এডিটার'স মেইলবক্স: ভারতের বিএসএফ, ঢাকার সড়ক আর বিপর্যস্ত ক্রিকেট নিয়ে প্রশ্ন

Published

ভারত সরকার সম্প্রতি দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর কার্য এলাকা সীমান্ত থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে, যা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিবিসি বাংলার কলকাতা সংবাদদাতা অমিতাভ ভট্টশালী সম্প্রতি বাংলাদেশের সাথে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তে গিয়েছিলেন, সেখানকার মানুষজনের অবস্থা সরেজমিনে দেখতে।

তার বিশেষ প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে কয়েকটি চিঠি এসেছে, প্রথমে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার: 

''ভারতের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী বিএসএফ এর হাতে সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষদের এতোটা হয়রানি হতে হয় জানা ছিল না। গত শুক্রবার অমিতাভ ভট্টশালীর বিশেষ প্রতিবেদনে বিষয়টি পরিষ্কার ভাবে উঠে এসেছে।

''ঘরের বাইরে পা ফেললে পরিচয়পত্র সংগে নিতে হবে, কোন জিনিস পত্র কিনলে রাস্তায় ঢেলে বিএসএফ সদস্যদের দেখাতে হবে, বিয়ে বা অন্য কোনো অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য আগেভাগেই বিএসএফ এর অনুমতি নিতে হবে। একটা স্বাধীন দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষেরা এতোটা পরাধীন, ভাবতেও অবাক লাগে।

''আমি জানিনা অন্যান্য দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের জীবন ব্যবস্থা ঠিক কেমন। এখানে বিবিসি বাংলাকে আমি অনুরোধ করবো বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের জীবন ব্যবস্থা কেমন, সে বিষয়টিতে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রচার করার জন্য।''

আপনি ঠিকই বলেছেন মিঃ সরদার, পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী গ্রামবাসীরা যে কী কঠিন জীবন যাপন করছে তা অমিতাভ'র প্রতিবেদনে ভালভাবেই ফুটে উঠেছে।

বাংলাদেশের সীমান্ত জীবন নিয়ে প্রতিবেদন-এর প্রস্তাব মন্দ না, যদিও পরিস্থিতি অনেকটা ভিন্ন হবে নানা কারণে, যেমন বাংলাদেশের দিকে কোন কাঁটাতারের বেড়া নেই, বিজিবি সৈন্যরা সবাই বাঙালি অর্থাৎ তারা এলাকাবাসীর সাথে সহজেই মিশতে পারেন, তারা সীমান্তে গুলি করেন খুব কম সময়ই।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

সীমান্তে গুলি কেন?

অমিতাভর প্রতিবেদনে ফুটে উঠেছে বিএসএফ-এর হাতে ভারতের গ্রামবাসীরা কীভাবে নির্যাতিত হচ্ছে, সে কথা। কিন্তু রংপুরের খটখটিয়া থেকে মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন বলছেন বিএসএফ এর গুলিতে বাংলাদেশি নিহত হবার কথা:

''বিবিসি সহ সকল গণমাধ্যমের খবরে প্রায়ই শোনা যায় ভারতীয় সীমন্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ এর গুলিতে বাংলাদেশি নিহত হবার ঘটনা। বিএসএফ এর কারণ হিসেবে যা ব্যাখ্যা দেয় তা হচ্ছে এরা দুষ্কৃতকারী, গরু চোরাকারবারী, কিংবা অবৈধ পথে ভারতে প্রবেশকারী।

''কিন্তু আমার কথা হল, অপরাধী অপরাধ করলে তাকে পাখির মত গুলি না করে গ্রেফতার করা যেতে পারে। সে দেশে থানা, পুলিশ, আদালত, রয়েছে। আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে জেল জরিমানা করা যেতে পারে। কিন্তু নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যা একটি সভ্য দেশের কাজ করতে পারেনা। এরকম অমানবিক কাজের অবসান হোক।''

আপনি আসল কথাটিই বলেছেন মিঃ হোসেন। অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ইত্যাদি অপরাধ ঠিকই, কিন্তু এগুলোর কোনটাই মৃত্যুদণ্ড যোগ্য অপরাধ না।

তাছাড়া, সীমান্তে গুলি করে হত্যার মানেই হচ্ছে বিনা বিচারে হত্যা, যাকে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলা হয়। বিএসএফ সদস্যদের প্রশিক্ষণে এবং তাদের নেতৃত্বে নিশ্চয়ই কোন গুরুতর ঘাটতি আছে যার কারণে তারা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিয়ে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডর পথ বেছে নেয়।

শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া

এবারে আসি ভিন্ন এবং অনেক লঘু একটি বিষয়ে, আর তা হল, বাস ভাড়া নিয়ে ঢাকা ছাত্রদের দাবি এবং আন্দোলন। প্রথমে লিখেছেন ভোলার চরফ্যাশন থেকে মুহাম্মদ মাসুদুল হক মাশুক:

''দুই দশক আগে আমরা যখন ছাত্র ছিলাম, তখনও গণপরিবহনে অর্ধেক ভাড়ার প্রচলন ছিল। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির আগেও এটার প্রচলন ছিল বলে গণমাধ্যমের খবরে দেখলাম। তাহলে হঠাৎ করে এটা বন্ধ করা কোনক্রমেই যৌক্তিক এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।

''সরকার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে পরিবহন মালিকদের দাবির মুখে গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলো আর ছাত্র-ছাত্রীদের অর্ধেক ভাড়ার দাবিকে কোনভাবেই গুরুত্ব দিচ্ছে না, যা কোন ক্রমেই কাম্য নয়।''

বাস মালিক পক্ষের দৌরাত্ম

একই বিষয়ে লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

''সরকার এবং বাস মালিক পক্ষ থেকে যে বাস ভাড়া নির্ধারণ করা হয় তা কখনোই মানা হয় না। বাস মালিক পক্ষের দৌরাত্ম বাড়ার কারণ, তাদের সকল অযৌক্তিক দাবি-দাওয়া সরকার মেনে নিচ্ছে।

''তদারকির অভাব, বাস মালিক পক্ষ সরকারি দলের লোক, দুর্নীতি, পুলিশ ঘুষ বাণিজ্যসহ অনেক বিষয় জড়িত থাকার কারণে এর সমাধান কখনোই হচ্ছে না। দীর্ঘদিন থেকে দূরপাল্লার বাসগুলো সরাসরি টিকিট দিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। যেখানে তদারকির কোন বালাই নেই। তাই শিক্ষার্থীদের এ সংক্রান্ত দাবি আদায়ের আন্দোলন যুক্তিসংগত।''

বোঝাই যাচ্ছে, আপনারা দু'জনই ছাত্রদের দাবি যৌক্তিক মনে করছেন। এক সময় ছাত্র-ছাত্রীদের এই সুবিধাটা ছিল। কিন্তু কবে, কী কারণে সেটা থেমে গেল তা আমার জানা নেই। বিশ্বের অনেক দেশেই তরুণ এবং বৃদ্ধদের গণপরিবহনে ভাড়া কম দিতে হয়।

কিন্তু বাংলাদেশে যেহেতু গণপরিবহন অনেকটাই ব্যক্তি মালিকানাধীন এবং মুনাফার ওপর নির্ভরশীল, সেজন্য সরকারকে হয়তো পরিবহন মালিকদের কিছুটা ভর্তুকি দিতে হবে। না হলে, এই বাক-বিতণ্ডা চলতেই থাকবে।

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আর বিবিসি

বাংলাদেশের আরেকটি বিতর্ক হল চলমান ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে। তবে রংপুরের লালবাগ থেকে মোহসীন আলী অভিযোগের তীরটি ছুঁড়েছেন বিবিসি বাংলাকে লক্ষ্য করে:

'' ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলো নিয়ে বিবিসি বাংলা যেসব প্রতিবেদন প্রচার করছে তা পাঠক বা শ্রোতাদের সন্তুষ্ট করতে পারছে না বলে আমি মনে করি। নির্ভরযোগ্য, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ বলতে যা বোঝায় তা থেকে কি বিবিসি বাংলা সাম্প্রতিক কালে সরে এসেছে? নাকি বাংলাদেশের সাংবাদিকদের মত ডিজিটাল সিকিউরিটি এ‍্যাক্ট কিংবা সেই পুরনো অফিসিয়াল সিক্রেটস এ‍্যাক্টের কথা মাথায় রেখেই প্রতিটি শব্দচয়ন করতে হচ্ছে?

''বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় অধিকাংশ মানুষের মাঝে যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে, এটি চরম সত্য কথা। এরকম একটা প্রতিবেদন আপনাদেরই ওয়েবসাইটে দেখলাম। যেখানে বলা হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্চারাম উপজেলায় " ছয়ফুল্লাকান্দি" নামক একটি ইউনিয়নের সকল প্রতিনিধি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছে। যেখানে ভোটই হলো না সেখানে জয় পরাজয় হয় কিভাবে? প্রতিবেদনটিতে যেসব কারণ বলা হয়েছে তা আদৌ কি সঠিক?''

