করোনার শিক্ষা, তালেবানের পর্দা আর বিএনপির আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন

    • Author, সাবির মুস্তাফা
    • Role, সম্পাদক, বিবিসি নিউজ বাংলা
  • Published

করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘ ৫৪৪ দিন বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশে স্কুল-কলেজ আবার খুলেছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয় খোলার প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু ভ্যাক্সিন নিয়ে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা এখনো কাটেনি।

এসব বিষয় দিয়ে আজ শুরু করছি, প্রথমে লিখেছেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ থেকে মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম:

''যাদের সন্তানরা প্রাইভেট স্কুল কলেজে পড়ে, করোনার সময়ে তাদের বকেয়া বেতন ভাতার চাপে অনেক অভিভাবক দিশেহারা। যেমন আমার দুটো সন্তানই এবার পরীক্ষার্থী, দুজনেই প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী। আমি সংসারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি, করোনার সময়ে চাকুরি হারিয়ে এখন পুরোপুরি দিশেহারা।

''বিশেষ করে ছেলের কলেজের খরচ বহন করতে গিয়ে আমার বাড়ি-ভিটের কিছু অংশ বিক্রি করতে হয়েছে, তবুও এখনো বকেয়া পরিশোধ করতে পারি নাই। ছেলে কলেজ হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া করে। করোনা কালে হোস্টেল বন্ধ ছিল, আমি কলেজ কর্তৃপক্ষকে অনেক অনুরোধ করেছি ওর বরাদ্দকৃত সিটটা বাতিল করার জন্য, কিন্তু তাদের সাফ কথা সিট বাতিল করা যাবেনা, সিটে না থাকলেও ভাড়া পরিশোধ করতেই হবে, যদিও সরকার থেকে আদেশ করেছিল শুধু টিউশন নিতে। তবে কি আমার ছেলের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাবে? যদি তাই হয় এজন্য দায়ী কে?''

করোনার সময় অনেক পরিবারের বিশাল ক্ষতি হয়েছে মিঃ ইসলাম, কিন্তু তার দায়-দায়িত্ব কেউ নেবে কি না, তা পরিষ্কার না।

তবে সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে যেহেতু এত দিন স্কুল-কলেজ বন্ধ ছিল, তাই প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের যাতে ক্ষতি না হয়, সেটার দিকেও তাদের নজর দেয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়।

বিবিসি বাংলায় আরো পড়ুন:

নোয়াখালীতে মানবিক উদ্যোগ

পরের চিঠি লিখেছেন নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থেকে ফাতিমা ইসলাম:

''প্রায় ১৭ মাস যাবত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায়, শিক্ষার্থীদের একটি বিশাল অংশ সময় কাটানোর প্রধান মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে পাবজি বা ফ্রীফায়ার এর মতো গেইম। তবে এর ব্যতিক্রমও আছে।

''বেশ কিছু যুবক নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে কোভিড আক্রান্ত রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন দিন রাত। বাড়িতে চিকিৎসারত রোগীদের রেগুলার খোঁজ নেয়া,সময়মত অক্সিজেন পৌঁছে দেয়া,জরুরি অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া এমনকি মৃত রোগীদের দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করছেন তারা। বলছিলাম, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় আলাইয়ারপুর গ্রামের স্বেচ্ছাসেবকদের কথা।

''শুধু মাত্র সাধারণ মানুষদের কথা চিন্তা করে বিনা স্বার্থে এমন মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।''

আপনি ঠিকই বলেছেন মিস ইসলাম, হতাশার মধ্যেও আশার আলো দেখা যায়। আপনাদের গ্রামের তরুণরা যে কাজ করছে, সেটা সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে, সাধারণ মানুষের দুর্দশা অনেকটা লাঘব হত। সব চেয়ে বড় কথা, গরীব বা বৃদ্ধ গ্রামবাসী অসহায় বোধ করতেন না।

বিবিসি বাংলায় আরো আছে:

ভারতের মিডিয়া কি বাংলাদেশ-বিদ্বেষী?

