে পরিবর্তন আসে, যখন পাকিস্তান ইনিংস ঘোষণা করলো, তখন পাকিস্তানের নেয়া পদক্ষেপ দেখে বাংলাদেশ খেললো।"

এখানে বাংলাদেশের টেস্ট খেলার সামর্থ্য নিয়েই প্রশ্ন ওঠে - বলছেন তৌসিয়া ইসলাম।