এডিটার'স মেইলবক্স: তালেবান শাসন, সাবিনা হত্যাকাণ্ড আর চুল কাটা নিয়ে প্রশ্ন

ছবির উৎস, BULENT KILIC
আমাদের শ্রোতা-পাঠকদের জন্য আফগানিস্তান এখনো বড় একটি আগ্রহের বিষয়, আর সেখানে কী হচ্ছে না হচ্ছে তা নিয়ে কৌতূহলের কমতি নেই।
সম্প্রতি বিবিসির সংবাদদাতা জেরেমি বোয়েন একটি প্রতিবেদন করেছেন, যেখানে একটি গ্রামীণ পরিবার বলছে কেন তারা তালেবানের বিজয়ে খুশি।
প্রতিবেদনের বাংলা অনুবাদ পড়ে মন্তব্য করেছেন সাতক্ষিরার টেকাকাশিপুর থেকে মুঈন হুসাইন:
''আমি নিজে ঐ পরিবারের সাথে একমত পোষণ করি। আমি খুবই খুশি, যে তালেবান আবারো বহু বছর পর ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু যে সব দেশ, গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকরা ভুল তথা মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে, তারা আর যাই হোক, বিবেকবান মানুষই হতে পারে না।
''সারা বিশ্বের কোটি কোটি জনগণ মনে- প্রাণে চেয়েছিল তালেবান যাতে ক্ষমতায় আসতে পারে। ইসলামী শাসন বা জীবন ব্যবস্থা অবশ্যই সবার কল্যাণই বয়ে আনতে বাধ্য।
''আফগানিস্তানের মানুষের জীবনে এখন শান্তি ফিরে আসবে। তালেবান বাহিনীর মাধ্যমেই আমরা অনুপ্রেরণা পাই, হাল বা বৈঠা না ছেড়ে দেওয়ার।''
তালেবানের বিজয়ের ফলে আফগানিস্তানে যুদ্ধ শেষে শান্তি আসতে পারে, সেটা সবাই আশা করবে মিঃ হুসাইন। কিন্তু গত কুড়ি বছরে দেশে যে সামাজিক এবং রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, বিশেষ করে নারী অধিকার বিষয়ে, সেটা তালেবান যদি উল্টে দেবার চেষ্টা করে তাহলে শান্তি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে।
জাতি-ধর্ম, নারী-পুরুষ সবার সমান অধিকার স্বীকৃত হলে তবেই বলতে পারবেন যে আফগানিস্তানে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

ছবির উৎস, Anadolu Agency
তালেবান কি পেছনের দিকে যাচ্ছে?
তাদের বিজয়ের পর তালেবান যেভাবে দেশ শাসন করছে তা নিয়ে উদ্বেগও আছে, যেমন লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:
''গত ২৬-এ সেপ্টেম্বর বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে ''হেরাত শহরের রাস্তার মোড়ে সন্দেহভাজন অপহরণকারীদের মৃতদেহ ঝুলিয়ে রাখলো তালেবান" শীর্ষক প্রতিবেদনটি দেখলাম। খুবই লোমহর্ষক ঘটনা।
''তালেবান যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এখন মনে হচ্ছে তারা সেখান থেকে ধীরে ধীরে সরে আসছে।
ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যেখানে গ্রহণযোগ্যতা দরকার, সেখানে তালেবান আগের মতোই উল্টো পথে চলছে। অথচ যে পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় তালেবান ক্ষমতায় এসেছে, সেই পাকিস্তানই এখন পর্যন্ত তাদের সরকারকে স্বীকৃতি দেয়নি।
''আমার প্রশ্ন এ ধরনের বিতর্কিত কাজ করলে তারা কী আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে স্বীকৃতি পাবে?''

