এডিটার'স মেইলবক্স: ইভ্যালি, পাকিস্তান ক্রিকেট আর অকাস নিয়ে প্রশ্ন

ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেলের মুক্তির দাবীতে গাহক আর ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ, ঢাকা, ২১/০৯/২০২১

ছবির উৎস, NurPhoto

ছবির ক্যাপশান, ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেলের মুক্তির দাবীতে গাহক আর ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ
Published

সম্প্রতি বাংলাদেশে ইভ্যালি, ইঅরেঞ্জ ইত্যাদি ই-কমার্স কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তারও আগে যুবক, ডেসটিনির মত কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতারণার গুরুতর অভিযোগ ছিল।

ইন্টারনেট যুগের প্রতারনা নিয়ে কয়েকটি চিঠি দিয়ে আজ শুরু করছি, প্রথমে লিখেছেন ঢাকার কাছে সাভার সরকারি কলেজ থেকে মুনিরুল হক রনি: 

''যুবক থেকে শুরু করে ডেসটিনি, ইউনিপে টু আর সাম্প্রতিককালের ই অরেঞ্জ, ইভ্যালিসহ ১১টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ও ২৬৬টি সমবায় সমিতির মাধ্যমে গ্রাহকের ২১ হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে।

''সময়ের পরিক্রমায় পদ্ধতি ভিন্ন হলেও সবার লক্ষ্য ছিল এক এবং অভিন্ন। সরকার বা প্রশাসনের নীরবতায় বছরের পর বছর এভাবে অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে এসব প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা আটক বা জেলে গেলেও অধিকাংশ গ্রাহক তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত পাননি।

প্রশ্ন হল, সরকারের চোখের সামনে এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চললেও প্রশাসন কেন প্রথমেই তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে এলো না? অর্থ লোপাটের ঘটনা কি একা গ্রাহকের নির্বুদ্ধিতার কারণে নাকি সরকারের আইনের দুর্বলতার কারণে?''

ইভ্যালি প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেলকে পুলিশ সেপ্টেম্বর মাসের ২১ তারিখে গ্রেফতার করে।

ছবির উৎস, Barcroft Media

ছবির ক্যাপশান, ইভ্যালি প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেলকে পুলিশ সেপ্টেম্বর মাসের ২১ তারিখে গ্রেফতার করে।

আইনের দুর্বলতার চেয়ে আইনের প্রয়োগের দুর্বলতাটা হয়তো বোধহয় বেশি দায়ী মিঃ হক। ব্যবসার জন্য ই-কমার্স বাংলাদেশে নতুন একটি পদ্ধতি, সেখানে আইন হয়তো পুরোপুরি তাল মেলাতে পারেনি।

কিন্তু আর্থিক জালিয়াতি, প্রতারণা এ'সব চিহ্নিত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার জন্য নিশ্চয়ই উপযুক্ত আইন রয়েছে। অভাব মনে হচ্ছে সদিচ্ছা আর দক্ষতার।

তবে হয়তো সরকারের ঘুম ভাঙ্গছে, দু'দিন আগে বানিজ্য মন্ত্রী বলেছেন ই-কমার্স এর জন্য একটি রেগুলেটরি কমিশন গঠন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট আইনগুলো সংশোধন করা হবে। দেখা যাক, এই বাঘ কি শুধু হুংকারই দেয়, নাকি কামড়ও দিতে প্রস্তুত!

সম্পর্কিত খবর:

বাংলাদেশে বর্তমানে সব ধরণেই পণ্যই অনলাইনে কেনা-বেচা হয়।

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশে বর্তমানে সব ধরনের পণ্যই অনলাইনে কেনা-বেচা হয়।

ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানের চটকদার বিজ্ঞাপন

পরের চিঠি লিখেছেন গোপালগঞ্জের ঘোড়াদাইর থেকে ফয়সাল আহমেদ সিপন:

''প্রতারণার মাধ্যমে গ্রাহকের টাকা আত্মসাতের মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাসেল ও তাঁর স্ত্রী।

