এডিটার'স মেইলবক্স: নূরের পার্টি, পুজায় হামলা আর ভাত খাওয়া নিয়ে প্রশ্ন

    • Author, সাবির মুস্তাফা
    • Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
  • Published

বাংলাদেশে নতুন একটি রাজনৈতিক দলের আবির্ভাব হয়েছে, যেটা নিয়ে মানুষের বেশ কৌতূহল আছে বলে মনে হচ্ছে। সে বিষয়ে লিখেছেন ভোলার চর ফ্যাশন থেকে মুহাম্মদ মাশুকুল হক মাশুক:

''বিবিসির খবরে শুনলাম বাংলাদেশ গণ অধিকার পরিষদ নামে ড. রেজা কিবরিয়া এবং নুরুল হক নূরের নেতৃত্বে নতুন একটি রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করেছে। অনেকে তাদের উদ্যোগে বিস্মিত ও হতবাক হয়েছে এবং হওয়াটাই স্বাভাবিক।

''পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নিয়াজি যখন তেহরিক-ই- ইনসাফ দল গঠন করছিলেন, তখনও অনেকে টিপ্পনী কেটেছিল। নুরুল হক নূরের আগে কোন পরিচিতি ছিল না, কিন্তু ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হওয়ার পর এখন সে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ পরিচিত মুখ।

''ইমরান খানের মতো সে যে একদিন প্রধানমন্ত্রী হবে না, সে কথা আমরা কেউ হলফ করে বলতে পারি না।''

আপনি ঠিকই বলেছেন মিঃ হক। নুরুল হক নূর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা বিরোধী আন্দোলন করে জাতীয় পরিচিতি পেয়েছেন, যার ফলে তিনি নির্দলীয় হওয়া স্বত্বেও ডাকসুর ভিপি পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

কিন্তু ক্যাম্পাসের রাজনীতি আর জাতীয় পর্যায়ে নির্বাচনী রাজনীতির বিশাল তফাত আছে। জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতির জন্য দেশব্যাপী সংগঠন আর প্রচুর অর্থের প্রয়োজন। আর মাঠে-ঘাটে ক্ষমতাসীন দলের সাথে টেক্কা দেয়ার মত লোকবলও দরকার।

তবে ইমরান খানের সাথে তুলনাটা একটু রয়ে-সয়ে করাই ভাল। কারণ পাকিস্তানে অনেকে মনে করেন, মিঃ খান সেনাবাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় ক্ষমতায় এসেছেন। আপনি নিশ্চয়ই বাংলাদেশেও সেরকম কিছু চাইছেন না?

সম্পর্কিত রিপোর্ট:

'হিন্দু হয়ে জন্মই পাপ'

বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার রেশ এখনো কাটেনি। এরই মধ্যে কুমিল্লার পূজা মণ্ডপে কোরআন রাখার অভিযোগে পুলিশ ইকবাল হোসেন নামক এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। মণ্ডপের আশে পাশে সিসিটিভি থেকে পাওয়া ফুটেজের ওপর ভিত্তি করেই ইকবাল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সর্বশেষ এই ঘটনা প্রবাহ নিয়ে প্রচণ্ড দু:খ আর আক্ষেপ করে লিখেছেন দিনাজপুরের নশিপুর থেকে বিপুল দেবশর্মা:

''গত ২২ তারিখ সন্ধ্যায় বিবিসি বাংলা থেকে জানতে পারলাম সেই গদাধারী ইকবাল হোসেনকে কক্সবাজার থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই খবর জানার পর মনে একটু শান্তি পেলাম । কিন্তু আজ একদল প্রভাবশালী গোষ্ঠী সেই ইকবাল হোসেনকে ভবঘুরে , পাগল বলে আখ্যায়িত করছেন এবং মানসিক রোগী বানানোর চেষ্টা করছেন।

''আমাদের একজন হিন্দু ফেসবুকে কোনো পোস্ট দিলে বা কমেন্ট করলে অন্য ধর্মের অনুভূতিতে আঘাত আসে। কিন্তু ফেসবুকে যখন হিন্দু সম্প্রদায়কে নিয়ে, দেবদেবীদের নিয়ে হাজার হাজার কমেন্ট, পোস্ট করা হয়, তখন আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে না আর কাউকে গ্রেফতারও করা হয় না, মামলাও হয় না, সরকারের চোখেও পড়েনা ।