এবার ভিন্ন প্রসঙ্গে যাই।

বাংলাদেশ সম্পর্কে ভারতীয় রাজনীতিক এবং মিডিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আপত্তি তুলে লিখেছেন খুলনার পাইকগাছা থেকে মোহাম্মদ আজিজুল হাকিম রাকিব:

''ভারতের মিডিয়া এবং রাজনৈতিক নেতারা প্রায়শই বাংলাদেশ নিয়ে কটূক্তি করে থাকেন। সম্প্রতি ভারতের উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে নেতিবাচক একটি বিষয়ের অবতারণা করে বাংলাদেশের নাম তুলেছেন। এর পূর্বে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলাদেশ নিয়ে কটূক্তি করেছিলেন।

''এছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়েও ভারতীয় মিডিয়াগুলো এবং গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতারা বিভিন্ন সময়ে কটূক্তি এবং উস্কানিমূলক মন্তব্য করে থাকেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবেশী ভারতের এসব আচরণকে বরাবরই নিন্দা জানিয়ে আসা হচ্ছে। তবুও কেন ভারতের মিডিয়া এবং নেতাদের এমন আচরণ বন্ধ হচ্ছে না?''

বিষয়টা বেশ জটিল মিঃ হাকিম। আজকাল বিশ্বে খুব কম বিষয়কেই আভ্যন্তরীণ বিষয় বলে দেখা হয়। সব দেশই অন্য দেশের সাথে যুক্ত হয়ে গেছে - সে বাণিজ্য বলুন, বা অভিবাসন বলুন ,বা স্রেফ ইন্টারনেটের মাধ্যমে অন্যান্য দেশ সম্পর্কে আলোচনাই বলুন।

আফগানিস্তানের কথাই ধরুন। ঐ দেশ বাংলাদেশের প্রতিবেশী নয়, কিন্তু সেদেশের ক্ষমতা বদল নিয়ে বাংলাদেশের সবাই নানা রকমের মন্তব্য করে চলেছে, সেটাই স্বাভাবিক। আর প্রতিবেশী দেশের মধ্যে ঝগড়া-ঝাটি, উক্তি-কটূক্তি নতুন কিছু নয়।

ব্রিটেনের কথাই ধরুন, ফ্রান্সের প্রতিবেশী। এই দুই দেশ শত শত বছর ধরে একে অপরকে দেখতে পারে না। এমনকি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই দুই দেশ এক সাথে জার্মানির বিরুদ্ধে লড়াই করেছে - যুদ্ধ শেষে আবার তারা একে অপরকে দেখতে পারে না।

নারী শিক্ষার জন্য পর্দা কি শর্ত?

এখন আফগানিস্তানের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করে লিখেছেন ঢাকার গেণ্ডারিয়া থেকে মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান:

''নারী শিক্ষা, তাদের কর্ম পরিবেশ ও ক্ষমতায়নের প্রশ্নে তালেবান সরকারের সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকারের অভাবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কোন দেশ এখন পর্যন্ত তাদেরকে স্বীকৃতি প্রদান করেনি। আমরা জানি, ইসলামে পর্দা মানা ও শিক্ষা গ্রহণ করা নারী পুরুষ উভয়ের জন্য ফরজ বা অত্যাবশকীয় কাজ।

''পর্দা নারীদের আত্মমর্যাদা ও সম্মানের প্রতীক। যথাযথ পর্দা প্রথা মেনে সহশিক্ষা গ্রহণে যেমন সমস্যা নেই, তেমনি কর্মক্ষেত্রে কাজ করতেও বাধা নেই। পর্দা প্রথা মেনে নারীরা যুদ্ধে পর্যন্ত অংশগ্রহণ করেছিল। কিন্তু তালেবান শরীয়াহ আইনের নামে বাড়াবাড়ি করেছে।

''ইসলামের অপব্যাখ্যার কারণে তালেবান নব্বইয়ের দশকেও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি এবং একই ধারা অব্যাহত রাখলে এখনও পাবে না।''

এই দীর্ঘ যুদ্ধে তালেবান জয়লাভ করেছে, এখন তাদের শান্তি জয় করতে হবে। সেটা করতে তাদেরকে প্রথমে দেশের ভেতরে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে হবে। তারা যদি খুব কঠোর ভাবে তাদের আদর্শ-ভিত্তিক নিয়ম-নীতি প্রয়োগ করে, তবে গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের পথ মসৃণ হবে বলে মনে হয় না।

যারা ধর্মীয় রীতি-নীতি অনুসরণ করতে চায়, তাদেরকে বাধ্য করতে হয় না। কিন্তু যারা স্বাধীনচেতা, তাদেরকে বাধ্য করতে গেলে প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধ অনিবার্য হয়ে পড়তে পারে।

আপনি যেমন নারীকে পর্দা মেনে পড়া-শোনা করা বা কাজ-কর্ম করার কথা বলছেন, তেমনি যে পর্দা করতে চায় না, সেও যাতে পড়া-শোনা, কাজ-কর্ম করতে পারে, সেরকম পরিবেশ কি তালেবান তৈরি করতে ইচ্ছুক হবে?