ছবির উৎস, PATRICIA DE MELO MOREIRA
পাকিস্তান তাদের স্বীকৃতি না দিলেও, কাবুলে তাদের উপস্থিতি ইতোমধ্যেই লক্ষণীয় মিঃ রহমান। কিন্তু পাকিস্তান নব্বই দশকের মত তালেবানকে স্বীকৃতি দিয়ে একা হতে চায় না। তারা চেষ্টা করছে যাতে অন্তত আঞ্চলিক দেশগুলোকে নিয়ে তালেবান সরকারের সাথে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক গড়তে পারে।
কিন্তু এখানে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, তালেবান কি আদৌ স্বীকৃতি নিয়ে চিন্তিত? তারা নিশ্চয়ই এক ঘরে হতে চায় না, কিন্তু একই সাথে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে খুশি করার জন্য তাদের ইসলামপন্থী শাসন ব্যবস্থা বিসর্জন দিতে চায় না।
একদিকে, তারা যেমন নারীদের স্কুল-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাদ দিচ্ছে, অন্যদিকে তারা চীন, রাশিয়া ইত্যাদি দেশ থেকে অর্থনৈতিক সাহায্য নেবার জন্য চেষ্টা করছে।

ছবির উৎস, EPA
অর্থনৈতিক দুরবস্থার প্রতিকার কী?
আফগানিস্তানের অর্থনীতির বেহাল অবস্থা নিয়েই পরের চিঠি, লিখেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ:
''আটাশে সেপ্টেম্বর সান্ধ্যকালীন অধিবেশনে আফগানিস্তানের ব্যাংক ব্যবস্থা ধসে পড়ার নিউজ শুনলাম। এখন আমার প্রশ্ন, এরকম অর্থনৈতিক দুরবস্থার পিছনে কী কারণ থাকতে পারে?
''রাশিয়া ও চীনের পক্ষ থেকে মানবিক সহায়তা কিছুটা আশাব্যঞ্জক বলে মনে হলেও, দেশের অর্থনীতি পূর্বের অবস্থায় ফিরে পেতে আফগান বর্তমান সরকারের কার্যক্রম কোন দিকে যাচ্ছে?''
সত্যি কথা বলতে মিঃ ছাইফুল্লাহ, আফগানিস্তান কখনোই অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল ছিল না। তালেবান ক্ষমতায় আসার আগেও আফগানিস্তান পুরোপুরি বিদেশী অনুদানের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এখন, অনেক বৈদেশিক সাহায্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, যার ফলে একটি খারাপ পরিস্থিতি বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে।
সম্ভাব্য বিপর্যয় থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করতে তালেবান তাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে এবং চীনের দিকে তাকাবে, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু চীন একক ভাবে তালেবানের দায়িত্ব নেবে কি না, সেটা নিশ্চিত না।
এক দিকে আফগানিস্তানে যখন ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা হতে যাচ্ছে, তখন দক্ষিণ এশিয়ার অপর প্রান্তে, ভারতের আসাম রাজ্যে মুসলমানরা আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

ভারত কি তার অতীত অস্বীকার করছে?
আসাম থেকে বিবিসি বাংলার অমিতাভ ভট্টশালী রিপোর্ট থেকে সেরকম ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। সে বিষয়ে লিখেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের বড় খোচাবাড়ী থেকে মোহাম্মদ জামির হোসেন সজিব:
''ভারতের আসাম থেকে অমিতাভ ভট্টশালী যে রিপোর্টটি বিবিসি প্রকাশ করেছে তা আসলেই হৃদয় বিদারক। ভারতে মুসলিমরা যে করুণ অবস্থায় দিন পার করছে তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়।
''যেমন, কৃষি খামার করার জন্য মুসলিমদের টার্গেট করে ঘর বাড়ি ভেঙ্গে দেওয়া, প্রতিবাদ করলে গুলি করে হত্যা করা, গো মাংস বহন করার অপরাধে পিটিয়ে হত্যা করা, বা গরু চোর অপবাদ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করার মত ঘটনা।
''আসলে আস্তে আস্তে ভারত তার নিজের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা শুরু করেছে বলেই মনে হয়।''
ভারতের যে অগ্রযাত্রা আমরা বিগত তিন-চার দশকে দেখেছি, সেটা কিছুটা হলেও থমকে গেছে বলেই মনে হচ্ছে। ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী মনে হয় দেশের সংস্কৃতি-ঐতিহ্যে মুসলিমদের সংশ্লিষ্টতা কমিয়ে দেখাতে চায়।
ভারতের গণতান্ত্রিক আর অর্থনৈতিক উন্নয়ন এই কারণে ব্যাহত হচ্ছে বলে আমার মনে হয়।

ছবির উৎস, Guy Smallman
ব্রিটেনের নারী হুমকি মুখে?