''মানুষ বোকা নয়। মানুষ ঠকছে কিন্তু বোকামি করে নয়। সব কিছুর মূল লোভ। এই সব ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনও হয় লোভনীয় ও চটকদার। আসুন সচেতন হই। কষ্ট করে ধনী হই।''

ভাল উপদেশ দিয়েছেন মিঃ আহমেদ। তবে আমার মনে হয়, মানুষ সর্ব ক্ষেত্রে আইনের শাসন দেখলে নিজেও আইনের পথেই চলতে চাইবে। আর লোভ সব সময় থাকবে, সেটা বেআইনি কিছু না, যদিও লোভে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলে অভিযোগ করার সুযোগ থাকবে না।

কিন্তু সেটা লোভ হোক আর যাই হোক, কেউ যদি প্রতারণার শিকার হয়, তাহলে প্রতারকের বিচার এবং শাস্তি অবশ্যই থাকতে হবে।

নগদ-এর ওয়েবসাইটে তাদের সার্ভিসকে 'ডাক বিভাগের ডিজিটাল লেনদেন' বলা হয়েছে।
ছবির ক্যাপশান, নগদ-এর ওয়েবসাইটে তাদের সার্ভিসকে 'ডাক বিভাগের ডিজিটাল লেনদেন' বলা হয়েছে।

নগদ-এর দায়িত্ব কার?

যুবক, ডেসটিনি, ইভ্যালি, ইঅরেঞ্জ ইত্যাদি কোম্পানির প্রতারণার সাথে নগদ নামক কোম্পানির সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছেন বগুড়ার শেরপুর থেকে সম্পদ কুমার পোদ্দার:  

''মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান "নগদ" চালু করার সময় বলা হল এটা বাংলাদেশ ডাক বিভাগের আওতাধীন সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। এ কথার উপর আস্থা রেখে পাঁচ কোটিরও বেশি গ্রাহক একাউন্ট খুলে হাজার হাজার কোটি টাকা লেনদেন শুরু করলো।

''বিবিসি বাংলার মাধ্যমে জানতে পারলাম, নগদের কোনো শেয়ার ডাক বিভাগের নেই বরং এতো দিনে তারা ৫১ শতাংশ শেয়ার নেবার আলোচনা করছে। এই যদি হয় বাস্তবতা, তাহলে সরকার বা সরকারের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কি কোনো দায়িত্ব এড়াতে পারে?''

এখানে আপনার ছোট একটি ভুল আছে মিঃ পোদ্দার। নগদ কখনো নিজেদের সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি হিসেবে প্রচার করে নি। বাংলাদেশ ডাক বিভাগের যে মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস, সেটা থার্ড ওয়েভ টেকনলজিস লিমিটেড নামক কোম্পানি পরিচালনা করতো। তারাই পরবর্তীতে নগদ নামে আবির্ভূত হয়।

তবে হ্যাঁ, কোম্পানি হিসেবে নগদ কখনো পোস্ট অফিসের মালিকানাধীন না হলেও, তাদের প্রচারে নিজেদের ডাক বিভাগের ডিজিটাল লেনদেন বলে বর্ণনা করায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। এখানে ডাক বিভাগ নগদের সাথে কী চুক্তি করেছে, কেন করেছে, সব কিছুই অস্বচ্ছ।

এখন বলা হচ্ছে ডাক বিভাগ নগদের ৫১ শতাংশ মালিকানা নিয়ে নতুন কোম্পানি করবে, কিন্তু তার প্রক্রিয়াও পরিষ্কার নয়। (এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন)

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বাবর আযম

ছবির উৎস, AAMIR QURESHI

ছবির ক্যাপশান, খেলা হবে না: পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বাবর আযম

পাকিস্তান, তালেবান আর ক্রিকেট

টাকার খেলা থেকে আসি প্রকৃত খেলার খবরে। অথবা বলতে পারেন, না খেলার খবরে। লিখেছেন ভোলার চরফ্যাশন থেকে মুহাম্মদ মাসুদুল হক মাশুক:

''নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দল খেলার আগ মুহূর্তে নিরাপত্তার অজুহাতে পাকিস্তান সফর বাতিল করেছে। নিরাপত্তার কথা না বললেও একই কারণে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল পাকিস্তান সফর না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

''পাকিস্তান বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে আমন্ত্রণ জানালে বাংলাদেশও কৌশলে বিশ্বকাপ খেলার আগে এ ধরনের সফরের কথা নাকচ করে দিয়েছে।

''আমি মনে করি, পাকিস্তানের সাথে আফগানিস্তানের তালেবানদের দহরমমহরম সম্পর্কই পাকিস্তানে বিদেশি ক্রিকেট টিমকে চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

''সম্প্রতি আফগানিস্তানে তালেবানের উত্থানে পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মহলে বহুল আলোচিত বিষয়। এজন্য পাকিস্তান ক্রিকেট দলকে নিকট ভবিষ্যতে চরম মূল্য দিতে হবে।''

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান প্রাক্তন ক্যাপ্টেন রামিয রাজা

ছবির উৎস, ARIF ALI

ছবির ক্যাপশান, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান প্রাক্তন ক্যাপ্টেন রামিয রাজা

হয়তো আপনি ঠিকই বলেছেন মিঃ হক, যে আফগানিস্তানের ঘটনা প্রবাহর কারণে পশ্চিমা দেশের ক্রিকেট দলগুলো নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হতে পারে। কিন্তু কাবুলে তালেবানের ক্ষমতা গ্রহণ পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ উস্কে দিতে পারে বলে যে ধারনা, সেটা ঠিক নাও হতে পারে।

অন্তত পাকিস্তান বিশ্বাস করে যে, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন বাহিনী চলে যাবার ফলে অনেক আফগান নিজ দেশে ফিরে যাবে, পাকিস্তানের ভেতরে সশস্ত্র গোষ্ঠীদের সাথে তাদের যোগাযোগ এবং কার্যক্রম কমে যাবে। ফলে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার সম্ভাবনা কমে যাবে, বাড়বে না।

এখন দেখা যাক, পাকিস্তানের আশা না নিউ জিল্যান্ডের আশঙ্কা, বাস্তবে কোনটার প্রতিফলন হবে।

অকাস নিয়ে ফ্রান্স-এর মাথাব্যথা

পশ্চিমা বিশ্বের নিরাপত্তা নিয়ে আরেকটি বিতর্ক সম্প্রতি শুরু হয়েছে, যার প্রভাব আরো অনেক গভীর হতে পারে বলে ধারনা করা যায়। অস্ট্রেলিয়া পারমানবিক শক্তি পরিচালিত সাবমেরিন কেনার জন্য ফ্রান্সের সাথে চুক্তি বাতিল করে ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে চুক্তি করায় এই বিতর্ক।

ফরাসী প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ: রাগ করা ছাড়া তার আর কোন পথ নেই।

ছবির উৎস, LUDOVIC MARIN

ছবির ক্যাপশান, ফরাসী প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ: রাগ করা ছাড়া তার আর কোন পথ নেই।

সে বিষয়ে লিখেছেন বরিশালের কাউনিয়া থেকে মোহাম্মদ সাইদুর রহমান:

''সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের মধ্যে অকাস নামের নতুন একটি নিরাপত্তা চুক্তির কারণে ফ্রান্সের সাথে দেশ তিনটির মারাত্মক কূটনৈতিক টানাপড়েন চলছে। ফ্রান্স এতটাই ক্ষুব্ধ হয়েছে যে, তারা একে পিঠে ছুরিকাঘাত বলে অভিহিত করেছে।

''বিবিসিসহ অন্যান্য গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের হুমকি মোকাবেলার জন্য অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের মধ্যে অকাস নামের নতুন নিরাপত্তা চুক্তিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

''আমার প্রশ্ন যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য তাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র ফ্রান্সকে বাদ দিয়ে কেন এ নিরাপত্তা চুক্তি করলো? এটা কি শুধুই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক লাভ, না ফ্রান্সকে বাদ দিয়ে জো বাইডেন প্রশাসনের নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ? ফ্রান্স এ পরিস্থিতি কিভাবে সামাল দিবে?''