যাই হোক, এবারে আসি বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে।

বিএনপি কি আন্দোলনে জনগণকে টানতে পাবে?

বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে অনেক দিন শ্রোতাদের মতামত শোনা যায় না। তবে সম্প্রতি বিরোধী দল বিএনপি কিছু সাংগঠনিক কাজ শুরু করায় মানুষের কৌতূহল বেড়েছে। লিখেছেন ঢাকার ধানমন্ডি থেকে শামীম উদ্দিন শ্যামল: 

''বিএনপি ভোট ও আন্দোলনের কৌশল ঠিক করতে টানা বৈঠক করছে, শীর্ষক প্রতিবেদনটি শুনলাম। তৃণমূল নেতাদের ক্ষোভ রয়েছে কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বের প্রতি। তবুও সকল নেতা-কর্মীরা বিশ্বাস করে আন্দোলন ছাড়া দলের এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের সহজ কোন পথ নেই।

''কিন্তু, বিএনপি আগেও আন্দোলন করেছে অন্যের নেতৃত্বে এবং অন্য প্লাটফর্মের ঘাড়ের উপর ভর করে। সামনে কি বিএনপি নিজ শক্তিতে যথাযথ আন্দোলন করার সামর্থ্য রাখে? বিএনপি'র অবস্থা দৃষ্টে মনে হয় এখনও তেমন আন্দোলনের শক্তি তাদের গড়ে ওঠেনি।

''জনগণকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে না পারলে বিএনপি এবারও আন্দোলনে ব্যর্থ হবে বলে আমি মনে করি। আপনারা কি বলেন?''

আপনি হয়তো এক দিক থেকে ঠিক বলেছেন মিঃ শামীম উদ্দিন, আন্দোলন নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আগের মত আর উৎসাহ বোধ করে না। অনেকের কাছে আন্দোলন মানেই হল ভাংচুর, মারপিট আর অস্থিরতা। এসব আর কত দিন? মানুষ নতুন কিছু চায়। তবে দোষটা হয়তো বিএনপির না।

সমাজ যেভাবে পাল্টাচ্ছে, তাতে রাজনীতির পুরনো ধ্যান-ধারণা মানুষের মনে আর দাগ কাটছে না। বিএনপিকে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। শুধু আওয়ামী লীগের বিকল্প হলেই চলবে না, মানুষকে বিশ্বাস করতে হবে যে বিএনপিও পরিবর্তিত একটি দল, যে দল প্রতিহিংসার পথে চলবে না।

বাংলাদেশে গণতন্ত্র 'হাস্যকর'

বাংলাদেশে গণতন্ত্র যে একটি সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই। খাতা-কলমে গণতান্ত্রিক হলেও, অনেক বিশ্লেষকের মতে বাংলাদেশ একটি কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে গত বুধবার বিশ্ব গণতন্ত্র দিবস পালিত হল, যা নিয়ে লিখেছেন দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে মেনহাজুল ইসলাম তারেক:

''গত ১৫ই সেপ্টেম্বর "বিশ্ব গণতন্ত্র দিবস" নিয়ে বিবিসি বাংলা'র ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও দেখলাম ভিডিওতে একজন তরুণ ভোটার বলছিলেন, 'যেহেতু আমি ভোটই দিতে পারছি না, আমার মতামতের তো কোন গুরুত্বই নেই।'

''আমার মতামত হল, বর্তমানে আমাদের দেশে গণতন্ত্র একটা চরম হাস্যকর পন্থায় পরিণত হয়েছে। যেখানে জনগণ শুধুই কতিপয় লোকের ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। জানিনা, আমি বেঁচে থাকতেই এদেশে প্রকৃত গণতন্ত্র কবে ফিরবে।''

সেটাই হল কথা, মিঃ ইসলাম। গণতন্ত্র, রাজনৈতিক অধিকার, এসব নিয়ে জনগণের মনে হতাশার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। যত দিন তারা মনে করবে গণতন্ত্র তাদের কল্যাণের জন্য নয়, বরং কতিপয় রাজনৈতিক দল বা নেতার ক্ষমতা বা উপার্জনের সিঁড়ি, ততদিন তারা রাজনীতি-বিমুখ হয়ে থাকবে। সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্বাচনে ভোটারদের অনুপস্থিতি এই মনোভাবেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ভ্যাক্সিন নিয়েও দুশ্চিন্তা?

