আপনি এই ওয়েবসাইটের একটি টেক্সট(লিখিত) সংস্করণ দেখছেন, যা কম ডেটা ব্যবহার করছে। ছবি ও ভিডিওসহ মূল সংস্করণ দেখতে এখানে ক্লিক করুন
এডিটার'স মেইলবক্স: ক্লিন ফিড, ই-কমার্স আর রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে প্রশ্ন
বাংলাদেশিদের শব্দ ভাণ্ডারে নতুন দুটি সংযোজন হয়েছে, আর তা হল ক্লিন ফিড। বিদেশী চ্যানেলদের বিজ্ঞাপন ছাড়া বা ক্লিন ফিড সম্প্রচার করার নিয়ম কার্যকর করার পর থেকেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
জনপ্রিয় ভারতীয় বিনোদন চ্যানেল আর বড় বড় আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম হুট করে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশে-বিদেশে অনেকেই ভ্রু কুঁচকিয়েছিলেন, ভাবছিলেন বাংলাদেশ উত্তর কোরিয়া হতে চললো নাকি!
সরকার দ্রুত হস্তক্ষেপ করে সেই ভুল বোঝাবুঝির কিছুটা অবসান করেছে বলে মনে হচ্ছে।
আজ সে বিষয় দিয়ে শুরু করছি, লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আব্দুর রহমান জামি:
''সরকার বলছে, তারা কোনো চ্যানেল বন্ধ করেনি, বাংলাদেশের আকাশ সকলের জন্যই উন্মুক্ত। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার উদাহরণ টেনে সরকার বলছে,এসব দেশে আইন মেনেই চ্যানেলগুলো সম্প্রচার করছে। বলাবাহুল্য,এ দেশের মানুষ বরাবরই বিনোদন পিপাসু। তারা চায় না,এ দেশে কোনো টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ থাকুক।
''এ প্রেক্ষাপটে আমার প্রশ্ন, ক্লিন ফিড প্রদর্শন করতে না পারার ব্যর্থতা কি সরকারের নয়? দেশীয় টিভি চ্যানেলের স্বার্থ সংরক্ষণের নামে বিদেশী চ্যানেল বন্ধ করা কি প্রহসন নয়? বিশ্বের অপরাপর দেশ ক্লিন ফিড সম্প্রচার করতে পারলে বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে কেনো?''
বিদেশী চ্যানেলের ক্লিন ফিড সরবরাহ করার দায়িত্ব কি আসলেই বাংলাদেশ সরকারের? আমার তো তা মনে হয় না মিঃ জামি। সেই দায়িত্ব নিশ্চয়ই ঐ চ্যানেলগুলোর, কারণ শুধু তারাই পারে ক্লিন ফিড সরবরাহ করতে।
তবে হ্যাঁ, বাংলাদেশে যারা কেবলের মাধ্যমে বিদেশী চ্যানেল পরিবেশন করে, তারা হয়তো চাইলে ক্লিন ফিড আনতে পারে, কিন্তু সেটা করতে যে খরচ হবে তা তারা পুষিয়ে নিতে পারবে বলে মনে হয় না। তারপরও, সন্দেহ রয়ে যায় যে, দেশী চ্যানেলগুলোর স্বার্থ রক্ষা করার জন্যই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভারতীয় বাংলা চ্যানেলগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়তো দেশী চ্যানেলগুলো সামাল দিতে পারছিল না।
সরকারের কাজে জনগণের সাধুবাদ
তবে এ'বিষয়ে বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনের সাথে মোটেই একমত নন বলে জানিয়েছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:
''বাংলাদেশে সব রকম বিদেশি টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়ার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন দেশটির অনেক টিভি দর্শক। সম্প্রতি বিবিসি বাংলা'র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এমন একটি খবরের সাথে আমি কিছুতেই একমত হতে পারলাম না।
''আমার জানা মতে, অনেকেই খুশি, যেমন আমি নিজেও খুশি, বিশেষ করে ভারতীয় চ্যানেল বন্ধ করার কারণে। আমারতো মনে হচ্ছে, দলমত নির্বিশেষে, এই প্রথম সরকারের কোন কার্যক্রমকে সাধারণ জনগণ এভাবে এক যোগে সাধুবাদ জানালো।''