না মিঃ আলী, নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ থেকে বিবিসি সাম্প্রতিক বা অতীত, কোন কালেই সড়ে আসে নি, সড়ে আসার কোন প্রশ্নই আসে না। কোন প্রতিবেদন হয়তো আপনার মনঃপুত নাও হতে পারে। কিন্তু তার মানে এই না যে সেটা পক্ষপাতদুষ্ট।

তবে আপনি শব্দ চয়নের যে কথা বলছেন, তা অনেকাংশে সঠিক, তবে সেটা কোন আইনের কারণে না। বিবিসির সম্পাদকীয় নীতিমালা অনুযায়ী আমাদের প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি বাক্য ভেবে-চিন্তে ব্যবহার করতে হয়। তার কারণ হচ্ছে, শব্দ চয়নের মাধ্যমে অনেক সময় পক্ষপাতিত্ব প্রকাশ পেতে পারে, তাই আমাদের নিরপেক্ষ শব্দ ব্যবহার করতে হয়।

আর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইউনিয়ন নিয়ে যে প্রতিবেদনের কথা বলছেন, তাতে যা লেখা হয়েছে তা আমাদের জানা মতে সত্য বলেই রিপোর্টে স্থান পেয়েছে।

ফারহানা কেন ফারজানা হলেন?

এবারে ভিন্ন ধরনের অভিযোগ নিয়ে লিখেছেন বগুড়ার শেরপুর থেকে সম্পদ কুমার পোদ্দার:

''গত ২১শে নভেম্বর বিবিসি বাংলার প্রবাহ ও পরিক্রমা দুটো অধিবেশনেই আপনাদের প্রতিবেদক বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বিরোধী দল বিএনপির মহিলা সাংসদের নাম "ব্যারিস্টার রুমিন ফারজানা" বলে সংবাদ পরিবেশন করলো।

''কিন্তু আমি যতদূর জানি ওই সাংসদের সঠিক নাম বা উচ্চারণ "ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।" আমার নিজেরও জানার ঘাটতি বা ভুল হতে পারে। আসলে কোনটি সঠিক জানালে বাধিত বা খুব উপকৃত হবো।''

আপনি ঠিকই বলেছেন মিঃ পোদ্দার। বিএনপির মহিলা সংসদ সদস্য হলেন রুমিন ফারহানা। আমাদের প্রতিবেদকও জানেন তার নাম রুমিন ফারহানা। কিন্তু কোন এক অদ্ভুত কারণে তিনি ফারজানা বলেছিলেন। কারণটির ব্যাখ্যা তার কাছেও নেই। এই ভুল সম্প্রচারের আগে এবং পরে সবার কান এড়িয়ে যায়, কিন্তু আপনার কানকে ফাঁকি দিতে পারেনি। ভুলটি আমাদের দৃষ্টিগোচর করার জন্য ধন্যবাদ।

আবার ফিরছি সাময়িক প্রসঙ্গে। এবারে ইউরোপে করোনাভাইরাস বিধি-নিষেধ কেন্দ্র করে যে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চলছে তা নিয়ে লিখেছেন খুলনার বয়রা থেকে মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম:

''ইউরোপে নতুন করে করোনার প্রকোপ বাড়ছে। লকডাউন বিধিনিষেধ আরোপ হচ্ছে। এ নিয়ে বিবিসির প্রতিবেদন পড়ে বিস্মিত হলাম। প্রতিবাদে তারা ভাঙচুর ,আগুন দেয়া, পুলিশকে পেট্রল বোমা ছোঁড়া, এসব করছে। ইউরোপের মানুষদের আইন মানার সংস্কৃতি,নৈতিক মূল্যবোধের এ নিম্নমুখিতা কেন? কম শিক্ষার দেশগুলোকেও তারা টপকে যাচ্ছে। সভ্যতার মানদণ্ড কী তাহলে বদলে যাচ্ছে?''