''আমাদের একটাই অপরাধ , "বাংলাদেশে হিন্দু হয়ে জন্মেছি "। এই দেশে হিন্দু হয়ে জন্ম নেওয়া পাপ।''

আপনার লেখায় অনেক দু:খ-বেদনা রয়েছে মিঃ দেবশর্মা। আপনাকে সান্ত্বনা দেবার ভাষা আমার নেই। শুধু এটুকু বলতে পারি, ধর্মীয় উগ্রতার শিকার বাংলাদেশের মাটির খুব গভীরে পৌঁছেছে বলে কেউ বিশ্বাস করে না।

পঞ্চাশ বছর আগে বাংলাদেশের জন্মই প্রমাণ করেছে সেই দেশ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের। হয়তো সেই আলো সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা হলেও ম্লান হয়ে গেছে, কিন্তু একেবারে নিভে যায় নি।

হিন্দুরা কি ন্যায় বিচার পাবে?

পরের চিঠি লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''যে অভিযোগে সংখ্যালঘুদের উপর এই সহিংসতা চালানো হয়েছে সেটি হিন্দুরা করেনি, ইতিমধ্যে সে বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে।

''এখন প্রশ্ন হচ্ছে, অকারণে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উপর যে সহিংসতা চালানো হয়েছে, তার দায়টি আসলে কার? আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে, তারা সহিংসতা বন্ধে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

''সংখ্যালঘু নির্যাতনের ক্ষেত্রে বিচারহীনতার কারণে বার বার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলেও অনেকে মনে করেন। সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায় সাম্প্রতিক সহিংসতার ন্যায্য বিচার কি আসলে পাবেন?''

একই বিষয়ে লিখেছেন রংপুরের খটখাটিয়া থেকে মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন:

''কথায় বলে অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা । যাদের কোন কাজ নেই ঠিক তারাই বসে বসে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের পায়তারা করে কোরআন অবমাননা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা, নবী রাসুল নিয়ে বিতর্ক, ধর্মান্ধতার কাজে ব্যস্ত।

''সরকারের উচিত তাদের খুঁজে বের করে উপযুক্ত বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা যাতে ভবিষ্যতে এসব অপকর্ম করার আর সুযোগ না পায়।''

মূল সমস্যা তো সেখানেই মিঃ সরদার এবং মিঃ হোসেন। সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা যারা ঘটায়, তাদের যত দিন বিচারের মুখোমুখি না করা হবে, তত দিন তারা এ'ধরনের হামলা চালিয়ে যেতে উৎসাহ পাবে।

কিন্তু কেন করা হয় না? সে প্রশ্নের নানা রকম উত্তর আছে - কোন কোন ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগীরা জড়িত থাকতে পারে, আবার অনেক সময় পুলিশ হয়তো ধর্মীয় অনুভূতির দোহাই দিয়ে পুরো ঘটনা আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করে।

কিন্তু একটা জিনিস পরিষ্কার, যেখানে মানুষের জান-মাল হুমকির মুখে পড়ছে, যেখানে দেশের আইন লঙ্ঘিত হচ্ছে, সেখানে আইনের কঠোর প্রয়োগ না হলে এ'ধরনের ঘটনা থামানো সম্ভব হবে না।

ক্রিকেট খেলায়ও ধর্মীয় বিদ্বেষ

দক্ষিণ এশিয়া উপমহাদেশে এখন খেলা-ধুলার জগতেও ধর্মের দোহাই দিয়ে ব্যক্তিকে আক্রমণ করা হচ্ছে। যে বিষয়ে লিখেছেন ঢাকার মিরপুর থেকে মোহাম্মদ রুবেল মিয়ান:  

''ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে মোহাম্মদ সামি আর বাংলাদেশ-শ্রীলংকা ম্যাচে লিটন দাস-এর পারফরম্যান্সের পর তাদের ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে যে ব্যাপক ট্রল হচ্ছে তা অশুভ ইঙ্গিত।