এই সাধুবাদ কোথায় জানানো হয়েছে বা কীভাবে সেটা প্রকাশ পেয়েছে, সেটা আমাদের জানা নেই মিঃ ইসলাম। আমাদের সংবাদদাতা অনেকের সাথে কথা বলেছেন যারা তাদের পছন্দের বিনোদন বা খেলা-খুলার অনুষ্ঠান না দেখতে পেরে হতাশ।
কিন্তু প্রতিবেদনে এটাও বলা হয়েছে যে আমাদের ফেসবুক পাতায় অনেকে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে, আপনার মতই, স্বাগত জানিয়েছে।
বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:
কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ নয়, বরং তিরস্কার জানিয়ে লিখেছেন ঝিনাইদহ থেকে কাজী সাঈদ:
''এই ঢালাওভাবে চ্যানেল বন্ধ হওয়ায় দেশীয় গ্রাহকগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবেন কিনা, সেটা কি বিবেচনায় আনা হয়েছে? মানলাম, এই ব্যবস্থায় বিজ্ঞাপন বাবদ টাকাগুলো বাঁচানো যাবে, কিন্তু তাই বলে গ্রাহকদের সুবিধা অসুবিধা আমলে না এনে এমন সিদ্ধান্ত কতটা যুক্তিসঙ্গত?
যতদূর জানি, ভারতেও আমাদের চ্যানেলগুলো দেখানো হয় না। এ ধরনের সিদ্ধান্ত মুক্তবাজার অর্থনীতির বিপরীত, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। একজন দর্শকের এতটুকু স্বাধীনতা থাকা উচিৎ, তিনি কি দেখবেন আর কি দেখবেন না।
''আশা করছি ঢালাওভাবে চ্যানেল বন্ধ করার মত সিদ্ধান্তের আগে "মুক্ত তথ্য আর সুস্থ বিনোদনের অবাধ বিচরণের" বিষয়টি সবার বিবেচনায় থাকবে।''
পঁচিশ বছর আগেও বাংলাদেশে মাত্র একটি সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ছিল। এখন আছে প্রায় ৪০টি বেসরকারি চ্যানেল। তাহলে জনসংখ্যার বড় একটি অংশ কেন বিনোদনের চাহিদা মেটাতে বিদেশী মাধ্যম, বিশেষ করে ভারতীয় চ্যানেলগুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে?
বোঝা যাচ্ছে, বাংলাদেশে টেলিভিশন শিল্প ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হলেও, দর্শকদের চাহিদা তারা মেটাতে পারছে না। এখন স্বাভাবিক ভাবেই, বাংলাদেশ সরকার চায় বিদেশী চ্যানেলগুলোকে একটি নিয়মের মধ্যে আনতে। কিন্তু সেটা করতে গিয়ে যদি দর্শক বঞ্চিত হয়, তাহলে নতুন বিতর্কের জন্ম হবে।
সরকারের সিদ্ধান্তে আরো খুশি হয়েছেন গোপালগঞ্জের ফয়সাল আহমেদ সিপন, যিনি ভারতীয় বিনোদন চ্যানেলগুলোর ঘোরতর বিরোধী:
''বাংলা চ্যানেলসহ ভারতীয় বিভিন্ন চ্যানেলের একচেটিয়া বাজার রয়েছে বাংলাদেশে। নাটক-সিরিয়ালে পারিবারিক বিরোধ, সামাজিক কূটকচাল, দ্বন্দ্ব-সংঘাত দেখিয়ে সমাজকে কলুষিত করতে বাংলাদেশের দর্শকদের উদ্বুদ্ধ করতে চ্যানেলগুলো ভূমিকা রাখছে।
''এছাড়া পণ্যের বিজ্ঞাপন প্রচার করে বাংলাদেশে ভারতীয় পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করছে । এই কারণেই বাংলাদেশের বিবেকবান মানুষ চায় ভারতীয় চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার স্থায়ী ভাবে বন্ধ করা হোক।''
বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না যে, আপনি ভারতীয় চ্যানেল পছন্দ করেন না মিঃ আহমেদ। তাতে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু আপনার অপছন্দ কি অন্য মানুষের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া উচিত? আপনার পছন্দ না হলে আপনি দেখবেন না, কিন্তু অন্যকে কেন বঞ্চিত করবেন?