এবারে আসি ব্রিটেনের একটি বিষয়ে। সম্প্রতি লন্ডনের একটি পার্কে একজন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি নারী শিক্ষক খুন হওয়ায় নানা মুখী বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে, সাবিনা নেসার হত্যাকাণ্ড প্রথম দিকে মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ না করায়, অনেকে বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গির অভিযোগ তুলেছেন।
সে বিষয়ে লিখেছেন সাভার সরকারি কলেজ থেকে মনিরুল হক রনি:
''লন্ডনে সাবিনা নেসা হত্যাকাণ্ড ব্রিটেনে ঘরের বাইরে নারীর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে যেমন উদ্বেগ তৈরি করেছে, তেমনি এই ঘটনার মিডিয়া কভারেজ নিয়েও শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।
''গত মার্চে একই রকম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন এক শ্বেতাঙ্গ নারী, সারা এভারার্ড। সারার হত্যাকাণ্ড যেভাবে ব্রিটেনকে নাড়া দিয়েছিল,সাবিনার হত্যাকাণ্ড সেভাবে প্রথমে কোন গুরুত্বই পায়নি।
''যুক্তরাজ্যের মতো একটি দেশে সাবিনার ঘটনাটি কি তাহলে নিছক মিডিয়ার অবহেলা নাকি তিনি ধর্ম,বর্ণ বা সাম্প্রদায়িক বিভাজনের শিকার? একই সাথে, এই ঘটনা পশ্চিমা বিশ্বে ঘরের বাইরে নারীর নিরাপত্তার মুখে চরম চপেটাঘাত নয় কি?''
আমি এই ঘটনাকে নারীর নিরাপত্তার মুখে চরম চপেটাঘাত বলবো না মিঃ হক। কারণ, ব্রিটেনে নারীরা নিরাপদেই ঘুরে বেড়াতে পারেন। সাবিনা নেসার হত্যাকাণ্ড স্বাভাবিক ঘটনা না। তাছাড়া, পুলিশ খুব দ্রুত সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেফতার করেছে।
সারা এভারার্ড-এর খুনের দায়ে স্বয়ং একজন পুলিশ অফিসারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং এই সপ্তাহেই বিচারে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তবে হ্যাঁ, সাবিনা নেসার হত্যাকাণ্ড মিডিয়ায় জায়গা করে নিতে কয়েক দিন লেগে যায়, এবং তার জন্য মিডিয়ার অবহেলাকে তো দায়ী করা হচ্ছেই, কিন্তু এই অবহেলার পেছনে বর্ণবাদ একটি ভূমিকা রেখেছে বলে অনেকে সন্দেহ করেন।

ছবির উৎস, Getty Images
মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়ে বিতর্ক
এবার আসি পুরনো একটি বিষয়ে। করোনাভাইরাস মহামারি শুরু হবার কয়েক মাস পর থেকেই বাংলাদেশে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট-এর অভাব নিয়ে আলোচনা জোরে সোরে শুরু হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি ডাক্তারের বিপরীতে পাঁচজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট থাকা প্রয়োজন, কিন্তু বাংলাদেশে আছে ঠিক তার উল্টো! সে বিষয়ে লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মোহাম্মদ মোতাছিম বিল্লাহ মুন্না:
''বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোতে মেডিকেল টেকনোলজিস্টের সংকট চরমে থাকায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনমত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু ১৮ মাস পেরিয়ে গেলেও তার এই ঘোষণার কোন বাস্তবায়ন করতে পারেনি স্বাস্থ্য বিভাগ।
''অথচ অধিকাংশ হাসপাতালে কোটি কোটি টাকার মেশিন অলস পড়ে আছে, রোগীরা তাদের দরকারি টেস্ট করাতে পারছে না। প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে টেস্ট করাতে বাধ্য হচ্ছেন।
''আমার প্রশ্ন, প্রাইভেট হাসপাতালে টেস্ট ও কমিশন বাণিজ্যে ভাটা পড়ার ভয়ে এক শ্রেণীর আমলাদের প্ররোচনায় কি মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগে গড়িমসি করছে সরকার?''