তবে শুধু রাজনীতি না। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভ্যাক্সিন নিয়েও অনেকে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। যেমন লিখেছেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ থেকে দেলোয়ার হোসাইন:

''এক ডোজ বা এক শিশি করোনার টিকা কত জন মানুষ কে পু করা যায় বা যাবে? আমাদের এলাকায় গণ টিকার সময় প্রথম ডোজের সময় এক ডোজ টিকা ৩/৪ জন কে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। আর দ্বিতীয় ডোজের সময় ৫/৬জনকে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। আচ্ছা, এটা কি কার্যকর হবে?''

ভাল প্রশ্ন করেছেন মিঃ হোসাইন, কিন্তু এই প্রশ্নের উত্তর দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব না। হয়তো প্রতিটি শিশিতে পাঁচ-ছটি ডোজের জন্য পর্যাপ্ত ভ্যাক্সিন থাকে।

আমি এটুকু জানি, একটি সিরিঞ্জে যতটুক ভ্যাক্সিন নেয়া হয়, সেটা শুধুমাত্র একজনের বাহুতেই পুশ করা হয়। তবে যে শিশি থেকে সিরিঞ্জে ভ্যাক্সিন টেনে নেয়া হয়, সেই শিশিতে কত পরিমাণ ভ্যাক্সিন থাকে, তা আমার জানা নেই।

বিশেষ প্রতিবেদনে নাম বিভ্রাট

এবারে আমাদের অনুষ্ঠানে ভুল তথ্য দেয়া হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থেকে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম:

''গত ১০ই সেপ্টেম্বর শুক্রবার প্রবাহের শেষাংশে বিশেষ প্রতিবেদন শুনলাম। প্রতিবেদনের এক পর্যায়ে বগুড়ার সবচেয়ে বড় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ বা TMSS এর নাম প্রতিবেদক "ঠেঙ্গামারা মহিলা সমবায় সমিতি" বলে উল্লেখ করলেন। আমার প্রশ্ন হলো, TMSS কি তার নাম পরিবর্তন করেছে, নাকি প্রতিবেদক ভুল করেছেন?''

ভুলটা আমাদেরই হয়েছে মিঃ আলম। ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সঙ্ঘকে আমাদের প্রতিবেদনে কোন এক কারণে ঠেঙ্গামারা মহিলা সমবায় সমিতি বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। এই ভুলের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

স্মরণিকা প্রকাশ করা হচ্ছে না

আগামী মাসের ১১ তারিখ বিবিসি বাংলার ৮০তম বার্ষিকী এবং সে দিনকে ঘিরে দু'একটি চিঠি এসেছে। প্রথমে লিখেছেন খুলনার দাকোপ থেকে গৌরাঙ্গ জোদ্দার:

''এতদিন নিয়মিত নীরব শ্রোতা হিসেবেই ছিলাম, কিন্তু এবার এমন মাহেন্দ্রক্ষণে না লিখে পারছি না।

''আশি বছর পূর্তি উপলক্ষে যে ম্যাগাজিন প্রকাশিত হবে তার একটি কপি প্রাপ্তির অসীম প্রত্যাশায় রইলাম।''

পরের চিঠি লিখেছেন খুলনার দিঘলিয়া থেকে মোহাম্মদ মুজাহিদ:

''আজ থেকে পাঁচ-ছয় বছর আগে বিবিসি বাংলা শুনতাম। তখন প্রীতিভাজনেসুতে অনেকেই চিঠি লিখে স্মরণিকা চাইতো। তখন নিয়মিত বিবিসি শোনা হতোনা, তাই স্মরণিকা সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না। তাই বিস্তারিত জানতে চাই। আর আমিও যদি স্মরণিকা চাই তাহলে কি পেতে পারি?''

আপনাদের দু'জনকে এবং অন্যান্য শ্রোতাদেরও খুব দুঃখের সাথেই জানাতে হচ্ছে, আশি বছর উপলক্ষে কোন স্মরণিকা প্রকাশ করা হবে না। বিবিসি এই মুহূর্তে কোন বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে কোন ছাপানো স্মরণিকা প্রকাশ করছে না। ভবিষ্যতে পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে তখন দেখা যাবে আমরা কতদূর কী করতে পারি।

তবে ৮০ বছর উপলক্ষে কিছু লেখা আমরা তৈরি করছিলাম, এখন সেগুলো আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

নারী অংশগ্রহণ নিয়ে ফের প্রশ্ন

সব শেষে, পুরনো একটি বিষয়। বিবিসি বাংলার অনুষ্ঠানে যেদিন থেকে নারী এবং পুরুষ অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সমতা আনার চেষ্টা শুরু হল, সেদিন থেকেই মনে হয়েছে বিষয়টি কিছু পুরুষ শ্রোতার জন্য পীড়াদায়ক হয়ে গেছে।