তাদেরও তো অধিকার আছে পছন্দমত চ্যানেল দেখার, তাই না? তাছাড়া, আপনি নিশ্চয়ই মানবেন যে, দেশের মানুষ এত বোকা না যে টেলিভিশন চ্যানেলের নাটক দেখে তারা সমাজকে কলুষিত করবে।
এবারে ভিন্ন ধরনের একটি বিতর্কের প্রসঙ্গে যাওয়া যাক। সম্প্রতি বাংলাদেশে দুটি ই-কমার্স কোম্পানি, কিউকম ও এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেস এর মালিক গ্রেফতার হওয়ায় গ্রাহকদের উদ্বেগ আরো বেড়েছে। অনেক গ্রাহক অর্ডার করা পণ্য যেমন পাননি, তেমনি তাদের টাকা গেটওয়েতে আটকে আছে।
গ্রাহকদের টাকার কী হবে?
এই অবস্থা থেকে পরিত্রাণ চেয়ে লিখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্টুডেন্ট জীবন মিয়া:
''আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী৷ টিউশনের টাকা অনেক কষ্ট করে জমা করেছিলাম৷ এখন আমার কাছে নিজের জীবনটা খুবই অসহায় মনে হচ্ছে৷ অনেক ধরনের নিউজ হচ্ছে, সিআইডিও তদন্ত করছে, কিন্তু কেউই বলছে না গ্রাহকদের টাকা কীভাবে ফেরত পাবে৷
''আমরা গ্রাহকদের টাকা যেহেতু পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকা আছে, তাহলে পেমেন্ট গেটওয়ে হতে আমাদের টাকা উদ্ধার করা সম্ভব৷ এই ক্ষেত্রে সরকার এবং প্রশাসনের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দ্বারাই এটা সম্ভব৷
''কিন্তু দুর্ভাগ্য এই যে, সরকার, বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রশাসন, মিডিয়া কেউই গ্রাহকের টাকা প্রাপ্তির ব্যাপারে জোরালো ভাবে কথা বলছে না৷''
আপনি ঠিকই বলেছেন মিঃ জীবন মিয়া, গ্রাহকরা তাদের টাকা কীভাবে ফেরত পাবে, বা আদৌ ফেরত পাবে কি না, তা নিয়ে গভীর ভাবে আলোচনা হচ্ছে না। আমরাও দৃষ্টি দিচ্ছি এই কোম্পানিগুলোর ব্যবসার দিকে এবং ই-কমার্স খাতের ভবিষ্যতের দিকে। সব কিছুই করা হচ্ছে মোটা দাগে। তবে গ্রাহকদের স্বার্থ সংরক্ষণ করার জন্য কী ধরনের পথ খোলা আছে, তা নিয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনা হওয়া দরকার।
ভারতে গাড়ি দিয়ে কৃষক হত্যা
আরেকটি খবর দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, আর তা হল, ভারতের উত্তরপ্রদেশে সম্প্রতি গাড়ি চাপা দিয়ে কৃষক হত্যার ঘটনা। সে বিষয়ে লিখেছেন রাজশাহীর বোয়ালিয়া থেকে রহমাতুল্লাহ আল আরাবি:
''কৃষক আন্দোলনের কৃষকদের গাড়িচাপা দেবার ঘটনা আমাকে বিস্মিত করেছে। ঘটনাটি ঘটিয়েছে এক মন্ত্রীপুত্র। ভারতে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছিল যাদের দ্বারা, তাদের মধ্যে কৃষক ও দলিত শ্রেণিসমূহ ছিল অন্যতম।
'মোদী সরকারের যখন উচিত তাদের বেকারত্ব ও দারিদ্র্যর সমাধান করা, তখনই এহেন ঘটনা সত্যিই বিস্ময়কর। এ ঘটনার যথাযথ তদন্ত করে কৃষকদের মাঝে শান্তি-সম্প্রীতির পরিবেশ সৃষ্টি করা ও তাদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেয়া ভারত সরকারের একান্ত কর্তব্য বলে আমি মনে করি।''
আপনার বক্তব্যর সাথে যোগ দেবার কিছু নেই মিঃ আরাবি। আমি নিশ্চিত সবাই আপনার সাথে একমত হবেন যে, ঘটনার তদন্ত করে শান্তির পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সরকারের জন্য জরুরি।
রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহর হত্যাকারী কে?