বাংলাদেশ সরকার কেন এই গুরুত্বপূর্ণ পেশাকে প্রায় অবহেলার চোখে দেখে তা আমার কাছে একটি রহস্য, মিঃ বিল্লাহ। আমি বলছি না যে, আপনার সন্দেহই ঠিক, কিন্তু আপনার কথা উড়িয়েও দেয়া যায় না।
যে কোন রোগ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য শুধু গবেষক আর ডাক্তার নয়, অন্যান্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেডিকেল পেশাজীবীও দরকার। আর তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট। তাহলে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় তাদের উপস্থিতি এত কম কেন?

চুল কেন কাটতে হবে?
পরের চিঠি লিখেছেন খুলনার কপিলমুনি থেকে মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পী:
''বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ব বিদ্যালয়ে ১৪জন শিক্ষার্থীর চুল কেটে দেবার ঘটনা গণ মাধ্যমে জানলাম। বর্তমানে ছাত্ররা সেখানে ঐতিহ্য ও বাংলাদেশ বিভাগের চেয়ারম্যানের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে আন্দোলন করছে বলে জেনেছি।
''গণ মাধ্যমে কয়েকজন ছাত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছে পরীক্ষার হলে ছাত্রদের চুল কেটে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষকের সম্পর্ক অনেক মধুর এবং আস্থার হয়। তাই প্রকৃত ঘটনা জানা প্রয়োজন।''
আপনি ঠিকই বলেছেন মিঃ বিল্লাল, প্রকৃত ঘটনা জানার জন্য তদন্ত কমিটির রিপোর্টের অপেক্ষা করতে হবে। আবার এও আশা করতে হবে যে, তদন্ত কমিটি যেন কোন কিছু ধামা-চাপা দেবার চেষ্টা না করে।
সত্য উদঘাটনের জন্য মিডিয়ার ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে সে ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে পালন করতে হবে।
বিবিসি নিয়ে কৌতূহল আর প্রশংসা
এবারে আমাদের অনুষ্ঠান নিয়ে কিছু চিঠি। প্রথমে, জাহাঙ্গীর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লিখেছেন মোহসীন মানবিক:
''বেশ কয়েক মাস ধরে আপনাদের ঢাকা ব্যুরোর সংবাদদাতা পারমিতা হীমের কোন সাড়াশব্দ নেই। উনি কী বিবিসি বাংলা ছেড়ে চলে গেছেন?