এ'বিষয়ে বহু চিঠি অনুষ্ঠানে নিয়েছি, প্রতি বার একই উত্তর দিয়েছি কিন্তু তারপরও এর শেষ নেই। এ বিষয়ে এবার লিখেছেন মাগুরার শ্রীপুর থেকে রিপন বিশ্বাস:

''গত কয়েক সপ্তাহ বিবিসি বাংলার প্রীতিভাজেনেসু অনুষ্ঠানে নারী-পুরুষের অংশগ্রহণের পর্যালোচনায় আমি ব্যক্তিগতভাবে ভীষণ লজ্জিত এবং হতাশ। আরো বেশি উদ্বিগ্ন সম্পাদক সাবির মোস্তফার মেয়েদের অন্তত ৪৮ শতাংশ অংশগ্রহণ রাখার উদ্যোগে।

''আমার আপত্তির জায়গা হচ্ছে মেয়েদেরকে কেন ৪৮ শতাংশ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, শতাংশ নয় কেন? তাহলে এখানে কি করুণা করা হচ্ছে মেয়েদের? আপনি চাইলেই ৫০ শতাংশ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারেন। বিষয়টা হাস্যকর! আমার মনে হয় এই ছোট ব্যাপারটা নিয়ে আর কথাবার্তা না বাড়িয়ে আপনি নিজে ৫০ শতাংশ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারেন।''

বিষয়টি আমার কাছেও হাস্যকর মনে হয় মিঃ বিশ্বাস। তবে অনুষ্ঠানে ৫০ শতাংশ নারী অংশগ্রহণের বিষয়টি বিবিসির কাছে মোটেই 'ছোট ব্যাপার' নয়। বিবিসি নারী-পুরুষ সমতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেয়।

আপনি সম্ভবত আমার বক্তব্য না বুঝে মন্তব্য করেছেন মিঃ বিশ্বাস। কারণ, আমি কোথাও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৪৮ শতাংশ নারী নিশ্চিত করার কথা বলি নি। বিবিসির লক্ষ্য হচ্ছে, আমাদের পরিবেশনায় অংশগ্রহণকারীদের - যাদের আমরা কন্ট্রিবিউটার বলি - তাদের মধ্যে লিঙ্গ সমতা রাখতে হবে। অর্থাৎ ৫০ শতাংশ নারী এবং ৫০ শতাংশ পুরুষ।

আর এটা সাবির মুস্তাফার উদ্যোগ না, এটা বিবিসির উদ্যোগ!

দ্বিতীয়ত, নারী-পুরুষ সমতার জন্য বিবিসির আরেকটি লক্ষ্য হচ্ছে, অডিয়েন্স - অর্থাৎ দর্শক, পাঠক এবং শ্রোতাদের মধ্যে অন্তত ৪৮ শতাংশ যেন নারী হয়। খেয়াল করবেন, ৪৮ শতাংশ অডিয়েন্স, অংশগ্রহণকারী না।

বিবিসি তার অডিয়েন্স নিয়ে অনেক গবেষণা করেছে, বিশেষ করে নারী দর্শক, পাঠক, শ্রোতাদের চাহিদা কী, কীভাবে পরিবেশনা সাজালে তারা অনুষ্ঠান দেখতে আগ্রহী হবে, ইত্যাদি বিষয় নিয়ে। বিবিসির সকল বিভাগ যখন অনুষ্ঠান তৈরি করে তখন নারী অডিয়েন্সকে কীভাবে আগ্রহী করা যায়, সেটা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হয়।

এবারে কিছু চিঠির প্রাপ্তি স্বীকার করা যাক:

আখতারুজ্জামান মোহাম্মদ মোহসীন, সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম।

মুহাম্মদ মাসুদুল হক মাশুক, চরফ্যাশন, ভোলা।

মুকুল সরদার, দাকোপ, খুলনা।

ফয়সাল আহমেদ সিপন, ঘোড়াদাইড়, গোপালগঞ্জ।

সেলিম রাজ, বেনুঘাট দিঘির পাড়, রংপুর।

দীপক চক্রবর্তী, দেবীগঞ্জ, পঞ্চগড়।

মোহাম্মদ মহসিন আলী, লালবাগ, রংপুর।

মোহাম্মদ শিমুল বিল্লাল বাপ্পী, কপিলমুনি, খুলনা।