প্রতিবাদ-বিক্ষোভ সব দেশেই কম বেশি সহিংস হয়ে উঠতে পারে মিঃ ইসলাম। সেটাকে সভ্যতার মানদণ্ড হিসেবে দেখা উচিত বলে আমার মনে হয় না। তবে ইউরোপে করোনা সংক্রান্ত বিধি-নিষেধ নিয়ে যে বিরোধ, সেখানে কিছু মৌলিক পার্থক্য কাজ করছে।

যারা বিরোধিতা করছেন, তারা মনে করেন সরকার তাদের নাগরিক অধিকার, তাদের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে চাইছে, তাদের ভ্যাক্সিন নিতে বাধ্য করতে চাইছে আর ভ্যাক্সিন যারা নিবে না তাদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত হবে।

আর সরকার মনে করছে প্রতিবাদকারীরা বিজ্ঞান-বিরোধী কাজ করছে, তারা ভ্যাক্সিন প্রত্যাখ্যান করছে, মাস্ক পরতে চায় না, জনমানুষের স্বাস্থ্য তাদের জন্য হুমকির মুখে পড়বে। পার্থক্য এতই মৌলিক যে কেউ ছাড় দিতে প্রস্তুত না, যে কারণে বিক্ষোভ খুব সহজেই সহিংস হয়ে উঠছে।

বেইলি রোডে বেপরোয়া

আবার আসছি বাংলাদেশ প্রসঙ্গে। ঢাকার বেইলি রোডে সম্প্রতি একজন কিশোর অতি দ্রুত গাড়ি চালিয়ে একটি রিক্সায় আঘাত করলে একটি শিশু আর তার পিতা গুরুতর আহত হয়। সে বিষয়ে লিখেছেন খুলনার কপিলমুনি থেকে মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পী:

''আমার জানা মতে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী একজন চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আঠারো বছর বয়স প্রয়োজন। কিন্তু একজন দশম শ্রেণীর ছাত্র কীভাবে প্রাইভেট গাড়ি চালাবার সুযোগ পেলো?

''আমরা যখন কাজের প্রয়োজনে রাজধানী শহরে যাই, তখন লোকাল বাস গুলিতে অনেক অপ্রাপ্ত বয়সের ছেলেদের গাড়ির ড্রাইভিংসহ নানা দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। অপ্রাপ্ত বয়সের কিশোরদের ড্রাইভিং লাইসেন্স না দেওয়া এবং এই অপরাধে যারা অপরাধী তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিলে মনে হয় অনেক দুর্ঘটনা কম হবে।''

এই দুর্ঘটনার ভিডিও দেখে বোঝা গেছে দশম শ্রেণীর ছাত্র গাড়িচালক লাইসেন্স তো দূরে থাক, কোন প্রশিক্ষণই তার ছিল না। গাড়িটা তার নিয়ন্ত্রণে ছিল না, যে কারণে রিক্সা দেখেও কিশোরটি ঠিকমত ব্রেক করতে পারে নি। লাইসেন্স ছাড়া কারও রাস্তায় গাড়ি চালানো উচিত না, কিন্তু অন্তত পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ থাকলে এরকম দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।

এখানে আরেকটি কথা আছে, আর তা হল এই গাড়ির মালিক যিনি, তিনি কি জানতেন একজন কিশোর তার গাড়ি নিয়ে বের হবে? নিজ সন্তানদের কার্যকলাপের ওপর নজর রাখার সব অভিভাবকের দায়িত্ব।

পাকিস্তান পতাকা বিতর্ক

সম্প্রতি বাংলাদেশে একটি বিতর্ক বেশ মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে, আর তা হল, ঢাকার ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের পতাকা হাতে বাংলাদেশি ক্রিকেট ফ্যানদের উপস্থিতি। অনেকেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে সমর্থন করাকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। সে বিষয়ে লিখেছেন খুলনার পাইকগাছা থেকে মোহাম্মদ আজিজুল হাকিম রাকিব:

''সম্প্রতি বাংলাদেশ-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচে অনেক বাংলাদেশিকে দেখা গেছে পাকিস্তানকে সমর্থন দিতে এবং পাকিস্তানের জার্সি এবং পতাকা নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে। যদিও এটা নতুন কিছু নয়, এর পূর্বেও অন্যান্য দলের সাথে বাংলাদেশের ম্যাচের সময় অনেক বাংলাদেশিকে দেখা গেছে বিপক্ষ দলের সমর্থন দিতে এবং সেসব দলের জার্সি পরতে এবং পতাকা উড়াতে।

''তবে এবার বাংলাদেশ-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচে পাকিস্তান দলকে সমর্থনের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। আমি জানতে চাই আমাদের দেশের আইন অনুযায়ী কি ভিন্ন দেশকে সমর্থন করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রয়েছে?''