আপনাদের সংবাদদাতাদের মধ্যে সবচেয়ে ভাল প্রমিত বাংলা উচ্চারণ করেন মুন্নী আক্তার। আমার মনে হয় উনি কঠোরভাবে নিয়ম মেনে প্রমিত বাংলা উচ্চারণে সংবাদ পাঠ করেন।''
আপনার প্রশ্নের জবাবের আগে আমার একটি প্রশ্ন আছে। আপনার নাম কি আসলেই মানবিক? যাই হোক, আপনি ঠিকই ধরেছেন, পারমিতা হীম প্রায় দু'মাস আগে বিবিসি ছেড়ে চলে গেছেন, তাই তার কোন সাড়াশব্দ আপনি পাচ্ছেন না। আর আপনার শুভেচ্ছা আমি মুন্নিকে ইতোমধ্যেই পৌঁছে দিয়েছি।

ছবির উৎস, GREG BAKER
পরের চিঠি লিখেছেন বাগেরহাটের ফকিরহাট থেকে তন্ময় কুমার পাল:
''রেডিওতে বিবিসির অনুষ্ঠান শুরুর আগ মূহূর্তের ঘোষণাতে বলা হয় আপনারা এখন শুনবেন সর্বশেষ বিশ্ব সংবাদ। কিন্তু যখন সংবাদ পাঠ করা হয় তখন বিশ্বের নানা প্রান্তের খবর মাত্র তিন-চার মিনিটের মধ্যে খুব সংক্ষিপ্ত আকারে পাঠ করা হয়।
''বিশ্ব সংবাদ গুলো যখন পাঠ করা হয়, তখন একটি সংবাদ শেষ করে অন্য একটি সংবাদ শুরু করার মধ্যবর্তী সময়ে যে বিরতির প্রয়োজন হয়, সেটা অনেক সময় অনুসরণ করা হয় না।
''ফলে কোন মধ্যবর্তী বিরতি ছাড়া যখন একাধিক সংবাদ এক সাথে অল্প সময় পাঠ করা হয় তখন উক্ত সংবাদ গুলো পৃথক ভাবে বুঝতে বেগ পেতে হয়।''
আপনার দ্বিতীয় পয়েন্টের সাথে আমি একমত মিঃ পাল। প্রতিটি খবরের পরে এক ঝলক বিরতি দিলে পুরো খবর আরো শ্রুতি বান্ধব হয়। তবে আপনার প্রথম পয়েন্ট-এর সাথে একমত হলেও, এখানে কোন পরিবর্তন আনা একেবারে অসম্ভব।
আমাদের রেডিও অনুষ্ঠান ৩০ মিনিটই থাকবে, এবং বিশ্ব সংবাদ বা নিউজ বুলেটিন বাড়াতে গেলেই কোন একটি প্রতিবেদন বাদ দিতে হবে যেটা আমরা চাই না। আন্তর্জাতিক সংবাদের একটি আমরা বিস্তারিত দেবার চেষ্টা করি আর কয়েকটি সংক্ষিপ্ত আকারে।
এই নিবন্ধে Google YouTubeএর কনটেন্ট রয়েছে। কোন কিছু লোড করার আগে আমরা আপনার অনুমতি চাইছি, কারণ তারা হয়ত কুকি এবং অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকতে পারে। আপনি সম্মতি দেবার আগে হয়ত Google YouTube কুকি সম্পর্কিত নীতি এবং ব্যক্তিগত বিষয়ক নীতি প়ড়ে নিতে চাইতে পারেন। এই কনটেন্ট দেখতে হলে 'সম্মতি দিচ্ছি এবং এগোন' বেছে নিন।
End of YouTube post
গত সোমবার আমাদের টেলিভিশন অনুষ্ঠান বাংলাদেশ ট্রেন্ডিং এ চাঁদে জমি কেনা নিয়ে একটি রিপোর্ট এবং আলোচনা ছিল, যেটা নিয়ে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:
''সম্রাট শাহজাহান তাঁর স্ত্রীর ভালোবাসাকে অমর করে রাখতে যেমন তাজমহল তৈরি করেছিলেন, খুলনার এক সাংবাদিক বন্ধু বোধহয় তার ডাক্তার স্ত্রীর ভালোবাসাকে অমর করে রাখতেই চাঁদে জমি কিনে সেই জমির দলিল উপহার দিয়েছেন তার স্ত্রীকে।
''কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, চাঁদের সম্পত্তির মালিক কে? ঠিক কার কাছ থেকে চাঁদের সম্পত্তি কিনেছেন ঐ সাংবাদিক বন্ধু এবং কোন রেজিস্ট্রি অফিসে এই সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করেছেন আর চাঁদের সম্পত্তির মূল্যই বা কত? বিবিসি বাংলা কি এ বিষয়ে কিছু জানে? বিষয়টি বেশ হাস্যকর।''