''বাংলাদেশের মুসলিম থেকে শুরু করে ভারতীয় হিন্দুরা অথবা পাকিস্তানের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী সবাই ধর্মকে ব্যবহার করলেন মানুষকে ছোট করতে।

''যে ধর্মের সৃষ্টিই মানব কল্যানার্থে সেই ধর্মই যদি হয় উগ্র, তাহলে মানুষ কোথায় আশ্রয় নেবে? যুগ যুগ ধরে যে ধর্ম মানুষকে আগলে রেখেছে, সেই ধর্মের ধার্মিকদের শুভ চিন্তার উদয় হোক।''

এখানে ধর্মের বা ধর্মীয় আদর্শের কোন ভূমিকা আছে বলে মনে হয় না মিঃ মিয়ান। এক ধরনের জাতিগত বা গোষ্ঠীগত সংকীর্ণতা বা উগ্রতা এখানে মূল ভূমিকা পালন করে বলে আমার মনে হয়।

ধর্ম এখানে একটি অজুহাত বা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে বর্ণ বা জাতিগত বিদ্বেষ ভিন্ন ভাবেও প্রকাশ পায়। যেমন, কয়েক মাস আগে ইউরোপিয়ান ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে পেনাল্টি মিস করার জন্য ইংল্যান্ডের তিনজন কৃষ্ণাঙ্গ খেলোয়াড়কে সামাজিক মাধ্যমে অত্যন্ত নোংরা ভাবে হেনস্তা করা হয়েছিল।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

ফেসবুক কি পক্ষপাতদুষ্ট?

এবারে আসি ভিন্ন একটি প্রসঙ্গে। সম্প্রতি ফেসবুকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিতে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে বিবিসি বাংলায় প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।

সে বিষয়ে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান: 

''ফেসবুকের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ নতুন নয়। এই সমস্যা ভারতে আরও অনেক বড় ও জঘন্য। বিশেষ করে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের রাজনৈতিক নেতাদের বিদ্বেষমূলক ও উস্কানিমূলক বক্তব্য সেন্সর করতে ফেসবুকের ব্যর্থ হয়েছে।

''এসব রাজনৈতিক দলগুলির সাথে সম্পর্কিত অসংখ্য ভুয়া অ্যাকাউন্ট রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মুসলমান এবং অন্যান্য সংখ্যালঘুদের প্রতি বিদ্বেষমূলক কনটেন্ট ছড়িয়ে দেয়ার কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এ ধরনের বিদ্বেষ ও ঘৃণা ছড়ানো ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ।''

ফেসবুক নিয়ে বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন মাত্রায় বিতর্ক চলছে মিঃ রহমান। ভারতে যেমন ডানপন্থীরা অবাধে পোস্ট করতে পারছে বলে ফেসবুক সমালোচনার মুখে পড়ছে, অন্যদিকে আমেরিকায় ফেসবুক ডানপন্থীদের নিয়ন্ত্রণ করছে বা তাদের এ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে।

এখানে চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়। একদিকে ফেসবুককে যেমন সবার বাক স্বাধীনতার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে, তেমনি ভুয়া বা বিদ্বেষমূলক প্রচারণা যাতে না হতে পারে সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। কাজটা মোটেই সহজ না।

আরো পড়ুন:

আর কত ভাত খাবেন?

ফেসবুক এমন একটি মাধ্যম যেখানে একটি কথার ভুল ব্যাখ্যা একবার জায়গা করে নিলে সেটা শত শত মুখ দিয়ে ঘুরতে থাকে, এমনকি প্রতিষ্ঠিত মিডিয়াও সেটা দিয়ে প্রভাবিত হতে পারে। ভাত খাওয়া নিয়ে বিতর্কটির কথাই ধরুন।

সম্প্রতি বাংলাদেশের কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের একটি ভাষণের কয়েকটি লাইন নিয়ে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে, ফেসবুকে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যর রীতিমত ঝড় বয়ে গেছে। কিন্তু ড. রাজ্জাক কি আসলেই সেরকম কোন কথা বলেছিলেন?