এবারে ভিন্ন প্রসঙ্গে যাই। সম্প্রতি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা নেতা মহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ড শুধু বাংলাদেশে নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সে বিষয়ে লিখেছেন রংপুরের লালবাগ থেকে মোহাম্মদ মোহসীন আলী:
''রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের যে আশাটুকু ছিল তাতে সর্বশেষ পেরেক ঠুকে দেয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিস্টার মুহিবুল্লাহ যদি এত বড়ই নেতা হয়ে থাকেন, তাহলে আগে থেকেই ওনার নিরাপত্তা জোরদার করা উচিত ছিল।
''মৃত্যুর পর পশ্চিমা কূটনীতিকরা যে ভাবে হইচই করছে সেটা সময় মত করার দরকার ছিল। বাংলাদেশ সরকারকে এবিষয়ে চাপ না দিয়ে মিয়ানমার সরকারকে প্রত্যাবাসন বিষয়ে চাপ দিলেই তো অনেক সমস্যার সমাধান হয়। সে বিষয়ে কারও কোন শক্ত তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়না।''
এ বিষয়ে আরো লিখেছেন সাভার সরকারি কলেজ থেকে মনিরুল হক রনি:
''প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে কিছু আন্তর্জাতিক সংস্থার অনাগ্রহের কথা বলেছেন। তাতে আপাতদৃষ্টিতে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো নিয়ে এক চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
''এমনিতেই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে অনেক সময় চলে গেছে,সেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য ও মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ড কি তাহলে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনকে আরো বিলম্বিত করবে নাকি আদৌ রোহিঙ্গারা তাদের নিজ বাসভূমে ফিরতে পারবেনা তা বোধগম্য নয়।''
মূল সমস্যা সেখানেই মিঃ আলী এবং মিঃ হক। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের জাতিগত অধিকার, বিশেষ করে নাগরিকত্বের অধিকার মেনে নিলেই তারা দেশে ফিরে যাবার সাহস পাবে। কিন্তু মিয়ানমারকে বাধ্য করার জন্য যে ধরণের চাপ দরকার, সেটা দেখা যাচ্ছে না।
হয়তো সে কারণেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অভিযোগ করেছেন যে কোন কোন সংস্থা চায় না যে এই সংকটের সমাধান হোক।
সম্পর্কিত খবর:
মিয়ানমারে ফিরবে কি রোহিঙ্গারা?