আমার জানা মতে এ'ধরনের কোন আইন নেই মিঃ হাকিম। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী সম্ভবত নতুন আইন প্রণয়ন করে এ'ধরনের প্রবণতা বন্ধ করার চিন্তা করছেন।

ক্রিকেট আর বিসিবি

তবে শুধু পাকিস্তানি দল সমর্থন করা নিয়েই বিতর্ক নয়, ঢাকার মিরপুর থেকে মোহাম্মদ রুবেল মিয়ান বলছেন বাংলাদেশের পুরো ক্রিকেট ব্যবস্থাই ভেঙ্গে পড়ছে:

''শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের দর্শকদের পাকিস্তানি বনে যাওয়া আমাকে ব্যথিত করেছে। তার চেয়ে বেশি ব্যথিত করেছে বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত ও নির্বাচন প্রক্রিয়া। কোচ, কোচিং স্টাফ ইত্যাদি নিয়োগে বিসিবি কোন ক্রাইটেরিয়া ফলো করে তা আমাদের জানা নেই।

''মুচি যেমন সার্জারি করতে পারেন না, তেমন সারা জীবনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেন নাই এমন লোকজন ক্রিকেট অপারেশনের দায়িত্বে থেকে ভালো সার্ভিস দিতে পারে এমনটা মনে করি না।''

এক দিকে আপনি ঠিকই বলেছেন মিঃ মিয়ান, যাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কোন অভিজ্ঞতা নেই, তাদের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের ক্রিকেট উন্নয়ন হয়তো আশা করা যায় না। কিন্তু অন্য দিকে, ক্রিকেট বোর্ড এর কাজে প্রশাসন, ব্যবসা, দড় কষাকষি সহ নানাবিধ দিক আছে, যেগুলো ক্রিকেটারদের দিয়ে নাও হতে পারে।

তবে একটা কথা সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, বোর্ড প্রেসিডেন্ট বা সদস্য যেই হোক, তাদের দক্ষতা প্রমাণিত হতে হবে, তাদের জবাবদিহিতা থাকা প্রয়োজন, তাদের কাজে স্বচ্ছতা থাকা দরকার এবং তাদের নির্বাচন গণতান্ত্রিক এবং স্বচ্ছ হতে হবে।

প্রীতিভাজনেষুর বানান নিয়ে বিতর্ক

সব শেষে, প্রীতিভাজনেষুর বানান নিয়ে বিতর্ক! ঢাকার লক্ষ্মীবাজার থেকে জহিন মুমতাহিনাহ জানতে চাচ্ছেন কোন বানান ঠিক:

''গত ১২ নভেম্বর এডিটার'স মেইলবক্সে বগুড়ার শেরপুর থেকে সম্পদ কুমার পোদ্দারের এক প্রশ্নের জবাবে প্রীতিভাজনেষুর বানান দন্ত্য-স দিয়ে "প্রীতিভাজনেসু" উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু বিবিসি বাংলার সম্পাদককে দীর্ঘদিন মূর্ধন্য-ষ দিয়ে "প্রীতিভাজনেষু" ব্যবহার করতে দেখেছি এবং এতদিন আমার মতো অনেক শ্রোতা এটিই অনুসরণ করেছি।

''তবে বাংলা বানান রীতি অনুসারে দন্ত্য-স দিয়ে "প্রীতিভাজনেসু"ই সঠিক মনে হয়। কারণ সু সাধারণত বিশেষণ পদ/ ভাল, উত্তম কিংবা শুভ, সুন্দর, ভাল, অতিশয় ইত্যাদি বুঝাতে শব্দে পূর্বে বা পরে যুক্ত হয়ে ব্যবহৃত হয় যেমন সুদিন, সুতীব্র ইত্যাদি। আমার প্রশ্ন তাহলে কোনটি সঠিক এবং আমরা কোন বানানটি ব্যবহার করবো?''

বিষয়টি আলোচনায় নিয়ে আসার জন্য ধন্যবাদ জহিন মুমতাহিনাহ। কিছু লেখা ঘাঁটা-ঘাঁটি করে বোঝা যাচ্ছে, মূর্ধন্য-ষ দিয়েই প্রীতিভাজনেষু বানান করা হয়। তবে ভুল করে দু'একবার যে দন্ত্য-স ব্যবহার করিনি, তা নয় - যেমন গত সপ্তাহের এডিটার'স মেইলবক্স-এই তা হয়েছে। ভবিষ্যতে সেরকম ভুল হবে না। প্রীতিভাজনেষু প্রীতিভাজনেষুই থাকবে!

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

ফয়সাল আহমেদ সিপন, ঘোড়াদাইড়, গোপালগঞ্জ

আরিফুল ইসলাম, পাইকগাছা খুলনা ।

মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, সৈয়দপুর, নীলফামারী।

মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।

গাজী মোমিন উদ্দিন, সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়G

দীপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।