আগে দেখা যাক দু'একজন পত্রলেখক কী বলছেন। প্রথমে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থেকে মুহাম্মাদ আব্দুল মাতিন:

''কৃষিমন্ত্রীকে নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় বাজে মন্তব্য করা হয়েছে, সে ব্যাপার আপনাদের প্রতিবেদনটা পড়লাম। বিশ্বের যেসব দেশের মানুষজন ভাত খায় সেই তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ দ্বিগুণ ভাত খায়।

''জ্বি! কী ভাবছেন? এটা জনৈক একজন মন্ত্রী বলেছেন। তিনি আরো বলেছেন, চালের চাহিদা কমাতে ভাত কম খাওয়ার কথা।

''যেদেশ মন্ত্রীরা এমন মন্তব্য করে সেদেশ সাধারণ জনগণের কাছ থেকে সোশাল মিডিয়া থেকে বাজে মন্তব্য ছাড়া কি আশা করবেন?''

আপনি বিবিসির রিপোর্টটি পড়ে মন্তব্য করেছেন ঠিকই মিঃ মাতিন, কিন্তু এখানে দুঃখের সাথে বলতে হয়, আমাদের একটি ভুল হয়েছিল। কৃষিমন্ত্রী বাংলাদেশের মানুষের অতি মাত্রায় ভাত প্রীতি নিয়ে কথা বলেছেন ঠিকই।

তিনি এও বলেছেন যে ভাত খাওয়া কমাতে পারলে ভাল হত। কিন্তু তিনি কোন পরামর্শ দেননি, বা সবাইকে তিনি ভাত কম খেতে বলেননি। এটা ছিল তার বক্তব্যর ভুল ব্যাখ্যা, যে ভুল আমরা নিজেরাও করেছি, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

তবে এ'কথা ঠিক, ডায়াবেটিস মোকাবেলা করার জন্য ডাক্তাররা সব সময় ভাতের পরিমাণ কমানোর উপদেশ দেন।

বাঙালি মানেই ভাত?

অন্যদিকে খুলনার কপিলমুনি থেকে মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পী বলছেন কেন এ'অঞ্চলের মানুষ এত ভাত খায়:

''আমি মনে করি একটি এলাকার মানুষের প্রধান খাবার কী হবে তা নির্ভর করে ওই এলাকার আবহাওয়ার ওপর। আবহাওয়া এবং ভৌগলিক কারণে বাংলাদেশ ঐতিহাসিক ভাবে ধান চাষের জন্য খুব ভাল জায়গা।

''চালের চাহিদা কমানোর থেকে, আমাদের দেশের জনসংখ্যা অনুপাতে ধানের উৎপাদন বাড়ানো বেশি জরুরি বলে আমি মনে করি।''

আপনার কথা ঠিক মিঃ বাপ্পী যে, বাংলাদেশ ধান চাষের জন্য উপযুক্ত জায়গা। কিন্তু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো, যেমন চীন, ভিয়েতনাম, লাওস, ইন্দোনেশিয়া ইত্যাদিও তো ধান উৎপাদনকারী দেশ।

কিন্তু তাদের জনগণ তো এত ভাত খায় না। মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক সেকথাই বলেছেন, বিশেষ করে সেসব দেশের মানুষ অল্প ভাতের সাথে প্রচুর শাক-সবজি, মাছ এবং মাংসও খেয়ে থাকেন।

পুষ্টির ভারসাম্য চাই

এই ব্যালান্সড ডায়েট সম্পর্কে লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:

''আমার বাবা বলতেন, "মানুষ ভাত খায়না, খায় তার কাজে"। কথাটা অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত মনে হয় আমার কাছে। একজন খেটে খাওয়া মানুষ হয়ত ভাত বেশি খাচ্ছেন, কিন্তু তার অবর্ণনীয় কায়িক পরিশ্রমের দরু সেই খাবার খুব দ্রুতই ফুরিয়ে যাচ্ছে।

''অন্যদিকে একজন শহুরে ভদ্রলোক হালকা খাবার খেয়েও সকাল বিকাল দৌড়াচ্ছেন সেই হালকা খাবার হজম করার জন্য।