তবে রোহিঙ্গারা কি আদৌ ফিরে যেতে চায়? সে প্রশ্ন তুলে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যা কাণ্ড নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অনেকে বলছেন, রোহিঙ্গাদের গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের কারণে মিঃ মুহিবুল্লাহ হত্যা কাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। আবার অনেকে মনে করছেন, মিঃ মুহিবুল্লাহ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে তৎপর ছিলেন বলেই এভাবে তাকে প্রাণ দিতে হয়েছে।
''রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে তৎপরতার কারণে যদি মুহিবুল্লাহকে প্রাণ দিতে হয় তাহলে তো এটি আরও পরিষ্কার হয়ে গেলো রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরতে আদৌ রাজি নয়।''
আমার মনে হয় মুহিবুল্লাহর হত্যাকাণ্ড এটা প্রমাণ করে যে, যারা প্রত্যাবাসন বিরোধী, তাদের মধ্যে জঙ্গি মনোভাব আছে, তারা উগ্রপন্থী এবং নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য খুন করতেও প্রস্তুত। কিন্তু সাধারণ রোহিঙ্গারা প্রত্যাবাসন বিরোধী, এটা কোনভাবেই বলা যাবে না।
বরং, মুহিবুল্লাহর জনপ্রিয়তা দেখে মনে হয় সাধারণ রোহিঙ্গারা প্রত্যাবাসনের পক্ষে কিন্তু তারা পুরো নাগরিক অধিকারসহ ফিরতে চায়।
চুল কাটা কি শিক্ষকের দায়িত্ব?
আবার ফিরছি বাংলাদেশ প্রসঙ্গে। সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক কয়েকজন ছাত্রর চুল কেটে দেবার ঘটনা নিয়ে বিতর্ক এখনো চলছে। সে বিষয়ে আজ লিখেছেন রংপুরের খটখটিয়া থেকে মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন:
''শিক্ষক কে বলা হয় মানুষ গড়ার কারিগর । তার আদর্শ ও নীতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ জীবন গড়ার পরম পাথেয়। কিন্তু তারা কখন কখনও এমন কাজ করেন যেগুলো তাদের আদর্শের পরিপন্থী। এটি কখনও কাম্য নয়।
''শিক্ষকদের উচিত একবার নিজেদের দিকে তাকানো। শিক্ষকের দায়িত্ব কী, সেটা একবার অনুধাবন করুন। ক্রোধ কখনোই মঙ্গল বয়ে আনে না। ক্রোধ ভুলে শিক্ষার্থীদের ভালোবাসতে শিখুন। ভালোবেসেই পারবেন ওদের ভালো করতে,মঙ্গল করতে।''
আপনার কথার সাথে অনেকেই একমত হবেন মিঃ হোসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা প্রাপ্ত বয়স্ক, তাদের নিশ্চয়ই অধিকার আছে নিজেদের সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবার, বিশেষ করে তারা কী পোশাক পরবে, চুলের ফ্যাশন করবে কি না ইত্যাদি ব্যক্তিগত বিষয় তো একান্ত তাদের ব্যাপার। বিশ্ববিদ্যালয়ে তো আর স্কুলের মত নিয়ম করা যায় না।
সাংবাদিক গোপন তথ্য ফাঁস করে কেন?
সম্প্রতি প্যানডোরা পেপার্স নামের যে দলিলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা এবং ধনকুবেরদের অর্থ সম্পদ নিয়ে গোপন তথ্য ফাঁস করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন করেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:
''সম্প্রতি বিবিসির খবরে দেখলাম প্যানডোরা পেপার্স নামের সবচেয়ে বড় আর্থিক দলিলপত্র ফাঁসের এক ঘটনায় বিশ্বের বড় বড় নেতা, রাজনীতিবিদ ও ধনকুবেরদের গোপন সম্পদ ও লেনদেনের তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এর আগে পানামা পেপার্স নামে ফাঁস করা তথ্য পৃথিবীকে কাঁপিয়ে। আমার প্রশ্ন যারা এগুলো ফাঁস করে, তারা এতসব গোপন তথ্য কিভাবে সংগ্রহ করে এবং তাদের স্বার্থই বা কী?''
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার কিছু পদ্ধতি আছে, যেগুলো আইনের ভেতরে থেকে কিছু নিয়ম কানুন মেনে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অনুসরণ করা হয়। বিবিসি সহ বিশ্বের শতাধিক গণমাধ্যম এই প্যানডোরা পেপার্স ফাঁস করার জন্য এক যোগে কাজ করেছে।
তাদের স্বার্থ একটি - আর তা হল জনস্বার্থ। অর্থ পাচার, ব্যাপক হারে কর ফাঁকি, অবৈধ অর্থ সংগ্রহ, এসব কারা করছে, কোথায় করছে ইত্যাদি তথ্য প্রকাশ করা গণমাধ্যমের দায়িত্ব, সেজন্যই এটা করা হয়।
চাল-ডালের খবর নাই কেন?