রানীর ছায়ায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী: ব্রিটেনকে আমেরিকার ঘনিষ্ঠ সহযোগী করে রাখবেন।

ছবির উৎস, Michael M. Santiago

ছবির ক্যাপশান, রানীর ছায়ায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী: ব্রিটেনকে আমেরিকার ঘনিষ্ঠ সহযোগী করে রাখবেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ফ্রান্সের অনেক অসুবিধা হবে মিঃ রহমান, কারণ, রাগ দেখানো ছাড়া তাদের হাতে তেমন অস্ত্র নেই।

ফ্রান্স চেষ্টা করছে ইউরোপের অন্যান্য দেশকে সাথে নিয়ে আলাদা একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কিন্তু সেখানে তেমন কোন সাড়া পাচ্ছে না। এমনকি জার্মানিও আমেরিকাকে ছেড়ে অন্য কোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কথা ভাবতে চায় না।

আমার মনে হয় ব্রিটেন এখানে ঘটকের ভূমিকা পালন করেছে। ঐতিহাসিক কারণে অস্ট্রেলিয়ার সাথে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে আর নিরাপত্তা বিষয়ে আমেরিকার সাথে তাদের একটি বিশেষ সম্পর্কের কথা সবাই জানে।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ছেড়ে দেবার পর ব্রিটেনের লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্ব রাজনীতিতে নিজস্ব জায়গা তৈরি করা, যেটা তারা আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায়।

আর মাস খানেক পরেই ব্রিটেনের গ্লাসগো শহরে শুরু হবে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন, যেখানে আমেরিকা, চীন সবাই বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতে তাদের পরিকল্পনার কথা বলবে। বাংলাদেশের অবস্থান এখানে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

ইতালির তুরিন শহরে বিক্ষোভের সময় এক তরুণ, ২৪/০৯/২০২১

ছবির উৎস, Stefano Guidi

ছবির ক্যাপশান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণরা জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করছে।

জলবায়ু পরিবর্তন আর বাংলাদেশী তরুণ

সে বিষয়ে লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:

''বিবিসি বাংলা'র ওয়েব সাইটে একটি ভিডিওতে দেখলাম, বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন ২০২১ সাল সবচেয়ে বেশি উষ্ণতম বছরের একটি হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশেও জলবায়ু দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে।

''তাই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করার প্রয়াসে ২০২১ সালটা সত্যিই আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, বৈশ্বিক উষ্ণতার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বিশ্বকে বাঁচানোর জন্য হাতে সময় খুব বেশি নেই।

''বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশই তরুণ। তাই এ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় তাদেরকে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার দিকটি আমাদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।''

আপনি ঠিকই বলেছেন মিঃ ইসলাম, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে হাতে সময় খুবই কম। তরুণদের অবশ্যই সব কর্মকাণ্ডেই সম্পৃক্ত করা উচিত, আর মনে হয় সেটা করাও হয়। তবে এটাও ঠিক, অন্য কারো জন্য বসে না থেকে তরুণদেরও উচিত বিভিন্ন চিন্তা-ভাবনা এবং প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে যাওয়া।

নৌকা

ছবির উৎস, Getty Images

ছবির ক্যাপশান, বেশি রপ্তানির সুযোগ অতিরিক্ত মাছ ধরার ঝুঁকি তৈরি করবে বলে আশঙ্কা।

ইলিশ মাছ আর বন্ধু ভারত

ইলিশ মাছ নিয়ে বাংলাদেশ আর ভারতের বাঙালিদের মনে সব সময় যে একটা উৎসাহ কাজ করে, তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। সেই ইলিশ মাছ আবারো খবরে এসেছে, যা নিয়ে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে মুকুল সরদার:

''ভারতের বাজারে বাংলাদেশী ইলিশের ব্যাপক চাহিদা থাকার কারণে আসন্ন দুর্গা পূজাকে সামনে রেখে ভারতে ২০৮০ মেট্রিক টন ইলিশ রপ্তানি করবে বাংলাদেশ।