বিষয়টি সত্যিই হাস্যকর মিঃ সরদার। কিন্তু আপনার সব প্রশ্নের জবাব তো অনুষ্ঠানেই ছিল। কার কাছ থেকে কিনেছেন, কত দিয়ে কিনেছেন, কীভাবে মূল্য পরিশোধ করেছেন ইত্যাদি। আর এসবই যে প্রতারণা, সেটাও অনুষ্ঠানে একজন মহাকাশ বিশেষজ্ঞ বুঝিয়ে দিয়েছেন।
বিবিসি বাংলার ইউ টিউব চ্যানেলে গেলে ট্রেন্ডিং অনুষ্ঠানের ক্লিপটি দেখতে পাবেন (লিঙ্কটা উপরেও দেয়া হয়েছে)।

এবারে রেডিও সম্প্রচার মান নিয়ে একটি অভিযোগ করে লিখেছেন রাজশাহীর দুর্গাপুর থেকে মোহাম্মদ ফাতিউর রহমান রাকিব:
''সোমবার ২৭ তারিখে রাজশাহীতে ৮৮.৮ এফএম এ বিবিসি বাংলা সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিট থেকে শুনতে অনেক বেগ পেতে হয়েছিল। কথা গুলো বেধে বেধে আসছিলো। এরপর মিনিট তিনেক বিদ্যুৎ ছিল না, তখন আর শোনা যায় নাই। তারপর থেকে পুরো অনুষ্ঠান শুনতে অনেক বেগ পেতে হয়। পরে কিছু কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে যায়।
''এর আগে আমি অনেক বার এমন অভিযোগ জানিয়েছি, বিবিসি বাংলা আশানুরূপ পদক্ষেপ গ্রহণ করে নাই। তা খুবই দুঃখজনক।''
আমরা চেষ্টা করি মিঃ রহমান, কিন্তু বাংলাদেশের এফ এম প্রচার কেন্দ্রগুলো বিবিসি পরিচালনা করে না। সকল কারিগরি দিক দেখা -শোনা করে প্রচার কেন্দ্রগুলোর মালিক বাংলাদেশ বেতার। শ্রোতার অভিযোগ পেলে আমরা তাদের জানাই।
সব শেষে, আমাদের একটি ঘোষণায় ব্যাকরণের গরমিল-এর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে লিখেছেন চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ থেকে মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম:
''বিবিসি বাংলার খবর শুরুর পূর্ব মুহূর্তে বিজ্ঞাপনের অংশ হিসেবে বলা হয় "আপনারা যেখানে আছেন, বিবিসি আপনার সাথেই আছে।" এখানে বাক্যের প্রথম অংশে বহুবচন 'আপনারা' এবং দ্বিতীয় অংশে একবচন 'আপনার' ব্যবহার করা হয়েছে। বাক্যের দুই অংশে ভিন্ন বচন ব্যবহার কি সঠিক না ভুল? যদি সঠিক হয়, তবে কোন নিয়মে সঠিক?''
ভাল কথা বলেছেন মিঃ ইসলাম। এখানে নিয়ম বলতে পারবো না। কারণ ব্যাকরণের দিক দিয়ে আপনি ঠিকই বলেছেন, দু'জায়গাতেই হয় আপনারা নয় আপনি বলা উচিত ছিল।
কিন্তু রেডিওতে যেহেতু আমারা শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে সব কিছু বলি, তাই বাক্যের শুরুতে আপনারা ঠিক আছে, কিন্তু শেষে আমরা শুধু মাত্র একজন শ্রোতাকে লক্ষ্য করেই বলছি, আপনি বিবিসির সাথেই আছেন।
ঐ একজনের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ শ্রোতার কাছে আমরা পৌঁছাতে চাই।
এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:
শাহিন তালুকদার, মৌকরন, পটুয়াখালী।
মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন, রংপুর।
সেলিম রাজ, বেনুঘাট দিঘির পাড়, রংপুর।
দীপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়
মোহাম্মদ সাইদুর রহমান, কাউনিয়া, বরিশাল।
মুহাম্মদ মাসুদুল হক মাশুক, চরফ্যাশন, ভোলা।
ফয়সাল আহমেদ সিপন, ঘোড়াদাইড়, গোপালগঞ্জ।
মেনহাজুল ইসলাম তারেক, পার্বতীপুর, দিনাজপুর।