''আমি মনে করি, বিশ্বে যত মানুষ খাবার কম খেয়ে অপুষ্টিতে ভোগে, তাদের একটা বড় অংশ বাংলাদেশে বাস করে। কারণ ভাত বেশি খাওয়া মানেই খাবারের সব চাহিদা পূরণ করা বোঝায় না।

''ব্যালান্সড ডায়েট বলতে যা বোঝায় তা এখন পর্যন্ত আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষই জানেন না, বা জানলেও তাদের মানার সক্ষমতা নেই বলেই মনে করি।''

আমার মনে হয় কৃষিমন্ত্রী সেদিকেই জোর দিচ্ছিলেন - যে, ভাতের সাথে অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার যেন সবার ডায়েটে থাকে। তবে আপনি ঠিক বলেছেন, বাংলাদেশে অতি মাত্রায় ভাত খাবার পেছনে আর্থিক অসচ্ছলতাই মূলত দায়ী।

যাদের শাক-সবজি, মাছ-মাংস কেনার সামর্থ্য নেই তাদের অনেক ভাত খেয়েই ক্ষুধা মেটাতে হয়।

অবুঝ বালকের বিজ্ঞ প্রশ্ন

পরের চিঠি লিখেছেন জুবায়ের হোসেন:

''অবুঝ বালক বলছি। আমরা কি নিরঙ্কুশ একনায়কতন্ত্রের অধীনে চলে গেছি, নাকি এখনো কিছুটা বাকি আছে? রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের সংজ্ঞার আলোকে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা জানতে চাই, আশা করছি জানাবেন।

''আরেকটি কথা, বাক স্বাধীনতা কাকে বলে একটু জানতে চাই। বাংলাদেশ সেটা বিদ্যমান আছে কিনা একটু বুঝিয়ে বলবেন।''

আপনার কথা দেখে বুঝতে পারছি আপনি মোটেই অবুঝ না মিঃ হোসেন। সব কিছু বুঝে-শুনেই যা লেখার লিখেছেন। তবে রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের সংজ্ঞার আলোকে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা কী, অথবা বাক স্বাধীনতা বাংলাদেশ বিদ্যমান আছে কিনা,

এগুলো যদি বুঝিয়ে বলতে হয়, তাহলে হয়তো দু'ঘণ্টা সময় লাগবে বা পাঁচ হাজার শব্দের রচনা লিখতে হবে। বুঝতেই পারছেন, এসব প্রশ্নের উত্তর পাবার জন্য বই পড়তে হবে, অনেক বই।

সব শেষে আমাদের একটি ভিডিও নিয়ে লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

''বিবিসি নিউজ বাংলার ওয়েবসাইট থেকে "ভোজ্য তেল খাওয়ার উপকারী ও ক্ষতিকর দিকগুলো কী?" সম্পর্কিত ভিডিওটি দেখলাম।

''ভোজ্য তেল খাওয়ার উপকারিতা ও ক্ষতি সম্পর্কে এমন শিক্ষণীয় যথাযথ ভিডিও প্রশংসাযোগ্য। ভিডিওটিতে খুব সুন্দরভাবে সব বিষয় চমৎকার উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। ভিডিও'র মানও খুব ভাল ছিলো।

বিবিসি বাংলা থেকে এমন ভিডিওগুলো যদি ফেসবুক ফরমেটে ফেসবুকে দেয়া হতো তাহলে মানুষ খুব সহজে দেখতে পারতো এবং আমরাও প্রিয়জনের টাইমলাইনে শেয়ার করতে পারতাম।''

অবশ্যই মিঃ শামীম উদ্দিন। এসব ভিডিও সাধারণত ফেসবুক আর ইউ টিউব মাথায় রেখেই বানানো হয়। এই ভিডিও ইতোমধ্যেই আমাদের ফেসবুক পাতা আর ইউটিউব চ্যানেলে দু'টোতেই প্রকাশ করা হয়েছে।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

মনিরুল হক রনি, সাভার সরকারি কলেজ, সাভার ঢাকা।

দীপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।

মেনহাজুল ইসলাম তারেক, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।

আহসান হাবিব রাজু, গুড়িয়াদহ, লালমনিরহাট ।