বিবিসি বাংলায় প্রকাশিত খবর নিয়ে যেমন চিঠি থাকে, তেমনি কোন খবর না থাকলেও প্রশ্ন উঠতে পারে। যেমন করেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:
''দেশে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। এখন যে কোন মুরগী, ডিম, তেল, চিনি, ডাল, চাল এমনকি সবজির দামও বেশ চড়া। কেউ কিছু বলছে না, সবাই যেন নিশ্চুপ। আশা করেছিলাম, অন্তত বিবিসি বাংলা কোন প্রতিবেদন প্রচার করবে।
আমি নিশ্চিত যে ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে বিবিসি বাংলা কোন প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। এ বিষয়ে সবার নিশ্চুপ থাকার কারণ কী? সবাই কি অজানা ভয়ে বিষয়গুলো এড়িয়ে চলছে?''
চাল-ডালের দাম নিয়ে খবর করা নিয়ে ভয়ের কী থাকতে পারে তা আমি বুঝে উঠতে পারছি না মিঃ শামীম উদ্দিন। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য, যেমন চাল, পিঁয়াজ, নুন ইত্যাদির দাম নিয়ে আমরা অহরহই খবর করে থাকি। কিন্তু সব সময় দাম বাড়া-কমা নিয়ে প্রতিবেদন পড়তে পাঠকদের মধ্যেও তেমন আগ্রহ থাকে না। তাই আমরা খবরের গুরুত্ব বুঝে প্রতিবেদন করে থাকি।
রেডিওই সেরা
সব শেষে, খুলনার বয়রা থেকে মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম:
''রেডিওর প্রতিদ্বন্দ্বী বেড়েছে। তবুও শ্রোতাদের মনোরাজ্যে রেডিওর স্থান অন্য কেউ দখল নিতে পারেনি। আজও প্রান্ত জনের কাছে, শহুরে ব্যস্ততার মাঝে রেডিও সঙ্গী হয়ে আছে, জীবন যাপনের উপকরণ হয়ে উঠেছে। বোধ মনন গঠনে, বদলে যাওয়া জীবনে স্বস্তি দিতে, জীবনকে ছুঁয়ে যাবার অপরিমেয় ক্ষমতা তার। তাইতো মানুষ রেডিওকে ভালোবাসে। রেডিওর মানুষগুলোকে নিয়েও স্বপ্ন দেখে।''
আপনার মত আমাদেরও রেডিওর প্রতি একটি আকর্ষণ আছে, যার জন্য এখনো দুটো অনুষ্ঠান ধরে রেখেছি। কিন্তু এটাও সত্য যে, ৩০ বছর আগে যত লোক রেডিও শুনতেন আজ তার অর্ধেকও শোনেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে।
অদূর ভবিষ্যতে মানুষ হয়তো অডিও অনুষ্ঠান শুনবেন, কিন্তু রেডিওর মাধ্যমে নয়, অন্য কোন ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে। আমাদেরকেও সেই ভবিষ্যতের জন্য এখনি প্রস্তুতি নিতে হবে।
এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:
এম আলম, উত্তর কাফরুল, ঢাকা সেনানিবাস।
মোহাম্মদ সাইদুর রহমান, কাউনিয়া, বরিশাল।
নাসিফ শরৎ, রাজশাহী।
মুঈন হুসাইন, টেকাকাশিপুর, সাতক্ষীরা।
মুহাম্মদ মাসুদুল হক মাশুক, চরফ্যাশন, ভোলা।
সম্পদ কুমার পোদ্দার, শেরপুর, বগুড়া।
মোহাম্মদ আজিজুল হাকিম রাকিব, পাইকগাছা, খুলনা।
শিমুল বিল্লাল বাপ্পী, কপিলমুনি, খুলনা।