''বন্ধু প্রতিম রাষ্ট্রের প্রতি এ ধরনের আচরণ খুবই স্বাভাবিক বলে আমি মনে করি। আশা করি ভারত এ বন্ধুত্বের মূল্য দেবে।

''প্রসঙ্গত আরও একটি বিষয় উল্লেখ করা প্রয়োজন। এ মৌসুমে বাংলাদেশের নদ-নদী গুলোতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়লেও ইলিশের মূল্য বেশ চড়া। ছোট ইলিশের মূল্যও খেটে খাওয়া মানুষের নাগালের বাইরে। আমার মনে হয়, দেশীয় বাজারে ইলিশের মূল্য নিয়ন্ত্রণে আরও একটু নজরদারির প্রয়োজন।''

বাজারে ইলিশ মাছের দামের দিকে নজরদারি করে কি আদৌ কোন লাভ হবে মিঃ সরদার? দাম কমাতে হলে সরবরাহ বাড়াতে হবে, উৎপাদন বাড়াতে হবে এবং উৎপাদনের খরচ কমাতে হবে।

সরবরাহ বাড়াতে হলে হয়তো ইলিশ রফতানি কমাতে বা পুরোপুরি থামাতে হবে। যখন বাজারে দাম বাড়ছে, তখন হাজার হাজার টন ইলিশ রফতানির খবর কিন্তু পরিস্থিতি ভাল করে না, একটু খারাপও করে দিতে পারে।

বাংলাদেশে রেল যাত্রী

ছবির উৎস, NurPhoto

ছবির ক্যাপশান, বাংলাদেশে রেল যাত্রীরা পাথর আক্রমণের ঝুঁকিতে থাকেন।

এবারে আমাদের অনুষ্ঠানে একটি ভুল নিয়ে লিখেছেন রাজশাহীর দূর্গাপুর থেকে মোহাম্মদ ফাতিউর রহমান রাকিব:

''কুড়ি তারিখের রেডিও অনুষ্ঠানে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হল, চেয়ারম্যান এর পর কাউন্সিলর বলেছেন। তবে আমার মনে হয় ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান এর পর মেম্বার হয়ে থাকে।''

আপনি ঠিকই বলেছেন মিঃ রহমান, ইউনিয়ন পরিষদে কাউন্সিলর না, মেম্বার থাকে। এই ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত।

ট্রেন-এ পাথর ছোঁড়া বিপজ্জনক

পরের চিঠি লিখেছেন খুলনার পাইকগাছা থেকে মোহাম্মদ আজিজুল হাকিম রাকিব:

''বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ ট্রেনে যাতায়াত করে থাকে। কিন্তু ইদানীং প্রায়ই চলন্ত ট্রেনে বাইরে থেকে পাথর ছোড়া এবং সেই পাথরের আঘাতে ট্রেনের ভিতরের যাত্রীদের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে।

''মাঝে মাঝে পাথরের আঘাতে ট্রেনযাত্রীর মৃত্যুও হচ্ছে। রেল কর্তৃপক্ষ এবং সরকার কর্তৃক চলন্ত ট্রেনে পাথর ছোড়া বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে দাবী করা হলেও এমন ঘটনা থামছে না কেন?''

আমার মতে চলন্ত ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়া বন্ধ করার তিনটি পথ আছে।

প্রথমত, এবং আমার মতে এটা সব চেয়ে ভাল পথ, যারা পাথর ছোঁড়ে, তাদের লক্ষ্য করে গণসচেতনতা কার্যক্রম শুরু করা, যার মাধ্যমে তাদের বুঝিয়ে এসব করা থেকে বিরত রাখা যেতে পারে। যদি সেটা করা সম্ভব না হয়, তাহলে বিকল্প হবে প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের উপযুক্ত শাস্তি দেয়া, যাতে তারা আইনের ভয়ে পাথর ছোঁড়া থেকে বিরত থাকে। #

একই সাথে, দেশের রেল পথের যেসব অংশ ঝুঁকির মাঝে আছে, সেখানে উঁচু বেড়া নির্মাণ করা উচিত, যাতে লোকজন পাথর ছোঁড়ার জন্য লাইনের কাছে যেতে না পারে।

ভিডিওর ক্যাপশান, স্তন ক্যান্সার হয়েছে কিনা কীভাবে বুঝবেন?

এবারে আমাদের ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করে চিঠি লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল:

''বিবিসি নিউজ বাংলা ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনগুলো পড়ার পাশাপাশি "সর্বাধিক পঠিত" অংশটি দেখে থাকি। গত বছর থেকে বিশেষ করে করোনা মহামারীর পর থেকে লক্ষ্য করছি পাঠকরা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলো বেশি পড়ছেন।

''সেটা যে শুধু করোনা সংক্রান্ত তা নয়, যে কোন ধরণের স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রতিবেদন টপে থাকছে। এমনকি দু-এক বছরের পুরাতন প্রতিবেদনগুলোও কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত টপ লিস্টে থাকে। এ বিষয়টা হয়তো আপনারাও লক্ষ্য করেছেন।

''তাই, কর্মমুখী শিক্ষার অনুপ্রেরণামূলক গল্প, নারী সাফল্য, যৌন স্বাস্থ্য এবং কোভিড-১৯ সচেতনতামূলক বিষয়গুলো বেশি প্রাধান্য পাওয়ায় এ বিষয়ে আপনাদের আরো বেশি বেশি প্রতিবেদন সংযুক্ত করা দরকার। আমি মনে করি ওয়েবসাইটের "সর্বাধিক পঠিত" অংশটি পাঠকদের চাহিদা যাচায়ে আপনাদের সহায়তা করে থাকে।''

আপনি ঠিকই বলেছেন মিঃ শামীম উদ্দিন, ওয়েবসাইট ব্যবহারের পরিসংখ্যান পাঠকের চাহিদা এবং পছন্দ-অপছন্দ সম্পর্কে ভাল ধারণা দেয়।

আমাদের ওয়েবসাইটে কোন বিষয়গুলো পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে, কী ধরণের লেখা তারা বেশি সময় নিয়ে পড়ছেন, এগুলো আমরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করি।

বিবিসি বাংলায় ক'জন নারী?

সব শেষে, বিবিসি বাংলার কয়েকজন সাংবাদিকের খোঁজ নিতে প্রশ্ন করেছেন খুলনার বয়রা থেকে মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম:

''আমরা বিবিসি শুনি, অনুষ্ঠান পরিবেশকদের প্রতিও একটা প্রীতি অনুভব করি। তাদের সম্পর্কে থাকে আগ্রহ আর কৌতূহল। অনেক দিন হলো ঢাকার কিছু ব্রডকাস্টারের সাড়াশব্দ পাচ্ছি না।

''ওয়ালিউর রহমান মিরাজ, আহারার হোসেন, এরা কী কর্মরত আছেন? ঢাকা স্টুডিওতে এখন নারী ব্রডকাস্টার সংখ্যা কত?''

তারা অবশ্যই কর্মরত আছেন মিঃ ইসলাম। ওয়ালিউর রহমান মিরাজ এখন ঢাকা ব্যুরোর সম্পাদক আর আহারার হোসেন আমাদের অনলাইন পরিবেশনা দেখা-শোনার দায়িত্বে আছেন। যার ফলে তারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করার সময় পান না।

আর এই মুহূর্তে আমাদের ঢাকা অফিসে নয় জন নারী সাংবাদিক কাজ করছেন।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।

সেলিম রাজ, বেনুঘাট দিঘির পাড়, রংপুর

মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মজুমদার, মিরপুর ঢাকা।

রিপন বিশ্বাস, জোত শ্রীপুর, মাগুরা।

শাহিন তালুকদার, মৌকরন, পটুয়াখালী।

ইলিয়াস হোসেন, রংপুর।

মোতাসিম বিল্লাহ মুন্না, দিনাজপুর।

মাহবুবা ফেরদৌসী হ্যাপি, গেণ্ডারিয়া, ঢাকা।